Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ , সময়- ১০:০৯ পূর্বাহ্ন
Total Visitor:
শিরোনাম

সাব্বিরের টুইন-টাওয়ারের মতো বিমান হামলা পরিকল্পনার নেপথ্যে কি তারেক ? 


নিজস্ব প্রতিবেদক

আপডেট সময়: ৬ নভেম্বর ২০১৭ ৯:৫১ পিএম:
সাব্বিরের টুইন-টাওয়ারের মতো বিমান হামলা পরিকল্পনার নেপথ্যে কি তারেক ? 

পাঠক মতামত : জঙ্গি পাইলট সাব্বির এনাম গেফতারের পর হতে ২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে ‘সর্ব্বোচ্চ দন্ড’ পেতে পারে, তাই এ রায় ঠেকাতেই হবে, এমনই হীন মানসিকতা হতে জঘন্য ধরণের হিংস্র, বর্বর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হাওয়া ভবনের যুবরাজ হিসেবে গত দেড়যুগ যাবৎ পরিচিত ‘তারেক জিয়া’ সর্বশেষ ‘লন্ডন ষড়যন্ত্র’এর অংশ হিসেবে টুইন-টাওয়ারের মতো বিমান হামলা করে গণভবন উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার পর দেশে ফিরে ক্ষমতার বসনদে বসবেন, এমন রঙীন স্বপ্ন হতেই কি এ উদ্ভট চিন্তা? এমন আলোচনা হচ্ছে। মিরপুর মাজার রোডের কবুতর বাড়ির বিমান পাইলট সাব্বির এনাম গ্রেফতারের পর তার পরিকল্পনা শুনে দেশের সকল গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা স্তম্ভিত, বিভিন্ন সংবাদে প্রকাশ, ফ্রিজ মেকানিক্স ও কবুতর পালনকারি জঙ্গি আব্দুল্লাহর মাধ্যমে তার মা ও বাবা জঙ্গিবাদে জড়ানোর পর বাবা-মায়ের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে নব্য জেএমবিতে সাব্বির যোগ দিয়েছে এবং বিমান হামলার মাধ্যমে গণভবন উড়িয়ে দেয়া ও একটি যাত্রীবাহি বিমান ছিনতাই করে সিরিয়ার আইএস জঙ্গি ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছিলো। 

০৬.১১.২০১৭ তারিখে এ লেখাটি লেখা পর্যন্ত্য সে স্বীকার করেনি, তার সঙ্গে আর কোন্ কোন্ বৈমানিক এ হীন ষড়যন্ত্রে জড়িত আর নির্দেশটি সে সরাসরি যুবরাজ তারেকের কাছ থেকে পেয়েছে, নাকি নব্য জেএমবির কোন বড় হুজুরের কাছ থেকে পেয়েছে, হয়তো আমরা অচিরেই তা জেনে যাবো। জঙ্গি সাব্বিরের গ্রেফতারে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে ধন্যবাদ দিচ্ছে, তাদের শুভ কামনা করছে, তা প্রকাশ সরাসরি যেমন হচ্ছে ফেসবুকে, তেমনি মানুষের আড্ডায়, আলোচনায়; যদিও এ বিষয়ে বড়োই কৃপণ আমাদের গণমাধ্যমগুলি। সাধারন মানুষ প্রচন্ড ক্ষুব্ধ, মানুষ এমনও বলছে, “সাব্বিরকে প্রকাশ্যে জনগণের সামনে এনে ওর বুক চিরে দেখা হোক তার কলিজাটা কত বড়”? তারেক জিয়ার প্রতিও এমনই ক্ষুব্ধ হয়ে সাধারন মানুষ প্রকাশ্যেই বলছে, “সরকার তারেইক্ক্যা চোরারে লন্ডন থাইক্ক্যা ধইর্যা আইন্যা ঢাকার রাস্তায় ছাইড়্যা দেউক, এর বিচার আমরা জনগণ করমু গণধোলাই দিয়া”। 

