Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, শনিবার, ২৬ মে ২০১৮ , সময়- ৪:১০ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
দেশজুড়ে গ্রেফতার বাণিজ্যের পাশাপাশি হত্যা-বাণিজ্য চলছে : রিজভী এই সম্মানসূচক ডিগ্রি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উৎসর্গ করছি : প্রধানমন্ত্রী আ'লীগের টার্গেট চার সিটিতে নৌকার বিজয়  ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত শেখ হাসিনা ইসলাম ধর্ম প্রচারে ও প্রসারে শেখ হাসিনার ভূমিকা  সুনামগঞ্জে এ বছরসহ চার বছরে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন ৯০ জন ফুটবলের চীনে জন্ম, ইংল্যান্ড বড় করেছে আর ব্রাজিল দিয়েছে পরিপূর্ণতা কক্সবাজারের তালিকাভুক্ত ইয়াবা গডফাদারা সবাই প্রভাবশালী, নামের তালিকা মাদকবিরোধী অভিযানে ফের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১০ স্বাস্থ্যসেবায় বিশ্বে পাকিস্তান ও ভারতের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ       

সম্মিলিতভাবেই ক্যান্সার প্রতিরোধ সম্ভব | প্রজন্মকণ্ঠ 


ডা. সৈয়দ এম আকরাম হোসেন

আপডেট সময়: ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ৩:৩০ পিএম:
সম্মিলিতভাবেই ক্যান্সার প্রতিরোধ সম্ভব | প্রজন্মকণ্ঠ 

ডা. সৈয়দ এম আকরাম হোসেন : আজ বিশ্ব ক্যান্সার দিবস, যা প্রতিবছর ৪ ফেব্রুয়ারি পালন করা হয়। ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধে ব্যাপক ভূমিকা রাখতেই বিশ্বব্যাপী এ দিবসটি পালিত হয়। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অ্যাগেইনস্ট ক্যান্সার প্রতিবছর এই দিবস উদ্যাপনের জন্য পৃথিবীব্যাপী কিছু কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে থাকে। কয়েক বছর ধরে দিবসটির প্রতিপাদ্য বা স্লোগান একই; আর তা হলো ‘উই ক্যান, আই ক্যান’। অর্থাৎ কিছু কিছু কাজ সবাই মিলে করতে পারি, কিছু কিছু কাজ একাও করতে পারি। যাতে সম্মিলিতভাবে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব।

অসংক্রামক ব্যাধিগুলোর মধ্যে ক্যান্সার অন্যতম, যা সারা বিশ্বেই দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বে মানুষের মৃত্যুর অন্যতম কারণ ক্যান্সার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ২০১৫ সালের মধ্যে ক্যান্সারের কারণে সারা বিশ্বে মারা যায় প্রায় আট কোটি ৪০ লাখ মানুষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অতীতে যে ভবিষ্যদ্বাণী ছিল সে অনুযায়ী ক্যান্সারের রোগী বাংলাদেশেও বাড়ছে। তবে দেশে ক্যান্সার রোগী কত এর সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। ধারণা করা হয়, বাংলাদেশে ১৮ থেকে ২০ লাখ ক্যান্সারের রোগী রয়েছে। এর সঙ্গে প্রতিবছর তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ নতুন রোগী যুক্ত হয়। প্রতিবছর মারা যায় আড়াই থেকে তিন লাখ মানুষ।

২০০৯ সালে বাংলাদেশের জন্য ক্যান্সারের প্রথম অ্যাকশন প্ল্যান প্রণীত হয়েছিল, যাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতা ছিল। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে যে সভা হয় সেখানে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন। আমিও ছিলাম। সেখানে অসংক্রামক ব্যাধিগুলোর ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণ করা হয় এবং পরে ডাব্লিউএইচও একটি স্ট্র্যাটেজি তৈরি করে। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে প্ল্যান অব অ্যাকশন যেভাবে নেওয়া হয়েছিল কার্যত সেভাবে কাজ এগোয়নি।

