Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ , সময়- ৯:৫৮ পূর্বাহ্ন
Total Visitor:
শিরোনাম

রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গারা আশ্রয়ের আশায় আবারও বাংলাদেশ মুখী


সম্পাদকীয়

আপডেট সময়: ২৭ আগস্ট ২০১৭ ৪:৩৫ এএম:
রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গারা আশ্রয়ের আশায় আবারও বাংলাদেশ মুখী

পৃথিবীর সবচেয়ে নিপীড়িত ও নির্যাতিত জনগোষ্ঠী তারাই, যাদের রাষ্ট্র নাগরিক হিসেবে স্বীকার করেনা এবং তাদের অবহেলার দৃষ্টিতে দেখে। নিপীড়িত জনগোষ্ঠী হচ্ছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলমানরা। দফায় দফায় রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা, ধর্ষণ, হামলা ও তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত এবং দেশত্যাগে বাধ্য করছে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় বাহিনী।

স্থানীয় রোহিঙ্গা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার দাবি অনুযায়ী একেরপর এক অভিযানে প্রতিদিন মরছে মানুষ। জ্বলছে বাড়ি-ঘর। মংডু এখন রোহিঙ্গাদের জন্য জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে। প্রাণে বাঁচতে রোহিঙ্গাদের স্রোত এখন কক্সবাজারমুখী। রোহিঙ্গা মুসলমানেরা নিপীড়ন থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে। হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ এবং নির্যাতনের ভয়ঙ্কর এবং চিত্র বর্ণনা করে আসছে রোহিঙ্গা মুসলমানরা। যদিও মিয়ানমারের সরকার এসব অভিযোগ বরাবরের মতোই অস্বীকার করছে।  

হাজার-হাজার রোহিঙ্গা মুসলমানেরা সেই নিপীড়ন থেকে বাঁচতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট নয় বলে মানবাধিকার কর্মীরা মনে করেন। বার্মার রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর যে ধরনের দমন-পীড়ন চলছে সেটিকে ১৯৯০’র দশকে বলকান যুদ্ধের সময় সেব্রেনিৎসা গণহত্যার সাথে তুলনা করছে অনেকে।

সে যুদ্ধের সময় সনিয়ার মুসলমানদের উপর নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছিল সার্বিয়ার বাহিনী। ১৯৯৫ সালের জুলাই মাসে আট হাজারের বেশি বসনীয় মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছিল। ইউরোপের মানবাধিকারের ইতিহাসে সেব্রেনিৎসা গণহত্যা একটি কালো অধ্যায় রচনা করেছে।

মিয়ানমারে গত ২৫ বছরের মধ্যে অনুষ্ঠিত কোন সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সূচি’র দল ক্ষমতায় আসে। বার্মার রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর যে ধরনের দমন-পীড়ন চলছে তাতে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ভাগ্যে কোন পরিবর্তন আসেনি। রোহিঙ্গাদের উপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে অং সান সূচির নিন্দা না করায় অনেকে তার সমালোচনা করছেন।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর উপর মিস সূচি কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারেন? সেনাবাহিনী এখনো সে দেশের ক্ষমতার একটি বড় অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে। অং সান সূচি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অপরাধকে বারবার ঢাকার চেষ্টা করে আসছে ।  

অপরদিকে রাখাইন রাজ্যের জটিল পরিস্থিতি বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও। রাখাইনরা হচ্ছে মিয়ানমারের সবচেয়ে প্রান্তিক সংখ্যালঘু। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাদের উপেক্ষা করছে। সেহেতু মানবাধিকারের বিষয়টিকে ‘একতরফাভাবে’ তুলে ধরা হচ্ছে। 

এটি কোন যুক্তি হতে পারে না। সমাজের কোন একটি অংশ খারাপ অবস্থায় আছে বলে আরেকটি অংশের মানবাধিকার ব্যাপকভাবে লঙ্ঘন করা হবে সেটি কোন সমাধান হতে পারে না।

কিন্তু বাংলাদেশে যেসব রোহিঙ্গা মুসলমান দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে তাদের আশা ছিল অং সান সূচির দল ক্ষমতায় আসলে তারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারবে। কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে। রোহিঙ্গারা বলছেন পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে। সেজন্য রোহিঙ্গারা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিয়েছে বাংলাদেশকেই। 

মিয়ানমার সরকারের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতের ওই হামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১২ সদস্য সহ কমপক্ষে ৭১ জন নিহত হন। দীর্ঘদিন ধরে কয়েক লাখ রোহিঙ্গার ভার বহন করে আসছে বাংলাদেশ।

জাতি সংঘের শরণার্থী বিষয়ক বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে, গত বছরের শেষ দিকে রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরু হলে আরও ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

গত কয়েক দশকে ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা এদেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে দাবি সরকারের। তাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছে বাংলাদেশ। তবে এখনো প্রত্যাশিত সাড়া দেয়নি মিয়ানমার।

 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top