আরসার ৩১টি নিরাপত্তা ঘাটিতে হামলার পর মায়ানমারের বর্বর সেনাবাহিনী, সীমান্ত রক্ষী বাহিনী ও পুলিশ একযোগে “রোহিঙ্গা গণহত্যা ও রাখাইন রাজ্য জনমানবহীন” শুরু করার সাথে সাথেই “বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আমদানী মাতম” বিষয়টি কয়েকদিনের জন্য দেশের সাধারন মানুষকে মাতাল করে তুললেও কয়েকদিন পর বাংলাদেশে একে একে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস, বাবুনগরীর “স্বাধীন আরাকান রাজ্য” ঘোষণা ও মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের যুদ্ধ ঘোষণার দাবী, বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার গুজব/খবর, এসব যখন সারা দেশের মানুষকে এক চরম বিভ্রান্তি ও হতাশায় নিমজ্জিত করেছিলো, তখন টাঙ্গাইলের এক অজপাড়াগাঁ হতে দ্রোন সহ জঙ্গি গেফতারের সূত্র ধরে মিরপুর মাজার রোডে কবুতর বাড়ির সন্ধান, যেখানে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ৫০টি এক্সপ্লোসিভ, ৩০টি পুরনো ফ্রিজ এবং শিশু ও জঙ্গি সহ ৭টি মানব সন্তানের লাশ মেলে। একই সময়ে অসহায়, বিপন্ন রোহিঙ্গাদের ভীড়ের মধ্য হতে পোশাকের নিচে লুকানো মারাত্মক অস্ত্র সহ আরসা জঙ্গি গ্রেফতারের সংবাদটি মানুষের “রোহিঙ্গা দরদ”কে রাতারাতি “রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ”এ পরিণত করে। এসব সংবাদে বাংলাদেশের নরাধম ছাগু টকার ও ছুতিয়া শীলেদের কোন বোধোদয় না ঘটলেও সাধারন মানুষের উপলব্ধিতে ঠিকই আসে যে, “মায়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যা ও ভিটেছাড়া করে বাংলাদেশে পাঠানো ও বাংলাদেশে সরকার উৎখাতের অপচেষ্টাটি একসূত্রে গাথা ও তা লন্ডন ষড়যন্ত্রেরই অংশ মাত্র”। 

  ছোট ছোট অপরাধ করতে করতেই মানুষ জঘন্য অপরাধী হয়। এরশাদের অবৈধভাবে রাষ্ট্রের পক্ষ হতে দান করা খাবার খেয়ে ক্যান্টনম্যান্টের বিশাল সুরক্ষিত বাড়িতে বড় হওয়া এতিম তারেক জিয়া একে একে মোহাম্মদ শাহজাহান, মোসাদ্দেক আলী ফালু ও নিজের গর্ভধারিনী মাকে পিটানোর পর হাত পাকিয়ে মাস্তান হওয়া থেকে শুরু করে বাংলাদেশে সকল জঙ্গি গোষ্ঠীকে মদদ দিয়ে হিসেবে নিজের উত্থান ঘটিয়ে দু:সাহসী হয়ে এখন সে বাংলাদেশের সকল জঙ্গি গোষ্ঠীর মদদদাতা; কথাটি এখন বিভিন্ন জঙ্গি হামলা, জঙ্গিদের গ্রেফতারের পর তাদের স্বীকারোক্তি, প্রযুক্তিগত তথ্যে জঙ্গিদের সাথে তারেকের খাস চামচাদের কানেকশন উদঘাটিত হবার পর সারা দেশের অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করে। তাছাড়া, আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট বৃটেন, ভারতের গোয়েন্দা তথ্য আমলে নাও নিতে পারি, কেননা, এ তিনটি দেশই আমাদের সত্য তথ্যও দিতে পারে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেবার জন্য; আবার আমাদের আতঙ্কে রেখে দুর্বল করে রাখার জন্য অতিরঞ্জিত তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তও করতে পারে। কিন্তু, অষ্ট্রেলিয়ার সাথে আমাদের কোন স্বার্থের সংঘাত অতীতেও ছিলো না, এখনো নেই, তারা মার্কিনীদের মতো কোন অপখেলা কারো সাথে খেলেও না, সর্বশেষ অষ্ট্রেলিয়ার গোয়েন্দা তথ্যটি আমাদের আমলে যেমন নিতেই হয়, আতঙ্কিতও করে, যতদূর বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় এসেছে, ইতমধ্যে তা নেয়া শুরু হয়েছে। গত দুই যুগ যাবৎ নানা নামে নানা কৌশলে জঙ্গিদের দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার পর এ বিষয়টি মানুষের মনে ধারণা পোক্ত হয়ে এসেছে যে, বাংলাদেশের সকল জঙ্গি ও জঙ্গিদের নানা নামে নানা গোষ্ঠী মূলত: জামায়াতে ইসলামীরই বাই-প্রোডাক্ট, এরা প্রকাশ্যে একটি দল সামনে ধরে রেখে কার্যত: একের পর এক জঙ্গি হামলা করে আওয়ামী লীগ সহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল রাজনৈতিক ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক শক্তিকে ধ্বংস করে দিয়ে বাংলাদেশকে পরিপূর্ণ পাকিস্তানী ভাবধারায় ভিন্ন নামে ভিন্ন রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। 

