Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ , সময়- ১২:২২ পূর্বাহ্ন
Total Visitor:
শিরোনাম
আগামীকাল ফ্রান্সে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন হলো শেখ হাসিনা সফটওয়্যার পার্কের, কর্মসংস্থান ২০ হাজার তরুণের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতেই গুম খুনের পথ বেছে নিয়েছে সরকার রংপুর সিটি নির্বাচনে জয়ের অনেকটাই আশাবাদী আ.লীগ  ওআইসির সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্ক যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি যে কেউ জোট গঠন করতে পারে তবে এটিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছি না :  এরশাদ মানুষের ওপর চেপে বসেছে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বোঝা  লুটপাট, মানি লন্ডারিং, দুর্নীতি, ঘুষ, অত্যাচার, নির্যাতন ছিল বিএনপির কাজ : প্রধানমন্ত্রী ইবির 'সি' ও 'জি' ইউনিট নিয়ে পৃথক তদন্ত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সপ্তাহব্যাপী বিজয় উৎসবের অনুষ্ঠান শুরু

আমাকে লিডার বললে বুকটা হাহাকার করে উঠে, আমরা জাতির পিতাকে ‘লিডার’ বলতাম - প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর


অনলাইন ডেস্ক

আপডেট সময়: ২২ মার্চ ২০১৭ ৫:৩৩ পিএম:
আমাকে লিডার বললে বুকটা হাহাকার করে উঠে, আমরা জাতির পিতাকে ‘লিডার’ বলতাম - প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর

“মাহমুদ, তুমি এখনি পৌরসভা অফিসে আসো, লিডার জিল্লুর রহমান স্যার তোমাকে সালাম জানাইছেন”; টেলিফোনে এ কথাটি শুনে আমি স্তম্ভিত ও আনন্দে আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলাম। শুধু বলতে পারলাম, “স্যার আমি আসছি”। সাথে সাথে কলেজ হতে বের হয়ে গেটের পান দোকানদার নিরঞ্জনকে বললাম, “আমারে ৫টা টাকা দেও, বিকালে দিতাছি”। রিকশা নিয়ে ছুটলাম ময়মনসিংহ পৌরসভা অফিসের দিকে। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক, জাতির পিতার সাথে যিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ছিলেন, এতো বড় মাপের একজন নেতা আমার সাথে সাক্ষাত করতে চাইছেন, এ যেনো জীবনের এক পরম পাওয়া, কানে বার বার বাজছে, “লিডার জিল্লুর রহমান স্যার তোমাকে সালাম জানাইছেন।“ আমি হাওয়ায় উড়ছি, আমলাপাড়ার ভিতর দিয়ে রিকশায় নয়, যেনো পঙ্খীরাজ ঘোড়া আমাকে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে এক মহাপূরুষের দর্শন পাইয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে।
পৌরসভা অফিসে চেয়ারম্যান মহোদয়ের কক্ষে পর্দা সরিয়ে, “লিডার, আস্সালামু আলাইকুম”, বললাম। চেয়ারম্যান মহোদয় দরজার দিকে ইশারা দিয়ে ওনাকে কিছু একটা বললেন। আরেকটি বিস্ময়! জাতির পিতার সাহচর্যে রাজনীতি করা, দেশপ্রেম, সততা, নিষ্ঠা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে আপোষহীন লড়াকু সৈনিক এক মহাপুরুষ সালামের জবাব দিতে দিতে পৌর চেয়ারম্যান মহোদয়ের পাশের চেয়ার হতে উঠে দাঁড়িয়ে দু’ হাত বাড়িয়ে দু’ কদম এগিয়ে এলেন, আমাকে আলিঙ্গন করলেন। এক মহামানবের বুকে যেনো আমি এক স্বর্গসূখ অনুভব করলাম, মূহুর্তেই মনে হলো, ছাত্র রাজনীতির সুবাদে অনেক বড় বড় নেতাকে খুব কাছে থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে, অনেকের সাথে কথা হয়েছে; কিন্তু, জাতির পিতাকে দেখিনি, আজ যেনো জাতির পিতার এক সহকর্মী ও যোগ্য উত্তরসূরির বুকের স্পর্শ পেয়ে সে সাধ পূর্ণ হলো। তিনি নিজ হাতে পৌর চেয়ারম্যান মহোদয়ের টেবিলের উত্তর পাশ হতে একটি চেয়ার টেনে পশ্চিম পাশে এনে বললেন, “এখানে আমার কাছাকাছি বসুন, আমি প্রিন্সিপাল সাহেবের কাছে আপনার মহতী প্রচেষ্টার কথা আগে টেলিফোনে শুনেছি, আজ আবারো শুনে আপনার সাথে দেখা না করে ময়মনসিংহ হতে চলে যাওয়াটা আমার জন্য অকৃতজ্ঞতা হয়ে যাবে, তাই আপনাকে এই কষ্ট দেয়া”। প্রতিটি শব্দ মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছি, বিমোহিত করে তুলছে আমাকে, এক মহামানব আমার মতো এক ক্ষুদ্র মানুষকে কি বলছেন! কোন পূর্বপূরুষের পূণ্যের ফলস্বরুপ এমন এক দেবতুল্য মহামানবের অমোঘ বাণী আমার উদ্দেশ্যে।

