Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বুধবার, ২২ আগস্ট ২০১৮ , সময়- ৭:০৪ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
অটলবিহারী বাজপেয়ীর অবস্থা সঙ্কটজনক আলোর গতিতে বাংলার আকাশ ছাড়িয়ে বহির্বিশ্বে বঙ্গবন্ধুর নাম গভীর শোক আর শ্রদ্ধায় জাতি স্মরণ করলো বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশ সরকার গণগ্রেপ্তার চালাচ্ছে - এইচআরডব্লিউ : বিশ্লেষক প্রতিক্রিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ছিল দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক চক্র : সেলিম জাতীয় নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে : কামরুল নির্বাচনে বিশ্বাস করি, ভোটের লড়াই করে ক্ষমতায় যেতে চাই : মোহাম্মদ নাসিম কাবুলে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় ৪৮ জন নিহত এখন পর্যন্ত ৪০ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু  বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সারওয়ারকে শেষ বিদায় জানালেন বানারীপাড়াবাসী

মহানবি (সা.) এর আগমনের তাৎপর্য এবং তার গুণাবলী 


মাওলানা মো: রায়হানূর রহমান 

আপডেট সময়: ৮ ডিসেম্বর ২০১৭ ৬:১১ পিএম:
মহানবি (সা.) এর আগমনের তাৎপর্য এবং তার গুণাবলী 

পবিত্র কুরআনে মহানবি (সা) এর আগমনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, ‘আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের উপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকেই তাদের জন্য রাসূল প্রেরণ করেছেন। যিনি তাদেরকে আল্লাহর বাণিসমূহ তিলাওয়াত করে শোনান, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদেরকে শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমত (প্রজ্ঞা)।’ (সূরা আলে-ইমরানঃ ১৬৪)। কিয়ামত পর্যন্ত যত লোক আসবে তিনি সকলের নবি। ‘এই রাসূল প্রেরিত হয়েছেন অন্য আরো সেসব লোকদের জন্য যারা এখনও তাদের সাথে মিলিত হয়নি।

’(সূরা আল জুমআঃ ৩)। ‘বলুন, হে লোক সকল ! আমি তোমাদের সকলের প্রতি রাসূল হিসেবে প্রেরিত হয়েছি।’ (সূরা আ’রাফঃ ১৫৮)। সকল মতবাদ-মতাদর্শের উপর দীন ইসলামের বিজয় আনয়ন করা- ‘তিনি সেই সত্তা যিনি তার রাসূলকে প্রেরণ করেছেন সত্য দীন সহকারে যেন তিনি সেটাকে সমস্ত দীনের উপর বিজয়ী করেন।’ (সূরা ফাতহঃ ২৮+ সূরা সফঃ ৯)। ‘আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের প্রতি রাসূল প্রেরণ করেছি এই নির্দেশনা দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করবে এবং তাগূতকে বর্জন করবে।’ (সূরা আন-নাহলঃ ৩৬) ।
 
মানুষকে আল্লাহর পথে আহবান করাঃ ‘হে নবি আমি আপনাকে সাক্ষী দাতা, সুসংবাদদাতা এবং সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি এবং আল্লাহর আদেশক্রমে তার দিকে আহবায়করূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপরূপে প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আহযাবঃ ৪৫-৪৬)। ‘আপনি উপদেশ প্রদান করুন, আপনি তো কেবল উপদেশ দানকারী,তাদের উপর জবরদস্তকারী নন।’ (সূরা আল গাশিয়াহঃ ২১-২২)। ‘সেই নবির গুণ এই যে, তিনি তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ দেন এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করেন, আর পবিত্র বস্তুগুলিকে তাদের জন্য হালাল করেন এবং অপবিত্র বস্তুগুলিকে তাদের জন্য হারাম করেন। আর তাদের থেকে কঠিন আদেশসমূহ (যা পূর্ববর্তী শরিয়তে ছিল) অপসারিত করেন।’ (সূরা আ’রাফঃ ১৫৭) ।

