Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ , সময়- ১:৪২ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
দাড় কাউয়া মুক্ত আওয়ামী লীগ চাই, বিলবোর্ডের ছবি ভাইরাল কাল আদালতে খালেদার হাজিরার দিন যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে: মার্কিন এ্যাডমিরাল 'গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে আমরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করব' নেতাকর্মীদের ধৈর্যহারা না হওয়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের পৃথিবীর কোনো দেশে নজির নেই বন্দির সাথে সহযোগি থাকার : সেতুমন্ত্রী | প্রজন্মকণ্ঠ ডিসেম্বরেই মন্ত্রিত্ব থেকে অবসরে ঘোষণা দলেন অর্থমন্ত্রী  | প্রজন্মকণ্ঠ বাড্ডায় ভেঙে পড়লো ইউলুপের বিম তরুণ প্রজন্মই জাতির ভবিষ্যৎ : স্পিকার | প্রজন্মকণ্ঠ  বিশ্ব ভালবাসা দিবসে প্রধানমন্ত্রী বরাবর খোলা চিঠি দিলেন ঝিনাইদহের সেই রেল আব্দুল্লাহ

সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, রাজনীতির আরেক বর্ণাঢ্য পাঠের সমাপ্তি


আঞ্চলিক

আপডেট সময়: ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ ১১:২৮ এএম:
সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, রাজনীতির আরেক বর্ণাঢ্য পাঠের সমাপ্তি

উপ-সম্পাদকীয়, গোলাম সারোয়ারঃ সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত সত্যি সত্যি আজ চলে গেলেন। ২০১২ সালে রাজনীতি থেকে তিনি এক রকম অবসরই নিয়েছিলেন। তারপরও বাংলাদেশে রাজনীতি ছিলো এবং আছে। তবে তিনি যেভাবে রাজনীতিকে তত্ত্বে এবং আনন্দের ডোরে বেঁধে ছিলেন তেমন সংখ্যা আরও বৃহৎ-একটি কমলো। 

বিরোধী দলের সমালোচনার যে মাধুর্য থাকা উচিত তা গুপ্তের ছিলো । তাঁর আরো যে বিরল গুণ ছিলো তা'হলো নিজের এবং নিজ দলের সমালোচনা করার ক্ষমতা।  

তিনি অনেক কঠোর কথা বলতেন অনেক মধুর ভাষায়, অলংকারে মুড়িয়ে! শেষ জীবনে তিনি ছিলেন মন্ত্রী তবে কোন পোর্টপোলিও ছাড়া! এই অবস্থা গুপ্তের মতো রাজনীতিবিদদের মানায় না। তাই তিনি চলে গেলেন উপসংহারের আড়ালে, অনেকটা স্বেচ্ছায় ।

সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত জন্মে ছিলেন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায়। তিনিও এক ভাটির পুরুষ । ভাটির দেশে আমাদের বাঙ্গালী-মনের অনেক আপনজন আছেন। সেই শচিন কর্তা, হাসন রাজা এবং বাউল সম্রাট আবদুল করিম! 

সর্বশক্তিমান ভাটি অঞ্চলকে দরাজ হাতে দিয়েছেন । ভাটির দেশ আমাদের টানে। উজানে টানে এই সব মহাপ্রাণকে কেন্দ্রে রেখে। আজো শচিন কর্তার, ‘হবিগঞ্জের জালালি কইতর, সুনামগঞ্জের কুড়া, সুরমা নদীর গাঙচিল আমি, শূন্যে দিলাম উড়া….’ শুনলে শরীরে পশম দাঁড়িয়ে যায় ! এক একজন ভাটির পুরুষ যেন এক একটি ব্ল্যাকহোলের অতিজাগতিক টান! এই অঞ্চলেই জন্ম গুপ্তের । 

বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর মতো অভিজ্ঞ এবং উচ্চমানের প্রজ্ঞাধারী নেতা বিরল।  তিনি ছিলেন আইন বিষয়ে মাস্টার্স । 

তিনি জীবন প্রভাতে রাজনীতি শুরু করেছিলেন বামপন্থী হিসেবে। ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক এসেম্বলির নির্বাচনে তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি থেকে নির্বাচিত হন। তখন আমরা পাকিস্তানের পেটের ভিতরে। তখন আগুন সময়। 

সেই সময়ে তাঁরা নির্বাচিত হলেও ইয়াহহিয়া তাঁদের গদিতে বসতে দিবেনা তা তাঁরা জানতেন। কিন্তু তবুও তাঁরা নির্বাচন করে জিতেছিলেন। নির্বাচন করেছিলেন এই কারণে যে, সরকার গড়িমসি করলে জনগণ পর্যবেক্ষণ করবে। তারপর জনগণ সক্রিয় হবে। তখন রাজনীতির সাদা ছড়ি বঙ্গবন্ধুর হাতে। রাজনীতির শিক্ষকরা জানতেন কিভাবে মূর্খ দৈত্যের কঠোর দেয়াল ভাংতে হয় । 

তারপর মেঘে মেঘে জাতি মু্ক্তিযুদ্ধের জন্যে ম্যাসিউড় হয়ে যায়। সাংসদ গুপ্তও তখন যথার্থ বাঙ্গালী জোয়ানের মতো মুক্তিযুদ্ধে চলে যায়। মুক্তিযুদ্ধে জয়ী বাংলাদেশের প্রথম সংসদের তিনি হলেন বিরোধী দলের মুখপত্রদের একজন। ছোট খাটো কোন কথা নয়। বঙ্গবন্ধুর মুখের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর সমালোচনা ! হ্যাঁ, এটিই ছিলো গুপ্তের স্টাইল । তিনি বলতেন;-অবলীলায়, সর্পিলগতিতে, ঋজুভাবে, কখনো কখনো নির্মিলিত চোখে । তারপর তিনি গেলেন একতা পার্টির নেতৃত্বে। ১৯৯০ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করলেন । 

রাজনীতির পথ পুলসিরাতের পথ। এখানে একেকজন রাজনীতিবিদকে হাঁটতে হয় ধারালো সরু থেকে সরুতর পথের উপর দিয়ে । এখানে সদরে এবং অন্দরে অনেক কিছুই ঘটে । সেই ঘটনার অভিঘাতে বহু মেধাবী রাজনীতির কবিকে চলে যেতে হয় অভিমানের ওপারে... ।  

আজ তিনি চলে গেলেন। বক্তৃতায় গুপ্তের যে আর্ট ছিলো তা আমাদের স্মরণ করতেই হবে । দাদা, মুক্তির মন্দির সোপান তলে..., আপনার জীবন যৌবন বলিদানকে আমরা অঞ্জলি পেতে নিলাম।  বাংলার আত্তীকরণে আপনার জীবনকে আমরা স্বীকৃতি দিলাম। গুপ্ত, যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন ।
 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top