Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ , সময়- ১০:০৩ পূর্বাহ্ন
Total Visitor:
শিরোনাম

ঝিনাইদহে লেখাপড়ার নামে জমে উঠা কোচিং বানিজ্য বন্ধ হচ্ছে না


জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

আপডেট সময়: ৪ ডিসেম্বর ২০১৭ ১১:১২ এএম:
ঝিনাইদহে লেখাপড়ার নামে জমে উঠা কোচিং বানিজ্য বন্ধ হচ্ছে না

ঝিনাইদহে প্লেগ্রুপ থেকে একেবারে সবোর্চ্চ পর্যন্ত প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টার ছাড়া অভিভাবকদের আর কোন গত্যন্তর নেই। জেলার কোচিং সেন্টারগুলো অভিভাবকদের আষ্টেপৃষ্টে বেধে ফেলেছে বলে অভিভাবকদের পক্ষ থেকেই এখন বলা হচ্ছে। ঝিনাইদহ শহরের অধিকাংশ অভিভাবকরা জানিয়েছেন, সুষ্ঠু লেখাপড়ার চর্চাকে পাশ কাটিয়ে কোচিং সেন্টারগুলো বর্তমানে কোন অভিভাবকের কাছ থেকে বেশি টাকা হাতিয়ে নেয়া যাবে। সেই ফন্দি ফিকিরেই ব্যস্ত। জানাগেছে, সরকারের কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকার কারণেই ঝিনাইদহ শহরের আনাচে কানাছে অলিতে গলিতে গড়ে উঠছে বিভিন্ন নামের কোচিং সেন্টার। লেখাপড়ার চর্চাকে ব্যবসার ফাঁদ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রায় অধিকাংশ কোচিং সেন্টার কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে প্রতারনা করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক ত্যাক্ত-বিরক্ত হয়ে সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। কোচিং সেন্টারগুলো এমনি জিনিস যেখানে ঢোকার রাস্তা আছে কিন্তু বেরুবার পথ নেই। ফলে দেখা গেছে, লক্ষ লক্ষ টাকা গচ্ছা দিয়েও সবশেষে যা ছিল তাই আছে কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থী। ঝিনাইদহ শহর এবং শহরতলীর সচেতন মহলবাসীরা জানান, যে ছাত্র মেধাবী, সে বাসায় লেখাপড়া করে অখ্যাত স্কুল থেকেই স্ট্যান্ড করে বেরিয়ে যাচ্ছে। তার জন্য কোন কোচিং এর প্রয়োজন পড়ে না। সচেতন মহলবাসীরা আরও জানান, বর্তমান সৃজনশীল প্রশ্ন পত্রের দোহাই দিয়ে কোচিং সেন্টারের মালিকরা তাদের অর্থনৈতিক ফায়দা লুটার  জন্য কোমলমতী ছাত্র-ছাত্রীর মগজে ঢুকিয়ে দিচ্ছে যে, লেখাপড়া বর্তমানে কঠিন হয়ে গেছে এজন্য কোচিং সেন্টারে ভর্তি হওয়া অতি আবশ্যক। কিন্তু সচেতন মহলের ধারণা, সৃজনশীল লেখাপড়ার বিষয়বস্তু কিংবা প্রশ্নপত্র যদি হার্ডই হতো তাহলে যারা শিক্ষা নীতির মাঝে সৃজনশীল প্রশ্ন পত্র ঢুকিয়ে দিয়েছেন তারা নিশ্চয়ই বেকুব নন।

