Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, রবিবার, ২০ জানুয়ারী ২০১৯ , সময়- ১১:৫০ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
বঙ্গভবনে শপথ নিলেন নবগঠিত মন্ত্রিপরিষদের ৪৭ সদস্য টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শপথপাঠ করালেন রাষ্ট্রপতি  পারফরমেন্স করতে না পারলে মন্ত্রিত্ব থাকবে না  শতভাগ আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভা, অধিকাংশ নতুন মুখ  প্রেমিকার জন্য রাজসিংহাসন ছাড়লেন সুলতান মুহাম্মদ পুরোবিশ্বে সফল দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ উত্তরায় সড়ক অবরোধ করে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ বিতর্ক নেই, তবুও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই মেলেনি যাদের  মন্ত্রিসভা নিয়ে মুখ খুললেন তোফায়েল আহমেদ বড় চমক অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কিত পাঁচ মন্ত্রণালয়ে

একুশে বইমেলা বই পাঠে সমৃদ্ধ হোক তারুণ্য | প্রজন্মকণ্ঠ 


যুবায়ের ইবরাহীম

আপডেট সময়: ৩১ জানুয়ারী ২০১৮ ৯:১৪ পিএম:
একুশে বইমেলা বই পাঠে সমৃদ্ধ হোক তারুণ্য | প্রজন্মকণ্ঠ 

আসছে ফেব্রুয়ারি। ফেব্রুয়ারি আমাদের ভাষার মাস। বাহান্নোর ভাষা আন্দোলন এ মাসেই। ২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এ মাসে বসে বইমেলা। অমর একুশে বইমেলা। বাংলা ভাষাভাষী মানুষের প্রাণের মেলা। বাংলা একাডেমি আয়োজিত এ মেলার কারণে সারা দেশ আলোড়িত অন্যরকম এক আলোড়নে। ভালো লাগা ও আনন্দে উদ্বেলিত সব বয়সী পাঠক।

নতুন বইয়ের গন্ধে আমোদিত পাঠক। বইয়ের পাতায় পাতায় যে ঘ্রাণ, তাতে থাকে অন্যরকম এক মাদকতা। এ মাদকতায় বিভোর আমাদের সভ্যতা-সংস্কৃতি। বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা। বই নিয়ে আমাদের বাংলা মায়ের সেরা সন্তানরা কী সুন্দর করে বলেছেন মধুর কথা, প্রেরণার কথা। আমাদের কবি জসীম উদ্দীন কতই না সুন্দর করে বলেছেন,‘বই জ্ঞানের প্রতীক, বই আনন্দের প্রতীক।’ সৈয়দ মুজতবা আলী বলেছেন, ‘বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না।’  ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন, ‘জীবনে তিনটি জিনিসের প্রয়োজন—বই, বই এবং বই।’ এভাবে বই নিয়ে তাঁদের গভীর দৃষ্টি ও অনুভূতি তাঁদেরকে কালের আলোকিত মানুষ হিসেবে তুলে ধরেছে। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘বই হচ্ছে অতীত আর বর্তমানের মধ্যে বেঁধে দেয়া সাঁকো।’ আসলেই আমরা বইয়ের মাধ্যমে কথা বলি অতীতের সঙ্গে। ইতিহাসের নানা বাঁক ও মোড়ের সঙ্গে। ইতিহাসের সেরা সন্তানদের সঙ্গে কথা হয় বইয়ে। মনীষী দেকার্তে বলেছেন, ‘ভালো বই পড়া মানে গত শতাব্দীর সেরা মানুষদের সঙ্গে কথা বলা।’

অ্যামেরিকান লেখক Ray Bradbury বলেছেন, ‘You don’t have to bu books to destroy a culture. Just get people to stop reading them.’ অর্থাত্ ‘একটি সংস্কৃতি ধ্বংস করার জন্য সব বই পুড়িয়ে  না ফেলে, শুধু মানুষকে বই পড়া থেকে বিরত রাখলেই হবে।’ ব্র্যাডবারির কথার সূত্রে বলা যায়, সমৃদ্ধ ও উন্নত সংস্কৃতি গড়তে হলে বই পাঠের বিকল্প নেই। বই ছাড়া মানুষ অচল। কেননা জ্ঞান ও আনন্দের প্রতীক বই। জ্ঞান ও আনন্দ ছাড়া মানুষ চলতে পারে না। জ্ঞান মানব জীবনকে প্রস্ফুটিত করে। বিকশিত করে সুকুমার বৃত্তিকে। সুবাসিত করে মানব সভ্যতার উদ্যানকে। আলোকিত হয় সভ্যতার মাহফিল। শক্তিশালী হয় সংস্কৃতির পাটাতন।

বইমেলা মানে লেখক-প্রকাশক-পাঠকের সম্মিলন। মেলায় ভাবের চিন্তার আদান-প্রদান হয়। লেখকের সঙ্গে পাঠকের ভাব বিনিময় হয়। পাঠকের অনুভূতি ও দৃষ্টিভঙ্গি ছুঁয়ে দেখতে পারেন পাঠক। মেলায় সব বয়সী মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। বাবার হাত ধরে সন্তান বইমেলায় হাঁটছে। স্বামী-স্ত্রী পাশাপাশি ঘুরছে। মা-বাবা, ভাইবোন ও শিশুদের নিয়ে পরিবারের অনেকেই আসে মেলায়। মফস্বল থেকে বইপ্রেমির আগমন ঘটে মেলায়। তরুণ ও ছাত্রদের বিশাল অংশ মেলায়, যেন তাদের আত্মা আনন্দে উদ্বেলিত। মেলায় সবচেয়ে বেশি পদচারণা তরুণ-ছাত্র সমাজের। সবাই বই কেনে না। কেউ কিনলেও পড়ে না। অনেকে আবার বই কেনে শখের বশে। তাই বইমেলা হোক বই পাঠের উত্স হিসেবে। বইমেলা শুধু আনন্দ আর উত্সবের না, পাঠের ও জাগরণের। একটি জাতির সমৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন তরুণ যুবসমাজের জাগরণ। তারা জাগলে এগিয়ে যাবে সভ্যতা-সংস্কৃতি। এগিয়ে যাবে সমাজ। এগিয়ে যাবে দেশ। এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। আর এ জাগরণের জন্য চাই বই পাঠ। বই পাঠে সমৃদ্ধ হোক আমাদের তারুণ্য।

মৌলভীবাজার থেকে 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top