“প্রিন্সিপাল সাহেব, আমি ওনার সাথে একান্তে নিভৃতে কথা বলতে চাই, আমাদের একটু আলাদাভাবে বসার ব্যবস্থা করুন”। আবারো চমক, উনি পৌর চেয়ারম্যান মহোদয়কে উঠে যেতে না বলে বললেন, আমরা আলাদাভাবে বসবো অন্য কক্ষে। পৌর চেয়ারম্যান মহোদয় সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ালেন, টেবিলের পূর্ব পাশ দিয়ে বের হয়ে যেতে যেতে বললেন, “লিডার, আপনি এখানে বসেই মাহমুদের সাথে কথা বলেন, আমি অন্য রুমে বসছি”। পৌর চেয়ারম্যন মহোদয় আমার উদ্দেশ্যে বললেন, “মাহমুদ, তুমি ভয় পাইওনা, স্যার যা যা বলেন, শোন, সঠিক জবাব দিবা।“ পৌর চেয়ারম্যান মহোদয় দরোজার সামনে পিয়নকে বললেন, “আমি না কওয়া পর্যন্ত্য কেউরে চেয়ারম্যানের রুমে ঢুকতে দিবা না, আমার কাছে কেউ আসলে অ্যাকাউন্ট্যান্ট সাবের রুমে পাডাইয়া দিও”, বলে নিজ হাতে দরোজার পর্দা টেনে দিয়ে নিজ অফিস কক্ষ হতে মুক্তিযুদ্ধের এক সাব-সেক্টর কমান্ডার সসম্মানে ধীরপায়ে কিন্তু সিনা টান করে বেরিয়ে গেলেন। মনে হলো, যেনো সমর ক্ষেত্রে কমান্ডারের নির্দেশের প্রতি সন্মান জানিয়ে বেরিয়ে গেলেন এক অনুগত অধস্তন সেনা। 

