Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ , সময়- ৫:৫১ অপরাহ্ন
Total Visitor:
শিরোনাম
পাকিস্তানে চার্চে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ৮ উন্নয়নের জন্য দুর্ভোগ মেনে নিতে হবে: কাদের প্রশ্ন ফাঁসে সরকারি লোকজন জড়িত : দুদক রংপুর সিটি নির্বাচন যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয় তা হবে বিএনপির সদিচ্ছাতেই জেরুজালেম: মার্কিন স্বীকৃতি বাতিলে জাতিসংঘে খসড়া প্রস্তাব ঢাকা উত্তরে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে নির্বাচন রাজধানীর দুই প্রান্তে এক লাশের কয়েক টুকরো মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধা আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসের দায়িত্ব নিলেন রাহুল গান্ধী জেরুজালেম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে গিয়ে প্রস্তাব করবে মিশর

রোহিঙ্গা কূটনীতির বড় বাধা বৈশ্বিক দ্বন্দ্ব


মোহা:রুহুল আমীন

আপডেট সময়: ২১ নভেম্বর ২০১৭ ১:৪৮ এএম:
রোহিঙ্গা কূটনীতির বড় বাধা বৈশ্বিক দ্বন্দ্ব

উপ-সম্পাদকীয় : আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখন রোহিঙ্গা মুসলমানদের পৃথিবীর ‘সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত জাতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে এবং যখন তাদের উপর উপর্যুপরি জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকায় গণহত্যা, জাতিগত নিধনযজ্ঞ, মানবতাবিরোধী যুদ্ধের নৃশংস নরক তৈরী করা হচ্ছে সে মুহূর্তে ঐ নির্যাতিত মানবতার মুক্তির পথ তৈরী না করে বৈশ্বিক সমাজ আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানামুখী দ্বন্দ্ব-সংঘাত-সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে জাতিসংঘে উত্থাপন করে একে আন্তর্জাতিকীকরণ করে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি এদিকে ফিরাতে সক্ষম হলেও বৈশ্বিক ক্ষমতাধর রাষ্ট্রিক এবং অরাষ্ট্রিক কর্তা ও প্রতিষ্ঠানসমূহের বহুমুখী দ্বন্দ্বের কারণে এ সমস্যার কোনো ত্বরিত সমাধান হবে বলে মনে হয় না। ঢাকার সিপিএ সম্মেলনে কানাডার সিনেটর সালমা আতাউল্লাহজান যথার্থই বলেছেন, “আমরা যুগোশ্লাভিয়া ও রুয়ান্ডার গণহত্যা প্রত্যক্ষ করেছি। আমরা কখনো ভাবতে পারি না তার পুনরাবৃত্তি হোক। দুর্ভাগ্যবশত মিয়ানমারে গণহত্যা চলছে এবং বিশ্ব তা তাকিয়ে দেখছে।” গত সপ্তাহে আসিয়ান সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ নারকীয় এ গণহত্যার নিন্দাও করতে পারেনি। রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে বাংলাদেশ যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে, তার প্রতি সবচেয়ে বড় বাধা ও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে বৈশ্বিক সমাজের অভ্যন্তরীণ, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নানামুখী দ্বন্দ্ব ও সংঘাত। ইতোপূর্বে ‘দৈনিক ইত্তেফাক’-এ প্রকাশিত আমার দুটি নিবন্ধে আমি রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে বাংলাদেশের অনুসৃত রোহিঙ্গা কূটনীতির প্রকৃতি ও পরিধি তুলে ধরেছিলাম।

রোহিঙ্গা কূটনীতির সফলতা নির্ভর করছে বৈশ্বিক সমাজের প্রভাবশালী দেশসমূহের বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতৃবৃন্দ, বৈশ্বিক ক্ষমতাধর রাষ্ট্রসমূহ এবং বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিত্বকারী আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা-কূটনীতির পক্ষে কার্যকর ভূমিকা রাখার উপর। সে কারণে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র-সম্পর্কিত নীতিনির্ধারক ও দপ্তরসমূহকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দের আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্ক, রাষ্ট্রসমূহের আন্তঃক্রিয়া এবং আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব-সংঘাতের স্বরূপ বিশ্লেষণে উদ্যোগী হতে হবে।

রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, সৌদি আরব, ইরান, ইইউ, রাশিয়া ও আসিয়ান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। কিন্তু এদের অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্বসমূহের কারণে সেদিকে যথার্থ দৃষ্টি নিবদ্ধ হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৃহত্তম এশিয়া সফরে রোহিঙ্গা ইস্যুটি কোনো তাত্পর্য  পেয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। চীনের সঙ্গে ট্রাম্পের দ্বন্দ্ব, কোরিয়া ও জাপানের মধ্যকার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের দ্বন্দ্বের স্মৃতি, উত্তর কোরিয়াকে শাসানো প্রভৃতি দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিয়েই ট্রাম্পকে ব্যস্ত থাকতে দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্পের কোরিয়া সফরের প্রাক্কালে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্পবিরোধী সমাবেশ হয়েছে। ৪ নভেম্বর এএফপি ও রয়টার্স প্রকাশিত ছবিতে সমাবেশকারীদের ‘নো ট্রাম্প নো ওয়ার’ প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে গতমাসগুলোতে একে অন্যের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে ও যুদ্ধ-হুমকি প্রদানের অসংখ্য খবর বিশ্বমিডিয়ায় স্থান পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদদের অধিকাংশ, এমনকি ট্রাম্পের দলের শীর্ষ রাজনীতিবিদদের মতের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ-হুমকি দিয়ে আসছেন। উত্তর কোরিয়াও পাল্টা হুমকি দিয়ে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে। ট্রাম্পকে বেশ অসহিষ্ণু এবং অসংলগ্ন মনে হয়েছে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ-উন্মাদনা সৃষ্টির ক্ষেত্রে। কখনো তিনি উত্তর কোরিয়ার কোনো নেতার সঙ্গে সংলাপে বসতে আগ্রহ দেখিয়েছেন, আবার কখনো-বা সংলাপকে সময় নষ্ট বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। তিনি সর্বদা বলে আসছেন— উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে কৌশলগত ধৈর্যের ইতি ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ইতোমধ্যে উত্তর কোরিয়ার উপর নানা অবরোধ আরোপ করেছে। অতি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের দেয়া পেন্টাগনের একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হলে দেশটি রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্রের সমাবেশ ঘটাবে। উত্তর কোরিয়ার নেতা প্রায়ই পরমাণুর আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূমি উড়িয়ে দেয়ার স্পর্ধা দেখিয়ে চলেছেন। এমতাবস্থায় দক্ষিণ কোরিয়াসহ এ অঞ্চলের শান্তিকামী মানুষরা শান্তির পক্ষে শ্লোগান দিচ্ছেন। ৫ নভেম্বর এএফপি ও রয়টার্স প্রচারিত একটি ছবিতে দেখা যায় হাসিমুখ ট্রাম্প ও কিম জং উন পরস্পরকে জড়িয়ে ধরেছেন এবং বিক্ষোভকারীরা ‘পিস, নট ওয়ারে’ লেখা পোস্টার হাতে রাজধানী সিউলের রাস্তায় অবস্থান করছেন।

এশিয়ার ১২ দিনের সফরে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখার যে সুযোগ ছিল বিশ্বনেতা ট্রাম্পের হাতে, সেই সুযোগ অঙ্কুরে বিনষ্ট হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী কিম জং উনের সঙ্গে তার সংঘাতের কারণে। রোহিঙ্গা মুসলিমদের নির্যাতন বন্ধে আদর্শিক, নৈতিক, রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ছিল মুসলিম দেশসমূহের প্লাটফর্ম ওআইসি এবং আরব লীগের। কিন্তু মুসলিম বিশ্বের দুটি প্রভাবশালী শক্তিশালী রাষ্ট্র সৌদি আরব ও ইরানের রাষ্ট্রিক আদর্শিক ও আর্থ-রাজনৈতিক স্বার্থের দ্বন্দ্ব সে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রেখেছে মুসলিম দেশগুলোকে। ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের সম্ভাব্য পতনের পর শান্তিপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের সূচনা হওয়ার কথা। কিন্তু সেই সম্ভাবনা ইতোমধ্যে উবে যেতে শুরু করেছে।

আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্বার্থ-চক্রের মাধ্যকার দ্বন্দ্ব এ অঞ্চলে নিরন্তর যুদ্ধের আরেকটি ফ্রন্ট খুলে দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পরবর্তী সংস্করণের প্রাকচিত্রে এটা উদ্ভাসিত যে, সৌদি আরব ও ইরান নীরব দ্বন্দ্ব থেকে প্রকাশ্য যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে। গত ৩ নভেম্বর শুক্রবার লেবালনের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি হঠাত্ রিয়াদে উড়ে এসে ঘোষণা করেন, লেবালনে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এবং ইরানের হুমকির মুখে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করছেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর সৌদি সরকারি খবরে বলা হয়, সৌদি সেনাবাহিনী রিয়াদের উদ্দেশ্যে ছোড়া ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। এর পরপরই খবর আসে দুর্নীতির অভিযোগে প্রিন্স আল ওয়ালিদ বিন তালাল ও ১১ জন যুবরাজসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে যুবরাজ সালমানের নির্দেশে গ্রেফতার করা হয়েছে। ববখাস্ত করা হয়েছে নৌপ্রধানকে। এছাড়া গত ৫ নভেম্বর ইয়েমেনের সীমান্তে হেলিকপ্টারে বিধ্বস্ত হয়ে মারা গেছেন মনসুর বিন মুকরিন নামক এক যুবরাজ। অধিকন্তু দেশটির সর্ববৃহত্ পর্যটন কোম্পানি “আলতায়ার ট্রাভেলস”-এর প্রতিষ্ঠাতা নাসির বিন আকিল আল তায়ারকে আটক করা হয়েছে। যুবরাজ সালমান সৌদি আরবের তেল-নির্ভর অর্থনীতিকে পরিবর্তন করার ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ সালমান এখন প্রাসাদ-রাজনীতি নিয়ে খুবই বিচলিত, তাঁরা বেশ নিঃসঙ্গ এবং বহিঃশক্তি নির্ভর হয়ে পড়েছেন। এ সুযোগে মধ্যপ্রাচ্যের আরব মুসলিমদের চির প্রতিদ্বন্দ্বী ইসরাইল নানা যুক্তিতে ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে যুদ্ধ বাঁধাতে উসকানি দিচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু টুইটার বার্তায় লিখেছেন, “হারিরির পদত্যাগ ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার একটি আহ্বান।” স্পষ্টতঃ সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ প্রাসাদ-দ্বন্দ্ব, ইরানের সাথে সৌদি আরবের সম্ভাব্য যুদ্ধ এবং সেই যুদ্ধে ইসরাইলের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ এ অঞ্চলকে এমনভাবে অশান্ত করে রাখবে, যা মিয়ানমার ইস্যুকে কোনোভাবে বিবেচনায় নেয়ার সুযোগ দেবে না।

রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র সুনির্দিষ্টভাবে চীনকে অনুরোধ ও চাপ দিতে পারতো। কিন্তু প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠার ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা, উত্তর কোরিয়ার প্রতি চীনের সমর্থন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্কর্ষ প্রতিষ্ঠায় চীনের গুরুত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের বিনাশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টার কারণে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে চীনকে কিছু বলার শক্তি ও যোগ্যতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো আঞ্চলিক শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো বিভিন্নভাবে মিয়ানমারকে চাপে রাখতে পারে। কিন্তু এ রাষ্ট্র দুটি পারস্পরিক বিরোধ এবং বিশেষত উত্তর কোরিয়া ও চীনের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে মিয়ানমারের সামরিক জান্তাকে কোনো কিছু বলার সুযোগ হারাচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যকার আন্তঃরাষ্ট্রীয় দ্বন্দ্বের কারণে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক উত্থাপিত যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ‘ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব’ গঠনের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, এজন্যে প্রয়োজনীয় জাপান দাক্ষিণ কোরিয়া সামরিক সহযোগিতা গড়ে ওঠেনি। স্পষ্টত জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার কৌশলগত মিত্রতা থাকলেও তাদের মধ্যে কৌশলগত দূরত্বও অধিক। এমতাবস্থায়, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিতে চীনের ওপর আঞ্চলিক বৃহত্ রাষ্ট্রদুটি কোনো ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে না।

