Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ , সময়- ১০:১১ পূর্বাহ্ন
Total Visitor:
শিরোনাম

নৃশংস অপরাধ ও আচরণ-বিকৃতি চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে


ড. সা’দত হুসাইন

আপডেট সময়: ৪ ডিসেম্বর ২০১৭ ১২:১২ এএম:
নৃশংস অপরাধ ও আচরণ-বিকৃতি চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে

চারদিকে সামাজিক ও পারিবারিক পর্যায়ে নৃশংস সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড ও ঘৃণ্যতম আচরণ-বিকৃতি আমাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। উদ্বিগ্ন বললে বোধ হয় কম বলা হবে।

আসলে আমরা মারাত্মকভাবে শঙ্কিত ও সন্ত্রস্ত; আমরা রাগে-ক্ষোভে গুমরে মরছি। কিন্তু এর প্রতিরোধে কার্যকর কিছুই করতে পারছি না। অপরাধের গূঢ়তম কার্যকারণ ও প্রক্রিয়া পরিষ্কারভাবে বুঝে উঠতে পারছি না। সমস্যার কারণ ও তা প্রতিরোধের দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সামাজিক-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের হাতে ছেড়ে দিয়েছি। সাধারণ অপরাধের জন্য হয়তো তা ঠিক আছে। কিন্তু ঘৃণ্যতম বিকৃত আচরণের অনুসরণে যে নৃশংস সহিংসতা ঘটছে, তা অপরাধীর অসুস্থতার ইঙ্গিতবহ।

এ সম্পর্কে একজন বিশ্লেষক লিখেছেন, ‘ঘটনার বর্ণনা এবং হিংস্রতার ধরন দেখে মনে হয়, এগুলো কোনো সাধারণ অপরাধীর কার্মকাণ্ড নয়। বিশেষ করে পারিবারিক পর্যায়ে যে নৃশংস ও অবিশ্বাস্য ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে অপরাধীরা আসলে মানসিক রোগী। মনোরোগে আক্রান্ত লোক ছাড়া এ ধরনের নৃশংস অপরাধ কেউ করতে পারে না।

নারায়ণগঞ্জে পরিবারের প্রথম সন্তান মেয়ে হওয়ার কারণে হতাশা ও ক্ষোভে মেয়েটির বাবা তাকে আগুনে নিক্ষেপ করে হত্যা করে। এ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বিশ্লেষক বলেন, ‘এটি কোনো স্বাভাবিক মানুষের কাজ হতে পারে না। একজন সুস্থ মানুষ যতই নিষ্ঠুর হোক না কেন, আমার ধারণা, সে নিজের সন্তানকে এমনভাবে খুন করতে পারে না। ওই পাষণ্ড বাবা একজন অপ্রকৃতিস্থ মানসিক রোগী। সাধারণ মানুষের সমাজে বসবাস করার অনুপযোগী। আবার কোনো সমাজে যদি এরূপ মানসিক বৈকল্যগ্রস্ত লোকের সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যায়, তবে সে সমাজ বসবাসের অযোগ্য। ’
চোখ বোলানো হালকা জরিপে (Casual Enpiricism) মনে হয়, বাংলাদেশে অসুস্থ মনের নিষ্ঠুর লোকের সংখ্যা বাড়ছে। বিদেশে গিয়েও এদের কেউ কেউ নিষ্ঠুর ও বিকৃত আচরণ করছে। এক বাংলাদেশি অপরাধী ডাকাতি করতে গিয়ে সত্তরোর্ধ্ব ধর্মযাজিকাকে (Nun) ধর্ষণ করার পর হত্যা করেছে। মেয়ে মা-বাবাকে খুন করছে, বাবা ছেলেকে, ছেলে বাবাকে খুন করছে, মা নিজ মেয়েকে খুন করছে, তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণ করা হচ্ছে, স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামী একই খাটে ঘুমিয়ে রাত কাটিয়েছে, স্কুলের ছাত্র একই স্কুলের জুনিয়র ছাত্রকে খুন করছে, কিশোর তার বন্ধুকে খুন করে নিজের রুমের মেঝেয় মাটিচাপা দিয়ে দিনের পর দিন স্বাভাবিকভাবে কাটিয়েছে, বন্ধুর কবরের ওপর নির্বিকারে ঘুমিয়েছে। এদের খুনি প্রমাণ করে আমরা শাস্তি দিতে পারি এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই এদের প্রাপ্য। তবে এ সমস্যার সামাধান করতে হলে আমাদের আরো গভীরে যেতে হবে। ব্যক্তি পর্যায়ে তীক্ষ অনুসন্ধান (Investigation) চালাতে হবে।

