Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ , সময়- ১২:২২ পূর্বাহ্ন
Total Visitor:
শিরোনাম
আগামীকাল ফ্রান্সে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন হলো শেখ হাসিনা সফটওয়্যার পার্কের, কর্মসংস্থান ২০ হাজার তরুণের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতেই গুম খুনের পথ বেছে নিয়েছে সরকার রংপুর সিটি নির্বাচনে জয়ের অনেকটাই আশাবাদী আ.লীগ  ওআইসির সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্ক যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি যে কেউ জোট গঠন করতে পারে তবে এটিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছি না :  এরশাদ মানুষের ওপর চেপে বসেছে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বোঝা  লুটপাট, মানি লন্ডারিং, দুর্নীতি, ঘুষ, অত্যাচার, নির্যাতন ছিল বিএনপির কাজ : প্রধানমন্ত্রী ইবির 'সি' ও 'জি' ইউনিট নিয়ে পৃথক তদন্ত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সপ্তাহব্যাপী বিজয় উৎসবের অনুষ্ঠান শুরু

২০১৯ ব্যালট বিপ্লবে সরকার ও আওয়ামী লীগের আশু করণীয়


অনলাইন ডেস্ক

আপডেট সময়: ৮ জানুয়ারী ২০১৭ ৬:১৭ পিএম:
২০১৯ ব্যালট বিপ্লবে সরকার ও আওয়ামী লীগের আশু করণীয়

উপ-সম্পাদকীয়, মাহমুদ হাসানঃ ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৯৭০ এর মতোই ব্যালট বিপ্লব হয়েছিলো বাংলাদেশে, তার পিছনে কারন ছিলো, জনগনের উপর ২০০১-০৬ এ  মোসাদ, আইএসআই ও সিআইএ মদদপুষ্ট জামাত-বিএনপি জোট সরকারের নির্যাতনের ষ্টিমরোলারের ফলে জনগনের মনে জমে থাকা তীব্র ক্ষোভ ও বেদনা এবং ২০০৬-০৮ এ উদ্ভট তত্ত্বাবধায়কের নামে বিদেশী ষড়যন্ত্রকারিদের (মোসাদ, আইএসআই ও সিআইএ) মদদপুষ্ট প্রচ্ছন্ন সামরিক শাষনের সময়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা সহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের উপর অমানুষিক নির্যাতনকালে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের নানামুখী কৌশলে অভিনব প্রতিবাদে জনগণকে সম্পৃক্তকরণ ও জনগনের সহানুভূতি অর্জন। আজ ২০১৭ তে এসেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিকল্প কোন রাজনৈতিক শক্তি কার্যত দাড়াতে পারেনি; এমতাবস্থায়, আপাতঃদৃষ্টিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৯ এ সাধারনভাবে মনে হতে পারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরংকুশ জয়লাভ করবে। কিন্তু, বাংলাদেশের কিছু মানুষ ভোটের রাজনীতিতে কোন দলের আদর্শ ও নীতির প্রতি আস্থাশীল হতে পারে না (রাজনৈতিক নেতারা যাকে অভিহিত করেন ফ্লোটিং ভোট, যদিও তাদের ব্যাখ্যাটি ভূল)। এর অন্তর্নিহিত কারন হলো, যেহেতু কোন দলেরই নেতা-কর্মীরা নিজ দলের আদর্শ ও নীতি সম্পর্কে জানে না, জানতে চায় না, জানানো হয় না, এমনকি যে কিছু সংখ্যক জানেন, তাদেরও অধিকাংশই দলের আদর্শ ও নীতি লালন করেন না। 
এরপরেও জাতির পিতার প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদানকারি দল ও তুলনামূলকভাবে অন্যান্য বড় দলের তুলনায় দেশের জন্য মঙ্গলজনক বিবেচনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মী-বাহিনীর কিছু অংশ এবং সমর্থকদের বিশাল অংশ আওয়ামী লীগের নিজস্ব একটি ভোট ব্যাংক ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন- দলের জন্য তাদের নিজস্ব আত্মত্যাগ, মানবসেবা ও ব্যক্তিগত চারিত্রিক দৃঢ়তায় মানুষের মন জয় করে। কিন্তু, দূঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এই