Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বুধবার, ২৪ জানুয়ারী ২০১৮ , সময়- ৯:২৫ পূর্বাহ্ন
Total Visitor:
শিরোনাম
ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য হুমকি স্বরূপ শীর্ষস্থান ধরে রাখলো স্বাগতিক বাংলাদেশ বাংলাদেশে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখ ৩০ হাজার বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ  ৬০০০ রানের মাইলস্টোন ছুঁলেন তামিম ইকবাল কে হচ্ছেন দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি ?  বাংলাদেশি নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে সেই বিএসএফ সদস্য আটক ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় পদক পেলেন সাবের হোসেন চৌধুরী জাতীয় পরিচয়পত্রে যুক্ত হচ্ছে শিক্ষাগত যোগ্যতা বঙ্গবন্ধুর রক্তের দাগ শুকানোর আগেই অনেকে মন্ত্রী হয়েছেন

বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনার কারান্তরীন সময়ে রাজপথের লড়াকু নেত্রীরা আজ কোথায় ?


মো: মাহমুদ হাসান

আপডেট সময়: ৫ নভেম্বর ২০১৭ ৭:০৭ পিএম:
বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনার কারান্তরীন সময়ে রাজপথের লড়াকু নেত্রীরা আজ কোথায় ?

“ওরা কালের আবর্তে হারিয়ে গেছে নতুন আওয়ামীলীগার আর হাইব্রীডদের জ্বালায়, আবার যখন কোন সমস্যা হবে ওরা আবার নামবে রাজপথে”। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সভানেত্রী ও বিশ্বনেত্রী- এ কথাটি আপনার দলের একজন তৃণমূলের কর্মী জনাব হুমায়ুন কবীরের একটি ফেসবুক কমেন্ট। আপা, আপনার উদ্দেশ্যে এ লেখাটির শিরোনাম “আপনার কারান্তরীন সময়ের রাজপথের সেই সাহসী নেত্রীরা কোথায় বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনা?” প্রশ্নটি করছি, বাংলাদেশের একজন নাগরিক ও একজন সমাজ গবেষণা কর্মী হিসেবে। ১৯৭২ সালে লন্ডনে গোলাম আযম এর নেতৃত্বে গঠিত “পূর্ব পাকিস্তান পূণরুদ্ধার কমিটি” এর প্রকাশ্য ও গোপন নেতা-কর্মী-এজেন্টরা মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে ক্ষত-বিক্ষত করার লক্ষ্য নিয়ে সেই ১৯৭২ সাল হতেই বাংলাদেশের উপর একদিকে যেমন হিংস্র হায়েনা হয়ে ছোবল দিয়েছে, অন্যদিকে অসতর্কতায় ইঁদুর ও উঁইপোকার মতো ঘরে ঢুকে ধ্বংস করেছে সব মহৎ অর্জন। 

এসব হিংস্র হায়েনা, ইঁদুর, উইপোকারা বাংলাদেশকে ক্ষতবিক্ষত করার পাশাপাশি বারবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকেও ধ্বংস করতে চেয়েছে, কেননা, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে যে আওয়ামী লীগেরই নেতৃত্বে। আর যতোবারই বাংলাদেশকে ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে চেয়েছে, ততোবারই এসব হিংস্র হায়েনা, ইঁদুর ও উঁইপোকাদের দমন ও পরিচ্ছন্ন করে আবারও ঘুরে দাড়ানোর সাহসী ভুমিকাটি নিয়েছেন আপনার সংগঠনের নারী ও যুব-নারীরা। পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট খুনী জিয়ার দু:শাষন, নিপীড়ন, নির্যাতনের মুখে যখন বাংলাদেশ দিশেহারা, আওয়ামী লীগেরই হায়েনা, ইঁদুর ও উঁইপোকারা আওয়ামী লীগেরই দেশপ্রেমিক মানুষগুলোকে বন্দী করে রেখেছিলো, তখন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে জাতীয় পর্যায়ে সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরি, আইভি রহমান, স্থানীয় পর্যায়ে অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, অধ্যাপিকা নাজমা রহমান, বেগম মুন্নুজান সুফিয়ানরা আওয়ামী লীগকে গুছিয়ে বাংলাদেশকে সুপথে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগটি সাহসিকতার সাথে নিয়েছেন। 

বাংলাদেশের উপর প্রথম চরম আঘাতটি আসে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা, জাতীয় চার নেতাকে হত্যা ও ১৯৭৫-৭৭ এ অন্তত: পঞ্চাশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠককে হত্যার মাধ্যমে, যার পর বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধান হতে শুরু করে সকল রাজনৈতিক, প্রশাষনিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, নৈতিক দিককে পাকিস্তানীকরণ করা হয়। বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যেখানে স্বাধীনতা বিরোধীরা রাজনীতি করার ও ক্ষমতার শীর্ষে আরোহণ করার সুযোগ পেয়েছে, অথচ এই দেশটি বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জাতীয়তাবাদী নেতার নেতৃত্বে বাংলার দামাল তরুণ-যুব-যুবাদের অদম্য সাহসিকতায় মাত্র নয় মাসের যুদ্ধে স্বাধীন হয়েছিলো। জাতির পিতা যে সংবিধানটি জাতিকে উপহার দিয়ে গিয়েছিলেন, সেটি ছিলো বিশ্বের আধুনিকতম ও শেষ্ঠ একটি সংবিধান, যেটি সামরিক ফরমান দিয়ে করা হয়েছে ক্ষতবিক্ষত। 

একটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র বিশ্বের বুকে আত্মপরিচয় নিয়ে গৌরবের সাথে নিজেকে শাষণ ও পরিচালনার জন্য যে সুবিন্যস্ত প্রশাষনিক কাঠামো দরকার, তাও জাতির পিতার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় তৈরি হয়েছিলো মাত্র সাড়ে তিন বছরে; সেটিও সামরিক জান্তারা ধ্বংস করে দিয়ে রাষ্ট্রের সকল বিষয়ে সিআইএ-আইএসআই-মোসাদের পরিকল্পনায় প্রণীত বিশ্বব্যাঙ্কের নির্দেশনায় পরিচালিত হতে থাকলো, গ্রামে ছোট্ট একটি কালভার্ট তৈরি হতে শুরু করে প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারির বদলি এমনকি একটি অফিসের ক্যান্টিনে সরকার কি পরিমান ভর্তুকী দেবে, তাও বিশ্বব্যাঙ্কের প্রেশক্রিপশন ও নির্দেশনার বাইরে করার কোন সুযোগ ছিলো না, খুনী জিয়া, খুনী এরশাদ ও পাকিস্তানী পুতুলের শাষণামলে। অনূরূপ আঘাত আসে আমাদের সামাজিক কাঠামো, সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রেও। যা চলমান থাকে সামরিক শাষণের অবসানের পরেও তথাকথিত গণতান্ত্রিক শাষণামলেও। এমনি এক দুর্বিসহ পরিস্থিতিতে আপনি আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নেয়ার পরে বারবার আপনার জীবনের উপর চরম আঘাত আসে। আর আপনার জীবনে প্রতিটি আঘাতের পর বারবারই পুরুষদের তুলনায় নারী ও যুবা-নারীরাই পালন করেছে মূখ্য ভুমিকা মানুষকে জাগিয়ে তুলতে, প্রতিবাদ-প্রতিরোধে উজ্জীবিত করে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে। আপনার নেতৃত্বকালীন সময়ে বয়সের ভারে সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন, সাজেদা চৌধুরিরা সব সময় রাজপথে থাকতে না পারলেও ছিলেন নির্দেশদাতার ভুমিকায়। 

আইভি রহমান, সাহারা খাতুন, অধ্যাপিকা নাজমা রহমান, বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান, আশরাফুন্নেছা মোশাররফ, ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা, পিনু খান, অধ্যাপিকা অপু উকিল, মারুফা আক্তার পপি এদের মতো হাজারো নারী ও যুব-নারী নেত্রীরা পুরুষ নেতা-কর্মীদের মামলা-হামলার (এবং কিছু আপোষকামিতার) মুখে যখনই আওয়ামী লীগ বিপর্যস্ত, তখনই সাহসী সংগঠকের ভুমিকা নিয়েছে বারবার। ১৯৯১-৯৬, ২০০১-০৬এ পাকিস্তানীদের পুতুল নিজামী-খালেদার শাষণামলে ও ২০০৭-০৮ এ ফখরুদ্দিন-মঈন ইউ আহমেদ এর দু:শাষনকালে শুধু ঢাকাতেই নয়, সকল বিভাগীয় ও জেলা শহর, শিল্পাঞ্চল এমনকি অনেক উপজেলায়ও রাজপথে সাহসী লড়াইয়ের মাধ্যমে যেমন রক্ষা করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশকে, তেমনি বারবার  আপনার জীবনের উপর হুমকীকেও মোকাবেলা করেছেন এসব নারী ও যুব-নারীগণ, এটা ঐতিহাসিক সত্য। 

