Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ , সময়- ১০:১৪ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
জঙ্গি আস্তানা : নরসিংদীর শেখেরচর ও মাধবদীতে দুটি বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ  ওয়েজবোর্ডের আওতায় আসছে অনলাইন নিউজপোর্টাল রামকৃষ্ণ মিশনে দুর্গা আরাধনা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তারেক জিয়াকে বিএনপি প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেবার জন্য অনুরোধ করেছে আন্তর্জাতিক মহল নিজস্ব প্রস্তাবনা উপস্থাপন করতে না দেয়ায় অপমানিত বোধ করেছি : মাহবুব তালুকদার  ময়মনসিংহ পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা, সর্বস্তরে আনন্দের বন্যা গ্রেনেড হামলার মামলার রায়ে আমরা সন্তুষ্ট কিন্তু কিছু আপত্তি আছে : শাহরিয়ার আলম ড. কামাল বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ : খালেদা জিয়া জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে সেনাকর্মকর্তার থানায় সাধারণ ডায়েরি, তদন্তে ডিবি কেন কমিশন সভা বর্জন করেছেন কমিশনার মাহবুব তালুকদার

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বনাম বাংলাদেশের রক্তক্ষরণ


মৃধা মোহাম্মাদ বেলাল

আপডেট সময়: ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ২:১৯ পিএম:
সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বনাম বাংলাদেশের রক্তক্ষরণ

ইসলাম শান্তির ধর্ম, ক্ষমা ও উদারতার ধর্ম। তাহলে মুসলিমদেরই তো শান্তি, ক্ষমা ও উদারতার পরিচয় দেওয়ার কথা। কিন্তু কথিত ধর্ম অবমাননার দায় চাপিয়ে অমুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা, বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, মন্দির ভাঙচুর ও দেবদেবীর মূর্তি ধূলিসাত্ করা তো সেই কথা বলে না! বরং ধর্মীয় উগ্রতারই পরিচয় বহন করে। ঘটনার অনুক্রমই বলে দেয়, এসব সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের চাক্ষুষ প্রমাণ। এভাবে ধর্ম রক্ষার নামে ধর্মীয় উগ্রতা ও আকস্মিক দাঙ্গাহাঙ্গামা ইসলামের অন্তর্গত বিষয় নয়। ইসলাম কখনো নির্বিচারে হামলা করে ধর্ম রক্ষার কথা বলেনি। এমনকি সমর্থনও করে না। ধর্মের গর্ভজ্ঞান অর্জন না করে দাঙ্গা ঘটানো ধর্মান্ধতারই লক্ষণ। ধর্মান্ধতাই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও উগ্রতার মূল কারণ! এই উগ্রতাপনা ইসলামের উদ্দেশ্য, ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করছে। প্রশ্নবিদ্ধ করছে ইসলামের সর্বজনীনতাকে। যারা এই দাঙ্গাগুলো ঘটাচ্ছে, তারা সত্যিকার অর্থে সমাজের শান্তি ও উন্নয়নের দ্বার রুদ্ধকারী। 

গত শুক্রবার ১০ নভেম্বর রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ঠাকুরপাড়ায় আবারও ধর্মীয় সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ভয়াবহ হামলার ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই এবার ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননার খবর ছড়িয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ফেসবুকে কথিত ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ ছড়িয়ে একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী সাধারণ মুসল্লিকে ক্ষেপিয়ে তুলে এই তাণ্ডব চালিয়েছে। আগুন দিয়ে বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েও ক্ষান্ত হয়নি তারা, চালানো হয়েছে লুটপাট। এ ঘটনায় ৮টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরসহ লুটপাট করা হয়। দশ বছর আগে গ্রামছাড়া টিটু নামের এক ব্যক্তির ফেইসবুক একাউন্টে অবমাননাকর ছবি ও মন্তব্য পোস্ট করার অভিযোগে এই ঘটনা ঘটে। এরকম ঘটনা বাংলাদেশে প্রথম নয়। ২০১৬ সালের অক্টোবরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে রসরাজ দাস নামক এক ব্যক্তির ফেসবুক আইডি থেকে কথিত ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট করার অভিযোগে দাঙ্গা ঘটানো হয়। এতে একশ বাড়িতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ পাঁচটি মন্দির ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে কক্সবাজারের রামুতেও সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে চালানো হয়েছিল বর্বরতা। সেখানেও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একজনের নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে অবমাননাকর তথ্য ছড়িয়ে দাঙ্গা লাগানো হয়। সেখানে আগুন দিয়ে বাড়িঘর, বৌদ্ধবিহার ও মন্দির জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করা হয়।

গত ১০ নভেম্বরের ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে কমিটির মনে হয়েছে ধর্মকে অবমাননা করে পোস্ট দেওয়া ফেইসবুক একাউন্টটি ভুয়া এবং এই ঘটনার সঙ্গে টিটুর কোনো যোগসাজশ নেই। অন্যদিকে ২০১৬ সালে নাসিরনগরে ধর্ম অবমাননার সঙ্গে রসরাজের কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়নি। কয়েক মাস আগে রসরাজ নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে জামিনও পেয়েছে। ২০১২ সালে কক্সবাজারের রামুতে ঘটে যাওয়া ঘটনাও একই। অতএব সাম্প্রদায়িক এই দাঙ্গাগুলো যে উদ্দেশ্য প্রণোদিত তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। দেশজুড়ে নানা কৌশলে উস্কানি দিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর মূল হোতা একটি বিশেষ উগ্রবাদী গোষ্ঠী। তাদের সাজানো ছকেই এই ধর্মীয় নাশকতা চালানো হয়েছে। এক্ষেত্রে তারা সাধারণ মুসলমানদের ধর্মপ্রীতিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে একথা সত্য যে, সংখ্যালঘুদের হামলা করা হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা শুধু সংখ্যালঘুদের অর্থনৈতিক, ধর্মীয় ও শারীরিক ক্ষতিই করে না, তাদের হূদয়ে অদৃশ্য এক বেদনার ক্ষতও তৈরি করে। দেশের সামাজিক নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও বড় বাধা সৃষ্টি করছে। এমনকি ইসলামের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করে যে দেশের জন্ম হয়েছে সে দেশে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও দাঙ্গাহাঙ্গামা কখনই কাম্য নয়। এদেশ মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান অর্থাত্ বাঙালির। আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় আমরা বাঙালি। আমাদের দেহে বয়ে চলেছে হাজার বছরের বাঙালির রক্তধারা। ধর্ম আমাদের বিশ্বাসের অংশ। আর বাঙালি জাতীয়তাবোধ আমাদের অস্তিত্বের ভিত্তি। তাই বাংলাদেশকে একটি সোনার বাংলাদেশ গড়ার ভিশনে পৌঁছাতে হলে অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে লালন করার কোনো বিকল্প পথ নেই। সেই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষপূর্ণ এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে সেজন্য প্রশাসনকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সহিংসতা সৃষ্টিতে উস্কানিদাতা ও মদদপুষ্ট উগ্রবাদীদের অতিদ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। বর্তমানে জাতির জনকের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে অগ্রসরমান। এই উন্নয়নের পথকে মসৃণ রাখার জন্য আমাদেরকে সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে। একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও বাঙালি জাতীয়তাবোধকে হূদয়ে গেঁথে সামনে এগুতে হবে। পৌঁছতে হবে অভীষ্ট লক্ষ্যে।

লেখক :শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top