Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮ , সময়- ৯:০১ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
মুসল্লিরা জায়নামাজ ও ছাতা ছাড়া অন্য কিছু নিতে পারবেন না : ডিএমপি কমিশনার দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে জামাতের সময়সূচী  ব্রাজিলের সাপোর্টার প্রধানমন্ত্রী, একই দলের সমর্থক জয় মুসলিম উম্মাহর ঐক্যে ফাটল সৃষ্টি করতেই ইসরাইলের সৃষ্টি নূর চৌধুরী'কে দেশে ফেরাতে কানাডার আদালতে মামলা করেছে সরকার নির্বাচনী কৌশলগত কারনেই জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ছে বিএনপি বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচে ৫-০ ব্যবধানে জয় পেল স্বাগতিক রাশিয়া বাগেরহাট ৩ আসনের উপ-নির্বাচনে নির্বাচিত এমপি'র শপথগ্রহণ ঘরমুখো মানুষ, চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন ট্রেনের যাত্রীরা

২০১৭ সালে ৩৭ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান করা হয়েছে : পরিকল্পনামন্ত্রী | প্রজন্মকণ্ঠ 


নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রজন্মকণ্ঠ

আপডেট সময়: ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ৪:০২ পিএম:
২০১৭ সালে ৩৭ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান করা হয়েছে : পরিকল্পনামন্ত্রী | প্রজন্মকণ্ঠ 

দেশে গত বছর ৩৭ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ২০১৭ সালের অর্থনীতি মূল্যায়ন (ইকোনমিক ওভারভিউ) নিয়ে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

অর্থনীতির বিচারে ২০১৭ সাল বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে ভালো বছর ছিল জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, গত বছর সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এ সময় সর্বোচ্চ ১০ লাখ ৩০ হাজার মানুষ বিদেশে গেছে। দেশে কর্মসংস্থান হয়েছে ১৩ লাখ। ১৪ লাখ আন-পেইড থেকে পেইড (বেতনহীন থেকে বেতনভুক্ত) হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ২০১৭ সালের অর্থনীতিতে বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেন আ হ ম মুস্তফা কামাল। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ২০০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক গ্রামে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে গেছে। আবাসন খাতে প্রবৃদ্ধি ভালো হচ্ছে। রফতানি খাতে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ১ দশমিক ৫ থেকে সাড়ে ৮ শতাংশ হয়েছে। প্রবাসী আয় বেড়েছে। রেমিট্যান্সের দিক থেকে সারা বিশ্বে আমরা নবম স্থানে রয়েছি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অনেক ভালো। দেশে নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা কমছে। অর্থাৎ আগে পরিবারের একজন আয় করলে অন্য সব সদস্য তার ওপর নির্ভর করত। এখন এ রকম নির্ভরতা কমেছে। বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যারা এলডিসি থেকে বের হওয়ার তিনটি শর্তই একসঙ্গে পূরণ করবে। বাংলাদেশ হবে এশিয়া অঞ্চলে পঞ্চম টাইগার।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আইএমএফের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন  অনুযায়ী,  দক্ষিণ এশিয়ায় এখন বিনিয়োগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান বাংলাদেশ। বাংলাদেশ অচিরেই এ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক বাজার হবে। শুধু বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিশ্চয়তা দিতে পারলে বিদেশী বিনিয়োগের কোনো অভাব হবে না। এলএনজি আমদানি শুরু হলে সে সমস্যা থাকবে না। সম্প্রতি ভোলায় দুটি নতুন গ্যাস ফিল্ড আবিষ্কার হয়েছে, যা নিজেদের সক্ষমতা ব্যবহারের অর্জন। আমাদের গ্যাস মজুদ আছে ২৭ টিসিএফ, যা বর্তমান ধারায় ব্যবহার হতে থাকলে আগামী ১৪ বছরে শেষ হয়ে যেত। কিন্তু নতুন এ দুটি গ্যাস ফিল্ড যুক্ত হওয়ায় মজুদ বাড়বে ১ দশমিক ৫ টিসিএফ গ্যাস।

পুঁজিবাজারের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজারে সূচক ৬ হাজার ১০০-এর উপরে। গড় লেনদেন একদিনে ৭৭৫ কোটি টাকা। তাই বলা যায়, পুঁজিবাজার অনেক বেশি ভাইব্রেন্ট। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শিল্প-কারখানা করাকে আমি নিরুৎসাহিত করি। চীনে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শিল্প-কারখানা করার নজির কম। অর্থায়নের উৎস হিসেবে পুঁজিবাজার আদর্শ বিকল্প হতে পারে। তবে পুঁজিবাজারে যাওয়ার আগে এর সম্পর্কে পড়াশোনা ও জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।

টাকা পাচার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা দেশ থেকে টাকা পাচার করে বিদেশে ব্যবসা করেন, তারা যখন বুঝবেন, দেশে ব্যবসা করাই লাভজনক, তখন আর বিদেশে পাচার করবেন না। টাকা যেখানে বেশি সমাদর পাবে, সেখানেই যাবে। বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় জায়গা।

তবে আগামী দিনগুলোয় ব্যাংকিং খাত, শিক্ষা ও  কর ব্যবস্থা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। এসব  চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে অপচয় ও দুর্নীতি রোধে নজরদারি বাড়াতে হবে এবং সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। কর আদায়ে রাজস্ব খাতেও সংস্কার প্রয়োজন। এছাড়া বর্তমানের প্রয়োজনের সঙ্গে আগামীর প্রয়োজন মাথায় থেকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সাজাতে হবে। বর্তমান বিশ্বের চাহিদা ও প্রয়োজন মেনে জ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর এবং হাতে-কলমে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তন করতে হবে।

আগামী দিনগুলোয় বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের একটি অন্যতম চ্যালেঞ্জ; এছাড়া চ্যালেঞ্জ আছে ব্যাংকিং খাত নিয়ে। বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতের ননপারফরমিং লোন বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় কম। এটা বড় কোনো সমস্যা নয়। এ খাতে অপচয় ও দুর্নীতি রোধে নজরদারি বৃদ্ধি এবং সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া কর বাবদ রাজস্ব খাতেরও সংস্কারের প্রয়োজন আছে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব মফিজুল ইসলাম, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ, বাংলাদেশে উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক কেএএস মুরশিদ ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মহাপরিচালক আমির হোসেন।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top