“আমি আপনার কাছে কয়েকটা বিষয় জানবো, হয়তো আপনি আপনার শিক্ষকের সামনে সব কথা বলতে চাইবেন না, তাই ওনার অনুপস্খিতিতে কথা বলতে চাইছি আপনার সাথে।” আমি বাকরুদ্ধ, এ মহামানবের প্রতিটা আচরণে, প্রত্যেকটা শব্দ উচ্চারনে। একেকটি শব্দ মন্ত্রমুগ্ধের মতো গিলছি। বললাম, “লিডার, আমাকে ‘তুমি’ করে বললে খুশী হবো”। বিনয়ের অবতার, দেশ, জাতি ও জাতির পিতার প্রতি নিবেদিত মহাপূরুষের মুখে ভাঁজ পড়ে গেলো, বেদনায় নীল হয়ে গেলো ওনার কপলের পাশের শিরাগুলো, একটু স্থিত মুখে এক অমিয় সুধা ঢাললেন যেনো! “আমাকে লিডার বললে বুকটা হাহাকার করে উঠে, আমরা জাতির পিতাকে ১৯৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত্য ‘লিডার’ বলতাম”, উনসত্তরের পর হতে ‘বঙ্গবন্ধু’ বলতাম”, বলে পকেট হতে রুমাল বের করে অশ্রু মুছলেন। আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি আমিও। একটু সময় নিয়ে আবেগ সংবরন করে স্মিত হেসে বললেন “আমাকে আপনি জিল্লুর ভাই বলুন, তাহলে খুশী হবো”। আমার বুকে ঝড় বইছে, কি উত্তর দেবো এ মহামানবকে, শুধু বলতে পারলাম “স্যার, আপনি আমাকে ‘আপনি’ বললে, আমি কথা বলতে পারছি না”। আরেকটি ধাক্কা খেলাম, নিজের ভেতরে যেনো কুঁকড়ে যেতে লাগলাম, মহাপুরুষের অভূতপূর্ব বাণী শুনে, “আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর সংস্পর্শে আসার সুযোগ পেয়েছি. তারা অন্য দলের নেতা-কর্মীদের সন্মান করি নিজ দলের নেতা-নেত্রীদের চেয়ে বেশি, আমরা এই শিক্ষা পেয়েছি বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে। মাওলানা ভাষানী সাহেব বাংলাদেশ ম্বাধীন করার স্বপ্ন দেখতেন, কিন্তু, ওনার শিষ্য বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হলো মাওলানা ভাষানী সাহেবের জীবদ্দশাতেই। কার ভিতর কি প্রতিভা লুকিয়ে আছে, আমরা কেউ জানি না। এমনও তো হতে পারে, জাতির পিতার যে স্বপ্ন ছিলো, বাংলাদেশের মানুষের প্রকৃত মুক্তির জন্য সমাজতন্ত্র কায়েম করার, তা হয়তো অদূর ভবিষ্যতে আমরা আওয়ামী লীগ করতে পারলাম না, দেখা গেলো আপনারা করলেন, এবং আপনার নেতৃত্বেই তা হলো।“ আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম, কোন কথা মুখ হতে বের হচ্ছিলো না, তিনি আলতো করে আমার হাত স্পর্শ করলেন, আমি সম্বিত ফিরে পেলাম। 

“যখন ১৫ দল ভেঙ্গে গেলো, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদও দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেলো, আমরা সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আবারো ঐক্যের চেষ্টা করেও সফল হতে পারছি না, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তিসমূহের পরস্পরের প্রতি সন্দেহ ও অবিশ্বাস বাড়ছে, তখন আপনি ৭/৮ মাস যাবত চেষ্টা করে ময়মনসিংহে ৮দল, ৫দল ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে এক করে যৌথভাবে পৌরসভা নির্বাচন করার উদ্যোগটা কেনো নিলেন?” আমি যেনো এতোক্ষনে সম্বিত ফিরে পেলাম, যে গল্পগুলো জননেত্রী শেখ হাসিনা সহ ততকালীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের শোনা খুব প্রয়োজন ছিলো অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনে ও গণতন্ত্রের খোলসে সামরিক স্বৈরাচারের কবল হতে মুক্ত হতে, আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য সেই গল্পই আজ চার মাস পর শুনতে চাইছেন। স্বাভাবিকভাবে কথা বলার মতো অবস্থা হলো আমার, বললাম, “বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতা ও মুক্তির দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাস বিষয়ে সামান্য পড়া হতে যতদূর জেনেছি, ময়মনসিংহ বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে গোটা ভারতে কলকাতার পরেই ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে, বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনে ঢাকার পরেই ছিলো ময়মনসিংহবাসীর আবদান, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ও মুক্তিযুদ্ধে ময়মনসিংহবাসীর অবদান ঢাকা ও চট্টগ্রামের পরেই। আমি ময়মনসিংহে সক্রিয় ছাত্র রাজনীতি করার সময়ে বারবার ভাবতাম ও চেষ্টা করতাম সামরিক স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ময়মনসিংহের ভূমিকা যেনো ঢাকার পরেই ইতিহাসে স্থান পায়; এবং এ চেষ্টায় আমরা সফল হয়েছি। এখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তিসমূহের ঐক্যের যে প্রয়োজন, তাতে পৌরসভা নির্বচনকে সামনে রেখে আরেকবার চেষ্টা করা যায়, এটা আমার ভাবনা ছিলো-যা আমি কাউকে বলিনি, আজ আপনাকে আমি বললাম। এর সাথে আরেকটা বিষয়, যেটা আমি ময়মনসিংহের ৮দল, ৫দল, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের দুই অংশ ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতাদের বলেছি, যদি আজ এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের কোন মিছিলে পুলিশ নেতাদের কাউকে নির্মমভাবে লাঠি পেটা করে, আমাদের তো কোন জনপ্রতিনিধি নেই যে, পুলিশের লাঠি ধরে ফেলে বলবেন, এই কাকে পেটাচ্ছো? পুলিশ আজকের জনপ্রতিনিধিদের সন্মান করে, কোন নেতাকে তারা চেনে না, কোন জনপ্রতিনিধি কিছু বললে তারা সমীহ করে ও মানে। আমাদের জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টির, পৌরসভা চেয়ারম্যান মুসলিম লীগার হিসাবে নির্বাচিত হয়ে এখন জাতীয় পার্টির। আগামী পৌরসভা নির্বাচনে আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিসমূহের একটি সুদৃঢ় ঐক্যের মাধ্যমে পৌরসভা নির্বচনে অংশ নিতে পারি, তবে হয়তো আমরা এই শহরে একটি জনপ্রতিনিধির পদ পেতে পারি। আর আমার এই প্রচারণা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করে।“ মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছিলেন একজন সত্যিকারের জননেতা অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে আমার মুখপানে। আমার ভিতর হতে যেনো কথার ঢেউ বের হয়ে আসছিলো এক মহাসাগরের বুকে। মহাসাগর যেমন ঢেউকে প্রশ্রয় দেয় নীরবে, তেমনি প্রশ্রয় দিয়ে তিনি অমার কথাগুলি মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন। 