নিজস্ব ভোট-ব্যাংকটি স্বাধীনতাত্তোরকাল হতেই সমৃদ্ধ হওয়ার বদলে ক্রমেই ক্ষয়িষ্ণু হয়ে চলেছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশে “এন্টি আওয়ামী লীগ ভোট ব্যাংক” শূণ্য হতে সমৃদ্ধ হয়ে চলেছে স্বাধীনতার ঊষালগ্ন হতেই, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কিছু ভূল সিদ্ধান্ত ও কিছু নেতাকর্মীর আত্মঘাতী কর্মকান্ডের ফলে। এই ভোট ব্যাংকটি আওয়ামী লীগের বিপরীতে যে প্রার্থীকে তুলনামূলকভাবে একটু শক্তিশালী মনে হয়, তার পিছনে ঝাপিয়ে পড়ে, আর এর জন্য মেকানিজমটা করে স্থানীয় পর্যায়ে করে থাকে প্রশাষনের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা স্বাধীনতা-বিরোধী অপশক্তিসমূহের সাবেক ক্যাডারেরা এবং জাতীয় পর্যায়ে করে থাকে বিদেশী মদদে অধিকাংশ গণমাধ্যম ও তথাকথিত সু-শীলেরা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬-২০০১এ শাষণকালে দ্রুত গতিতে দেশের উন্নয়ন, দীর্ঘদিন ধরে চলা পার্বত্য চট্টগ্রামের অশান্তি ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টা শুরু, ভারতের সাথে ‘গংগা পানি চুক্তি’ সহ বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও আইনের শাষণ কায়েমের লক্ষ্যে কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিন্তু, অভ্যন্তরীনভাবে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর সন্ত্রাস, শেয়ারবাজার কেলেংকারির ফলে শিক্ষিত তরুণ-যুব সমাজের একটি অংশের জ়ীবনে দুর্দশা নেমে আসা ও দূর্নীতির রাহুগ্রাসে মানুষের মনে একটা কালো ছায়ার রেখাপাত করে যায়। যার ফলে, ২০০১এর সালসা নির্বাচনে দেশের ভোট প্রদানকারি অধিকাংশ ভোটার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ভোট দিলেও, সেই ভোট রক্ষার জন্য সাধারন ভোটারদের কোন আগ্রহ ও উদ্যোগ ছিলো না, আর আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা সেই ভোট রক্ষার জন্য দমন-পীড়নের মুখে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোন উদ্যোগ নিতে পারে নাই, কিছু ক্ষেত্রে দমন-পীড়ন না থাকলেও উদ্যোগ নেয় নাই। যার একটি উদাহরন হলো, ‘পোলিং এজেন্ট’ নির্বাচনের ফলাফল রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর, কিন্তু, ২০০১ এর সালসা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পোলিং এজেন্ট ছিলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ১৮বছরের নীচে এবং ভোটার নয়, এমন কিশোরেরা। যাদের দুপুর ১২টার পর কেন্দ্র হতে ধমকিয়ে বা ফুসলিয়ে বের করে দেয়া হয়েছে, পরে আর ঢুকতে দেয়া হয় নাই। যার ফলশ্রুতিতে, ভোটের ফলাফল পালটে ফেলা হয়, জামাত-বিএনপি জোটকে জয়লাভ দেখানো হয়। 
২০১৩ এ আবারো ২০০৬-০৮ এর মতো অসাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে জামাত-বিএনপি জোটের ভোট বর্জনের ফলে যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হলো, তা নিয়ে সাধারন মানুষের মনে কোন উল্লাস যেমন নাই, তেমনি কোন ক্ষোভ ও বেদনাও নাই। কারন, ২০০৯-১৩ এ কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সাধারন মানুষ সরকার ও সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দ্বারা ব্যাপকভাবে নির্যাতিত হয় নাই। তাই মানুষ সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে বৈধ হলেও নৈতিকভাবে অশোভন এই নির্বাচনটিকে নিয়ে কোন প্রশ্ন তুলে নাই বা মেনে নিয়েছে। জামাত-বিএনপি জোট জঙ্গিদের পাশে নিয়ে এ নির্বাচন