হাসিনা আপা, ২০০৭-২০০৮ সময়ের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ফখরুদ্দীন আহমদ ও তখনকার সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের অবৈধ সরকার গণতন্ত্র, সংসদ ও জনপ্রতিনিধিদের অসন্মান, অপমান ও হেয় করার উদ্দেশ্যে দেশের কিছু কুখ্যাত অপরাধী রাজনীতিবিদের বিচারের নাম করে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন করার অপচেষ্টায় “২০০১-০৬ এর হাওয়া ভবনের নারকীয় শাষণের বিচার করছি” প্রচারণা করে, জনগণের আইওয়াশের হীন প্রচেষ্টায় জঙ্গি মদদদাতা তারেককে গ্রেফতারের পর এ দেশেরই কিছু কুলাঙ্গারদের মাধ্যমে মাতম শুরু করিয়েছিলো যে, “তারেককে অ্যারেষ্ট করা হইছে, হাসিনারে অ্যারেষ্ট না করলে ব্যালেন্স হয় ক্যামনে?” এরই প্রেক্ষিতে আপনাকে অ্যারেষ্ট করা হয়েছিলো, অন্য কোন কারনই ছিলো না। এরপর একই কুলাঙ্গারেরা আবার মাতম তুলে, “হাসিনাকে অ্যারেষ্ট করা হইছে, খালেদারে অ্যারেষ্ট না করলে ব্যালেন্স হয় ক্যামনে?” কেননা, তাদের মূল খেলাটি ছিলো “মাইনাস টু ফর্মূলা”র মাধ্যমে দীর্ঘকাল বিশ্বব্যাঙ্কের মাধ্যমে সিআইএ-আইএসআই-মোসাদ মনোনীতরাই বাংলাদেশ শাষনের নামে একটি করদ রাজ্য হয়ে থাকুক। কিন্তু, ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দীনরা আপনাকে ও পাকিস্তানীদের পুতুল বিএনপি চেয়ারপারসনকে অ্যারেষ্ট করার সময়কার গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া ছবিগুলি টিভির পর্দায় ও পত্রিকার পাতায় দেখে মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়! আপনার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ‘যেনো কোন জঘন্য অপরাধীকে অনেকদিন কয়েকটি টিম মিলে খোঁজার পর পেয়েছে, দৌড়ে পালায় কিনা, যেভাবেই হোক, টেনে হিঁচড়ে আগে গাড়িতে তোল’। অথচ জঙ্গিরাণী খালেদার ক্ষেত্রে দেখা গেছে ‘যেনো কোন নাতনীর বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন’। 

যেখানে পাকিস্তানীদের প্রতিনিধিদের ১৯৭৬-৯০, ১৯৯১-৯৬ ও ২০০১-০৬ এর শাষণামলে দেশের উন্নয়নের গতি ছিলো খুবই ধীর, অথচ, জনগণের ভোগান্তি অনেক বেশি ছিলো, কিন্তু, আপনার ১৯৯৬-২০০১ এ দেশের জাতীয় অর্থনীতির উন্নতি ও বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটলেও, জনগণের ভোগান্তি কিছুটা হলেও তুলনামূলকভাবে কম ছিলো। এর কারন ছিলো, এখন যেমন আওয়ামী লীগে কাউয়াদের রাজত্ব, তেমনি ১৯৯৬-২০০১এও ছিলো। জনগণ দুইটি দলের প্রতিই যেনো বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলো, কিন্তু, ব্যক্তি শেখ হাসিনার প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস কম ছিলো না। মানুষ আফসোস করতো, যেই শেখ হাসিনা ভারতকে কূটনৈতিক কৌশলে পরাজিত করতে পারে, উনি কেন নিজের দলের কিছু “চাচা” ও “ছোট ভাই”দের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। মতি আর মাহফুজের “মাইনাস টু ফর্মুলা”র প্রথম পছন্দ ছিলো “ইন্নুচ পাগলা”, ওটা জনগণ না খাইলে “দ্বিতীয় পছন্দ পাকিস্তানীদের পুতুল তো আছেই”, সেটা সারা দেশের জনগণই উপলব্ধি করে। যেদিন আপনাকে গ্রেফতার করা হয়, তার আগের দিন ও সেদিন সারা দেশে গোয়েন্দা সদস্যবৃন্দ ও জামাত-শিবিরের কর্মীদের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ানো হয়, “পোষ্ট অফিসের লোকজন পুলিশ নিয়া আসতাছে, টেলিভিশন নেওয়ার লাইগ্যা”; যা করা হয়েছিলো শুধু মানুষ যাতে আপনাকে গ্রেফতারের সংবাদটি শুনে রাস্তায় নেমে না আসে। 

হাসিনা আপা, আপনাকে তারেকের মতো একটা কুলাঙ্গারের সাথে তুলনা করা, আপনাকে গ্রেফতারকালীণ ঘৃণ্য আচরণ ও আপনার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা আপনার দলীয় পাণ্ডাদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতাকে ভুলিয়ে দিয়ে মানুষকে আপনার প্রতি অনেক প্রকৃত জননেত্রী হিসেবে বেশি সহানূভুতিশীল করে তোলে; যা খালেদার ক্ষেত্রে হয়নি বরং ঐ সময়ে সাংবিধানেক ক্যু পরবর্তী মোখলেছ-হাওয়া ভবন কানেকশন ও মোদাব্বির, ব্যারিষ্টার মইনুলদের আচরণে আরো জোরালোভাবে উনি ষড়যন্ত্রের রাণী, জঙ্গিরাণী হিসেবেই চিহ্নিত হয়েছেন। গণমানুষের এ ক্ষোভকে পূঞ্জীভুত করে ফখরুদ্দীন-মঈনউদ্দিনের আমলে আপনার মুক্তির দাবীতে প্রতিদিন যারা রাস্তায় নেমেছিলো, তাদের বেশির ভাগই ছিলো আপনার দলের নারী ও যুব-নারীদের দ্বারা সংগঠিত কর্মী। ১৯৯১-৯৬ ও ২০০১-০৬ এর মতোই ২০০৭-০৮ এও প্রায়ই দেখা গেছে কোন ভাইকে গ্রেফতার করা হলে বোনেরা সেই ভাইটিকে পুলিশের হাত থেকে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করতে, একটি ভাইয়ের উপর পুলিশের লাঠির আঘাত পড়লে বোনেরা ছুটে গিয়ে সেই লাঠির আঘাত ফেরাতে অথবা নিজের পিঠে নিতে। এসব দৃশ্য রাস্তার চলমান পথচারি, বাসযাত্রী, রিকশাচালক, সিএনজিচালকদের সহ্য হয়নি, হয়তো তাঁরা এসব বোনেদের সাথে রাস্তায় নামতে পারেনি, কিন্তু, যার যার ঘরে গিয়ে, মহল্লায় চায়ের দোকানে এসব যখন পরিবারের সদস্যদের কাছে ও প্রতিবেশীদের সামনে বর্ণনা করতো, এসব অমানবিক দৃশ্যের বিপরীতে আপনার দলের নারী ও যুব-নারী নেত্রী কর্মীদের অতি মানবিক  আচরণ প্রত্যক্ষ করে ও শুনে মানুষ একটা চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো, যেই সিদ্ধান্তটির তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া ছিলো: 


