Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮ , সময়- ৬:৪৩ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে, আবারও আ'লীগ জোয়ারে ভাসবে : ওবায়দুল কাদের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের পরিদর্শন প্রতিবেদন বস্তুনিষ্ঠ ও সঠিক নয় : বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের গণসংবর্ধনা আগামীকাল বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নয়াপল্টনে নেতাকর্মীদের জমায়েত প্রধানমন্ত্রীর গণসংবর্ধনা শনিবার, যানবাহন চলাচলে ডিএমপি’র নির্দেশনা রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি নির্বাচন নিয়ে সরব বিদেশিরা  বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টের নিরাপত্তা : ব্যাপক তোলপাড় সারাদেশ  শর্তসাপেক্ষে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ কর্মসূচী করার অনুমতি পেল বিএনপি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে আবারো হত্যার হুমকি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে জার্মানীর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাত

দুই চোখ হারানো শাহজালালের সংবাদ সম্মেলন

মামলা তুলে নিতে সাত লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল পুলিশ


অনলাইন ডেষ্ক

আপডেট সময়: ৭ জানুয়ারী ২০১৮ ১২:৫৫ পিএম:
মামলা তুলে নিতে সাত লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল পুলিশ

পুলিশ তুলে নিয়ে যাওয়ার পর চোখ হারান সবজি ব্যবসায়ী মো. শাহজালাল। এটা শাহজালালের স্বজনদের দাবি। পুলিশের দাবি, ছিনতাই করতে গিয়ে গণপিটুনিতে চোখ হারিয়েছেন শাহজালাল। ঘটনার পর থেকেই শাহজালালের দাবি ছিল, খুলনার খালিশপুর থানার ফুটেজ পরীক্ষা করা হোক।

খালিশপুর থানার দাবি, ফুটেজে শাহজালাল নেই। এদিকে খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) দাবি, ঘটনার দিন সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট ছিল।

ওই মামলার তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত সূত্রে জানা যায়, খালিশপুরের একটি ক্লিনিকে ফুটেজ পিবিআইয়ের হাতে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, পুলিশই শাহজালালকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ওই ক্লিনিকে নিয়ে আসে। তখনো শাহজালালের চোখ উপড়ে ফেলা হয়নি। চিকিৎসা শেষে পুলিশই শাহজালালকে নিয়ে বের হয়ে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্রের মাধ্যমে এ তথ্য জানা যায়। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলতে চাইছে না পিবিআই।

গত ১৮ জুলাই শাহজালালের দুই চোখ উপড়ে ফেলা হয়। তিনি এখন চোখে দেখেন না।

খালিশপুর থানা এলাকার গোয়ালখালীতে ওই ঘটনা ঘটে। শাহজালাল ও তাঁর স্বজনদের দাবি, গত ১৭ জুলাই নগরীর খালিশপুর নয়াবাটি এলাকার শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যান শাহজালাল। পরদিন ১৮ জুলাই রাতে খালিশপুরের গোয়ালখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ছিনতাইয়ের অভিযোগে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরদিন ১৯ জুলাই সকালে স্বজনরা থানায় গিয়ে শোনেন শাহজালাল নেই। পরে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে চোখ ওপড়ানো অবস্থায় শাহজালালকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।

দুই চোখ তুলে নেওয়ার অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে নিতে অর্থের প্রলোভনসহ বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শাহজালালের বাবা মো. জাকির হোসেন।

তিনি বলেন, নগরীর খালিশপুর থানার ওসি নাসিম খান ও এসআই তাপস তাকে ৭ লাখ টাকা দিতে চেয়েছিলেন। গত ৪ জানুয়ারি আদালত চত্ত্বরে তাদের এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। এসময় ওসি ও এসআই দুজনেই উপস্থিত ছিলেন। যে কোন সময় আসামিরা জীবননাশসহ তাদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা করছেন।

পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ছিনতাই করতে গিয়ে ধরা পড়েন শাহজালাল এবং পরে গণপিটুনির পর তাঁর দুটি চোখ তুলে দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে সেদিন রাতেই সুমা আক্তার বাদী হয়ে দুজনকে আসামি করে ছিনতাই মামলা দায়ের করেন। এরই মধ্যে শুধু শাহজালালকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, খালিশপুর থানার হাজত, প্রবেশ-বহির্নিগমন পথ সব সিসিটিভি ক্যামেরায় আওতাধীন। শাহজালালের দাবি, তাঁকে সুস্থ অবস্থায় থানাহাজতে রাখা হয়েছিল অন্য আসামিদের সঙ্গে। যা সিসি ক্যামেরায় খোঁজ করলে পাওয়া যাবে।

ফুটেজ নিয়ে দুই রকম তথ্য

সিসিটিভি ক্যামেরায় গত ১৮ জুলাই রাতের ফুটেজে শাহজালালকে দেখা গেছে কি না জানতে চাইলে খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম খান জানান, তাঁরা  ১৮ জুলাই রাতের ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখেছেন। এতে শাহজালালের কোনো ফুটেজ নেই। তিনি আরো জানান, বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখেছেন কেএমপির তদন্ত কমিটি। এই সময় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য ভিন্ন বলে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি আবার বক্তব্য পরিবর্তন করেন। তিনি বলেন, ‘ডিসি স্যার ভালো জানেন। কারণ ওনারা তদন্ত করে দেখেছেন।’

এ ব্যাপারে কেএমপির ডেপুটি কমিশনার (উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, গত ১৮ জুলাই ঘটনার সময় সিসিটিভি ক্যামেরা খারাপ ছিল। ফলে ওই সময়ের কোনো ফুটেজ নেই। ফলে শাহজালাল থানায় গিয়েছিলেন কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘যেহেতু মামলাটি বিচারাধীন, তাই  কিছু বলা যাবে না।’

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, খালিশপুর ক্লিনিকের সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে, শাহজালালকে নিয়ে আসা হয় প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য।

এ ব্যাপারে খালিশপুর ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী ডা. মুজাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে শুনেছেন, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১০টার পর পুলিশ একজন আসামিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ক্লিনিকে নিয়ে আসে। চিকিৎসার পর তাঁকে আবার পুলিশ নিয়ে যায়। তবে ওই সময় ওই রোগীর নাম ‘অ্যান্ট্রি’ করা হয়নি। তিনি আরো জানান, তদন্তকারী দল ক্লিনিকের সেই ফুটেজও নিয়ে গিয়েছে।

মুজাহিদুল ইসলাম জানান, পরে তিনি জেনেছেন চোখ ওঠানো সেই শাহজালালকেই রাতে এই ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে পিবিআইয়ের খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, তদন্তাধীন বিষয় নিয়ে কোনো কিছু বলা যাবে না। তিনি জানান, আদালত আগামী ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছে ।

অভিযুক্তদের বদলি না করায় হতাশা

শাহজালালের মা রেনু বেগম গত ৭ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা দায়ের করেন। খালিশপুর থানার ওসি নাসিম খানসহ ১৩ জনকে আসামি করে তিনি মামলা করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য খুলনা পিবিআইকে নির্দেশ দেন। গত ১৮ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার কথা ছিল। ১৮ তারিখে পিবিআই আরো সময়ের আবেদন করলে আগামী ২৬ ডিসেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়।

মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী মোমিনুল ইসলাম বলেন, শাহজালালের বিরুদ্ধে দায়ের করা ছিনতাই মামলায় পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তিনি অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের থানার দায়িত্ব থেকে বদলি না করায় হতাশা ব্যক্ত করেন। তিনি দাবি করেন, খালিশপুর থানার ওসিকে বদলি না করলে মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত হবে না।

পুলিশের  সোর্স  এবং শাহজালালের মা রেনু বেগমের দায়ের করা মামলার আসামি রাসেলের বাবা লুৎফর রহমান জানান, খালিশপুর থানার ওসি নাসিম খান ও এএসআই রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাবে, কেন তাঁরা চোখ উঠাল?  তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘পুলিশ সব জানে। আর সেই পুলিশ কর্মকর্তাদের কেন এখনো বদলি করা হয়নি তা রহস্যজনক।’

এদিকে শাহজালালের বিরুদ্ধে দায়ের করা ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা করেন সুমা আক্তার। গত ১৮ অক্টোবর খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ওই ছিনতাইয়ের সঙ্গে শাহজালাল জড়িত।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top