মহান মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরোধীতাকারি ঘৃণ্য কুখ্যাত রাজাকার, আল-বদরদের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ নামে গঠিত দলটি মূলত: ১৯৭২ সালে লন্ডনে পাকিস্তানীদের খাস গোলাম, গোলাম আযমের নেতৃত্বে গঠিত “পূর্ব পাকিস্তান পূণরুদ্ধার কমিটি”র ‘এ-টিম’, যা বাংলাদেশের মাটিতে পূণ: প্রতিষ্ঠা লাভ করে পাকিস্তানী এজেন্ট খুনী জিয়ার মদদে। সেই জামায়াতে ইসলামীর মূল নেতৃত্ব একাত্তরের গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুট, ধর্মান্তরিতকরণের মামলায় মৃত্যুদন্ড ও কারাদন্ডে দন্ডিত থাকলে, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সমর্থকেরা, ঐ বিচার বাতিলের অপচেষ্টায় সারাদেশে তান্ডবের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে জনবিচ্ছিন্ন হওয়ার পর দলটি প্রকাশ্যে পর্যুদস্ত ও নিষ্ক্রিয়; যদিও ছদ্মবেশে ও গোপনে তারা সংগঠিত রয়েছে ও শক্তিশালী হচ্ছে। জামায়াত নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে বিপর্যস্ত জামায়াতের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা প্রায় শ’খানেক জঙ্গি গোষ্ঠীর নেতৃত্বদানের দায়িত্বটি এখন তারেক জিয়ার হাতে, এটা ধ্রুব সত্য। 

পাকিস্তানের করাচিতে জন্ম, বড় হওয়া ও এইচএসসি পর্যন্ত্য লেখাপড়া করা জিয়াউর রহমানের উপযুক্ত পুত্র, এইচএসসি পাশ তারেক জিয়াও গত দুই যুগ যাবৎ পিতার মতোই পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর একজন সামান্য এজেন্ট মাত্র, ফাঁসির মঞ্চের কাছাকাছি পৌঁছেও এখনো বাংলাদেশ ও মায়ানমার দুটি রাষ্ট্রকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে তুলে দেয়ার নীলনকশায় জড়িত হয়ে তাই প্রমান করে দিলো। নইলে, ১৯৭২ সালে লন্ডনে পাকিস্তানীদের খাস গোলাম, গোলাম আযমের নেতৃত্বে গঠিত “পূর্ব পাকিস্তান পূণরুদ্ধার কমিটি”র ‘বি-টিম’ হিসেবে দায়িত্ব পালনকারি সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকারি এই জাতীয় কুলাঙ্গারটি কেন বার বার বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ধ্বংস ও জাতির পিতার কন্যা বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনার জীবনহরণের ঘৃণ্য চেষ্টায় লিপ্ত হবে? মানুষ এও বলে যে, “আওয়ামী লীগের কিছু কুলাঙ্গারের কারনে যেসব মানুষ ক্ষুব্ধ, তাদের ভোটটি ধরেও তো এই কুলাঙ্গারটা রাজনীতি করতে পারতো, এতো লোভ, এতো জঘন্য হিংসা কেনো এর হইলো”?

কিন্তু, সাধারন মানুষ যা চায়, তা কি সব সময় হয়? এক মূর্তি নিয়া মানুষকে কয়দিন উন্মাতাল করে রাখা হলো: ভাবখানা এমন ছিলো যে, হেফাজতী-তান্ডবী বিপ্লব করে শেইফ্যা রাজাকারকে এখনই রাষ্ট্রপতির চেয়ারে বসিয়ে দেবে, এর আগে মতিঝিল হতে এমন ঘোষণা দেওয়াও হয়েছিলো, জীবন্ত মানুষকে খাটিয়ায় করে শুইয়ে লাশ সাজিয়ে হেফাজতী মঞ্চে একের পর এক এনেছিলো, পরদিন ভোরে ফজর পড়ে লাশ নিয়ে মিছিল করে আল-জাজিরায় লাইভ প্রচার করে গোটা বিশ্বের সহী মোছলমানের সমর্থন নিয়ে বিপ্লব করে ফেলবে আশায়। কিন্তু, সোনালী ব্যাঙ্কের প্রধান গেট ভেঙ্গে শিশু-কিশোরদের ভেতরে ঢুকিয়ে যখন বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের দিকে শকুনদের নজর পড়লো তখন আর সারাদিন ধরে বার বার মার খেতে থাকা ঈগল প্রতীকওয়ালা ভাইয়েরা আর বসে থাকতে পারলেন না, ওনারা সারিবদ্ধভাবে ধীরগতিতে ৪৫ (ফোরটি ফাইভ) ডিগ্রী অ্যাঙ্গেলে একযোগে শত শত গুলি ফুটাতে ফুটাতে যখন শাপলা চত্বরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন, তখন মতিঝিলে হেফাজতী তান্ডবী মঞ্চের নীচ হতে একে একে সাদা-কাফন পরা জীবিত লাশেরা দৌড়ে যাচ্ছিলো, সারারাত জেগে থেকে টিভি সেটের সামনে বসে থাকা উদ্বিগ্ন নাগরিকেরা বেদনাভরা মনেও কিছুটা বিনোদন খুঁজে পাচ্ছিলো, কিছুক্ষণ পর টিভির পর্দায় সোনালী ব্যাঙ্কের ভিতর হতে শিশু-কিশোরদের কানে ধরা অবস্থায় মার্চ পাষ্ট করতে করতে বের হতে দেখে কিছু বেজন্মার কলিজা ছিঁড়ে যাচ্ছিলো, তার বহি:প্রকাশ কয়েকদিন পর্যন্ত্য ব্যাঙ্গের ছাতা বাক্সে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিলক্ষিত হচ্ছিলো, এসব বেজন্মারা একবারও ভাবেনি যে, গভীর রাতে সোনালী ব্যাঙ্কের প্রধান কার্যালয়ে এসব শিশুরা কেন ঢুকলো, কে ঢোকালো, কি উদ্দেশ্যেই বা ঢোকালো? শেইফ্যা রাজাকারের ঐ সময়কার রাষ্ট্রপতি হবার খায়েশ গোল্লায় গেলো, “সাদা-কাফন পরা জীবিত লাশেদের দৌড়” নাটক মঞ্চস্থ হবার পর।   