বাংলাদেশের মতো দেশে ক্যান্সারের নানা কারণের মধ্যে রয়েছে প্রদাহ বা ইনফেকশন। প্রায় ১৫-২০ শতাংশ রোগীর ইনফেকশনের কারণে ক্যান্সার হয়। যেমন— হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস, যার কারণে জরায়ুমুখের ক্যান্সার, হেড-নেক ক্যান্সার বা মুখের ক্যান্সার প্রভৃতি হয়। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, নারীদের চেয়ে প্রায় তিন গুণ অধিক হারে পুরুষরা আক্রান্ত হচ্ছে এই ভাইরাসজনিত ক্যান্সারে। গবেষণায় দেখা গেছে, আমেরিকায় ৩.২ মিলিয়ন মহিলা ও ১১ মিলিয়ন পুরুষ এইচপিভি ভাইরাসে আক্রান্ত। এর মধ্যে সাত মিলিয়ন পুরুষ এবং ১.৪ মিলিয়ন মহিলা এইচপিভিজনিত ক্যান্সারে আক্রান্ত। এ ছাড়া সংক্রমণ ও হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের কারণে যকৃত বা লিভার ক্যান্সার হচ্ছে। অ্যাপস্টাইন বার ভাইরাসে (এবিভি) ইনফেকশন লিম্ফোমা হচ্ছে। বাংলাদেশে ক্যান্সারের আরেকটি বড় কারণ হলো, হেলিকো ব্যাক্টর পাইলোরি, যার কারণে পাকস্থলীতে ক্যান্সার হয় এবং এর হার দিন দিন বেড়েই চলেছে।

খাদ্যাভ্যাস বা জীবনযাপনের কারণে ৩৫ শতাংশ ক্যান্সার হয়। আমাদের দেশে খাবারে ভেজাল বা নানা রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হচ্ছে। শুঁটকিতে ডিডিটি ব্যবহার হচ্ছে। এসবের কারণে কিছু ক্যান্সার হয়। তামাকের কারণে ৩০ শতাংশ ক্যান্সার হয়। এই তামাকে চার হাজার ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য বা কণা রয়েছে এবং এর ৪০০-র মতো রাসায়নিক দ্রব্যের সঙ্গে ক্যান্সারের সম্পর্ক রয়েছে। এর মধ্যে ৭৫টি দ্রব্য নিশ্চিত ক্যান্সার তৈরি করে। তামাকের এসব প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ব্যবহারে মুখের নানা ক্যান্সার, শ্বাসনালির ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি হচ্ছে। কর্মস্থলের পরিবেশের কারণেও ক্যান্সার হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, নিয়মিত শারীরিক পরিচর্যা না করাতে ক্ষতি হচ্ছে দেহের।

ক্যান্সারের ভয়ানক থাবা থেকে রক্ষা পেতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। ধূমপান বা তামাকজাত দ্রবের ব্যবহারসংক্রান্ত বিজ্ঞাপন বন্ধ করার পথ বাংলাদেশে কিছুটা অনুসরণ করা হলেও পুরোপুরি হচ্ছে না। বাংলাদেশ ২০০৩ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণে আইন করলেও আইনটির বাস্তবায়ন সন্তোষজনক নয়। সরকারের উচিত হবে তামাকের ট্যাক্স এমনভাবে বাড়িয়ে দেওয়া, যাতে সাধারণ মানুষ এটি কোনোভাবেই কিনতে না পারে। বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য সামাজিক সচেতনতা বা সামাজিক আন্দোলন দরকার, যা প্রতিটি ক্ষেত্রে করতে হবে। সবাইকে সচেতন হয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। সমাজের নেতৃস্থানীয় মানুষকে ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি স্কুল শিক্ষক, মসজিদের ইমামদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

খাবারদাবারে সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। ফাস্ট ফুড, জাংক ফুড, কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংকস, মোড়কজাত কেমিক্যাল জুস, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার, তেলে ভাজা খাবার এবং ভেজাল ও কেমিক্যাল সংমিশ্রণে তৈরি খাদ্যসামগ্রী বর্জন করতে হবে। প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে সপ্তাহে কমপক্ষে পাঁচ দিন ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম করা উচিত।

ক্যান্সারের চিকিৎসায় দেশে একটি মাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দেশে ক্যান্সার স্পেশালিস্ট রয়েছে মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ জনের কাছাকাছি, যা মোট জনগোষ্ঠীর তুলনায় নগণ্য। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) হিসাবে দেশের মোট জনগণের জন্য রেডিওথেরাপি মেশিন থাকা দরকার কমপক্ষে ৩২০টি ও অন্যান্য থেরাপির মেশিন থাকার দরকার কমপক্ষে ১৬০টি। অথচ সরকারি অথবা বেসরকারি পর্যায়ে দেশে এখনো রেডিওথেরাপি মেশিন খুবই অপ্রতুল। তাই সরকারি উদ্যোগে আরো লিনিয়ার এক্সিলারেটর ও কোবাল্ট মেশিন স্থাপন প্রয়োজন। পাশাপাশি ক্যান্সারের ওষুধ তৈরি করে কম মূল্যে রোগীদের কাছে পৌঁছানো উচিত। চালু করা উচিত ক্যান্সার রোগীদের জন্য হলেও স্বাস্থ্যবীমা। পাশের দেশ ভারত ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে রয়েছে এ স্বাস্থ্যবীমা।

লেখক : অধ্যাপক, কনসালট্যান্ট, অনকোলজি বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল এবং প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ক্যান্সার বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top