প্রতিহতের জন্য যে ধবংসাত্মক পথ বেছে নিয়েছিলো, তাতে মানুষের মনে ভোটারবিহীন ভোটের ফলাফলের প্রতি মানুষের ক্ষোভ বাড়িয়ে আন্দোলন সৃষ্টি করার বদলে বরং নিজেরাই হিংস্র দানব হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আজ ক্ষয়িষ্ণু একটি দলে পরিণত হয়েছে। পক্ষান্তরে, ২০০৯ হতে ২০১৬ পর্যন্ত্  প্রশাসন ও উন্নয়নের সকল পর্যায়ে ডিজিটালাইজেশন, দেশের জাতীয় অর্থনীতির অব্যাহত সমৃদ্ধি এবং নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু সহ বৃহদাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শত হুমকী ও প্রতিকুলতার মাঝেও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও রায় কার্যকরে দৃঢ়তার ফলে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি যোগ্য রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে মানুষের আস্থা, বিশ্বাস বেড়ে চলেছে। কিন্তু, ২০১৪তে ভোটারবিহীন নির্বাচনের পর হতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে, বিপথগামী তরুণ-তরুণী এমনকি বয়ষ্ক ব্যক্তিদের দ্বারাও সংঘটিত ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সাইবার ক্রাইম; বিদেশে অবৈধভাবে শ্রমিক প্ররণের নামে সলিল সমাধি, বিদেশের পতিতালয়গুলিতে ও জঙ্গি আস্তানাগুলিতে নারী পাচার; কিছু এমপি ও জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ের কিছু নেতা সব কিছুতেই দলীয়করণের নামে নির্লজ্জভাবে ব্যক্তির আধিপত্য চাপানোর অপচেষ্টা; আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের অন্যতম ক্ষেত্র সংখ্যালঘুদের জমি, ব্যবসা, বাড়িঘর দখলের জঘন্য ও হীন মানসিকতা নিয়ে জামাত-বিএনপি জোটের কর্মী ও জঙ্গিদের সাথে নিয়ে কিছু ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িয়ে যাওয়া; সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতেও খাই খাই মানসিকতা নিয়ে হামলে পড়া (যার সর্বশেষ নজির গরিবের জন্য ১০ টাকা কেজি চাল নিয়ে কেলেংকারি); ছোট ও মাঝারি অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সংস্কার কাজে দূর্নীতিতে জড়িয়ে যাওয়া (অবকাঠামো নির্মানে রডের বদলে বাশের ফালি ও কঞ্ছি ব্যবহার); ২০১৬ এর ইউপি নির্বাচনে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইউনিয়নে জঙ্গি মদদাতা, জামাত-বিএনপি নেতা-কর্মী ও রাজাকার-পুত্রদের মনোনয়ন দেয়ার ফলে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা গাণিতিক হারে বাড়লেও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের প্রতি মানুষের আস্থা জ্যামিতিক হারে কমে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। কেননা, মানুষ এসব ঘটনাগুলোর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং এসবের কুশীলবদের ভালো করে চিনে, এসব অপকর্মের সাথে সাথে কারা কারা কিভাবে জড়িত হয়, নেপথ্যে থেকে কারা এসবের মদদ জোগায়, অপরাধীদের প্রশ্রয় দেয় তাও জানে বা জেনে যায়। প্রতিপক্ষ সঙ্ঘবদ্ধভাবে ব্যাপকভাবে প্রচারণা না করলে বড় ধরনের দূর্নীতির বিষয়ে সাধারন মানুষ জানেও না, জানতে চায়ও না। কিন্তু, মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন সম্পর্কিত ঘটনার সাথে জড়িত ও মানুষকে সরাসরি লাভবান করে বা ক্ষতি করে এমন বিষয়গুলি সম্পর্কে মানুষ খোজ রাখে এবং/বা ভূক্তভোগী হয়। সরকার ও আওয়ামী লীগ কি আদৌ এ সংকট সম্পর্কে ওয়াকিবহাল? এবং, এ সংকট হতে উত্তরণের উপায় কি সরকার ও আওয়ামী লীগ নেতারা খুজবেন?