(১) বয়ষ্করা আপনার মুক্তির জন্য মোনাজাত করতো, কোরান খতম দিতো, নফল নামাজ পড়তো, নফল রোজা রাখতো; 
(২) মধ্যবয়সী পুরুষেরা একে অপরের সাথে আলোচনা করতো, “শেখ সাবের হাত দিয়ে দেশ স্বাধীন, শেখ সাবের মেয়ের হাতেই দেশ নিরাপদ, ভোটের সুযোগ আসলেই দেহাইয়া দিমু খেলা, আর কোন জঙ্গি-ফঙ্গি-রঙ্গি-চোর-ডাকাইত না”; 
(৩) মধ্যবয়সী বস্তিবাসী মহিলারা আপনার জন্য খাবার নিয়ে আসতো, আর এসব মহিলাদের জাতীয় সংসদ ভবনের পশ্চিম পাশে মিশে যেতো আপনার দলের নারী ও যুব-নারী নেত্রী কর্মীরা, মধ্যবয়সী বস্তিবাসী মহিলাদের আবেগ, ভালোবাসাকে ছোটখাটো গল্প ও আলোচনার মাধ্যমে পরিণত করতো এক দৃঢ় রাজনৈতিক প্রতিজ্ঞায়। আপনার জন্য খাবার নিয়ে সাবজেলের পাশে প্রতিদিন ১৫০ হতে ২০০ জন বস্তিবাসী মহিলা বসে থাকতেন ও দায়িত্বরত পুলিশদের অনুরোধ করতেন, যেনো এই খাবার শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়, একই এলাকার একই বস্তির মহিলারা কিন্তু প্রতিদিন আসতেন না, বিভিন্ন এলাকা হতে একেক বস্তির ৫/৭ জন করে মহিলা এসে ১৫০/২০০ জন হয়ে যেতেন, ওনারা জানতেন, “সরকার জেলে শেখ হাসিনাকে খাবার দেয়, শেখ হাসিনা না খেয়ে থাকেন না, অন্য আসামীদের ক্ষেত্রে যেভাবে জেলে আত্মীয়-স্বজন খাবার দিতে পারে, শেখ হাসিনাকে সেভাবে খাবার দেয়া যাবে না”।

