Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮ , সময়- ২:৩৮ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
অটলবিহারী বাজপেয়ীর অবস্থা সঙ্কটজনক আলোর গতিতে বাংলার আকাশ ছাড়িয়ে বহির্বিশ্বে বঙ্গবন্ধুর নাম গভীর শোক আর শ্রদ্ধায় জাতি স্মরণ করলো বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশ সরকার গণগ্রেপ্তার চালাচ্ছে - এইচআরডব্লিউ : বিশ্লেষক প্রতিক্রিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ছিল দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক চক্র : সেলিম জাতীয় নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে : কামরুল নির্বাচনে বিশ্বাস করি, ভোটের লড়াই করে ক্ষমতায় যেতে চাই : মোহাম্মদ নাসিম কাবুলে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় ৪৮ জন নিহত এখন পর্যন্ত ৪০ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু  বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সারওয়ারকে শেষ বিদায় জানালেন বানারীপাড়াবাসী

ঝিনাইদহে অবৈধ মাইক্রো ক্রেডিটের জালে জড়িয়ে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ


ঝিনাইদহ সংবাদদাতা

আপডেট সময়: ১ জানুয়ারী ২০১৮ ৯:২০ এএম:
ঝিনাইদহে অবৈধ মাইক্রো ক্রেডিটের জালে জড়িয়ে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ

ঝিনাইদহে অবৈধ মাইক্রোক্রেডিটের জালে জড়িয়ে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ। এনজিও কিম্বা সমিতির বৈদেশিক সহায়তা কমে আসায় তারা ব্যাংক থেকে ঋন নিয়ে চড়া সুদে ব্যবসা শুরু করেছে। দারিদ্রবিমোচনের কথা বলে এনজিও ও সমিতির নামে গঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো ঝিনাইদহে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে ৩০ থেকে ৩৬ শতাংশ সুদ গ্রহণ করে সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করছে। যাতে নিয়মনীতির কোন বালাই নেই। এতে প্রান্তিক পারিবারগুলো আরও নিঃস্ব হচ্ছে। এদিকে এই খাত থেকে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। 

এ সকল সমিতি বা এনজিও এখন প্রায় শত কোটি টাকার পুঁজি নিয়ে মাঠে কাজ করছে। এ সকল সংস্থার ৭০ শতাংশেরই এনজিও ব্যুরো বা সমাজ সেবা অধিদফতরের অনুমোদন নেই। কোন কোন এনজিও বা সিমিতি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হচ্ছে।

সূত্রমতে, আয় বৈষম্য থাকা স্বত্ত্বেও বাংলাদেশ এখন ঘোষিত মধ্যম আয়ের দেশ। ফলে এনজিওগুলোকে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির জন্য দাতারা বৈদেশিক সাহায্য সহযোগিতা দিচ্ছে না। এক সময় দাতাসংস্থার সহায়তার উপর নির্ভর করে ঝিনাইদহে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে ওঠে এনজিও। এরা এখন নিরুপায় হয়ে ঋণ কার্যক্রম জোরদার করছে। যা অতীতের মহাজন জোতদারের মতই। 

ঝিনাইদহ শহরের আনাচে কানাচে সুদ ভিত্তিক এনজিও এবং সমিতি হতদরিদ্র মানুষের উপর জালের মতো প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। সামাজিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য দূরীকরনের কথা বলে এসব সমিতি সাধারণ গ্রাহকদের চড়া সুদ দেয়ার কথা বলে অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে। আবার সমিতিগুলো ঋন দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যবসায়ী গৃহবধূসহ তৃনমুল পর্যায়ে সঞ্চয় সংগ্রহ এবং এক পর্যায়ে ক্ষুদ্র ঋণ থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক ঋণ প্রথা চালু করে। সহজ শর্তে ঋণ পাবার আশায় সাধারণ মানুষ এ সকল সংস্থার প্রতি ঝুঁকে পড়ে। দৈনিক, সাপ্তাহিক বা পাক্ষিক কিস্তিতে ঋণ আদায় শুরু হলে গড় হিসাবে দেখা যায় সুদের হার ৩০% থেকে ৪০%। 

প্রথমদিকে বড় বড় বাজারের ব্যবসায়ীদের ঘিরে এসব সমিতির কার্যক্রম চালু হয়। সমিতি প্রত্যেক সদস্যের কাছ থেকে দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং মাসে দশ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্কের আমানত সংগ্রহ করে চলেছে। মেয়াদ শেষে আমানতকারীকে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার কথা বলা হয়। 

১৯৭৮ সাল থেকে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ তথা ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়, সিডর, আইলা, মহসেনসহ জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়ের পর ত্রাণ সহায়তায় এগিয়ে এসেছে এনজিওগুলো। সরকারের বেশকিছু জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির সহায়তা দিতেও এনজিওগুলো কাজ করেছে তৃণমুল পর্যায়ে। এছাড়া স্বাস্থ্য স্যানিটেশন, সোস্যাল মোবিলাইজেশন, পরিবার পরিকল্পনা, মানবাধিকার সুরক্ষা ও শিক্ষা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে এনজিওরা। ফান্ড না পেয়ে এনজিওগুলো স্থানীয়ভাবে পুঁজি সংগ্রহ করে ঋণ কর্মসূচি চালু করেছে। যা ব্যাংকিং সিস্টেমের সম্পূর্ন পরিপন্থি। এসব এনজিও বা সমিতি থেকে ঋণ নেয়া একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঝিনাইদহের স্থানীয় প্রভাবশালী ও ব্যবসায়ী মিলে সুদে কারবারী শুরু করেছে। ঝিনাইদহ জেলায় এমন দুই’শ চিহ্নিত সুদখোর রয়েছে। কিন্তু তাদের কেও কিছু বলতে সাহস পায় না। আসল পাওয়ার পরও তারা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে মানুষকে বিপদগ্রস্থ করে তুলেছে। ঝিনাইদহের আদালতগুলোতে এমন শত শত মামলা রয়েছে। 

এ ব্যাপরে ঝিনাইদহ সমাজ সেবা অধিদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, সমাজ সেবা থেকে রেজিষ্ট্রশন নিয়ে ঋণ কার্যক্রম চালানো যাবে না। কেউ ঋণ কার্যক্রম বা ব্যাংকিং সিষ্টেম চালালে তা হবে সম্পূর্ন অবৈধ। সরকারের কড়াকড়ি সত্ত্বেও এ সকল সংস্থাগুলো কিভাবে অবৈধ পন্থায় ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তা জনগনের বোধগম্য নয়।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top