Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ , সময়- ২:৫৪ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
বাংলাদেশে ইংরেজি বর্ষবরণে হামলার ছক বানচাল : পরিকল্পনা ফাঁস  নির্বাচনের মাঠে জামাত, ৪৭ জনের প্রার্থীপদে আপত্তি আমেরিকার  টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আ.লীগের নির্বাচনী প্রচার : এইচটি ইমাম নৌকার পক্ষে ভোট দেওয়ার ওয়াদা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে নামবে সেনাবাহিনী  ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় গণসংযোগে মির্জা ফখরুল  বিতর্কিত সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ ও তাঁর রাজনীতি  প্রমাণিত হলো বিএনপি সন্ত্রাসী দল : কাদের  বিবাহবার্ষিকীতে দোয়া চাইলেন ক্রিকেট সুপারস্টার সাকিব টুঙ্গিপাড়া থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন সভানেত্রী শেখ হাসিনা 

চরমভাবে মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে মিয়ানমারে


অনলাইন ডেস্ক

আপডেট সময়: ৬ ডিসেম্বর ২০১৬ ২:৫৪ পিএম:
চরমভাবে মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে মিয়ানমারে


 

সম্প্রতি চরমভাবে মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে মিয়ানমারে। সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর চলছে অমানবিক অকথ্য নির্যাতনের স্টিমরোলার। যেন নিজ দেশে তারা পরবাসী। অথচ রাখাইন প্রদেশে মুসলমানদের বসবাস শুরু ১৩শত বছর আগে। এতদিন ধরে বসবাস করে আসা একটি জনগোষ্ঠী সে দেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাবে না, তা হতে পারে না। কিন্তু মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করে নানা ধরনের ঘটনার সূত্রপাত সৃষ্টি করে রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের কাজ চালু রেখেছে। এদের অনেকে বাধ্য হয়ে শরণার্থী হিসেবে দিনাতিপাত করছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে। প্রকৃতপক্ষে তাদের অবস্থা ন্যাটিব আমেরিকা, ল্যাটিন আমেরিকার মায়্যান ও অধিকৃত আরব ভূখন্ডের ফিলিস্তিনিদের চাইতেও দুর্বিষহ। রোহিঙ্গা মুসলমানদের অত্যাচার নিপীড়ন করে তাড়িয়ে দিয়ে সময়ের ব্যবধানে রাখাইন রাজ্যের সংখ্যাগত কাঠামোই পাল্টিয়ে দিচ্ছে। বিষয়টা যেন এমন রাখাইন রাজ্য যেন রাখাইনদের জন্যই। অন্য কোন জাতি বসবাস করা নিষিদ্ধ। যে জন্য সেখানে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তাদের স্থাবর, অস্থাবর ও ওয়াকফ করা সম্পত্তি। মসজিদ ধ্বংস করে প্যাগোডা ও মঠ তৈরি করা হচ্ছে পূর্ণোদ্যমে। এতে বোঝা যায় মুসলমানদের যাবতীয় নিশানা মুছে দিতে খোদ মিয়ানমার সরকার উঠে পড়ে লেগেছে। মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক তদারক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রধানের কাছে বলেছিলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের জনগণ নয়, বিতাড়নই এ সমস্যার সমাধান। তিনি প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘তৃতীয় কোন দেশ চাইলে সেখানে তাদের পাঠানো হবে। দ্বিতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশে বিতাড়নতো চলছেই, তৃতীয় দেশেও সেটা চলতে পারে।

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত আরাকানের সঙ্গে বাংলাদেশের ২৬৭ কিলোমিটার সীমান্ত। রোহিঙ্গারা যদি আরাকানি তথা মিয়ানমারি না হবে, তাহলে ১৯৪৭ সালে বার্মার প্রথম সংবিধান সভার নির্বাচনে কিভাবে তারা ভোট দিয়েছিল? ১৯৫১ সালে তাদের আরাকানের অধিবাসী হিসেবে পরিচয়পত্র দিয়েছিল। বার্মার প্রথম প্রেসিডেন্ট উ নু রোহিঙ্গাদের আরাকানের অধিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। ১৯৫৯ সালে প্রধানমন্ত্রী উ বা রোহিঙ্গাদের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মতোই একটি জাতিগোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেছেন। ১৯৪৭ সালে অং সান সু চির বাবা জেনারেল অং সানের উদ্যোগে জাতিগত সমঝোতার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত পালং সম্মেলনের অন্যতম উদ্যোক্তা স্বাধীন মিয়ানমারের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম শাও সোয়ে থাইক বলেছিলেন, ‘রোহিঙ্গারা যদি স্থানীয় আদিবাসী না হয়, তাহলে আমিও তা নই।’১৯৬২ সালে সামরিক শাসন জারির আগে পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের অবাঞ্ছিত বলার বাস্তবতা ছিল না। কিন্তু জেনারেল নে উইনের সামরিক সরকারের প্রতিষ্ঠার দিন থেকে শুরু হয় রোহিঙ্গাদের জীবনে ইতিহাসের কালো অধ্যায়। তাদের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়, বন্ধ করে দেয়া হয় রোহিঙ্গা ভাষার রেডিও অনুষ্ঠান প্রচার। শুরু হয় অপারেশন ড্রাগন কিং নামে রোহিঙ্গা বিতাড়ন কর্মসূচি। বর্তমান প্রেসিডেন্টও সম্ভবত সেই কর্মসূচি শুরু করেছেন। ১৯৮৯ সালে বার্মা ও বাংলাদেশের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী ‘অপারেশন গোল্ডেন ঈগল’ নামে কর্মসূচিতে ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া আড়াই লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেয়া শুরু করে। আন্তর্জাতিক চাপে মিয়ানমারকে তখন পিছু হটতে বাধ্য করেছিল। মিয়ানমারের বেশ কয়েকটি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রমাণ এবং বাংলাদেশের সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো প্রমাণ করে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমার সফরের সময় সে দেশের সরকার ২৫ হাজার শরণার্থীকে ফেরত নিতে রাজি হয়। এ চুক্তি মিয়ানমার অদ্যাবধি বাস্তবায়ন করেনি। মিয়ানমার সরকার একের পর এক আন্তর্জাতিক আইনের বরখেলাপ করছে এবং বাংলাদেশের সাথে চুক্তি ভঙ্গ করছে।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top