কিন্তু, তবুও তাঁরা আসতেন, এসে দায়িত্ব পালনরত পুলিশদের অনুনয়-বিনয় করতেন খাবারটা শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছাতে, এটা যে কতো বড় ভালবাসা, এর যে কি শক্তি, এর যে কি প্রভাব ২০০৮ এর নির্বাচনে পড়েছিলো তা আপনি হয়তো উপলব্ধি করেন, কিন্তু আপনার চারপাশে যারা আছেন, তারা কতটুকু উপলব্ধি করেন, আমি সন্দিহান! ঐ একই সময়ে কি খালেদার জন্য কেউ এমন ভালোবাসা ও দরদ মাখা খাবার নিয়ে গেছিলো? উনি তো আপনার পাশেই বন্দী ছিলেন, কেন যায়নি? জনগণ কি পাশাপাশি বন্দী থাকা দুজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে তাদের স্ব স্ব কর্মফল অনুযায়ি ‘মনের দরদ ও ভালোবাসা’ এবং ‘ঘৃণা ও অবহেলা’ দেখায়নি? জনগণের ঘরের কোণে অশ্রু ঝরানো মনের আবেগকে প্রতিদিন লাখো মানুষের হৃদয়ে দৃশ্যমান একটি জাতীয় আবেগে সঞ্চারিত করছিলো, সেই সঞ্চালকের দায়িত্বটি তো পালন করেছেন আপনার দলের নারী ও যুব-নারী নেত্রী-কর্মীরা। আমি তো এমনও দেখেছি, দুপুরে শুক্রাবাদে পুলিশের পিটুনি খেয়ে এসে আপনার সাবজেলের পাশে পুলিশের কাছ থেকে পানি চেয়ে খেয়ে মিশে গেছে খাবার নিয়ে আসা বস্তিবাসী মহিলাদের সাথে, আবার বিকেলে খাবার নিয়ে আসা মহিলাদের সাথে পুলিশদেরও ডেকে আপনার কর্মীরা একসাথে ভাত ভাগ করে খেয়েছে; এর কি একটা মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়েনি, পুলিশের মাঝে ও সংসদ ভবন দেখতে গ্রাম হতে রাজধানীতে আসা মানুষেদের মাধ্যমে সমাজের অন্যান্য স্তরে? এ বিষয়গুলি আপনার দলের নীতি নির্ধারকরা যেমন উন্মোচন করেননি, তেমনি ভাবেননি দেশের গণমাধ্যম-কর্মী ও বুদ্ধিজীবিরা, 
ওনাদের সাদামাটা বিশ্লেষণ: 
(ক) একদল সবকিছুতেই জাতির পিতার স্বপ্ন দেখেন; 
(খ) আরেক দল পাকিস্তান দূতাবাস হতে আর ড. কামালের বাসা হতে ওনার জামাই ডেভিড বার্গম্যান কি নির্দেশনা দেয়-এর বাইরে যেনো নিজেদের কিছু বলার, ভাবার ও শোনার সুযোগই নেই। দেশের কৃষক-শ্রমিক বোঝে, জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে যেমন ১৯৭১এ সাধারন তরুণ-যুবাদের জন্য ৭ই মার্চের ভাষণে একটি সরাসরি নির্দেশনা ছিলো, স্বাধীনতার জন্য নিজেরাই কিছু করতে হবে, এবং যা তারা করেছেন জাতির পিতার নামে, জাতির পিতার প্রতিটি নির্দেশনা মেনে সুশৃঙ্খলভাবে, জাতির পিতার মনোনীত নেতাদের নেতৃত্বে, তেমনি এখনও দেশের কৃষক, শ্রমিক দেশ গড়ার জন্য নিজেদের নিয়োজিত রেখেছে, তারা শুধু চায় একটি উপযুক্ত নির্দেশনা (যা আপনি দিচ্ছেন), নিরাপত্তা ও কোন আপদকালে সাময়িক সহায়তা; কিন্তু কৃষক-শ্রমিক হতাশ হয় স্থানীয় পর্যায়ে সকল স্থানে যোগ্য নেতৃত্ব না পেয়ে।    

আপা, আপনি জনমানুষের মনের ভাষা বোঝেন, শোনেন, গুরুত্ব দেন ও সে অনুযায়ি পদক্ষেপ নেন, তা জানি। আপনি এ প্রশ্নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আসনে নিজেকে বিবেচনা করবেন না, আমার এ প্রশ্নটিকে আপনি ধৃষ্টতা হিসেবেও নেবেন না, এটা আমার বিশ্বাস। আমি আপনার দলের কর্মী নই, আপনার দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রশ্ন করা ধৃষ্টতা, এমন  কেউ কেউ ভাবতে পারেন, কিন্তু, আপনাকে কয়েকবার খুব কাছে থেকে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে, তাতে আমি জানি, আপনার যে কারো প্রশ্ন বা মতামত শোনার সাহস ও প্রজ্ঞা আছে। আপনি যে সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের হাল ধরেছেন, সে সময় থেকে সামরিক শাষণ ও সামরিক জান্তাদের গণতান্ত্রিক লেবাসে স্বৈরশাষণের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াইয়ে অংশ নেয়ার সুবাদে বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ আমারও হয়েছিলো, যা পেশাগত জীবনে দূর হতে গণমাধ্যমে ও বর্তমানে জঙ্গি-ইয়াবা চক্রের নিষ্পেষণ-নির্যাতনে পিষ্ট হয়ে শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই পর্যবেক্ষণ করি। আর বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী, সমর্থকদের মতামতগুলি উঠে আসে, যাদের মতামত কোন গণমাধ্যমে আসে না; কোকিল ছানাদের ভীড়ে আপনার দলের কাউয়াদের কাছেও পৌঁছে না। একজন সমাজ গবেষণা কর্মী হিসেবে গুণগত সমাজ গবেষণা পদ্ধতির মাধ্যমে বর্তমান ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও জনমত যাচাই ও জনমত গ্রহণ সম্ভব; যা এর আগেও আমি কয়েকটি বিষয়ে করেছি। 

তেমনি একটা উদ্দেশ্য নিয়ে আমার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস ছিলো:  “ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দিনের দুর্বিষহ শাষণকালে শেখ হাসিনার মুক্তির দাবীতে কিছু মহিলা প্রায় প্রতিদিন রাজপথে মিছিল করতেন, ওনারা কোথায়?”