উপর্যুক্ত বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কারণে সমসাময়িক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বাংলাদেশের রোহিঙ্গা কূটনীতি বাস্তবায়নের পথে অনতিক্রম্য বাধা সৃষ্টি করবে। সুতরাং বাংলাদেশকে বহুপক্ষীয় ফোরামে মানবিক কূটনীতির কৌশল গ্রহণ করতে হবে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এ পর্যন্ত কোনো রকম সিদ্ধান্ত প্রস্তাব (resolution) গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। গত ৬ নভেম্বর পরিষদের সভায় মিয়ানমারের সহিংসতা বন্ধে দাবি সংক্রান্ত এক সিদ্ধান্ত প্রস্তাব চীনের ভেটোর কারণে স্তব্ধ হয়ে যায়। আশাব্যঞ্জক যে রাশিয়া এবার ভোটদানে বিরত রয়েছে। এমনকি চীনও রাজি হয়েছে সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের পরিবর্তে একই দাবিতে বিবৃতি প্রদানে। চীনের মতে কোনো সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের মাধ্যমে সংকটের ব্যাপারে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এমন মনে করার কোনো কারণ নেই। জাতিসংঘে ব্রিটেনের ডেপুটি এমবেসেডর জোনাথান এ্যালেনের মতে, চীনের প্রস্তাবিত বিবৃতি প্রদানের বিষয়টির সঙ্গে পরিষদ প্রস্তাবিত ‘সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের’ হুবহু মিলযুক্ত থাকায় বিবৃতির মাধ্যমে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধের প্রক্রিয়া জোরদার করা যায়। তার মতে ঐ বিবৃতিতে খুবই শক্তিশালী ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তরকে অনুরোধ করবো জাতিসংঘের মাধ্যমে ‘মানবিক কূটনীতির’ কার্যকর কৌশল অবলম্বনে যেন আমাদের নীতি-নির্ধারকগণ তত্পর হন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দাতা সংস্থা, অধিকার সংগঠন, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্থা, বিজ্ঞানী ও গবেষকবৃন্দ ‘মানবিক প্রযুক্তি’ নামক নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করছেন। তারা মানবিক বিপর্যয়সহ বহুমুখী দ্বন্দ্ব-সংঘাত দূরীকরণে ‘মানবিক প্রযুক্তি’ ব্যবহার করে বিশ্বের সর্বত্র দ্বন্দ্ব-সংঘাতের তথ্য সংগ্রহ, সরবরাহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ সম্পাদন করছেন। ‘ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেডক্রস’ কর্তৃক প্রকাশিত একটি নিবন্ধে ফুটে উঠেছে কীভাবে মানবিক প্রযুক্তি বিশ্বের মানবিক সংকটসমূহ চিহ্নিতকরণ এবং এ সংক্রান্ত উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং সন্নিবেশিতকরণে স্পষ্ট পরিবর্তন আনয়ন করেছেন। মানবিক প্রযুক্তির প্রসারের সাথে তাল মিলিয়ে মানবিক কূটনীতির অভিনব কৌশল অবলম্বন করতে হবে এখনি। বিশ্বের বিভিন্ন সামাজিক মিডিয়া, ফেসবুক, টুইটারসহ সর্বত্র বাংলাদেশের কূটনীতির পক্ষে মানবিক প্রযুক্তির অংশগ্রহণ সকল পর্যায়ে বিস্তৃত করতে হবে।

লেখক : অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ই-মেইল: mranin68@yahoo.com


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top