Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮ , সময়- ৯:২১ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
অটলবিহারী বাজপেয়ীর অবস্থা সঙ্কটজনক আলোর গতিতে বাংলার আকাশ ছাড়িয়ে বহির্বিশ্বে বঙ্গবন্ধুর নাম গভীর শোক আর শ্রদ্ধায় জাতি স্মরণ করলো বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশ সরকার গণগ্রেপ্তার চালাচ্ছে - এইচআরডব্লিউ : বিশ্লেষক প্রতিক্রিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ছিল দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক চক্র : সেলিম জাতীয় নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে : কামরুল নির্বাচনে বিশ্বাস করি, ভোটের লড়াই করে ক্ষমতায় যেতে চাই : মোহাম্মদ নাসিম কাবুলে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় ৪৮ জন নিহত এখন পর্যন্ত ৪০ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু  বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সারওয়ারকে শেষ বিদায় জানালেন বানারীপাড়াবাসী

হারিয়ে যাচ্ছে খেজুর গাছ বাজারে নেই খেজুরের রস


মিজানুর রহমান, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

আপডেট সময়: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭ ১০:৪৯ এএম:
হারিয়ে যাচ্ছে খেজুর গাছ বাজারে নেই খেজুরের রস

ময়মনসিংহের ফুলপুরে আজ হারাতে বসেছে গ্রাম বাংলার চিরচেনা খেজুর গাছের রস এবং এই রস কেন্দ্রিক নানা লোকাচার এবং সংস্কৃতি। খেজুর গাছ বিলুপ্তি হওয়ার কারনে খেজুরের রস বিক্রেতা ও গাছি সহ আরো যারা এ ধরনের মৌসুমী পেশার সঙ্গে জড়িত ছিল তারা আজ বাধ্য হয়ে অন্য পেশা বেছে নিচ্ছে। আমাদের এই ষড়ঋতুর দেশে বছরের এক এক সময়ে প্রতিটি ঋতুতে ভিন্ন এক রুপ ধারণ করে। কালের পরিক্রমায় প্রতি বছর হাজির হয় শীত কাল। সময়ের পরিবর্তনে ও সচেতনাতার অভাবে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস। উপজেলার গ্রামগুলো মাঠে আর মেঠোপথের ধারে কোথাও কোথাও দু’একটি খেজুর গাছ দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হিসাবে। কয়েক বছর আগেও দেখা যেত গ্রামগুলোর আনাছে কানাছে সারি সারি খেজুর গাছ। নিকট অতীতেও শীতের শুরুতেই গ্রামগঞ্জের একশ্রেনির মানুষ ব্যস্ত থাকতো ‘গাছ ছিলানো’ (খেজুর গাছ এক বিশেষ ভাবে কেটে রস প্রাপ্তির উপযোগী করা) নিয়ে। খেজুর গাছ কাটার কাজে নিয়োজিতদের আঞ্চলিক ভাষায় বলা হয় ‘গাছি’। গাছিরা দিনের শুরু থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধারাল দা, মুগির প্রভৃতি একটি লম্বা ঝুড়িতে করে বেধে নিয়ে যেত খেজুর গাছ কাটার জন্য। ঘুরে বেড়াতো এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি। খুব ভোরে রস সংগ্রহ করে খেজুরের গুঁড় তৈরীর জন্য একত্রিত করত। চোখ ভরে যেত খেজুরগাছের সারি আর রসের হাঁড়ি দেখে। গাছিদের রসের ভাঁড় কাঁধে নিয়ে ছুটে চলার দৃশ্য ছিল মনোমুগ্ধকর। কে কার আগে খেজুর গাছ কেটে প্রকৃতির সেরা উপহার খেজুরের রস সংগ্রহ করতে পারে সেটা নিয়ে ছিল এক আনন্দময় প্রতিযোগিতা। নানাভাবে জড়িত চাষীর জীবন সংগ্রামে বহু কষ্টের মাঝে অনেক প্রাপ্তিই যুক্ত হতো বাংলার এই জনপ্রিয় তরুবৃক্ষ খেজুর গাছের মাধ্যমে। ভূমিহীন চাষী, প্রান্তিক চাষী বা দারিদ্রক্লিষ্ট মানুষের জন্য এই সময়টা  ছিল অনেক আনন্দদায়ক। সে সময়ে খেজুরের রস দিয়ে তৈরী করা হতো পাটালীগুঁড়, মিঠাই সহ নানা রকমের মজার মজার খাবার।

শীতের খেজুর গাছের রস হতে যে গুড়ে তৈরি তা দিয়ে শিরনি, দুধের পিঠা, পুলিপিঠা, সেমাই পিঠা আরো কত কিযে পিঠা তৈরী হতো তা না খেলে একেবারে জীবনই বৃথা ভাবতো। পাটালি গুড় দিয়ে মুড়ির মোয়া খাওয়া ও ঝোলা গুড়ের সহিত মচমচে মুড়ি খাওয়ার শুধুই গ্রামীণ মানুষের কাছেই জনপ্রিয় ছিল। শখ করে অনেক চাষিরা চা বানিয়ে খেত খেজুর গুড় দিয়ে। এক দশক আগেও গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে খেজুরের রস বিক্রি একটা সাধারণ ব্যাপার ছিল, আর এখন বাজারে পর্যন্ত রসের দেখা মেলেই না। অন্য অঞ্চল থেকে খেজুরের রস বিক্রি করতে আসলেও চাহিদা বেশি থাকায় দামও বেশি। ছোট একটি রসের হাড়ির দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। উপজেলায় খেজুরের রস চোখেই দেখা যায় না বলা চলে। 

জ্বালানি কাঠ ও কয়লা আপেক্ষা খেজুর গাছ সস্তা দামে পাওয়া যায় বলে ইট ভাটায় এর চাহিদা বেশি সেজন্যই প্রায় খেজুরের গাছই কেঁটে ফেলা হয়েছে। কেননা, খেজুরের গাছে পোড়ানো ইটের রং গাঢ় হয়। খেজুর গাছ সংকটের কারণে অতীত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর খেজুরের রস পাওয়া যাবে না বলে জানান গাছি সোবহান মৃধা। তিনি বলেন, ইট ভাটার কারণে অনেক খেজুর গাছ কাটা পরেছে। তাছাড়া যেসকল খেজুর গাছ রয়েছে তাতে যে রস পাওয়া যায় তাতে চাহিদা ১ শতাংশ হবে বলে মনে হয় না। গ্রামগুলোতে জীব বৈচিত্রের সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক পরিবেশের উন্নয়নে বন বিভাগের সচেতনতার অভাবে এসব অঞ্চলে খেজুর গাছ অনেকটা বিলুপ্তির পথে। এক সময় খেজুর গাছের রস ও তার গুড়ের খ্যাতি থাকলেও কালের বিবর্তনে সম্পুর্ন হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার এ ঐতিহ্য।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top