আমার টাইমলাইন ও কয়েকটি গ্রুপে সেই স্ট্যাটাসে যেসব কমেন্ট এসেছে, তার কয়েকটি উল্লেখ করলাম এ লেখায়: ত্যাগী নেত্রীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও বেদনাভরা কমেন্ট: মিজানুর রহমান বকুল: “ওনারা নিবেদিত প্রাণ তাঁদের খুব প্রয়োজন...!” জামিল সরকার: “ত্যাগীদের কাজই রাজপথ পাহারা দেওয়া, আর হাইব্রীডদের কাজ সুসময়ে সুবিধা ভোগ করা।“ রিপন ইসলাম: “দলের বিপদে আবার খুঁজে পাবেন উনাদেরকে, তখন হাইব্রীডদেরকে খুঁজে পাবেন না।“ মর্ত্তুজা তৈয়ব: “ওনারা হাইব্রীডের কারনে পিছনের কাতারে তাঁরা, দেখবেন কেমনে?” মোহাম্মদ তপু: “ত্যাগীরা দুরে, হাইব্রিডরা নেতাদের কোলে, এই হলো দলের চরিত্র, সব জায়গাতে এই অবস্থা।“ আজিম মাষ্টার: “ওদের মধ্যে কেহ কোটিপতি নয়, একমাত্র হাইব্রীডদের কারনে অভিমান করেছেন ৷”

ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াসুলভ কমেন্ট: দেওয়ান জুয়েল (ইংরেজী হরফে কমেন্ট করেছেন, তিনটি আপত্তিকর শব্দ সহ): “চাপাবাজ, …. রা পদ দখল করে আছে!!! আর যে … রা হাইব্রীডদের দলে জায়গা দিছে, হ্যাগোরে … এর মধ্যে চুবানো দরকার !!!” জহুরুল ইসলাম: “অনেককেই দেখিনা, আবার কিছু মহিলা দেখি সিটি কর্পোরেশন সচিবালয় দাপিয়ে বেড়ায়।“

একটি অসাবধানতামূলক কমেন্টে বিতর্ক: সাত্তার প্রধান: “সবাই কোটিপতি”। রিপ্লাই: “দু’চার জন ছাড়া বাকীরা কি রাজনীতিতে টিকতে পেরেছে? নাকি লাথি দিয়ে দুরে সরানো হয়েছে? বাস্তব চিত্রটি কি?” রিপ্লাই: আপনার কথাও কিছু ঠিক। সবাই মহিলা এমপি ও কাউন্সিলর হতে চায়।“ রিপ্লাই: “যার যে যোগ্যতা, দক্ষতা ও জনসমর্থন আছে, উনি সেই পদে মনোনয়নের প্রত্যাশা করতেই পারেন। কিন্তু কাউয়ারা নিজের শালী, শ্বাশুড়ি হতে শুরু করে কাজের বুয়া পর্যন্ত্য দলের নেতৃত্বে এনে দুর্দিনের নেত্রী ও কর্মীদের দুরে তাড়াবেন কেন? এটা কোন রাজনীতি?” রিপ্লাই: “অনেকেই তো শুধু এটুকু চায়, একটা ওয়ার্ড কমিটির সদস্য রেখে সন্মানিত করা হোক। সেখানে পদ বিক্রি করে করে সব জামাতের ….. জেহাদীদের স্থান দেয়া কেন?” রিপ্লাই: শুধু যোগ্যতা অনুযায়ী পদ ই চায়না, অর্থনৈতিক সুবিধাও চায়।“ রিপ্লাই: আওয়ামী লীগ,বিএনপি,জাতীয় পার্টির মধ্যে কোন পাথর্ক্য নাই। সব খাই খাই।“
তরুণের হিরোইজম প্রত্যক্ষ করা: মো: বক্তিয়ার: এক আপা কেরাডি (ক্যারাতে) মারছিলো, উনাকে খুব মিস করছি।
লজ্জাজনক একটি প্রতিক্রিয়া- নিজাম সাজু: “কাউয়াদের ঠোকরের ভয়ে আসে না।“

মুজিব সৈনিক ফেসবুকারদের বেদনা ও প্রত্যাশার পর্যালোচনা:  হাসিনা আপা, ব্যক্তি জীবনের মতো পেশাগত জীবনেও জঙ্গি-ইয়াবা চক্রের ন্যাক্কারজনক সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমে আক্রমণের ফলে অফুরন্ত অবসরে ফেসবুকারদের মতামতগুলি গত ১০মাস যাবৎ পর্যবেক্ষণ করছি। যার কিছু সঙ্কলিত করে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করা প্রয়োজন মনে করছি এ জন্য যে, আপনি আজ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে আপনার দলটি সুশৃঙ্খল অবস্থায় থাকুক, এটা মনেপ্রাণে চাই বলে। 