“এ মহৎ উদ্যোগ যখন সফল হলো, আপনারা গর্বিত ময়মনসিংহবাসী ৮দল, ৫দল, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ব্যানারে পৌরসভা চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী দিতে সক্ষম হলেন, নির্বাচন পরিচালনা ও প্রচারণায় সবার সক্রিয় অংশগ্রহণের যে ঘাটতি ছিলো, তাতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে কি আপনার হতাশা এসেছিলো কখনো?” বলে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন, যেনো এক অনিসন্ধিসু রাজনীতি-গবেষক। “নির্বাচনী ঐক্যে সকলের অংশগ্রহণ আন্দোলনে অংশগ্রহণের মতো হয় না, এটা আমি জানতাম। তবুও, আমাদের সুদৃঢ় ঐক্য ছিলো, তাই বিজয় হয়েছে ৮দল, ৫দল ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের“, জবাবে বললাম। “এখন আপনার কোন চাওয়া আছে কি আওয়ামী লীগের কাছে বা জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে?” জানতে চাইলেন, নেতা। জবাবে বলেছিলাম, “মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সকল শক্তির সুদৃঢ় ঐক্যের মাধ্যমে বেসামরিক লেবাসধারী সামরিক শাষককে হটিয়ে প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাষন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে জননেত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ অগ্রণী ভুমিকা পালন করবে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসলে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে ফিরে যাওয়া ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে, জাতির পিতা ও জাতীয় চার নেতা হত্যাকান্ডের বিচার করবে, এ কয়টাই আওয়ামী লীগের কাছে আমার প্রত্যাশা।“ উনি বিনয়ের সাথে বললেন, “আপনার সম্পর্কে যা শুনেছি, আপনি তার চেয়েও অনেক উচুঁ মাপের মেধাবী ও একজন দেশপ্রেমিক।“ আমি আবারো বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম, কত মহত প্রাণ হলে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বপ্রদানকারি একজন জাতীয় নেতা আমার মতো একজন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মানুষকে এতো সন্মান দিয়ে কথা বলতে পারেন। এমন সময় পৌর কমিশনার অমিনূল ইসলাম তারা ভাই রুমে ঢুকে স্যারকে সালাম দিয়ে বললেন, “লিডার, প্রিন্সিপাল স্যার বলছেন, আপনি বাবুলের সাথে কথা বলছেন, অন্য কারো ঢোকা নিষেধ, তবুও স্যার বেয়াদবি করে ঢুকে গেলাম, আমি পৌরসভার কমিশনার আমিনূল ইসলাম তারা, স্যার আপনার একটু দোয়া চাইতে আসছি।“ বিনয়ের অবতার জিল্লুর রহমান স্যার উঠে দাঁড়িয়ে সালামের জবাব দিলেন, হ্যান্ডশ্যাক করলেন পৌর কমিশনার মহোদয়ের সাথে, খোঁজ নিলেন তাঁর পরিবারের সদস্যদের। তারা ভাই শুধু এটুকু বললেন, “আমার ছোট ভাই বাবুল ঐক্যের উদ্যোগ না নিলে প্রিন্সিপাল স্যার জিতার কোন উপায়ই আছিল না, আমরাও হয়তো ধাক্কা খাইতাম”। (যদিও তারা ভাইয়ের এ কথাটি  আওয়ামী লীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে আমার প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরুপ একটু বাড়িয়েই বলা ছিলো। কারন, আমরা পৌরসভার কমিশনার পদগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তিসমূহের একক প্রার্থী দেয়ার চেষ্টা করেও সফল হইনি; দ্বিতীয়ত: কোন কোন ওয়ার্ডে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিসমূহের প্রার্থীরাই হয়েছেন বিজয়ী ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারি, আবার জাতীয় পার্টির প্রার্থীরাও কমিশনার পদগুলিতে জিতেছেন, এমনকি জাতীয পার্টির কর্মী একজন কুখ্যাত ডাকাত বলে পরিচিত ব্যক্তিও সে নির্বাচনে এক ওয়ার্ডে কমিশনার পদে বিজয়ী হয়েছে। তৃতীয়ত: যৌথভাবে কোন কমিশনার প্রার্থীর পক্ষে আমরা কোন প্রচার কাজ করিনি, কমিশনার প্রার্থী যারা রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের সক্রিয় সমর্থন পেয়েছেন ও জিতেছেন, তা তাঁদের নিজস্ব যোগ্যতা বলেই।)           


