Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ , সময়- ১০:১৪ পূর্বাহ্ন
Total Visitor:
শিরোনাম

সরকারের পূর্ণ মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি

আগাম ভোটকে সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠছে সারাদেশ


জাতীয় ডেস্ক

আপডেট সময়: ৬ ডিসেম্বর ২০১৭ ৮:১৩ এএম:
আগাম ভোটকে সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠছে সারাদেশ

বহুল আলোচিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী ক্ষমতসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের পূর্ণ মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি। তবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে যে, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তিন মাসের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে হবে। সে হিসেবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনো এক বছরের মতো সময় বাকি। তবে নির্বাচনের প্রায় এক বছর সময় বাকি থাকলেও আগাম ভোটকে সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠছে সারাদেশ। আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি জনমনেও লেগেছে আগাম নির্বাচনের হওয়া। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি হতে আওয়ামী লীগের নবীন-প্রবীণ, ব্যবসায়ী, আইনজীবী ও উচ্চ শিক্ষিত প্রার্থীরা মাঠ-ঘাট, কাদা-মাটি চষে বেড়াচ্ছেন। 

নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনী শোডাউন দিচ্ছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তৃণমূলে মেলবন্ধন সৃষ্টি করতে ‘উঠান বৈঠক’ করছেন অনেকে। আবার কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষণে মেহনতি মানুষের সাথে মাটি কাটতে, দিন মজুরের সঙ্গে একসাথে বসে খেতেও দ্বিধাবোধ করছেন না। এককথায় বলতে গেলে যেকোনো মূল্যে আগামী নির্বাচনে নৌকার মাঝি হয়ে এমপি হতে চান সবাই।

জানা গেছে, বিভিন্ন আসনের বর্তমান ও সাবেক এমপি-মন্ত্রীদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নবীন-প্রবীণ নেতাদের আগাম নির্বাচনী প্রচারণায় সরব হয়ে উঠেছে ‘একাদশ নির্বাচনী’ মাঠ। আর তাদের প্রচারণা আদলে চারপাশে গুঞ্জন চলছে আগাম নির্বাচনের। দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সর্বশেষ ২০তম জাতীয় সম্মেলনের পর থেকে নেতাকর্মীদের মাঝে নির্বাচনের আমেজ চলছে। আগামী নির্বাচনকে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে দেশবাসীকে উপহার দিতে চায় আওয়ামী লীগ। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দলটির হাইকমান্ড সম্ভাব্য নেতাদের তৃনমূলে জনপ্রিয় হওয়ার জন্য নিদের্শনা দিলে, সম্ভাব্য প্রার্থীরা অবিরামভাবে তৃণমূলে কাজ করে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছড়িয়ে দিতে তরুণদের মাঝে ব্যাপক প্রচারণা করছেন তারা। কিছু এলাকায় জাতীয় পার্টি ও জাসদের বর্তমান সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি দলের অন্য নেতারাও মাঠে শোডাউন করছেন।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। তবে এ বিষয়ে দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নেবেন। আর বিভিন্ন ঘরোয়া অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এখন খুবই আত্মবিশ্বাসী। এ সরকার যে সকল উন্নয়নমূলক কাজ করেছে, এবং যে সকল কাজ চলমান রয়েছে তার ধারাবাহিকতা রাখতে হলে অবশ্যই জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে। যে কোন সময় নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগই পুনরায় ক্ষমতায় আসবে বলে জানান তারা। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও নিজের অনুসারীদের আবার আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় আসবে এমন বার্তা দিয়ে সরগরম রাখছে এবং প্রচারণায় উন্নয়নের বার্তা দিচ্ছে। সে সুবাদে রাজনীতিতে বইতে শুরু করেছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যেও আগামী নির্বাচন নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা। 

চায়ের কাপে চুমক দিয়েই সরগরম হচ্ছে একটি কথা হয়তো আওয়ামী লীগ আগামী মে বা জুনে দেশে আগাম জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে চমক দেখাতে পারে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, দলের জাতীয় সম্মেলনে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের নির্বাচনমুখী হওয়ার নির্দেশ দেয়ার পরই কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠ প্রস্তুত করতে তৎপরতা শুরু করেছেন। এরপরই নতুন কমিটির কার্যনির্বাহী বৈঠকসহ একাধিক বৈঠকে দলীয় সভাপতি নির্বাচনী ইশতেহার প্রস্তুতকরণ ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য জোরালোভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। 

দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের পর থেকেই মূলত নেতাকর্মীরা নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছেন। নির্বাচন কবে হবে এ বিষয়ে নিদিষ্ট কোনো বার্তা না দিলেও আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন, এটাই যথেষ্ট মনে করে কেন্দ্রীয় নেতা, বর্তমান ও সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠ তৈরি করার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে নেতাকর্মীসহ দলের জনপ্রতিধিনিদেরও সতর্ক বার্তা ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনোভাবেই বিতর্কিত কর্মকা- বরদাস্ত করবে না দলটি, এ বিষয়েও কড়া হুঁশিয়ারিও দেয়া হয়েছে হাইকমান্ড থেকে। এ দিকে জাতীয়তাবাদী বিএনপি বরাবরই বর্তমান সংসদকে অবৈধ বলে ভেঙ্গে দিয়ে আগাম নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে আসছে। আওয়ামী লীগ নেতারা তাদের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলে আসছে, বিএনপি ট্রেন মিস করেছে, ট্রেন আবার নির্দিষ্ট সময় আসবে, তখন যেন বিএনপি নির্বাচনের সেই ট্রেনে ওঠে। 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ.ম. রেজাউল করিম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ মাথা উঁচু করেছে বিশ্বের সামনে। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই ঠিক করবেন দেশে আগাম নির্বাচন হবে কি না। তবে আওয়ামী লীগ জনগণের কল্যাণে রাজনীতি করে, আওয়ামী লীগ সব-সময় নির্বাচনমুখী দল। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল বলেন, দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে উন্নয়নের বিপ্লব দেখেছে, আর এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে জনগণ অবশ্যই নৌকায় ভোট দেবে।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top