Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ৫:২৯ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
ভাসানীর আদর্শকে ধারণ করে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান  তরুণ ভোটারদের প্রাধান্য দিয়ে প্রণয়ন করা হচ্ছে আ'লীগের ইশতেহার  মওলানা ভাসানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ  বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত করা হয়নি  দাবানলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৪, নিখোঁজ সহস্রাধিক রাজনৈতিক দলগুলোর রেকর্ড পরিমান মনোনয়নপত্র বিক্রি ঐক্যফ্রন্ট সংখ্যাগরিষ্ট আসন পেলে কে হবেন প্রধানমন্ত্রী ?  আ’লীগ নেতা রেজনু ও ছাত্রদল নেতা জিলানির ফোনালাপ ফাঁস প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ইসিকে সহযোগিতার নির্দেশনা | প্রজন্মকণ্ঠ আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে চারজন নিহত | প্রজন্মকণ্ঠ

১০ মাসে যত ক্ষতি ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের


অনলাইন ডেস্ক

আপডেট সময়: ২০ জানুয়ারী ২০১৮ ১২:৪১ পিএম:
১০ মাসে যত ক্ষতি ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজ

 
পড়াশোনার গুণগত মান নিশ্চিত, সেশনজট কমানোসহ বেশকিছু সমস্যা নিরসনে ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর ৭ কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। এরপরও এসব কলেজে সময়মতো পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ হয়নি। একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে, দেখা দিয়েছে সেশন জট। ঠিক সময়ে ফল প্রকাশ না হওয়ায় চাকরির অবেদন করতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। তাই বাধ্য হয়েই তারা আন্দোলনে নামে। শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, গত সাত মাসে তাদের যেসব ক্ষতি হয়েছে তা পোষাবে কে?

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর থেকে চাপ কমাতে ২০১৪ সাল থেকে সরকার রাজধানীর বড় বড় কলেজগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার পরিকল্পনা নেয়। তার বাস্তবায়ন হয় চলতি বছর জানুয়ারিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ায় এসব কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা খুশিই হয়েছিলেন। তবে তা ম্লান হতে বেশিদিন সময় লাগেনি। ঢাবির অধিভুক্ত হওয়ার পর থেকেই কলেজগুলোয় পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ স্থগিত রয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এ সময়ে তাদের স্নাতক পর্যায়ের ৩০টি বিষয়ের প্রথম থেকে শেষ বর্ষ পর্যন্ত শতাধিক পরীক্ষার ফলাফল চূড়ান্ত করেছে।

ঢাবি কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা নেওয়া ও ফল প্রকাশ না করতে পারার দায় চাপাচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর। আবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এজন্য ঢাবির ব্যর্থতাকেই দায়ী করছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বন্দ্বে কেন আমরা ভুক্তভোগী হবো? আমার গত ৭ মাসে যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি তা পোষাবো কি করে?

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২৮ মার্চ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পরীক্ষা শুরু হয়। কিন্তু তাদের হয়নি। প্রথম বর্ষের পরীক্ষাও হয়নি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলেও তাদের হয়নি। তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা হয়নি এবং ডিগ্রি প্রথম ও তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষাও স্থগিত রয়েছে।

তিতুমীর কলেজের ছাত্র ফয়সাল হোসেন  বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ায় আমরা খুশিই হয়েছিলাম। কারণ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকার সময়ে সেশনজট ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ায় ভেবেছিলাম সবকিছুর আমূল পরিবর্তন হবে। কিন্তু গত ৭ মাসে যে ক্ষতি হলো তা পোষানো কঠিন হবে।

তিনি বলেন, ‘চতুর্থ বর্ষের ফল ও মাস্টার্সের পরীক্ষা না হওয়ায় ৩৮তম বিসিএসসহ অনেকগুলো চাকরির পরীক্ষায় আবেদন করতে পারিনি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সেশনের শিক্ষার্থীদের চেয়ে আমরা পিছিয়ে পড়েছি কয়েক ধাপ।’

ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী বিউটি আক্তার বলেন, ‘আমরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আজ রাস্তায় পড়ে আছি। সামনে বিসিএস পরীক্ষা। অনার্সের ফল প্রকাশ না হওয়ায় আবেদন করতে পারিনি। বিসিএস কোচিং করি তারও আন্দোলনের জন্য বন্ধ রেখেছি। বাবা টাকা খরচ করে কোচিংয়ে ভর্তি করিয়েছেন, টাকাটাও তো জলে গেল।’

উদ্ভূত এ সমস্যা নিরসনের জন্য মার্চ থেকেই আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। প্রথমে নিজ নিজ কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা, পরে ছোট ছোট কর্মসূচি দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছে। এতে টনক না নড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানববন্ধন করেন তারা। ঢাবি উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছেন। তারপরও ঢাবি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনও আশ্বাস পায়নি তারা। পরে বাধ্য হয়ে ২০ জুলাই শাহবাগে সমাবেশের ডাক দেয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি দেয়। ওই কর্মসূচিতে পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের আঘাতে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমানের চোখ নষ্ট হওয়ার হয়েছে। 

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের সমন্বয়ক রাছেল সরকার  বলেন, ‘সিদ্দিকুরের ওপর পুলিশ টিয়ারশেল মেরে তার চোখের ক্ষতি করেছে। সে দেখতে পাওয়া নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। সে যদি চোখে দেখতে না পায় তাহলে এই ক্ষতি কে পোষাবে?  সিদ্দিকুরের সব দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।’


 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top