(ক) বেগম মুন্নুজানের মন্ত্রীত্ব চলে যাচ্ছে, কিছু অনলাইন ও প্রিন্ট পত্রিকার গুজবটি আপনার নিবেদিত প্রাণ, ত্যাগী কর্মীদের বুকে সেলের মতো বিঁধে। ১৯৮২-৯০ এর আন্দোলন সংগ্রামে আমার নিজ জেলা শহরটিতে কোন কর্মসূচি করা যায়নি, এমন ঘটেনি। কিন্তু, চরম কড়াকড়ি অবস্থায় এমনও কোন কোন দিন হয়েছে, রাজধানী সহ শুধু চারটি শহরে কর্মসূচি পালন করা গেছে, যেখানে আওয়ামী লীগের সাহারা খাতুন, এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরি ও বেগম মুন্নুজান সুফিয়ানের নামটি এসেছে, এমন নজির ছিলো (আমার শহরটির নাম উল্লেখ করলাম না)। উনি খুলনার খালিশপুরের শ্রমিকদের নেত্রী, স্কুল বয়স হতে এটা শুনে আসছি। তো চরম দিনগুলিতে আওয়ামী লীগের কর্মসুচিতে ওনার নামটিই কেন জাতীয় পত্রিকায় আসতো? উনি তো টাকা দিয়ে মিডিয়া মোঘলদের কেনার সামর্থ্য রাখেন না। উনি মন্ত্রীত্বের অফার পেয়ে ঢাকায় এসে উঠেন এক অতি সাধারন হোটেলে, কমন-বাথরুমের ঐ হোটেল রুমের ভাড়া ছিলো ১০০টাকা, উনি ভ্যাট সহ দেন ১১৫টাকা, যা ঐ সময়ে বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় ১কলামে দেড় ইঞ্চি খবর প্রকাশ হয়, যা হতে পারতো লিড নিউজ। আমি গত ৩বছরে কয়েকবার খুলনায় গিয়েছি, ওনার জনপ্রিয়তার কমতি নেই, বরং অনেক বাড়তি, সাধারন মানুষের কাছে। কিন্তু খালিশপুর ছাড়া ওনার ছবি সম্বলিত কোন পোষ্টার নজরে পড়েনি, যা একই সঙ্গে বেদনাদায়ক (ওনাকে অবমূল্যায়ণ খুলনা শহরবাসীই যেনো করছেন-সাধারন ধারণা) এবং আনন্দদায়ক (উনি কোন চামচা পোষেন না, দূর্নীতিবাজদের মদদ দেন না-আমার ধারণা)।

(খ) বাংলাদেশে সোয়া তিনজনের তথাকথিত বাম দলেও ল্যাং মারামারি হয়, সত্য/মিথ্যা মিলিয়ে এ ওকে কোনঠাসা করার চেষ্টা করে, একটু উপরে ওঠার জন্য এবং/বা ক্ষমতার স্বাদ পাওয়ার জন্য। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি বিশাল সংগঠন, এতে এসব কিছুটা হতেই পারে। কিন্তু, মাননীয় সাংসদ পিনু খানের সাথে এক মিডিয়া মোঘল (যার বাড়িও পিনু খানের এলাকায়, দুজনেই সাধারন আসনে নির্বাচন প্রত্যাশী) এর তালে তাল মিলিয়ে যে ন্যাক্কারজনক অপখেলাটি খেলানো হলো তাকে রাজনীতি হতে চিরতরে ছুঁড়ে ফেলতে, এটা চরম অন্যায়ই বলেই সমালোচনা হচ্ছে। একটি প্রাডো গাড়িকে গণমাধ্যমে তুলে আনা হলো একটি মাইক্রোবাসের স্থলে, ওনাকে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য। এতে আপনার অনেক ত্যাগী ও নিবেদিত প্রাণ কর্মীদের স্তব্ধ করে দিয়েছে,  যারা বিষয়টি প্রথম হতে এখন পর্যন্ত্য পর্যবেক্ষণ করছেন। যেমন, মিথ্যাচারের শিকার আপনি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে, তেমন মিথ্যাচারটি আপনার একজন নিবেদিত প্রাণ, বিশ্বস্ত, অনুগত নেত্রীর ক্ষেত্রে কেন হবে?        
   
(গ) আপনার অনেক কর্মী ডা: দীপুমনিকে আবারও মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। আমাদের কিছু গণমাধ্যম ‘দীপুমনি বিদেশ যেতে চ্যাম্পিয়ন’ সহ খরচের হিসাব পর্যন্ত্য বের করে প্রকাশ করেছিলো। কিন্তু, কেউ অনুসন্ধান করেনি দীপুমনি কেন এতো বেশি বিদেশ যান? মায়ানমার ও ভারতের সাথে সমুদ্রসীমা বিজয়ের পর দীপুমনি গণমাধ্যম হতে উধাও। তাহলে দীপুমনির বিদেশ যাওয়ার খরচটি পর্যন্ত্য যারা গণমাধ্যমে পৌঁছে দিয়েছিলেন, তারা আমাদের সমুদ্রসীমা বিজয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন বলে কি মনে করবো? ওনার যদি গোপনে (যা কেউ প্রকাশ করতে পারেনি) কোন অন্যায় বা দূর্নীতি থেকে থাকে, যা আপনি জানেন, তবে কোন কথা নেই। আর যদি এমন কিছু না থাকে, তবে আপনার দলের কর্মী-সমর্থকদের মতামতকে শ্রদ্ধা দেখালে ওনারা তো আপনার প্রতি খুশীই হবে।

(ঘ) অধ্যাপিকা অপু উকিলকে আপনার কর্মী ফেসবুকাররা মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। রাষ্ট্রিয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে যেখানে সরকারের পক্ষ হতে মনোনয়ন দেয়া হয়, এবং এসব পদে অনেক অখাদ্য-কুখাদ্যরা মাঝে মাঝেই সরকারকে বিব্রত করে এবং রসালো সংবাদের জন্ম দেয়। সাবেক সাংসদ অধ্যাপিকা অপু উকিলকে কি কোন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে মনোনয়ন দিয়ে সরকার, দল গর্বিত হতে পারে না? যার একজন দক্ষ সংগঠক, দক্ষ সাংসদ হিসেবে পরীক্ষিত যোগ্যতা রয়েছে, আছে দলের প্রতি অবিচল অনুগত্যের নজিরও?

