Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮ , সময়- ১:১৩ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
এরশাদের বিরুদ্ধে করা মঞ্জুর হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিল, আগামী ১৮ নভেম্বর নির্বাচন সামনে রেখে শিগগিরই সারাদেশে অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ২৮ রানে জয় পেলো বাংলাদেশ  সাম্প্রতিক সৌদি আরব সফর : প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন, আগামীকাল গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটির জন্য চালু হচ্ছে ঢাকা-কালিয়াকৈর ট্রেন সার্ভিস শিগগিরই ছোট হচ্ছে মন্ত্রিসভা আপনার কথায় অস্ট্রেলিয়ায় থাকা আমার মেয়েও লজ্জিত : মঈনুলকে ফোনে মির্জা ফখরুল  আমরা আর দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান হতে চাইনা, সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ চাই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  সিলেটে সমাবেশ করার অনুমতি পেয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট  ইমরুলের সেঞ্চুরিতে ৮ উইকেট হারিয়ে টাইগারদের সংগ্রহ ২৭১ রান

টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) : আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া | প্রজন্মকণ্ঠ 


নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রজন্মকণ্ঠ

আপডেট সময়: ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ৭:৪৬ পিএম:
টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) : আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া | প্রজন্মকণ্ঠ 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। বিভিন্ন শুভেচ্ছার পাশাপাশি এ আসনের সম্ভাব্য বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা ব্যানার, ফেস্টুন, নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়সহ বিভিন্নভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। এবারের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণেও নির্বাচনী প্রচারণার আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।

দলীয় মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা উন্নয়নমূলক কাজ, জনসভা, পথসভা, র‌্যালিসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছেন। শুধু নির্বাচনী প্রচারণা নয় জনসাধারণের সুখ-দুঃখের অংশীদারিত্বের প্রমাণ দিতে তারা মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা ও তরুণ কর্মীদের কাছে টানছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ এলাকায় নির্বাচনী আমেজ তৈরি করছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব খন্দকার আসাদুজ্জামান এবং বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর নির্বাচনী এলাকা হওয়ায় টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনটি রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে চিহ্নিত। টাঙ্গাইল-২ আসনটি গোপালপুর ও ভূঞাপুর এ দুটি উপজেলা নিয়ে একটি সংসদীয় আসন। স্থানীয়রা মনে করেন, এ আসনে প্রার্থীদের ছড়াছড়ি থাকলেও যুদ্ধ হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যেই। এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির একাধিক প্রার্থী প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন। তারা নানা কৌশলে নিজেদের অবস্থান জনসাধারণের সামনে তুলে ধরতে চেষ্টা করছেন।

সরেজমিন জানা গেছে, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে নিজ নিজ দলের প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন পেতে ইতোমধ্যেই অনেকেই জোর লবিং শুরু করেছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, চা-স্টলগুলোতে রঙিন পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনে নিজের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন। এবারের বন্যায় গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যাকবলিতদের মাঝে ত্রাণ দিতে গিয়েও অনেকে প্রচারণা চালিয়েছেন। কে কত বেশি বন্যার্তদের ত্রাণ সামগ্রী দিয়েছে- এ আলোচনাও চা-স্টলগুলোতে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। এ ছাড়া একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী সৌজন্য সাক্ষাৎ করে নিজেদের নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। হোটেল রেস্তোরাঁ, হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লায় সংসদ নির্বাচনের আগাম প্রচারণা এখন সর্বত্র। গোপালপুর-ভূঞাপুর উপজেলা সদরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলেও জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তানভীর হাসান ছোট মনি ও গোপালপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডুর ব্যানার-ফেস্টুন শোভা পাচ্ছে।

গোপালপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন এবং ভূঞাপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে এই আসন গঠিত। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম জানান, এই আসনের গোপালপুর উপজেলায় ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯৬৮ জন (পুরুষ ৯৮ হাজার ৬৯৬, নারী ১ লাখ ২৭২) এবং ভূঞাপুর উপজেলায় ভোটার ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮২৮ জন (পুরুষ ৭০ হাজার ১৮৭, নারী ৬৮ হাজার ৪৪১) মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭৯৬ জন।

টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালে হাতেম আলী তালুকদার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৮০ সালের জাতীয় নির্বাচনে আফাজ উদ্দিন ফকির বিএনপি থেকে নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে শামছুল হক তালুকদার ছানু এবং ১৯৮৮ সালে জাসদের আব্দুল মতিন হিরু এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সাবেক শিক্ষা ও শিল্প উপমন্ত্রী বর্তমানে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান রাজনীতিক হাতেম আলী তালুকদারকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের প্রথম অর্থ সচিব খন্দকার আসাদুজ্জামান আওয়ামী লীগের টিকিটে এমপি নির্বাচিত হন। 

এরপর ২০০১ সালের নির্বাচনে অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু দুই হাজার ২৭৪ ভোটের ব্যবধানে খন্দকার আসাদুজ্জামানকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়ে প্রথমে শিক্ষা উপমন্ত্রী এবং পরে শিল্প উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর ছোট ভাই কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে পরাজিত করে দ্বিতীয় মেয়াদে খন্দকার আসাদুজ্জামান এমপি নির্বাচিত হন।

এ ছাড়াও ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজ বাঙ্গালকে (সাইকেল প্রতীক) বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে খন্দকার আসাদুজ্জামান তৃতীয়বারের মতো এমপি নির্বাচিত হন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান এমপি খন্দকার আসাদুজ্জামান বয়সের ভারে ন্যুব্জ। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় তিনি নির্বাচনী এলাকায় সময় দিতে পারছেন না। তার অনুপস্থিতির সুযোগে দলীয় নানা কাজে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তানভীর হাসান ছোট মনি। গ্রেনেড হামলা-মামলার অন্যতম আসামি সালাম পিন্টুর সব ষড়যন্ত্র ও সহিংস রাজনীতি মোকাবিলায় তানভীর হাসান ছোট মনিকে প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। এ ছাড়া আওয়ামী ঘরানার তরুণ নেতৃত্বের বিশাল অংশ এখন তানভীর হাসান ছোট মনির অনুসারী। দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও সরকারের নানাবিধ উন্নয়নে শরিক হয়ে দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের কাছেও তানভীর হাসান ছোট মনি একজন প্রিয় ব্যক্তিত্ব- কাছের মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তিনি এবার বন্যায় ও শীতে মানুষের পাশে থেকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন।

মনোনয়ন প্রত্যাশী তানভীর হাসান ছোট মনি বলেন, এলাকার নদীভাঙন ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও তাদের চাহিদা অনুযায়ী আমি জনগণের পাশে থেকে সবসময়ই কাজ করে যাচ্ছি। জনগণ এই আসনে আমাকে চায়। তাই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ২০৪১ বাস্তবায়নে কাজ করতে পারব।

এ আসনে গোপালপুর উপজেলা পরিষদের দু’বারের সফল চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু দলের মনোনয়ন চাইবেন। তিনি দীর্ঘদিন এলাকায় কাজ করে চলেছেন। ক্লিন ইমেজের মানুষ হিসেবে তিনি এলাকায় পরিচিত। ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু দলের কঠিন সময়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে নেতাকর্মীদের মাঝে তাকে নিয়ে আগ্রহ আছে। ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু বলেন, অনেক দিনের পরীক্ষিত মানুষ আমি। জনগণ আমাকে চেনে এবং জানে। জনগণকে পাশে নিয়ে আমি কাজ করে যাচ্ছি। দু’বার আমি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে বলেই আমি সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।

বর্তমান এমপি খন্দকার আসাদুজ্জামানের অবর্তমানে ব্যাংকার ছেলে খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। খন্দকার আসাদুজ্জামান বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও অসুস্থ থাকায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। তার স্থলে ছেলে খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেলকে প্রার্থী করছেন বলে দলীয় ও পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে, কারান্তরীণ সাবেক উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আব্দুস সালাম পিন্টু জেলহাজতে থাকায় আইনি জটিলতায় তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারলে তার ছোট ভাই কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এ আসনে প্রার্থী হবেন বলে দলীয় ও তার অনুসারী সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম তোফা বলেন, এই আসন বিএনপির। সরকারের জুলুম নির্যাতনের পরও এ আসনে বিএনপির জনপ্রিয়তা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টির (এরশাদ) শামছুল হক তালুকদার ছানু এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে দলীয় সূত্র প্রায় নিশ্চিত করেছে।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top