Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮ , সময়- ১২:৩৯ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
রাসেল, রাসেল তুমি কোথায় ? বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্পিকার আজ শোক দিবস : বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে আজ শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু হত্যা ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা  বিশ্বের বসবাসের অনুপযুক্ত শহরগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় ঢাকা ১৫ আগস্টের রাত বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কজনক রাত : আইনমন্ত্রী এশিয়া কাপের জন্য ঘোষিত ৩১ সদস্যের প্রাথমিক দল জনগণ খুশি থাকলেই আমাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সার্থক হবে : ওবায়দুল কাদের মায়া চৌধুরীর ১৩ বছর সাজার রায় বহাল থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত ৭ অক্টোবর

জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রধান টার্গেট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা !


অনলাইন ডেস্ক

আপডেট সময়: ২৭ জানুয়ারী ২০১৭ ১:৩০ পিএম:
জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রধান টার্গেট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা !

‘উগ্রপন্থি-মৌলবাদীগোষ্ঠী নানাভাবে সামনে ও পেছনে তৎপর রয়েছে। এই গোষ্ঠী সামনে এক ধরনের ‘রাজনীতি’ আর পেছনে হামলা ও নাশকতায় মদত দিচ্ছে। মৌলবাদী তথা জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রধান টার্গেট আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা! তাকে হত্যায় এর আগেও একাধিকবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় জঙ্গিরা। কিন্তু চক্রান্তকারী ও ষড়যন্ত্রকারীরা  এখনো থেমে নেই।’ ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলামের বক্তব্যের একটি ভিডিও ফুটেজে জানা গেছে এসব তথ্য। ৪ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ সপ্তাহ-২০১৭ উপলক্ষে মঙ্গলবার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সভায় আলোচকদের একজন  ছিলেন সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী পুলিশ কর্মকর্তাদের নানা দাবি-দাওয়ার কথা শোনেন। ওইদিন মনিরুল ইসলাম তার বক্তব্যে জঙ্গিবাদের জন্ম, উগ্রবাদী তথা মৌলবাদীগোষ্ঠীর তৎপরতা এবং তাদের নাশকতার কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী মনোযোগের সঙ্গে সেই তথ্যগুলো শুনছেন এবং কখনো কখনো তিনি নোট নিচ্ছেন।

জানতে চাইলে সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার জঙ্গিবাদে মনিরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের নেপথ্যে রাজনৈতিক শক্তি আছে। এরা দেশের উন্নয়ন চায় না, সরকারের ভালো চায় না। তারা নানা কৌশলে সামনে ও পেছনে থেকে নাশকতায় মদত দিয়ে যাচ্ছে। ষড়যন্ত্রকারীরা একেক সময় একেক ধরনের কৌশল গ্রহণ করে দেশকে পিছিয়ে দিতে হামলা করছে। তাদের ভ্রান্ত ধারণা, হামলার মাধ্যমে সরকারের পতন হবে, বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ হবে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অব্যাহত তৎপরতায় তাদের দমন করা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি বলেন, গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার মাধ্যমে সরকারের পতন ত্বরান্বিত করার একটি ব্যর্থ চেষ্টা চালায় জঙ্গিরা। তাদের পেছনে আছে স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদীগোষ্ঠী। যাদের প্রধান টার্গেট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চক্রান্তকারীরা আগেও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে বারবার টার্গেট করেছে। কিন্তু তাদের সেই চেষ্টা বরাবরাই ব্যর্থ হয়েছে। এরা অবশ্য এখনো থেমে নেই। পুরো সক্ষমতা না থাকলেও কৌশল বদল করে নাশকতা ও হামলার মাধ্যমে জঙ্গিগোষ্ঠীর মদতদাতারা সক্রিয় আছে। তবে তাদের দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবসময় কঠোর। তারা কখনোই সফল হতে পারবে না।
৪ মিনিটি ৪৪ সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজে মনিরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তার বক্তব্যে নানা দিক তুলে ধরেন। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা পরবর্তী সময়ে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার মাধ্যমে ধর্মীয় উগ্রপন্থি চর্চার শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে উগ্রবাদের।

মনিরুল ইসলাম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপী জঙ্গিবাদের উৎপত্তি উগ্র-মৌলবাদ থেকে। আর এদের প্রধান টার্গেট হচ্ছে শেখ হাসিনা। সে জন্যই উগ্রপন্থিরা বারবার শেখ হাসিনাকে টার্গেট করে হত্যার চেষ্টা করেছে। মনিরুল ইসলামের ভাষায়, ‘জঙ্গিদের প্রধান শত্রু হলেন শেখ হাসিনা’। উগ্রপন্থিরা বারবার ব্যর্থ হলেও তারা থেমে থাকেনি। তারা কখনো কখনো সামনে আসে। তবে অধিকাংশ সময় পেছন থেকে কোরান-হাদিসের বিকৃত ব্যাখ্যা দিয়ে যুবকদের মগজধোলাই করে। শর্টকাটে জান্নাতে যাওয়ার লোভ দেখিয়ে যুবকদের উদ্বুদ্ধ করে জঙ্গিবাদের দিকে।

প্রাপ্ত ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেখানে ২০১৫ সালে ৯২ দিনের ককটেল-পেট্রলবোমা নিক্ষেপ ও আগুন সন্ত্রাসের বিষয়টি এসেছে। বলা হয়েছে, ওই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পেট্রলবোমার মতো নাশকতা মোকাবিলায় সচেষ্ট হওয়ায় ভিন্ন কায়দায় হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। তারই ধারাবাহিকতায় দেশে ভিন্ন ধর্মের লোক পুরোহিত, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, শিয়া, পীর, ওলামা, মাশায়েখ, খাদেম ও বিদেশি নাগরিককে হত্যা শুরু করে। সর্বশেষ তারা বড় ধরনের হামলা করে গুলশানের হলি আর্টিজানে। যেখানে বিভিন্ন দেশের নাগরিক ও কর্তব্যরত দুই পুলিশসহ ২২ জন মারা যায়।

মনিরুল ইসলাম তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে শুধু একজন রাষ্ট্রপ্রধান নয়, একজন মমতাময়ী মা হিসেবে উল্লেখ করে ১ জুলাই গুলশান হামলার সেই বিভীষিকাময় রাতের কথা বর্ণনা করেন। ওই রাতে প্রধানমন্ত্রী বারবার নির্দেশনা দিচ্ছিলেন যাতে করে গুলশানে হামলাকারীরা কোনোভাবে পালাতে না পারে। মনিরুল ইসলাম বলেন, গুলশান হামলার পর থেকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাংলাদেশ পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ শুরু করে।
সিটিটিসি ইউনিটপ্রধান বলেছেন, জঙ্গিবাদ বৈশ্বিক সমস্যা হলেও বাংলাদেশে একটি ‘দেশীয় সংস্করণ’ রয়েছে। প্রয়োজন কাউন্টার রেডিকালাইজেশন কর্মসূচি। বিশেষ করে যারা কারাগারে আছে এবং যেসব তরুণ গোপনে লিপ্ত আছে, তাদের বোঝাতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে অভিযানে চালাতে হবে। সিটিটিসি ইউনিটের কর্মপরিধি বাড়ানো এবং পুলিশের জন্য অস্ত্র এবং বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের বিষয়টিও আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল। এসব তথ্য ভিডিও ফুটেজে রয়েছে।

সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বোয়িং উড়োজাহাজেও নাশকতার চেষ্টা হয়। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর থেকে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা শুরু হয়।

 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top