এছাড়া সৃজনশীল প্রশ্ন পত্রের  কিংবা বিষয়বস্তুর জন্য শিক্ষার্থীদের স্কুল রয়েছে। সেই সরকারি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকরাও নিশ্চয়ই বেকুব নন। সচেতন মহল দাবি করে জানান, ঝিনাইদহের কোচিং সেন্টারগুলো ফায়দা লুটার এটি একটি প্রক্রিয়া। যাতে অভিভাবকরা কোন পথ না পেয়ে কাঁচা পয়সা ঢেলে তাদের সন্তানদের সারাদিনই কোচিং সেন্টারে বসিয়ে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। একটি সূত্র উল্লেখ করেছে, ঝিনাইদহের অধিকাংশ সরকারী-বেসরকারী স্কুলের শিক্ষকরা নিজেরাই একেকটি কোচিং সেন্টার খুলে বসেছেন সেই সাথে বাধ্যতামূলক ঘোষনা করে দিয়েছে, তাদের কোচিং সেন্টারে ছাত্র ভর্তি করাতে হবে অন্যথাই স্কুল পরিক্ষায়ই নম্বর কম দিয়ে ফেইল করিয়ে দেয়া হবে। কি ভয়ঙ্কর কথা! অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, কোচিং সেন্টারের সাথে জড়িতরা সবাই কোন না কোন স্কুল কলেজের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে আছে। তারা হয় কোন সরকারী নয়তো বেসরকারী স্কুল কলেজের শিক্ষক। ফলে ঝিনাইদহ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক থেকে সমস্ত গলি-উপগলিতে নাম কা ওয়াস্তে শোভা পাচ্ছে শুধু কোচিং সেন্টারের সাইনবোর্ড। কারা এর শিক্ষক? কারা এর ছাত্র? কোন কিছুই বোধগম্য নয়। দেখা গেছে, কোচিং সেন্টারের সাথে জড়িয়ে গিয়ে এই শিক্ষকরা এক সময় স্কুলই খুলে বসেছেন। এর কোন রাজস্ব কর দিতে হয় কি না সেটাও অজ্ঞাত। একসময় ডাক্তারদের পয়সা ওয়ালা বলে সম্বোধন করা হয় এখন ডাক্তারদের পাশাপাশি কোচিং সেন্টারের মালিকদের পয়সা ওয়ালা বলে অভিহিত করা হচ্ছে যা বর্তমানে জেলা জুড়ে ট্যক অব টাউন বলে পরিচিতি পাচ্ছেন।

জানাগেছে, কোচিং সেন্টারের মালিকরা শহরের এবং শহরতলী এলাকা গুলোতে জমির ব্যবসা শুরু করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ডেভোলোপিং কোম্পানীর সাথে শেয়ারে ব্যবসা করে যাচ্ছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বছরশেষে কোচিং ব্যবসার লভ্যাংশ কোটি টাকার উর্ধ্বে ছাড়িয়ে যায়। অনুসন্ধান করে আরো জানা গেছে, কিছু দিন আগেও ঝিনাইদহের সরকারী ও বেসরকারী স্কুলের শিক্ষকরা সম্মিলিতভাবে নিজেরাই একটি কোচিং সেন্টার খুলেছেন এবং তাদের স্কুলের পড়য়া ছাত্র-ছাত্রীদের তাদের কোচিং সেন্টারে ভর্তি হবার জন্য উদ্ধুদ্ধ করছে। আরো জানা গেছে, ঝিনাইদহ শহরের অগনিত কোচিং সেন্টারের কারনে সরকারী বেসরকারী নামকরা স্কুলগুলো ক্রমেই অন্তঃসার হয়ে পড়ছে। একদিকে স্কুল অন্যদিকে কোচিং সেন্টারের চাপ সহ্য করতে না পেরে প্রায় শিক্ষার্থীরাই মানসিক অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এদিকে পাড়ায় মহল্লায় প্রায় প্রতিদিন একটি করে কোচিং সেন্টার তৈরী হবার ফলে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া বর্ণনা করে এলাকাবাসী জানান, ছোট ছোট খুপড়ি ঘরের মধ্যে অবর্ণনীয় ভাবে গাদাগাদি করে বসে সেখানে শিক্ষার্থীরা কি লেখা পড়া শিখছে। কোচিং সেন্টারের অধিকাংশ শিক্ষকদের পাঠদান পদ্বতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক অভিভাবক। তারা জানান, রাতেও কোচিং করানো হচ্ছে। এতে কি সবাই একযোগে শিক্ষিত হয়ে পড়ছে? যা নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা জুড়ে ব্যাপক ভাবে আলোচিত হচ্ছে। এদিকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সচেতন মহল জানান, মন্ত্রণালয় কর্তৃক ছাত্র-ছাত্রীদের মেধা বাঁচাতে ঝিনাইদহের কোচিং সেন্টারগুলো যথাদ্রুত বন্ধ করে সিলগালা করা অত্যন্ত জরুরী।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top