Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ , সময়- ৩:০৬ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
বাংলাদেশে ইংরেজি বর্ষবরণে হামলার ছক বানচাল : পরিকল্পনা ফাঁস  নির্বাচনের মাঠে জামাত, ৪৭ জনের প্রার্থীপদে আপত্তি আমেরিকার  টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আ.লীগের নির্বাচনী প্রচার : এইচটি ইমাম নৌকার পক্ষে ভোট দেওয়ার ওয়াদা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে নামবে সেনাবাহিনী  ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় গণসংযোগে মির্জা ফখরুল  বিতর্কিত সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ ও তাঁর রাজনীতি  প্রমাণিত হলো বিএনপি সন্ত্রাসী দল : কাদের  বিবাহবার্ষিকীতে দোয়া চাইলেন ক্রিকেট সুপারস্টার সাকিব টুঙ্গিপাড়া থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন সভানেত্রী শেখ হাসিনা 

নিয়ন্ত্রণহীন বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা | প্রজন্মকণ্ঠ


মো. ওসমান গনি 

আপডেট সময়: ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ২:৪১ পিএম:
নিয়ন্ত্রণহীন বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা  | প্রজন্মকণ্ঠ

উপ-সম্পাদকীয়ঃ বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও আমাদের দেশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। যেগুলো দেশের জনগণের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠিত হলেও বাস্তবে তার ধারেকাছেও নেই এসব প্রতিষ্ঠান। তাদের বেশিরভাগ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মূল লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য হচ্ছে বাণিজ্যিকীকরণ করা। তারা দেশের নিরীহ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার নাম করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। অতিসহজে হয়ে যাচ্ছে কোটিপতি। তাদের আচার-আচরণ দেখলে মনে হয় যেন তাদের ওপর কারও কোনো নিয়ন্ত্রণই নেই। এসব প্রতিষ্ঠান যার যার ইচ্ছেমতো গরিব ও অসহায় মানুষকে ঠকিয়ে কোটিপতি হয়ে যাচ্ছে। তাদের ওপর সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় তারা মানুষ ঠকিয়ে একচেটিয়া ব্যবসা করে যাচ্ছে। 

ঢাকার বাইরের উপজেলা পর্যায়ে যেসব ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে, সেগুলোর হয়তো অনেকেরই সরকারি কোনো কাগজপত্র নেই। আবার কারও কারও কাগজপত্র থাকলেও তার বেশিরভাগের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। সম্প্রতি কুমিল্লার সিভিল সার্জন জেলার চান্দিনা উপজেলার দোল্লাই নবাবপুর বাজারে এ রকম চারটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করা হয়েছে। এ রকম ডায়াগনস্টিক সেন্টার দেশের সব এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে। যেগুলোর যথাযথ কোনো কাগজপত্র নেই। নিয়ন্ত্রণহীন ও নিম্নমানের এসব চিকিৎসালয়ে গিয়ে আর্থিক ও স্বাস্থ্যজনিত ক্ষতির শিকার হচ্ছেন সেবাগ্রহীতারা। কমিশন ব্যবসা ও বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধের মাধ্যমে সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে পারলে হয়তো এদের থেকে দেশের সাধারণ মানুষ কিছুটা রেহাই পেতে পারে। সম্প্রতি টিআইবির (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) ধানমন্ডির কার্যালয়ে ‘বেসরকারি চিকিৎসাসেবা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন চিত্র তুলে ধরা হয়। বেসরকারি চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নসহ এ খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে টিআইবি ১৬টি সুপারিশও পেশ করে। বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করার প্রস্তাব করা হয় সুপারিশে। 

প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার অভাব, পরিদর্শন ও তদারকির ক্ষেত্রে ব্যাপক ঘাটতি এবং অতিমুনাফাভিত্তিক প্রকট বাণিজ্যিকীকরণের সম্মিলিত প্রভাবে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা খাত কার্যত নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী ঢাকা মহানগরীর ২৬টি ও ঢাকার বাইরে আট বিভাগের ৯০টি প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১১৬টি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান থেকে গবেষণার তথ্য সংগৃহীত হয়। এর মধ্যে ৬৬টি হাসপাতাল এবং ৫০টি রোগনির্ণয় কেন্দ্র। এ গবেষণায় বেসরকারি চিকিৎসাসেবা বলতে ব্যক্তিমালিকানাধীন নিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং রোগনির্ণয় কেন্দ্র প্রদত্ত সেবাকে বোঝানো হয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, সব অংশীদারের সমান সাড়ার অভাব, স্বার্থের দ্বন্দ্ব এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে উদ্যোগ সত্ত্বেও এ খাতের জন্য পৃথক আইন চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। 

আইনি সীমাবদ্ধতা, বিদ্যমান যে আইন রয়েছে, তা বর্তমান ব্যবস্থার সঙ্গে সংগতিপূর্ণভাবে হালনাগাদ না হওয়া, আইন ও নীতির প্রয়োজনীয় প্রয়োগ না হওয়া এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ, পরিদর্শন ও তদারকি কার্যক্রমে ঘাটতিসহ সরকারের যথাযথ মনোযোগের ঘাটতির কারণে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা খাত নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে। ফলে অতিমুনাফাভিত্তিক বাণিজ্যিকীকরণের প্রবণতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সেবার অতিরিক্ত মূল্য আদায়সহ কিছু ব্যক্তির এ খাত থেকে বিধিবহির্ভূত সুযোগসুবিধা আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন পর্যায়ে, বিশেষ করে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোয় সক্ষমতার ঘাটতি ও অনিয়মের প্রবণতা অধিকতর লক্ষণীয়। অবকাঠামো, জনবল ও যন্ত্রপাতির ঘাটতিসহ সার্বিক সক্ষমতায় ঘাটতি থাকায় সেবাগ্রহীতারা সঠিক ও মানসম্পন্ন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ও স্বাস্থ্যগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দেশের চিকিৎসাসেবার প্রতি আস্থা হারিয়ে সেবাগ্রহীতাদের বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

গবেষণার পর্যবেক্ষণ মতে, নিবন্ধন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানের অবস্থান, মালিক বা অংশীদারদের প্রভাব-প্রতিপত্তির ওপর এ অর্থের পরিমাণ নির্ভর করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট তদারকি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিদর্শনের তারিখ হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয় এবং সে অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠান ওই নির্দিষ্ট দিনের জন্য জনবল ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঠিক রাখে। কিছু ক্ষেত্রে নবায়নের সব শর্ত পালনে ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে নিবন্ধন নবায়নের সুযোগ প্রদান করা হচ্ছে। অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ করার কোনো আইন নেই। বেশিরভাগ বেসরকারি হাসপাতাল ও রোগনির্ণয় কেন্দ্র নিবন্ধিত না হয়েই কার্যক্রম শুরু করে এবং দেশব্যাপী কতকগুলো অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তার কোনো তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। অধিক মুনাফা অর্জনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনেক সময় প্রসূতিকে সিজারিয়ান প্রসবে উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগ রয়েছে। উচ্চমুনাফাভিত্তিক ব্যবসা হিসেবে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা খাত বিকাশ হচ্ছে। 

এখানে তদারকির অভাব রয়েছে। সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছে। এ কারণে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করা দরকার। বেসরকারি খাত নিয়ন্ত্রণের জন্য বিধিমালা নেই। মান নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে না। জনগণ প্রতারিত হচ্ছে। বিষয়টির প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন বলে দেশের বিজ্ঞমহল মনে করেন। 

সাংবাদিক ও কলামিস্ট
ganipress@yahoo.com


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top