তারা ভাই সালাম দিয়ে স্যারের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে যাওয়ার পর স্যার বসলেন, আমাকেও বসতে ইশারা করে স্যার বললেন, “আপনি তো ছাত্র রাজনীতিতেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন, কিন্তু, কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে কোন পদে আসতে পারলেন না, জানি না এর কারন কি? ডাকসু নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েও নির্বাচন করলেন না, ত্যাগ স্বীকার করলেন একটি মহতী উদ্যোগ সফল করার জন্য। হয়তো আমি জানতে চাইলেও আপনি বলবেন না, আপনি শুধু ত্যাগ করে যান, কিছু চান না। এখন জেলা জাসদের সাধারন সম্পাদক আপনাকে করতে চাইছে, আপনি রাজী হচ্ছেন না, প্রিন্সিপাল সাহেব এমন জানালেন, প্রশ্নটা ব্যক্তিগত হলেও ব্যক্তিগত নয়, আপনার মতো নিবেদিত প্রাণ সংগঠক রাজনীতিতে বড় প্রয়োজন, দয়া করে যদি আমাকে বলেন”। এবারও আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম, এমন করে কেউ বলেনি আমায়, যদিও সে সময়ে শুধু জাসদের নয়, ময়মনসিংহের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদেরও একটা তীব্র আকাঙ্খা ছিলো, আমি ময়মনসিংহের রাজনীতির অঙ্গনে ছাত্র রাজনীতির সময়কার মতোই সক্রিয় হই ও সার্বক্ষনিক জড়িয়ে পড়ি। আমি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে একান্ত সত্য কথাটিই এ মহাপুরুষকে বললাম, “স্যার, আমার বাবা ছাত্রজীবন শেষ হওয়ার পরেও হয়তো আমার ব্যক্তিগত খরচ চালাবেন, কিন্তু, রাজনীতি করার জন্য যে বাড়তি খরচ, তা দিতে আমার বাবা সমর্থ নন। জেলা জাসদের নেতারা আমাকে বলেছেন, আমার জন্য একটি ভালো বাসা ভাড়া নিয়ে তাঁরা নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করবেন ও মাসে পাঁচ হাজার টাকা তাঁরা আমাকে দেবেন, এক হাজার আমার ব্যক্তিগত খরচ আর চার হাজার দলের দৈনন্দিন কাজ চালানোর খরচ হিসেবে, আমি রাজী হইনি নিজের সামর্থ্যের বাইরে কোন গুরু দায়িত্ব নিতে।“ তিনি অবাক হয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন।  