২০১৭ সাল হতে ২১০৯ সাল এই তিনটি বছর যথেষ্ট সময় সাধারন মানুষের মন জয় করার। সরকার ও আওয়ামী লীগ একটু সতর্ক হয়ে, ছোটখাট বিষয়ে লোভ লালসার উর্ধে উঠে কিছু পদক্ষেপ নিলে আবারো ২০০৮এর মতো নৌকার পক্ষে ব্যালট বিপ্লব সাধারন মানুষই করবে। যেসকল বিষয় সাধারন মানুষ সরাসরি জানে এবং মানুষকে সরাসরি প্রভাবিত, লাভবান ও ক্ষতি করে এমন বিষয়গুলি আওয়ামী লীগকে বিবেচনায় নিতে হবে, সেগুলি হলোঃ 
(১) গরিবের জন্য ১০টাকা কেজি চাল, ভিজিডি, ভিজিএফ সহ সকল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগী বাছাইয়ে দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতির উর্ধে উঠে, স্বচ্ছতা ও সততা নিশ্চিত করে প্রকৃত ও উপযুক্ত সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্ত করা; 
(২) প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা, বয়ষ্ক ভাতা সহ সামজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীতে প্রদেয় টাকার পরিমান ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো; 
(৩) সরাসরি সরকারি তত্ত্বাবধানে ৪০হাজার টাকায় বিদেশে শ্রমিক প্রেরণের ঘোষণাটির বাস্তব রুপ নিশ্চিত করা এবং সকল ধরনের আদম ব্যাবসায়ী ও আদম ব্যবসার দালাল চক্রকে এই লাইন হতে সরে গিয়ে অন্য পেশা/কাজে জড়িত হওয়ার কঠোর নির্দেশনা দেয়া, এরপরেও কেউ আদম পাচারে জড়িত হওয়ার চেষ্টা করলে জিরো টলারেন্স নীতির ভিত্তিতে নির্মূল করা; 
(৪) বিদেশে অদক্ষ শ্রমিক গমন পুরোপুরি বন্ধ করা, আধা দক্ষ ও দক্ষ পুরুষ শ্রমিক প্রেরণের জন্য দ্রুত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা, বর্তমান সরকারি ও বেসরকারি কেন্দ্রসমূহে পেশাগত প্রশিক্ষণ ও ভাষাগত প্রশিক্ষণ যাতে যথোপযুক্ত হয় তা নিশ্চিত করা, বিদেশে পেশাজীবি নারী ছাড়া সকল ধরনের নারী শ্রমিক গমন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা, সকল ধরনের শ্রমিক, পেশাজীবি বিদেশে গিয়ে বাংলাদেশের দুতাবাসে রিপোর্ট করবে এবং বাংলাদেশের দূতাবাস হতে শ্রমিকদের/পেশাজীবিদের কাজের ও থাকাখাওয়ার ব্যবস্থাদি উল্লেখ সহ উপযুক্ত নিয়োগপত্রের কপি জমা দিয়ে নিয়ে যাবে এমন বিধান চালু করা ও তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, কারিগরিভাবে অতি দক্ষ পেশাজীবি ও বিজ্ঞানীদের বিদেশে গমন নিষিদ্ধ করা ও তাদেরকে দেশেই তাদের দক্ষতা কাজে লাগানো ও গবেষণার জন্য উপযুক্ত সুবিধা ও পরিবেশ নিশ্চিত করা; 
(৫) ছোট ও মাঝারি সকল ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ দূর্নীতিমুক্ত করা; 
(৬) স্বাধীনতা উত্তরকাল হতে এ যাবত সঙ্ঘটিত সকল ধরনের সাম্প্রাদয়িক হামলা, বাড়ি-জমি-ব্যবসার অবৈধ দখলের প্রতিকার ও বিচারের জন্য ‘মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ এর মতো বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে প্রতিকার ও বিচার কাজ শুরু করা, ২০০১এর সালসা নির্বাচনের প্রচারণাকালে ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সঙ্ঘটিত মানবতা বিরোধী অপরাধ সমূহের বিচার বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করে এখনই শুরু করা; 
(৭) মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান বিচার সমূহ নিস্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা, পরিধি, কর্মী ও বাজেট বাড়ানো; 