মহানবি (সা) এর প্রতি বিশ্বাসের তাৎপর্যঃ তিনি সর্বশেষ নবি ও রাসূলঃ ‘মুহাম্মাদ তোমাদের কোন পুরুষ লোকের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং সর্বশেষ নবি । আল্লাহ সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত।’ (সূরা আহযাবঃ ৪০) । মহানবি (সা) ছিলেন মানুষ, ফেরেশতা বা জ্বিন ননঃ ‘বলুন, আমি তোমাদের মতোই একজন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, নিশ্চয়ই তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ।’ (সূরা আল-কাহফঃ ১১০)। ‘তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকেই এসেছেন আল্লাহর রাসূল। তোমাদের দুঃখ-কষ্ট তার পক্ষে দুঃসহ। তিনি তোমাদের প্রতি মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি হশীল ও দয়াময় ।’ (সূরা আত তাওবাঃ ১২৮)।
]
কারো ভাল-মন্দ করার ক্ষমতা কেবল আল্লাহরই আছে, নবি-রাসূল বা অন্য কারো নেইঃ ‘আপনি বলে দিন আমি নিজে আমার নিজের জন্য কোন উপকারের ক্ষমতাও রাখি না এবং কোন অপকার করার ক্ষমতাও রাখি না, তবে যা আল্লাহ ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত। আর আমি যদি গায়েব জানতাম তবে তো বহুল পরিমাণে কল্যাণ সঞ্চয় করতে পারতাম এবং কোন ক্ষতিই আমাকে স্পর্শ করতে পারতো না, আমি তো কেবল ভীতি প্রদর্শনকারী এবং সুসংবাদ প্রদানকারী সেসব লোকদের জন্য যারা ঈমান রাখে।’ (সূরা আ’রাফঃ ১৮৮)। নবি (সা) গায়েব জানতেন নাঃ ‘আমি বলিনা যে আমার কাছে আল্লাহর ধনভান্ডার আছে, আর আমি গায়েবও জানি না। আমি এটাও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা।’(সূরা হূদঃ ৩১)। তবে তিনি গায়েবের (যেমন: জান্নাত-জাহান্নাম ইত্যাদি) বিষয়ে যা কিছু বলেছেন, সেটা গায়েবের খবর মাত্র, যা আল্লাহ পাক ওহির মাধ্যমে তাকে জানিয়ে দিয়েছেন। ‘এগুলো হচ্ছে গায়েবের খবর যা আমি আপনার কাছে প্রত্যাদেশ করেছি।’ (সূরা আলে-ইমরানঃ ৪৪) । ‘আপনি জানতেন না কিতাব কী আর ঈমান কী ?

 বরং আমি এটাকে আলোকবর্তিকা বানিয়েছি, যার মধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করি।’ (সূরা আশ শূরাঃ ৫২)। ‘বলুন আমি তো কেবল তারই অনুসরণ করি যা আমার কাছে আমার পালনকর্তার পক্ষ থেকে প্রত্যাদেশ হয়।’ (সূরা আ’রাফঃ ২০৩) । ‘আর তিনি তো নিজের থেকে কিছু বলেন না, যা তার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় কেবল সেটাই বলেন।’ (সূরা আন-নাজমঃ ৩-৪)। হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসূল (সা) বলেছেন : আমি তো একজন মানুষ। দ্বীন সম্পর্কে যখন তোমাদের আমি কোন আদেশ দেই, তখন তোমরা তা পালন করবে, আর যখন কোন পার্থিব কথা আমি আমার মতানুসারে বলি, তখন তো আমি একজন মানুষ। (মুসলিমঃ ৫৯১৫)। অপর বর্ণনায়, রাসূল (সা) বললেন : ‘তোমাদের দুনিয়াবী বিষয়ে নিজেরাই ভালো জানো।’ (মুসলিমঃ ৫৯১৬)। আয়েশা রাঃ সহ অন্তত দশজন সাহাবী থেকে বর্ণিত। কিয়ামতের দিন কিছু লোককে রাসূল (সা) এর হাউজে কাওসারের কাছে যেতে বাঁধা দেয়া হবে। রাসূল (সা) তাদের চিনতে পেরে বলবেন, এরা তো আমারই উম্মত। তখন তাকে বলা হবে : আপনি জানেন না, আপনার পরে তারা কী আমল করেছিল ? তিনি বলবেন: দূর হয়ে যাও, দূর হয়ে যাও, যারা আমার পরে দীনকে বিকৃত করেছ।’ (মুসলিমঃ ৫৭৬৮)। সুতরাং রাসূল (সা) গায়েব জানেন বা তিনি হাজির-নাজির (উপস্থিত এবং সবই দেখেন) এরূপ ধারণা করা ঠিক নয়।

রাসূল (সা) এর চারিত্রিক গুণাবলীঃ ‘আর অবশ্যই আপনি মহান চরিত্রের উপর প্রতিষ্ঠিত।’ (সূরা ক্বলমঃ ৫)। ‘তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যেই রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।’ (সূরা আহযাবঃ ২১)। আনাস ইবনে মালিক রাঃ বলেন : রাসূল (সা) ছিলেন সকল মানুষের মধ্যে সুন্দরতম, সর্বাধিক দানশীল এবং সর্বশ্রেষ্ঠ বীর (সাহসী)। (মুসলিমঃ ৫৮০১)। আমি দশ বছর রাসূল (সা) এর খিদমত করেছি। আল্লাহর কসম! তিনি আমাকে কখনো উহ্ শব্দটুকুও বলেননি এবং কোন সময় আমাকে এটা করনি কেন, এটা করলে কেন এভাবে বলেননি।’ (মুসলিমঃ ৫৮০৫)। ‘রাসূল (সা) মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। (মুসলিমঃ ৫৮১০)। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা) বলেন: রাসূল (সা) এর কাছে কেউ কিছু চাইলে তিনি কখনো ‘না’ বলতেন না। (মুসলিমঃ ৫৮১১)। আবু সাঈদ খুদরী (রা) বলেন, রাসূল (সা) পর্দানসীন কুমারীর চেয়েও বেশী লজ্জাশীল ছিলেন। আর তিনি কোন কিছু অপছন্দ করলে আমরা তার চেহারা দেখে অনুভব করতাম। (মুসলিমঃ ৫৮২৫)। আয়েশা (রা) বলেন: যখন রাসূল (সা) কে দু’টো বিষয়ের কোন একটি গ্রহণ করার স্বাধীনতা দেয়া হতো তখন তিনি অধিকতর সহজটি গ্রহণ করতেন, যদি না তা পাপের কাজ হতো। আর যদি তা পাপের কাজ হতো তবে তিনি তা থেকে সকলের চেয়ে অধিক দূরে থাকতেন। তিনি নিজের জন্য কোনদিন প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি, তবে মহীয়ান ও গরীয়ান আল্লাহর (বিধান লংঘন করে) মর্যাদা ক্ষুন্ন করা হলে (তার প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন)। (মুসলিমঃ ৫৮৩৮)। রাসূল (সা) নিজ হাতে কোনদিন কাউকে মারেননি, কোন স্ত্রীলোককেও না, কোন খাদিমকেও না, আল্লাহর পথে জিহাদ ব্যতীত। আর যে তাকে নির্যাতন করেছে, নিপীড়ন করেছে, তিনি তার থেকেও প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। (মুসলিমঃ ৫৮৪২)। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) কখনো অশালীন কথা বলতেন না। (বুখারিঃ ৫৮০০)।
 