“আপনি নিজের জন্য কিছু চান না, কিন্তু, ময়মনসিংহবাসীর জন্য কিছু চাওয়া আছে আপনার, যাতে, আমি নেত্রীর সহযোগিতা নিয়ে কিছু করতে পারি?” আমি ওনাকে বললাম, “স্যার, জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার চাওয়া অনেক, কিন্তু, আমরা সামরিক শাষনের জগদ্দল পাথরটা না সরানো পর্যন্ত্য কিছু করতে পারবো না। তবে, ময়মনসিংহে এবারের জয়ের পরে একটা কথা আলোচনায় আছে, যদি অচিরেই এরশাদের পতন না ঘটানো যায়, আর যদি উপজেলা নির্বাচন এসে যায়, তবে শুধু সদর উপজেলায় নয়, ময়মনসিংহের সবগুলি আসনেই আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করতে পারি, এক্ষেত্রে নেত্রী সহ আপনাদের সহযোগিতা চাই।“ উনি স্মিত হেসে বললেন, “ময়মনসিংহ সদরে আওয়ামী লীগের একটি অলিখিত প্রতিশ্রুতির কথা প্রিন্সিপাল সাহেব আমাকে বলেছেন।”  

“আপনি পৌরসভা অফিসে আসেন না কেনো?” এবার আমার চমকে যাবার পালা, এতো কিছু জেনে এই মহামানব আসলে কি বের করতে চাইছেন আমার মুখ দিয়ে? বললাম, “স্যার, আমার তো পৌরসভা অফিসে কোন কাজ নেই, দু’ মাস আগে আব্বা স্যারের সাথে দেখা করতে কলেজে গেলেন, স্যার পৌরসভা অফিসে, ওনাকে ফোন করলাম, উনি বললেন, পৌরসভা অফিসে হুজুরকে নিয়ে আসো। সেদিন এসেছি, আর আজ আপনি ডাকলেন, আসলাম”। উনি বিস্ময় চোখে নিয়ে তাকিয়ে রইলেন। এমন সময় পৌরসভা অফিসের কর্মচারি চা-বিস্কুট দিয়ে গেলো, উনি আমার দিকে প্লেট বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, আপনি আগে নেন। যদিও আপনার শহরে এসেছি, তবুও আমি আপনাকে সালাম জানিয়ে এনেছি, আপনাকে কষ্ট দিয়ে”। আবারো বিস্ময়! ‘আপনার শহর’, ‘সালাম জানিয়ে’-মহামানবের উচাচারিত শব্দগুচ্ছসমূহ এখনো কানে বাজে। 


“আপনাকে একটা খুব স্পর্শকাতর প্রশ্ন করতে চাই, যদি আপত্তি না থাকে, দয়া করে বলবেন”, ওনার উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ পরশ পাথরের মতো হৃদয়ের মর্মমূলে ধীরলয়ে এক অনুরণন সৃষ্টি করছে। শুধু বলতে পারলাম, “জী স্যার বলুন”। উনি আমাকে অবাক করে দিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন “জননেত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ণ কি? আমি আপনাকে বিব্রত করার জন্য এ প্রশ্ন করছি না, আমরা মাঠ পর্যায়ের সঠিক মানুষদের কাছ থেকে আমাদের নেত্রী সম্পর্কে মতামত জানতে চাই।“ কয়েক মূহুর্ত সময় নিয়ে বললাম, “স্যার, ওনার সম্পর্কে গণ-মানুষের ধারনা অনেক বেশি প্রত্যাশার, জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ উনি সম্পন্ন করবেন, সাধারন মানুষ, যাঁরা বিচ্যুত হয়ে যাননি, তাঁরা এমনটি প্রত্যাশা করেন। আমি যতটুকু উপলব্ধি করি, তাতে ওনার নিরাপত্তা বিষয়ে আপনাদের আরো সতর্ক হওয়া দরকার, কারন, আমাদের সামরিক জান্তারা ও সাম্রাজ্যবাদী আপশক্তিগুলি ওনার মেধা ও মনন সম্পর্কে ভূল ধারণা পোষণ করেছিলো, নইলে ওনাকে দেশে এসে নেতৃত্ব গ্রহণের সুযোগ দিতো না, শুরুতেই।”