(৮) দেশের আদালতসমূহে চলমান মামলাগুলোর দ্রুত বিচার সম্পন্নের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা, কারাগারগুলোতে নতুন অপরাধী সৃষ্টির বদলে অপরাধী সংশোধনের উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা, ছোটখাট অপরাধ ও জীবনে একটি মাত্র অপরাধ আদালত আমলে নিয়ে বিচার করে শাস্তি দিয়েছে, এমন অপরাধীদের প্যারোল ও প্রবেশন কর্মসূচীর মাধ্যমে সমাজসেবা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সংশোধনের প্রচেষ্টা কার্যকর করা-যা আইনে উল্লেখ রয়েছে; 
(৯) ঢাকা শহরে যেমন অযথা পুলিশি হয়রানি কমে গিয়েছে তা সারা দেশেই কার্যকর হওয়া নিশ্চিত করা, যাতে “পুলিশ জনগনের বন্ধু” স্লোগানটি মানূষ স্বতস্ফুর্তভাবে উচ্চারন করে, প্রকৃতপক্ষেই পুলিশ জনগনের বন্ধু হয়ে ওঠে; 
(১০) সাইবার ক্রাইম দমন আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা, এ জন্য পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনী সমূহে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ এবং/বা তৈরী করা; 
(১১) কৃষি পণ্য উতপাদন ও বিপননে সহজে ব্যবহার যোগ্য ‘কৃষিনেটওয়ার্ক ওয়েব পেজ’ গড়ে তোলা, কৃষিতে ভর্তুকি বাড়ানো ও তা প্রকৃত কৃষকরাই যেনো পান, তা নিশ্চিত করা, মতস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রজনন মৌসুমে জেলেদের ভর্তুকী প্রদানের মাধ্যমে মতস্য সম্পদ বৃদ্ধি কার্যক্রমে প্রকৃত জেলেরাই যেনো সেই সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করা, সুন্দরবন রক্ষায় বনজ়ীবিদের বেকার মৌসুমে ভর্তুকী দান ও বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা, এসব বিষয়ে আইন অমান্যকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা; 
(১২) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত বেতনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এবং কল-কারখানাসমূহের বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হয়নি, যা বেসরকারি শ্রমিক-কর্মাচারিদের মনে তীব্র অসন্তোষ দানা বেধে আছে, অনতিবিলম্বে এ ক্ষোভ নিরসনের ও নূন্যতম মানবিক জীবন যাপনের জন্যে তাদের বেতন বৃদ্ধি বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া; 
(১৩) শিক্ষা ও চিকিতসা সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক মানবিক অধিকার, কিন্তু এ ক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব ও অবহেলার সুযোগে আজ সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তিসমূহের নীলনকশায় মৌলবাদী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে এবং দেশীয় মুনাফাখোরদের লালসায় শিক্ষা ও চিকিতসা একদিকে যেমন পণ্যে পরিণত হয়েছে, অপরদিকে জংগি উতপাদনের কারখানা ও মৌলবাদীদের কর্মসংস্থানের আখড়ায় পরিণত হয়েছে, দেশের চাহিদা অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ভিত্তিতে সরকারি শিক্ষা ও চিকিতসাসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং তাতে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের নিশ্চয়তার ঘোষণা দিয়ে তা কার্যকরের উদ্যোগ শুরু করা, আবার অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, কিন্তু, প্রচারণার অভাবে জনগণ সেসব সুবিধা সম্পর্কে জানেও না, যেমন ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে “কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল” সম্পর্কে