মনিপুরি বিষ্ঞুপ্রিয়া জনগোষ্ঠীর একটি ঘরে লালিত পালিত সিনহার এক খাটি মালাউন নাম ব্যবহারকারি সহী মোছলমান আদমের দ্বারা মূর্তি বসানো, আবার ড. কামালের মাধ্যমে খবর পাঠিয়ে শেইফ্যা রাজাকারকে দিয়ে আবারো হেফাজতী তান্ডবের মাধ্যমে বিপ্লব করে ক্ষমতা দখলের নাটকটি আবারো কিছু মানুষকে কয়েকদিনের জন্য মাতাল করে রাখলো, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সিপাহসালারেরা একেক জন একেক রকম বক্তব্য দিয়ে জাতিকে যখন আরো বিভ্রান্ত করছিলো এবং চেতনার ফেরিওয়ালা বামেরা উদ্ভট সব কথা বলে জলন্ত আগুনে ঘি ঢালছিলো। অন্যদিকে শেইফ্যা রাজাকারের অনুসারিরা ২০১৭-মূর্তি-তান্ডব এর সাথে মুখে মুখে ও অনলাইনে গুজব ছড়াচ্ছিলো, “জাতির পিতা কাকে বলেন, শেখ মুজিবের বাবা ও পূর্ব পুরুষেরা তো হিন্দু ছিলেন”; বিষয়টি বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনা অবহিত হন, আমার কাছে মনে হয়, গণভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা গত পৌনে নয় বছরে এই একটি ভালো কাজ করতে সক্ষম হয়েছেন, যাতে বাংলাদেশের ও শেখ হাসিনার জন্য একটি উপকার হলো। তখন বাধ্য হয়ে বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় নিতে হয়েছিলো এক ব্যতিক্রমধর্মী কূটনৈতিক কৌশলের।  বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনা শেইফ্যা রাজাকারকে গণভবনে ডেকে নিয়ে অত্যন্ত সন্মান সহকারে মঞ্চে বসিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান এর বংশ পরিচয় সম্বলিত একটি ছোট বই ধরিয়ে দেন ও সংক্ষেপে শেখ মুজিবুর রহমানের বংশ পরিচয় শুনিয়ে দেন। 

যদিও সেখানেও শেইফ্যা রাজাকার আরেকটি মারাত্মক ভুল করে, দেশের প্রধানমন্ত্রীকে দাঁড়িয়ে সন্মান জানানো সে দরকার মনে করেনি, বরং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নত হয়ে তার হাতে জাতির পিতার বংশ পরিচয় সম্বলিত পুস্তিকা তুলে দিয়েছিলেন। কিছু কম প্রচারিত পত্রিকা ও অনলাইন পত্রিকা বুঝে হোক, আর না বুঝে হোক, সংবাদ প্রকাশ করে, “ও! আমি তো শুনেছিলাম, শেখ মুজিবের পিতা হিন্দু”। যদি বিষয়টা সঠিক সংবাদ হয়ে থাকে, তাহলে, শেইফ্যার অনুসারিরা যে, শেইফ্যার কাছ থেকে শুনেই গুজবটি ছড়িয়েছিলো, তাতে শেইফ্যার জ্ঞানের বহর বোঝা যায়, যে স্বপ্ন দেখে একটি দেশের রাষ্ট্রপতি হবে, সে যদি নিজে দেশের জাতির পিতার পরিচয় না জানে, তবে, তাকে দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা কিভাবে সম্ভব? আর যদি শেইফ্যার অনুসারিরা ড. কামালের ইহুদী জামাতা ডেভিড বার্গম্যানের প্রেশক্রিপশন অনুযায়ি যেভাবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গুজব ছড়ায়, সেভাবেও যদি এ গুজবটিও ছড়িয়ে থাকে, তবে তো, শেইফ্যার কপাল আরো খারাপ। তাকে সামনে রেখে সময়ে সময়ে যে হেফাজতী তান্ডব ও হুঙ্কার হয়, সবই তো, ইসরায়েল, আমেরিকা, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ-সিআইএ-আইএসআই এর নীলনকশা অনুযায়ি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার অপখেলায় এরা হাতিয়ার মাত্র, মানুষ এমন ধারনাই পেলো, তাদের দুই বছরে পর পর দুটি তান্ডবী উন্মত্ততা হতে। 

আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগের পর গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয়, “রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ”। এসব বিদেশী গোয়েন্দাদের এজেন্টরা কখন কি বলে, আর কখন কি করে, এর কোনটাই যে বাংলাদেশের গণমাধ্যম কর্মী ও গণমাধ্যম মোঘলরা বোঝেন না, এটা যেমন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের একটি চরম দুর্বলতা, তেমনি মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারি দলটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি চরম ব্যর্থতা যে, তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার মৃত্যুর পর এ দলটির নিজস্ব বা এর পক্ষে প্রচার করবে, এর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাব দেবে এমন কোন গণমাধ্যম ও সাংবাদিক নেই। 

হায়াত-মউত আল্লাহর হাতে বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনার মতো ওনার অনুসারি, কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়িরা এমনটিই বিশ্বাস করেন, ওনাকে খুন করার জন্য এ পর্যন্ত্য ২৩টি হামলা হয়েছে বলে প্রচারিত, এর মধ্যে একটি হত্যা চেষ্টার রায় হয়েছে, যে চেষ্টাটি করেছিলো জাতির পিতার খুনে সরাসরি অংশগ্রহণকারিদের তৈরি ফ্রিডম পার্টির কর্মীরা। ২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলা সহ আরো কয়েকটি মামলার রায় প্রদানের সময় হয়ে এসেছে, তাই শেখ হাসিনাকে মেরে ফেলার চেষ্টার পরিকল্পনার খবরগুলিকে গুজব মনে করা বোকামিই হবে। গ্রামের দুই জোতদারের খাস জমি দখল বা চর দখলের চেষ্টায় মারামারি ঘটনা হতে মামলায় গড়ালে ‘হারু পাট্টি’ চিন্তা করে জেলে গেলে অরে মাইর্যাই যামু না হয় ২/৪ বছর বেশি জেল খাটমু। এক ইউপি চেয়ারম্যানকে মেরে ফেলার দু:স্বপ্ন দেখে তার কোন পেছনের কাতারের প্রতিদ্বন্ধী, আর মনে করে আমার তো কিছুই হবে না, আমার পেছনে তো কোন বড় ছাগু বা কাউয়া আছে, সে তখন ভাবতেই পারে না যে. তাঁকে খুনী হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে শুধুমাত্র, খুন করে ফেললে তাকে ঠিকই ফাসিতে ঝুলতে হবে। 

তাহলে খবিশ প্রকৃতির একটা নরপিচাশ তার পেছনে দুইজন পাকিস্তানী গোয়েন্দা কর্মকর্তা জুনায়েদ ও রিয়াজ আশফাক আছে নিশ্চিত জেনে সামনাসামনি মাকে সাথে নিয়ে বসে বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনাকে খুন করানোর জন্য চারটি জঙ্গি গোষ্ঠীকে সরাসরি দায়িত্ব দেয়া অসম্ভব কি? যে রাজনীতির “র” ও বোঝেনা, রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়ে এক লাফে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব হয়েই বলে বসে “শিবির-ছাত্রদল ভাই ভাই” বলে, আবার রাজনীতি করে আমরাও ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল’ বলে। এমন অর্বাচীনের মতো কথা কিন্তু সে নাবালক অবস্থায় বলেনি, বলেছে বয়স ৩০ পার হওয়ার পর। দূর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত ও কোন নির্বাচনের অযোগ্য হয়ে থাকা আসামী যে আইনী লড়াইয়ের ধারেকাছেও যাবে না, একের পর এক খুনের নেশায় উন্মত্ত হবে, এটা তো অস্বাভাবিক কিছু না। অতি ধনী আন্তর্জাতিক নির্মান ব্যবসায়ি “লাদেন সাহেব” এর বখে যাওয়া পুত্র “ওসামা” প্রকৌশলিবিদ্যার উচ্ছৃঙখল তরুণ ছাত্রটিকে নাইটক্লাব হতে ধরে নিয়ে গিয়ে সিআইএ যদি ইসলাম রক্ষার বরকন্দাজ বানিয়ে “মশহুর আলেম ও অলি”, অমুক মাদ্রাসার ছাত্র (যে মাদ্রাসার কোন নাম নেই) বানিয়ে প্রথমে পবিত্র কাবা শরীফে হামলা করিয়ে এরপর গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে তামা করে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সব খনিজ সম্পদ দখলে নিতে পারে কোটি কোটি মানুষকে হত্যা করিয়ে, আর সেটা যদি পঙ্গপালের মতো সহী মোছলমানেরা কিছু সময়ের জন্য মেনে নিতে পারে, তাহলে জন্মগতভাবেই বদমায়েশ ও শিশু বয়স হতে বদমায়েশি দেখতে দেখতে বড় হওয়া একটা বর্বর যে মোসাদ-সিআইএ-আইএসআই এর জঘন্য নীলনকশার ষড়যন্ত্রে জড়িত হবে না, তা অবিশ্বাস করি কি করে? আর এ তো শুধু আমার একার বিশ্বাস নয়, বাংলাদেশের কোটি কোটি তরুণ ও যুবকরা এটা বিশ্বাস করে। 