“আপনার কাছে আরেকটা বিষয় জানতে চাইবো, যদিও এটা আমার করা সমীচিন নয়, আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এ প্রশ্নটা করার আগে, প্রতিটা দলেই কম-বেশি ছায়ার মতো একটা উপ-দলীয় পরিস্থিতি কাজ করে ও এক এক নেতাকে ঘিরে একটা বলয় তৈরি হয়ে যায়, আপনি কি এ ধরনের কোন বলয়ের দ্বারা প্রভাবান্বিত?” আমি এ প্রশ্নটা খুব কঠিন হলেও সহজভাবেই নিলাম, হেসে উত্তর দিলাম, “স্যার অন্যান্য দলের মতোই এ ধরনের প্রচ্ছন্ন বলয় জাসদেও আছে বলেই মনে হয়, কিন্তু, আমি এ ধরনের বলয়ের দ্বারা প্রভাবান্বিত নই। ছাত্র রাজনীতিতে আঘাত পাওয়ার হয়তো এটা একটা ক্ষুদ্র কারন ছিলো, যদিও আমাদের ছাত্রলীগের কাউন্সিল পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর কমিটি শহীদ মিনারে গিয়ে শপথ নেওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।“ আমার উত্তরের পরও উনি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন, বোঝলাম, উনি আরো কিছু জানতে চাইছেন, যোগ করলাম, “আমাদের অন্যান্য নেতাদের চেয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে ‘কাজী আরেফ ভাইয়ের বর্ণনাগুলি আমার কাছে অধিকতর সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ মনে হয়, আমি সবার কথাই শুনি, তবে, অন্যদের তুলনায় আরেফ ভাইয়ের কাছে শোনা কথাগুলি নিজের বক্তব্যে বেশি ব্যবহার করতাম”। উনি খুব নরম স্বরে ও শ্রদ্ধার সাথে বললেন, “আপনি যে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিসমূহের সুদৃঢ় ঐক্যের কথা বললেন, তা আরেফ ভাই অন্যদের চেয়ে একটু বেশি ভাবেন, আমিও এটা উপলব্ধি করি।“ 
এরপর উনি বললেন, “প্রিন্সিপাল সাহেবের কাছে কি আপনার কিছু চাওয়া আছে?” আমি ওনাকে উত্তর দিলাম, “আমরা নির্বাচনে জেতার পর ৮দল, ৫দল, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ একসাথে বসার প্রয়োজন ছিলোম অন্তত: একবার হলেও। কিন্তু, এটা আমারই ব্যর্থতা যে, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে আমি এটা করতে পারিনি। এখন প্রিন্সিপাল স্যার যদি উদ্যোগ নেন।“ উনি বললেন, “এটা না করতে পারাটা একটা বড় ভূল হয়ে গেছে, আমি প্রিন্সিপাল সাহেবকে বলে যাবো, উনি যেনো এ কাজটা করেন।”