জনগনের ধারণা এটা শুধুই সেনাবাহিনীর জন্য, এর পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহ হতে ৩/৪ ঘন্টা সময় নিয়ে ঢাকা মেডিক্যালে যায়, অথচ এখানে রোগী আসে না, ঢাকার আশেপাশে শিল্প এলাকায় বেশ কিছু সরকারি হাসপাতাল গড়ে উঠেছে, অথচ এসব এলাকার শ্রমিকেরা জানেও না যে, তাদের পাশেই সরকারি হাসপাতাল রয়েছে, এসব সরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহ সম্পর্কে প্রচার করে জনগনকে সেসব প্রতিষ্ঠান হতে সেবা প্রদানে উতসাহিত করা, নতুন করে যেনো কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও চিকিতসা-ব্যবসাকেন্দ্র বেসরকারি পর্যায়ে গড়ে উঠতে না পারে তা কঠোরভাবে নজরদারি করা, গণমাধ্যমসমূহে এসব বেসরকারি শিক্ষা ও চিকিতসা ব্যবসা কেন্দ্রসমূহের প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা, এবং চলমান এইসব প্রাইভেট শিক্ষা ও চিকিতসা কেন্দ্রকে কঠোর নজরদারিতে আনা; 
(১৪) দ্রুত ও অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও নগরায়নের স্বাভাবিক কুফল হিসবেই যৌথ পরিবার ভেঙ্গে একক এমনকি অনু পরিবার সৃষ্টি হচ্ছে, সামাজিক বন্ধন শিথিল হচ্ছে ও সামাজিক দায়িত্ববোধ কমে যাচ্ছে, অপরদিকে পুজিবাদের স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ীই বেকারত্ব, পেশাগত দুর্ঘটনা, অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন পরিচালনার জন্য সড়ক, রেল ও নৌ দুর্ঘটনা বাড়ছে, মানুষ কর্মহীন হচ্ছে এবং প্রতিবন্ধীর সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু, আমাদের দেশের সংবিধানে অন্য, বস্ত্র, বাসস্থানকে মৌলিক চাহিদা স্বীকার করে নেয়া হলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেই, হতদরিদ্র ও দরিদ্রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি রয়েছে, ধনী ও অতি ধনীদের জন্যও গোপনে ব্যাংক ঋণ মওকুফ, ঋণ পূণঃতফশিলীকরণ সুবিধা  থাকলেও নিম্ম-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জন্য কোন নিরাপত্তা এবং/বা কল্যাণমূলক কর্মসূচী নেই, নিম্ম-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের জন্য আপদকালীন সময়ে সাময়িক কল্যাণমূলক কর্মসূচীর কথা এখনই ভাবা প্রয়োজন, যা উন্নত দেশসমূহে রয়েছে। 
(১৫) যার যার যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর শেষ করার পর বেকার হিসাবে তালিকাভূক্ত করা, আত্ম-কর্মসংস্থানের জন্য উতসাহিত করা এবং যোগ্যতা ও শিক্ষা অনুযায়ী চাকুরি বা আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ না হওয়া পর্যন্ত্য বেকার ভাতা দেয়া এবং সেই সময়টাতে চাকুরি/আত্ম-কর্মসংস্থানের চেষ্টার পাশাপাশি দিনে অন্ততঃ ৩/৪ঘন্টা সরকারি তত্ত্বাবধানে সামাজিক কর্মকান্ডে বা সরকারি কোন উন্নয়ন কর্মকান্ডে জড়িত রাখার কথা ভাবা যেতে পারে, এতে বেকার তরুণ-তরুণীরা একদিকে যেমন ‘অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা’ হয়ে অপরাধে জড়াবেনা, অন্যদিকে শ্রমের মর্যাদার প্রতিও আকৃষ্ট হবে; 