আজকাল মানুষের অনেক অসুস্থতাকে ‘সাইকো-সোমাটিক’ (Psycho-Somatic) সমস্যা বা Disability হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শরীরের শক্তি দিয়ে যে অপরাধ করা হয় তার উৎস থাকে মনে। আবার মনের অবস্থা বা মানসিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কে অবস্থিত স্নায়ুকেন্দ্র তথা স্নায়ুবিন্যাস (Nervous System) ও দেহজ রসের নিঃসরণ। জিন, ডিএনএ, গ্ল্যান্ড, কেমিক্যাল নিঃসরণ, স্নায়ুকেন্দ্রের স্পর্শকাতরতা, স্নায়ুজগতের বিশেষ অংশগুলোর সক্রিয়-নিষ্ক্রিয় হওয়ার সামর্থ্য ও প্রবণতা দ্বারা নির্ধারিত হয় একজন ব্যক্তি সাধারণভাবে, স্বাভাবিক অবস্থায় অথবা বিশেষ মুহূর্তে, বিশেষ পরিবেশে কিরূপ আচরণ করবে। শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং সামাজিক অনুশীলন ব্যক্তির অপরাধপ্রবৃত্তি সম্পূর্ণরূপে নিরসন করার ব্যাপারে শতভাগ কার্যকর হবে না।

প্রায় দুই দশক আগে শিক্ষা সফরে আমি যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলাম। এ সময় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সৌজন্যমূলক পরিবেশে মিলিত হয়ে খোলাখুলি অনেক কিছু আলোচনা করতে পেরেছিলাম। যুক্তরাজ্যের একজন  জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে আমি প্রশ্ন রেখেছিলাম—এত সম্পদ ব্যয় করে, এত যত্ন নিয়ে শিশুদের শিক্ষা দান করা হয়, যা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ চিন্তা করতে পারে না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়ার জন্য স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা লন্ডন থেকে সিলেটে এসে কয়েক দিন অবস্থান করেছেন। সেখান থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তার ভিত্তিতে একটি শিক্ষণপদ্ধতি রচনা করেছেন। নিজেদের যথাযথভাবে প্রস্তুত করেছেন। এত যত্ন, এত শ্রম ও সম্পদ বিনিয়োগ করার পর যাদের শিক্ষা দান করা হয়, তাদের মধ্য থেকে অতি স্বল্পসংখ্যক হলেও ‘সিরিয়াল কিলার’ তৈরি হয় কিভাবে। নানা রকম বুদ্ধিদীপ্ত মিষ্টি কথা বলে অবশেষে তিনি বললেন, সমস্যাটি ‘জেনেটিক’। শিক্ষা-প্রশিক্ষণ এবং সামাজিকীকরণের মাধ্যমে এই ক্যাটাগরিভুক্ত বালক-বালিকাদের মধ্য থেকে অপরাধপ্রবণতা সম্পূর্ণ কার্যকরভাবে রোধ করা সম্ভব নয়। তবে প্রচেষ্টা চালানো যেতে পারে। প্রচেষ্টার প্রথম ধাপ হতে পারে একজন মনোচিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া।

তা না করে আমরা বিশ্লেষক, সমাজবিজ্ঞানী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, লেখক, সুধীসমাজের প্রতিনিধি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে আলোচনার আয়োজন করি। তাঁরা সবাই জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেন, সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের পরামর্শ দেন। পরিবার, সমাজ, প্রশাসন, উৎপাদনপ্রক্রিয়া ও রাষ্ট্রব্যবস্থার ত্রুটিবিচ্যুতি চিহ্নিত করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন। জটিল বাক্য রচনা করে পরামর্শ দেন। সমস্যা হচ্ছে, এর বেশির ভাগ আলোচনা ও পরামর্শ অপ্রাসঙ্গিক; সেহেতু অকার্যকর বটে। অপরাধী যদি মাদকাসক্ত বা অসুস্থ হয়, তবে তার অসুখের চিকিৎসা লাগবে, মাদকাসক্তি নিরাময়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মনোচিকিৎসক, মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ, মাদকাসক্তি নিরাময় বিশেষজ্ঞ, সমাজবিজ্ঞানী বা নৃতাত্ত্বিক সমন্বয়ে একটি বোর্ড গঠন করে অপরাধীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার আদ্যোপান্ত জেনে তার সমস্যার উেস যেতে হবে। সংগৃহীত Psycho-Somatic তথ্য বিশ্লেষণ করে অপরাধীর প্রকৃত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। অতঃপর পর্যায়ক্রমিক (Sequential) পদক্ষেপগুলো বিন্যাস করে অপরাধীর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।