আমার ব্যক্তিগত কয়েকটি মতামত:
(অ) ২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলা একটি মনুষ্য-সৃষ্ট জাতীয় দুর্যোগ, এ দুর্যোগের ভিকটিমরা রাষ্ট্রের পক্ষ হতে তাদের সম্পূর্ণ পূণর্বাসনের (শারিরীক ও মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসা, বিকল্প পেশার জন্য প্রশিক্ষণ, আজীবন ভরণ পোষণের নিশ্চয়তা)র অধিকার রাখে বলে আমি মনে করি। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে একদিন এদের সাথে বসুন, এদের কষ্ট ও বর্তমান অবস্থা জানুন। এদের মধ্যে থেকে অন্তত: কয়েকজনকে দলের মধ্যে সন্মানজনক কোন অবস্থানে নেয়া যায় না। ৫০০জন গ্রেনেডের স্প্লিন্টার বয়ে বেড়ানো মানুষের মধ্যে সম্ভবত: ৫০জনের মতো নারী, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এদের মধ্য হতে দু’তিনজনকে প্রতিনিধিত্বমূলকভাবে কি মাননীয় সাংসদের আসনে নিয়ে সন্মানিত করা যায় না? দুর্গাপুরের জালাল উদ্দিন তালুকদার প্রথমবার সাংসদ নির্বাচিত হয়ে গ্রেনেড হামলার শিকার হয়েও সংসদে তো হুইল চেয়ারে বসেও তুখোড় সাংসদ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। এদের কেউ দায়িত্ব পেলে ভালো করতেই তো পারেন।

(আ) ১৯৭৫ এর ১৫ই আগষ্টের পর হতে আপনার দলের যেসব নারী নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা রাজধানী হতে গ্রাম পর্যন্ত্য গ্রেফতার, হাজতবাস, কারভোগ, মামলা, হামলা, নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের খুঁজে তালিকা করে এদের মধ্য হতেই নারীর ক্ষমতায়ন ও রাজনৈতিক দলবিধির সকল কমিটির ৩৩% নারী সদস্য রাখার বাধ্যবাধকতাটি পূরণ করতে যার যার যোগ্যতা অনুযায়ি পদায়ন করুন। কেন কাউয়াদের দ্বারা রিজিয়াদের মতো কোকিল ছানা আমদানী করে মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদানকারি দলটিকে কলুষিত করে নিজের ইমেজে কালিমা লিপ্ত করবেন আর প্রকৃত দেশপ্রেমিক মানুষেদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হবেন? 

(ই) ইতমধ্যে সৃষ্ট হওয়া কাউয়া ও আমদানী করা কোকিল ছানাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আপনার, আমি এ বিষয়ে মতামত দেবো না। শুধু এটুকুই বলবো, আপনার প্রশাষনে ৬০% জামায়াতীকরণ সম্পন্ন, এখন দলটিতে ৩০% জামায়াতীকরণ হয়ে গেছে। কয়েকটি উপজেলায় “জয় বাংলা” ও “জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগান নিষিদ্ধ হয়ে গেছে, এমন সব ব্যক্তিদের এলাকায়, যারা আপনার খুব কাছে অবস্থান করছে জাতির পিতার পাশে মোশতাক, ওবায়েদ, তাহেরউদ্দিন ঠাকুর, শাহ মোয়াজ্জেমদের মতোই। ডিজিটাল পদ্ধতির সুযোগ নিয়ে আপনার কর্মী-সমর্থকেরা এসব নিয়ে চিৎকার করছে, তাদের চিৎকার শুনুন, আমলে নিন। 

বিশ্বনেত্রী হাসিনা আপা, আপনার সুস্বাস্থ্য সহ শতায়ু কামনা করছি, আপনার সুযোগ্য নেতৃত্বেই বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যেতে চাই। সাথে এই প্রত্যাশা, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিই হবে সরকারি দল ও বিরোধী দল; মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারি কোন ব্যক্তি বা তাদের দ্বারা বা তাদের মদদে তৈরি কোন দলের অস্তিত্ব বাংলাদেশে থাকবে না। 

মো: মাহমুদ হাসান (ভূতপূর্ব কলেজ অধ্যক্ষ ও সমাজ গবেষণা কর্মী), ঢাকা, তারিখ-০৫.১১.২০১৭, সময়-সকাল ০৯.৩০ মিনিট।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top