যে বদমায়েশটি কোনদিন নিজের মায়ের ঘরে জন্মদাতা পিতা জিয়াউর রহমানের ছবি দেখে নাই, দেখেছে জাঞ্জুয়ার ছবি, সে তো কখনও বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির জন্ম পরিচয় কি, বাঙ্গালী জাতির নীতি-আদর্শ কি তা খুঁজেনি, সে জাঞ্জুয়ার আদর্শ কি তাই খুঁজেছে। জুনায়েদ ও রিয়াজ আশফাকরা তার প্রিয় তো হবেই, বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ তার মুক্তির জন্য জীবন কোরবানী দিয়ে রাস্তায় নামবে, তাকে যারা এমন ভরসা দিয়েছিলো, তা তো হয়নি। তাই শেখ হাসিনামুক্ত বাংলাদেশ সে চায়, এই গর্দভটার এটাও বোঝার সাধ্য নেই যে, শেখ হাসিনামুক্ত বাংলাদেশ যখন দুই ভাগ হয়ে মার্কিন যুকতারাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য “আরাকানিস্তান” ও ইসরায়েলের অঙ্গরাজ্য “ইহুদীস্তান” হবে সেখানে ডেভিড বার্গম্যান, জঙ্গি মোতাসসিন মোনা, ড. কামাল হোসেন, জাফরুল্লাহ চৌধুরি, লুঙ্গি, সিনহা এত্তো, এত্তো মশহুর পাকি পেয়ারা দোস্তদের ভীড়ে তার স্থানটি কোথায়? নাকি কোয়েটাতে লাদেনের পুত্র ওসামাকে লুকিয়ে রেখে আবার সাগরে নিয়ে ফেলে দেয়ার মতো ঘটনা কি ঘটাবে না সিআইএ?     

জঙ্গি পাইলট সাব্বিরের গ্রেফতারের পর হতে তারেকের এ সম্পৃক্ততা নিয়ে এমন শঙ্কাটি শুধু আমার একার নয়, ফেসবুকে অনেকেই এমন শঙ্কা প্রকাশ করছেন, এমনি কয়েকটি ফেসবুক স্ট্যাটাস ও কমেন্ট নিচে উল্লেখ করা হলো:

• বিশ্বাস করতে হলেও অবিশ্বাসের যো নাই। ২১ আগস্ট এর উৎকৃষ্ট প্রমান, যে হামলায় তাঁকে মেরে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল।

• অকাম/ কুকাম যতো আছে তারেক সবই পারে।

• আমার মনে হয় “জাতীয় চোরা” বাদ দিয়ে “বিশ্ব চোরার খেতাব” #তারেইক্ক্যারে দেওয়া উচিত...      

• তারেক জিয়া আন্তর্জাতিক চুরি বোর্ডের সভাপতি

• যে দল ক্ষমতায় থাকলে হাওয়া ভবন তৈরি করে, বিরোধী দলে থাকলে পেট্রোল বোমা মারে, সে দলকে অবান্চিত করা জরুরি,

• বিভিন্ন গ্রুপে আমার “টুইন টাওয়ারের মতো বিমানহামলায় গণভবন উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা ষড়যন্ত্র করেছিলো তারেইক্ক্যা চোরা, বিশ্বাস করেন কি?” ফেসবুকে স্ট্যাটাসে প্রচুর কমেন্ট পড়েছে, হ্যাঁ, এর পক্ষে সবই সম্ভব, একজন কমেন্ট করেছেন, “কেন নয়, সে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সাথে সপৃক্ত।“

• ঐ চুরা বুজতে পারছে,শেখ হাসিনা জীবিত থাকলে ওদের আর খাওয়া নেই, তাই রাজনীতিতে হেরে গিয়ে জঙ্গিপন্থা বেছে নিয়েছে।