গুণবাচক নামসমূহঃ জুবাইর ইবনে মুত্বঈম রাঃ সূত্রে। রাসূল (সা) বলেন, আমি মুহাম্মাদ (প্রশংসিত), আমি আহমাদ (অধিক প্রশংসাকারী), আমি আল-মাহী (বিলুপ্তকারী) আমার মাধ্যমে কুফরকে বিলুপ্ত করা হবে। আমি আল-হাশির (একত্রকারী) আমার পিছনে লোকদেরকে একত্র (সমবেত) করা হবে। আমি আল-আকিব (সর্বশেষ) আমি ঐ ব্যক্তি যার পরে আর কোন নবী নেই। আল্লাহ আমার নাম রেখেছেন রাঊফ (হময়) ও রাহীম (দয়াবান) । (মুসলিমঃ ৫৮৯৫)।

রাসূল (সা)-এর ইবাদত বন্দেগীঃ ‘মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং তার সঙ্গিসাথীরা কাফেরদের প্রতি অতিশয় কঠোর এবং পরস্পরের প্রতি অতিশয় দয়াশীল। তুমি যখন তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবে দেখবে যে, তারা কখনো রুকু করছে এবং কখনো সিজদা করছে। তারা আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ এবং সন্তুষ্টি কামনা করে। তাদের চেহারায় নিদর্শনাবলী দীপ্তিমান রয়েছে তাদের সিজদার চিহ্নসমূহ।’ (সূরা ফাতহঃ ২৯)।  আয়েশা (রাঃ)  বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) যখন সালাত আদায় করতেন তখন এমনভাবে কিয়াম করতেন যে, তার পদযুগল ফুলে ফেটে যেত। এ দেখে আমি তাকে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এরূপ করছেন অথচ আপনার পূর্বাপর সমূদয় বিচ্যুতি ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। তিনি বললেন, হে আয়েশা! আমি কি কৃতজ্ঞ বান্দা হব না ? (বুখারিঃ ১১১৮, মুসলিমঃ ৬৮৬৫)।

আমাদের করনীয়ঃ আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর রাসূল তোমাদেরকে যা আদেশ করেন তোমরা তা পালন কর এবং তিনি যা নিষেধ করেন তোমরা তা বর্জন কর।’ (সূরা হাশঃ৭)। ‘বলুন, যদি তোমরা আল্লাহর ভালবাসা পেতে চাও তাহলে আমার (রাসুলের) অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন, আর তোমাদের পাপসমূহ মার্জনা করবেন, আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু ।’ (সূরা আলে-ইমরানঃ ৩১)। ‘অতএব, যারা এই নবির প্রতি ঈমান আনয়ন করে এবং তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করে এবং সেই নূরের (কুরআনের) অনুসরণ করে যা তার প্রতি প্রেরণ করা হয়েছে, এরূপ লোকেরাই পূর্ণ সফলকাম হবে।’ (সূরা আ’রাফ- ১৫৭)। ‘রাসূল (সা) বলেছেন : আমি তোমাদের যা থেকে নিষেধ করেছি তোমরা তা থেকে বিরত থাক এবং যা তোমাদের আদেশ করেছি, তা তোমাদের সাধ্য অনুসারে পালন কর। (মুসলিমঃ ৫৯০২)। আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) কে সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ঐ দিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং ওই দিন আমার উপর কোরআন নাযিল হয়েছে (মুসলিমঃ ২৬২১)। রাসূল (সা) এর আগমন উপলক্ষে কিছু করতে চাইলে সোমবারে রোজা রাখা যেতে পারে। আর জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই কেবল সত্যিকারের মুমিন হওয়া যাবে ।

লেখকঃ সহকারী শিক্ষক, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন  
পাবলিক স্কুল ও কলেজ , বগুড়া।
                             

   


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top