চরমপন্থী বা জঙ্গির ক্ষেত্রেও উপরোক্ত মতে টিম গঠন করে ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক গঠন ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা প্রগাঢ়ভাবে (Rigorously) পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সমাধানের পথে এগোতে হবে। ব্যক্তির পারিবারিক ইতিহাস, তার জন্ম, বেড়ে ওঠা, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, বাল্যকাল এবং কৈশোরের অভিজ্ঞতা, মানস গঠন, মানসিক বিবর্তন, ব্যক্তিত্বের মৌল বৈশিষ্ট্য, বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দৃঢ়তা-নমনীয়তা, প্রভাবক শক্তি, সর্বোপরি তার ডিএনএ, স্নায়বিক কাঠামো এবং শরীর রসায়ন (Body chemistry) অনুপুঙ্খ জানার পর জীবন-মৃত্যু, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। ভারতের কিছু লেখক জনযুদ্ধের কর্মীদের (সৈনিক) সঙ্গে দিনের পর দিন অবস্থান করে তাদের মন-মানসিকতা, বিশ্বাস-অবিশ্বাস, শক্তি-সামর্থ্য, যাপিত জীবন সম্পর্কে দুর্লভ তথ্যের প্রকাশযোগ্য অংশ পাঠকের সামনে উপস্থাপন করেছেন। ফলে তাদের সঙ্গে কী পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আলাপ-আলোচনা, দর-কষাকষি করা যেতে পারে এবং দর-কষাকষি করে কত দূর পর্যন্ত যাওয়া যেতে পারে, সে সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সংস্থা বা গোষ্ঠী একটা ধারণা পেতে পারে। সরকার, শাসক দল বা উচ্চবিত্তের কোনো ভুলভ্রান্তি, নির্মমতা, শোষণ বা অন্যায়ের ফলে শোষিত, বঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত গোষ্ঠীর মধ্যে প্রতিশোধস্পৃহা জন্ম নিয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উপলব্ধি করে তার আলোকে যথাযোগ্য ব্যবস্থা নিতে পারে। বাংলাদেশে এ ধরনের লেখা বা প্রকাশনা চোখে পড়েনি। ফলে আমরা এ ধরনের গোষ্ঠীর মন-মানসিকতা এবং তাদের বেড়ে ওঠা সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাইনি।

রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে এ পদ্ধতি হুবহু একইভাবে প্রযোজ্য হবে না। প্রাসঙ্গিকও হবে না। বর্তমান পর্যায়ে রোহিঙ্গাদের মানসিক অসুস্থতা বা রোগ নির্ণয়ের প্রয়োজন নেই। ব্যক্তিক পর্যায়ে প্রত্যেককে আলাদা পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্ভব নয়, যৌক্তিকও নয়; এখানে মনোচিকিৎসকের সাহায্য নেওয়ার তেমন দরকারও নেই। মনোবিজ্ঞানীর গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও পরামর্শের দরকার রয়েছে। মনোবিজ্ঞানী তাঁর সহযোগী সমাজবিজ্ঞানী/নৃতত্ত্ববিদ এবং গবেষক-বিশ্লেষকদের নিয়ে নমুনা জরিপ বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে রোহিঙ্গা শিশু, কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ (মহিলা-পুরুষ-নির্বিশেষে) মানসিকভাবে প্রকৃতপক্ষে কী অবস্থানে রয়েছে, তা বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে নির্ণয় করতে পারেন। তাদের একাংশ হয়তো বা Survival Stage-এ রয়েছে। তাদের কাছে বেঁচে থাকাটাই পরম সন্তুষ্টির ব্যাপার। ওপারে তাদের জীবন ঝুঁকিমুক্ত নয়। বর্তমান অবস্থান থেকে সরে গিয়ে তারা অন্য কোথাও, বিশেষ করে ওপারে মিয়ানমারে যেতে চাইবে না। আরেক অংশ Subsistence Level-এ রয়েছে। তারা থাকা-খাওয়ার অবস্থা আরেকটু ভালো দেখতে চায়। সুযোগ পেলে ক্যাম্প ছেড়ে ভাগ্যান্বেষণে অন্যত্র যেতে দ্বিধাবোধ করবে না। এমনকি বেঁচে থাকার বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা পেলে মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাইবে। হয়তো মনে মনে ভাবতে পারে, পথ যখন চিনেছি তখন ওপারে অবস্থা খারাপ দেখলে সুযোগ বুঝে আবার বাংলাদেশে চলে আসব। একটু শিক্ষিত এবং অধিকতর চালাক-চতুর ব্যক্তিরা নানা ধান্দায় দিন কাটাতে চায়। তাদের মনের আসল কথা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারবে না। রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন গ্রুপের মানসিক অবস্থা বুঝে তাদের ব্যাপারে হয়তো বা আলাদা পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। এ জন্য মনোবিজ্ঞানীর নেতৃত্বে একটি উপযুক্ত টিমকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ চালাতে হবে। অন্য পেশার লোক অনুমানভিত্তিক বিশ্লেষণ দিয়ে সত্যিকার অর্থে কোনো কার্যকর সমাধান উপস্থাপন করতে পারবে না।

অনুসন্ধানশাস্ত্রের এক জটিল রহস্যময় এলাকা হচ্ছে মানুষের মন। এর গভীরতা, বিস্তৃতি, স্থিতিশীলতার অভাব এবং চিরপ্রবহমানতা একে গবেষকদের কাছে দুর্ভেদ্য অস্বচ্ছতায় ঢেকে দিয়েছে। প্রত্যেক ব্যক্তির আচার-আচরণে কিছু যৌক্তিকতা, কিছু যুক্তিহীনতা, কখনো স্বাভাবিকতা, কখনো অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়। আগে যেখানে যৌক্তিক আচরণকে একমাত্র আচরণধারা ধরে নিয়ে মডেল এবং বিশ্লেষণ নির্মাণ করা হতো, সেখানে এখন আচরণের বৈচিত্র্য স্বীকার করে নিয়ে একাধিক মডেল ও প্রক্ষেপণ তৈরি করা হচ্ছে। গত কয়েক বছরে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে এ বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এরূপ স্বীকৃতির কারণে এর আগে বিবেচিত অনেক অস্বাভাবিকতাকে এখন স্বাভাবিক আচরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বিচার-বিশ্লেষণ এখন সামষ্টিক চরিত্র থেকে সরে গিয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। প্রায় প্রত্যেকের জন্য আলাদা পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। মানব-আচরণের তীক্ষ অনুসন্ধানে তাই মনোবিজ্ঞানী ও মনোচিকিৎসকদের কদর বাড়ছে।

আমরা গতানুগতিক ধারায় চলতে অভ্যস্ত। সামাজিক সমস্যা, মানবিক সমস্যা বিশ্লেষণ ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য আমরা কিছু জনপ্রিয় বিষয় ও পেশার সুপরিচিত ব্যক্তিদের ডাকি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাঁদের অপ্রাসঙ্গিক পরামর্শ গ্রহণ করে, তা নিয়ে এগোতে থাকি। পরিণামে সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হই। সময় এসেছে অজনপ্রিয়, সাধারণ্যে কিছুটা অপরিচিত বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগানোর এবং তাঁদের নেতৃত্বে সামাজিক ও মানসিক সমস্যার উৎসমুখের প্রগাঢ় (Rigorous) এবং তীক্ষ অনুসন্ধান চালানোর। মনোজগতের গভীরে প্রোথিত সমস্যার শিকড় চিহ্নিত করে তা বের করে না আনতে পারলে সমস্যা তার নিজের জায়গায়ই থেকে যাবে। আমরা সভা, সেমিনার ও ওয়ার্কশপ করে অর্থ, শ্রম ও সময় নষ্ট করব।

লেখক : সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব ও পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top