• সন্ত্রাস, আর অপরাজনীতি ছাড়া তাদের ভাল লাগেনা।

• একটা নষ্ট ডিম থেকে যেমন বাচ্চা আশা করা যায় না, ঠিক তেমনি একজন বেপর্দা-বেহায়া নারী থেকে নেক সন্তান আশা করা যায় না।

• এসব বেগম খালেদার সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র লন্ডন থেকে তারেকের শিখানো।

• আবার শুরু হলো বি এন পির অরাজকতা।

• বি এন পি নিজেদেৱ আবিষ্কার পেট্রল বোমায় নিজেরা পূড়ছে।

• মেডাম আপনি ভুলে গেলেও জনগন ভুলেনি, যুদ্ধের পর দু’বেলা ভাতের জন্য ঢাকার ৩২ নম্বরে আপনি আপনার তারেক। আজ 

আপনি ও আপনার এই কুপুত্র মিলে সেই ৩২ নম্বরের উত্তরসুরিকেই এখন পর্যন্ত ১৮ বার মেরে পেলতে চেয়েছিলেন। এখন পর্যন্ত সেই পায়তারা আপনারা বন্ধ করেননি। বর্তমানে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক আপনারা। জনগন তো এমনি বলেনি সেই ভাঙা সুটকেসের কথা। লজ্জা থাকা উচিত আপনার। আপনি যা করেছেন এবং করছেন তা একটা কুকুরও করেনা। একবেলা খাওয়ার দিলে কুকুরও ভক্তি জানায়।

• ওর ফাঁশি হওয়া দরকার

• সন্ত্রাসী ও ষড়যন্ত্রকারীর ফাঁসি দেওয়া হউক।

তারেক, খালেদারা নিজামী-মোজাহিদদের মতোই পাকিস্তানীদের প্রেতাত্মা, এটা ২০১৭ সালে এসে জনগণ বোঝে; কিন্তু আওয়ামী লীগের ভেতরে কিছু কাউয়া কেন এখনো বিএনপি নামক কঙ্কালটিকে ক্রেন দিয়ে টেনে তোলার চেষ্টা করছেন বোধগম্য নয়। তারা কি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে একেক জন ৩/৪ জন করে শিবির ক্যাডারকে এপিএস, প্রাইভেট সেক্রেটারি নিয়োগ করে গণমানুষের কথা বোজার বোধশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন? যদি একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করি,  জামায়াতের সাথে সাথে বিএনপি নামক এ অপশক্তি উত্থান হয়েছিলো একটি দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে, জাতির পিতার অতি মানবিক আচরণের নামে ভুল সিদ্ধান্তের কারনে, “মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়নি, এমন সামরিক ও সিভিল প্রশাষণের কর্মকর্তাদের স্বপদে বহাল রেখে এবং মুক্তিযুদ্ধকালে গাদ্দারের ভুমিকায় ছিলো, এমন ব্যক্তিদের ক্ষমা করে দিয়ে বুকে টেনে নিয়ে” তাহলে কেউ কেউ ক্ষুব্ধ হতে পারেন, ‘জাতির পিতার কোন ভুল নেই’ বলে। কিন্তু, বাস্তবতাটা তো ছিলো তাই। 

জাতির পিতার জীবদ্দশায়ওতো ক্যান্টনম্যন্টে অসন্তোষ, ক্ষোভ ছিলো, অভিযোগ ছিলো, অভিযোগ নিষ্পত্তিও হয়েছে; কিন্তু ক্যান্টনম্যান্টে তো কোন খুনোখুনি হয়নি। কিন্তু, জাতির পিতার খুনের পর পাকিস্তান ফেরৎ সামরিক কর্মকর্তারা পাকি এজেন্ট জিয়ার সাথে মিলে নানা চল-ছুতোয় প্রায় ২০,০০০ মুক্তিযোদ্ধা ও সৈনিক খুনের মহোৎসবটি করলো। আর জাতির পিতার খুনের সাথে প্রত্যক্ষভাবে পরিকল্পনায় ছিলো মোশতাক, যিনি ইতিহাসে ১৯৭০-৭১ এর ভুমিকার কারনে “কনফেডারেশন মোশতাক” হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর ১৯৭২-৭৫ এর ভুমিকার জন্য “কন্সপায়রেসি মোশতাক” এবং সাধারন মানুষের কাছে “খুনী মোশতাক” হিসেবেই পরিচিত। 