(১৬) পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাহাড়ে এখনো বিরাজমান অসন্তোষ ও সঙ্ঘাত পরিস্থিতির অবসান ঘটানোর কার্যকর উদ্যোগ নেয়া, মনে রাখতে হবে, শরীরের একটি অঙ্গে পচন (ইনফেকশন) লালন করলে একসময় তা গ্যাংগ্রিনে রুপান্তরিত হবে, যা কারোই কাম্য নয়, সমতলের আদিবাসীদের/ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীসমূহের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি রক্ষা ও তাদের ভূমি অধিকার ভোগ নিশ্চিতকরনে পর্যাপ্ত সুরক্ষা দেওয়ার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করে তা কার্যকরের উদ্যোগ নিতে হবে; 
(১৭) আন্তর্জাতিক পরাশক্তিসমূহের এজেন্টদের উপযুক্ত তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে বিচার করতে হবে, সে সক্ষমতা এখন বাংলাদেশের আইন-শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীসমূহের রয়েছে, দূর্নীতি দমন কমিশনকে আরো স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা দিয়ে রাঘববোয়াল দূর্নীতিবাজদের, তারা যে দলের যে মতেরই হোক না কেনো, বিচারের সম্মূখীন করে সমাজ হতে দূর্নীতির মূলোতপাটন করার অঙ্গীকার ও কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে; 
(১৮) চাকুরীতে যেসব নারী সুযোগ পাবেন না বা পারিবারিক কারনে চাকুরি করবেন না, সেসব নারীদের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় উতসাহিত করে, প্রশিক্ষণ দিয়ে ও রাষ্ট্রের পক্ষ হতে সহজ শর্তে ঋণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ দিতে হবে; 
(১৯) নানামূখী প্রাথমিক শিক্ষা বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে, শহরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে উঠে নাই, যার সুযোগ নিয়ে নানামূখী শিক্ষা ব্যবসাকেন্দ্রের নামে মৌলবাদ ও কুশিক্ষার আখড়াগুলো গড়ে উঠেছে, এগুলো পর্যায়ক্রমে নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টা শুরুর পাশাপাশি জরুরী ভিত্তিতে বিভিন্ন সরকারি অফিস ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের আবাসিক এলাকায় যেখানেই পতিত জমি আছে, দ্রুত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তুলতে হবে; 
(২০) মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য এবং আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আলোকে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত্য সিলেবাস প্রণয়নের মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গন হতে দেশপ্রেমিক ও কর্মঠ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগী ভুমিকা নিতে হবে; 
(২১) মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধান পরিপন্থী যে কোন ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহীতামূলক ও উষ্কানিমূলক বক্তব্য প্রদানকারি ও প্রচারকারিকে দ্রুত বিচারের মুখোমুখী করতে হবে, এদের ক্ষমা করে দেয়া বা এদের বিষয়ে ধীরে চলো নীতিতে তদন্ত করার ফলাফল অতীতেও শুভ হয়নি, আগামী দিনেও শুভ হবে না, কেননা এরা জেনে-বুঝে দীর্ঘমেয়াদী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এসব বলে থাকে। 
যদি সরকার ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উল্লেখিত বিষয়গুলি বিবেচনায় নিয়ে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বাস্তবায়ন ও কার্যকরের উদ্যোগ নিতে পারে, তবে জনগনই আগামী ২০১৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারো ২০০৮ এর মতোই আওয়ামী লীগের পক্ষে ব্যালট বিপ্লব ঘটাবে। 


লেখকঃ মোঃ মাহমুদ হাসান (সমাজ গবেষণা কর্মী), ঢাকা।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top