উনি আবারো আমাকে হতবাক করে দিয়ে বললেন, “আমি আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি, যদি বাংলাদেশের মানুষের জন্য কিছু করার জন্য আরো কিছুদিন বেঁচে থাকি, তবে আপনার কাছ থেকে আজ যা শিখলাম, তা আমার কাজে আসবে”। আমি বাকরুদ্ধ, ওনার এ ধরণের বিনয় প্রদর্শনে। উনি আমাকে বিনয়ের সাথে বললেন, “আমি যদি আপনার সাথে আলোচনায় কোন ভূল করে থাকি, যদি আমাকে বলেন, সংশোধনের সুযোগ পাবো আমি”। আমি আবারো অপ্রস্তুত ও বাকরুদ্ধ। যে মানুষটার সাথে আগেও দেখা হয়েছে ১৫দলের সভা ও মিছিলে, দু’চারবার সালাম দেয়ার পর দু’একটা সৌজন্যমূলক কথাও হয়েছে, তিনি আজ বারবার আমার কাছে অতি মানবীয় অচরণ করছেন একান্ত কাছে এনে। বিস্ময়ের ঘোর কাটিয়ে বললাম, “স্যার, আমি আজ আপনার কাছ থেকে যা শিখেছি, তা ভাষায় বর্ণনাতীত, যদি আমি এর হাজার ভাগের একভাগও অনুকরণ করতে পারি, তবে, আমার জীবন ধন্য হয়ে যাবে। তবে স্যার আমি বিস্মিত কয়েকটি বিষয়ে: 
• আপনি অধা ঘন্টার অলোচনায় মাত্র পাঁচটি ইংরেজী শব্দ ব্যবহার করলেন, লিডার, প্রিন্সিপাল, টেলিফোন, ডাকসু ও কমিটি;
• আপনি পৌর চেয়ারম্যান মহোদয়ের চেয়ারে বসেন নাই;
• আমি আপনার সন্তানের চেয়েও বয়সে ছোট, কিন্তু, আপনি যে সন্মান দিয়ে আমার মতো একজন ক্ষুদ্র মানুষের সাথে কথা বললেন, তা এই বিশ্বে বিরল।

উনি প্রত্যুত্তর করলেন, “আমি ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারি একজন নগণ্য কর্মী, পারতপক্ষে আমি বাংলা ভাষা ছাড়া অন্য ভাষা ব্যবহার করলে ভাষা শহীদদের প্রতি ও আমার সেদিনগুলির প্রতিশ্রুতির প্রতি অবমাননা করা হয়। যখন কোন বিদেশী প্রতিনিধি দল বা বিদেশী সাংবাদিকের সাথে কথা বলি, সে প্রেক্ষাপট ভিন্ন; আর কোন প্রতিষ্ঠানে এসে প্রতিষ্ঠান প্রধানের চেয়ারে বসা অশোভন বলে আমি মনে করি।“ এরপর বিনয়ের সাথে বললেন, “আমাকে পূর্ব নির্ধারিত একটা কর্মসূচিতে যেতে হবে, আমি আপনার কাছ থেকে আরো অনেক কিছু শিখতে পারতাম। দয়া করে কাউকে বলে প্রিন্সিপাল সাহেবকে একটু সালাম জানান।”

আমি ওনাকে বললাম “স্যার আমি নিজে যাচ্ছি”। পৌর চেয়ারম্যান মহোদয়কে গিয়ে জানালাম স্যারের সাথে আলোচনা শেষ হয়েছে। উনি সাথে সাথে উঠে অসলেন, ওনার চেয়ারে বসলেন।১৯৮৯ এ ময়মনসিংহ পৌরসভা অফিসে দীর্ঘ সময় একান্ত আলোচনা করা সেই মহাপূরুষ পরবর্তীতে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। কিন্তু, ওনার সাথে আমার একান্ত এমন দীর্ঘ আলাপচারিতা এটাই প্রথম, এটাই শেষ। 
আজ থেকে ৪ বছর আগে সেই মহাপূরুষ চলে গেছেন গোটা জাতিকে কাঁদিয়ে। ওনার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করে এ লেখাটি গতকাল দুপুর হতে লিখছি আর অনর্গল অশ্রু ঝরছে, বারবার কানে বাজছে ওনার সেই অগাধ শ্রদ্ধা ও ভক্তি সহকারে উচ্চারণ, “আমাকে লিডার বললে বুকটা হাহাকার করে উঠে, আমরা জাতির পিতাকে ১৯৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত্য ‘লিডার’ বলতাম”, উনসত্তরের পর হতে ‘বঙ্গবন্ধু’ বলতাম”।

স্মৃতিচারণ:

মো: মাহমুদ হাসান

(ভূতপূর্ব কলেজ অধ্যক্ষ ও গবেষণা কর্মী), ঢাকা,

তারিখ: ২০শে মার্চ, ২০১৭, প্রথম প্রহর ২টা ৫৫ মিনিট।    


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top