ইতিহাসের বেদনাভরা অতীতের আলোক ভাবুন তো, আজ কি জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা, যিনি বাংলাদেশকে একে একে কলঙ্কমুক্ত করে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলেছেন, সারা বিশ্বের নেতাদের কাছে যিনি “বিশ্বনেত্রী” হিসেবে সন্মানিত, যার কাছ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানেরা নিজ দেশের কোন সঙ্কটকালে পরামর্শ নিয়ে থাকেন, সেই মহীয়সী কি নিরাপদ, নাকি অতি মানবিক আচরণ দেখাতে গিয়ে তিনি নিজেও জাতির পিতার মতো একই ভুলে চলেছেন? কেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিমানের নাট-বল্টু ঢিলা করার মতো জঘন্য অপরাধীদের বিচার হয় না, জনগণ তো এদের ফাসি দাবী করছে বারবার। কেন, বিমানের তদন্ত রিপোর্ট গায়েব হয়ে যায়? কেন এখনো প্রশাষনে মাহবুবুল আলম চাষীর প্রেতাত্মারা শক্তিশালী? যে চাষী মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে পাকিস্তানী এজেন্ট হিসেবে মুজিবনগর সরকারের তথ্য পাকিস্তানী গোয়েন্দাদের কাছে পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়ে ভারতের মাটিতে কার্যত নজরবন্দী ছিলো, সে যেমন বঙ্গবন্ধুর কাছে ক্ষমা পেয়েছিলো, আবারো স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে সিআইএর কাছে গুরুত্বপূর্ণ নথি পাচার করতে গিয়ে ধরা খেয়ে আবারো জাতির পিতার কাছে ক্ষমা পেয়েছিলো, সেই চাষীও তো প্রত্যক্ষভাবে জাতির পিতার হত্যার সাতে জড়িত ছিলো। কেন আওয়ামী লীগ অতীত হতে শিক্ষা নেয় না? 

তাহলে, এ দেশে কোটি কোটি মুজিব সৈনিক, যারা জীবনে কোন অন্যায়, অপরাধ, অনৈতিক কাজ বা আচরণে জড়িত নন, কিন্তু আওয়ামী লীগের যে কোন সঙ্কটে নিজের সহায়-সম্পদ অকাতরে বিলিয়ে দেন কোন কার্পণ্য না করে, নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করতে রাজপথে নেমে যান, কখনোবা শত্রুর আগ্নেয়াস্ত্রের মোকাবেলা করতে হাতে লাঠি নিয়ে নেমে যান, তাদের ত্যাগের মূল্য কোথায়? কেন আজ কোন জঙ্গি-মদদদাতা, ইয়াবা কারখানার মালিক, আর্ন্তজাতিক নারী পাচারকারি, আইএস জঙ্গি আস্তানায় যৌন জেহাদী হিসেবে নারী পাচারকারি অপরাধীও আওয়ামী লীগের মতো একটি দলের ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে সকল অপশক্তিকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে? এসব প্রশ্নগুলির উত্তর কবে খুঁজবে আওয়ামী লীগ? শুধু বিমানে যদি প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত ৫০ জনকে সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে বিচারের সম্মুখীন কর হতো, তবে সাব্বির এনাম তো অনেক আগেই জেলে থাকার কথা, তাহলে তো এই বিমান ছিনতাই ও গণভবন উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনাটি হতো না।

পরিশেষে এটুকুই বলবো, জামায়াত-বিএনপি পরিত্যক্ত হয়ে গেছে জনগণের কাছে, এ অপশক্তি শুধু টিকে আছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী, জঙ্গি, ছাগু টকার, ছুতিয়া শীল ও হাতে গোনা কয়েকটি কাউয়ার কাছে। এ দুটি অপশক্তিকে ভুলে যান, শফিউল আলম প্রধানের জাগপার মতোই। বরং ভাবুন, কয়েকটি উপজেলায় “জয় বাংলা” ও “জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগান নিষিদ্ধ হয়ে গেছে, এমন সব ব্যক্তিদের এলাকায়, যারা শেখ হাসিনার খুব কাছে অবস্থান করছে জাতির পিতার পাশে মোশতাক, ওবায়েদ, তাহেরউদ্দিন ঠাকুর, শাহ মোয়াজ্জেমদের মতোই; ঐসব স্থানে “জয় বাংলা” ও “জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগান পুণরায় চালু করতে করণীয় কি? ডিজিটাল পদ্ধতির সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা এসব নিয়ে চিৎকার করে, তাদের চিৎকার শুনুন। 

বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য সহ শতায়ু কামনা করছি, তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বেই বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করি সবাই। সাথে এই প্রত্যাশা রাখি, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিই হবে সরকারি দল ও বিরোধী দল; মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারি কোন ব্যক্তি বা তাদের দ্বারা বা তাদের মদদে তৈরি কোন দলের অস্তিত্ব বাংলাদেশে থাকবে না। 

মো: মাহমুদ হাসান (ভূতপূর্ব কলেজ অধ্যক্ষ ও সমাজ গবেষণা কর্মী), ঢাকা, তারিখ-০৬.১১.২০১৭, সময়-বিকাল ০৩.৩০ মিনিট।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top