Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮ , সময়- ১:৪১ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
বিকল্প ধারার তিন শীর্ষ নেতাকে বহিস্কার করে নতুন কমিটি গঠন শহীদ মিনারে আইয়ুব বাচ্চুকে ভক্ত, অনুরাগীসহ সর্বস্তরের মানুষের শেষ শ্রদ্ধা বাংলাদেশের উন্নয়নে অংশীদার হতে চান সৌদি যুবরাজ | প্রজন্মকণ্ঠ ঐক্যফ্রন্ট বিজয়ী হলে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন ? প্রশ্ন কূটনীতিকদের   দেশের বৃহত্তর আন্দোলনের স্বার্থে জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করা হবে : নজরুল ইসলাম জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি : হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে ক্রিকেট বোর্ড | প্রজন্মকণ্ঠ সৌদি ঘাতক টিমের ১ সদস্য গাড়িচাপায় নিহত : তুর্কি দৈনিক 'ইয়ানি শাফাক' নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা হতে পারে : ইসি সচিব হেলালুদ্দীন

দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই মূল চ্যালেঞ্জ


হায়দার আহমদ খান

আপডেট সময়: ২ এপ্রিল ২০১৮ ১২:৩৭ এএম:
দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই মূল চ্যালেঞ্জ

উপ-সম্পাদকীয় : কৃষিনির্ভর বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্ববাজারে উন্নয়নশীল দেশ। এটি দেশের মানুষের জন্য অত্যন্ত সম্মানজনক ও আনন্দজনক একটি খবর। কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা এখন শিল্পমুখী— যা মাথাপিছু আয়কে দ্রুত সামনের দিকে চলতে সাহায্য করবে। কৃষি বা শিল্পের জন্য প্রয়োজন মানসম্মত মানবসম্পদ। সকল উন্নয়নের চাবি মানবসম্পদ। বিজ্ঞানের যুগে রিকশা থেকে রকেট সর্বত্রই প্রয়োজন মানুষ। স্তর ভেদে জ্ঞান, শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ভিন্ন, তবে বুদ্ধি ও জ্ঞানের প্রয়োজন সকল পর্যায়ে রয়েছে। দিন দিন কৃষিকাজও বিজ্ঞাননির্ভর হয়ে যাচ্ছে। আমাদের কৃষকসমাজ স্মার্ট ফোনের ব্যবহারে বেশ সক্ষম হওয়ায় উত্পাদনে তার ফল আমরা পাচ্ছি। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে গরু দিয়ে হাল-চাষ এখন খুব একটা দেখা যায় না। বাংলাদেশের জিডিপিতে বছর বছর শিল্পখাতের অবদান বাড়ছে। এবং সে কারণেই মানসম্মত শিক্ষার প্রয়োজন শিল্প-কারখানায় একটু বেশি। বর্তমান মুক্তবাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার অন্যতম উপায় কম খরচে একই উত্পাদন বা একই খরচে অতিরিক্ত উত্পাদন— যা অনেকটাই নির্ভর শ্রমের ব্যবহারের উপর। বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি করতে পারলে দেশীয় চাহিদা পূরণের পর মানবসম্পদ রপ্তানি করাও সম্ভব— যা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

উন্নয়ন মানে বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন নতুন কর্মসংস্থান, উপার্জনের সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে সঞ্চয় বাড়ানো। এক কথায় সমাজে বেকারের সংখ্যা হ্রাস করা। সময়ের পরিবর্তনে নতুন কর্মসংস্থানের প্রধান জায়গা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ব্যবসার প্রসার এমন এক পর্যায়ে যে, সরকারের অনেক উন্নয়ন কাজও বর্তমানে ব্যবসার আওতায়। সরকারের এই উন্নয়ন ফর্মূলার নাম ‘পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ’ সংক্ষেপে যা ‘পিপিপি’। এই ফরমুলা বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জনপ্রিয়। আর ব্যবসা মানেই প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতাও বর্তমানে বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশ সরকারের নিয়ন্ত্রণে প্রাথমিক স্কুল পর্যায়ে বিনামূল্যে বই বিতরণের প্রকাশনার কাজেও বিদেশি প্রকাশকরা অংশ নিয়ে থাকে এবং কিছু বই বিদেশে মুদ্রিত হয়ে থাকে। মুক্তবাজার অর্থনীতির পরিসরে বাংলাদেশের শ্রমনির্ভর ব্যবসা একটু বেশি প্রতিযোগীর সম্মুখীন। ইউরোপের বাজারে বর্তমানে শুল্ক রেয়াত পাওয়া বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ৪০ লাখ অল্পশিক্ষিত শ্রমিক। তাদের শ্রমের বিনিময়ে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশের আমদানি নির্ভর বাজারের ক্রেতাদের চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করছে। কারণ বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর চাহিদা মিটাতে বিলাস দ্রব্যের পাশাপাশি কৃষিপণ্যও মাঝে মাঝে আমদানি করতে হয়। আমরা দ্রুত এক প্রতিযোগিতামূলক সময়ের দিকে ধাবিত হচ্ছি এবং এর সঙ্গে যদি অর্থনীতি উন্নয়নশীল হয় তাহলে শুল্ক  রেয়াতের সুযোগ থাকবে না। তখন প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে রূপান্তর করে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর উত্পাদনের সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমশক্তিকে যুক্ত করতে হবে। উত্পাদনব্যয় কমাতে হবে, বাড়াতে হবে উত্পাদনশীলতা।

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বা তার কাছাকাছি। তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে গৃহীত মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলে অনেক সফলতা থাকলেও কোনো দেশই দারিদ্র্য বিমোচনের প্রধান কারণ অশিক্ষাকে সমাজ থেকে শতভাগ বিলীন করতে পারেনি। তা না পারায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে বাংলাদেশও ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) বাস্তবায়ন শুরু করেছে ২০১৬ সালের জানুয়রি থেকে। মোট ১৬৯টি টার্গেটের মাধ্যমে ১৭টি গোল অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে। ইতোমধ্যে দুই বছর শেষ হয়ে তৃতীয় বছরের তৃতীয় মাস শেষ হওয়ার পথে। পরিকল্পনা অনেক আছে এবং হচ্ছে। বাস্তবায়নের পর্ব কেমন তাই দেখার বিষয়। বাংলাদেশের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সঙ্গে অজপাড়াগ্রাম থেকে রাজধানী যেমন জড়িত, তেমনি জড়িত সকল মন্ত্রণালয়ও। দারিদ্র্য বিমোচনের প্রত্যক্ষ ক্ষেত্র শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে সমাজের একটি বড় অংশ জড়িত এবং নির্ভরশীল। গরিব জনগোষ্ঠীর সন্তানের খাদ্য, চিকিত্সার পাশাপাশি লেখাপড়ার দায়িত্বও সরকারের। বাংলাদেশের পল্লী এলাকার জনগোষ্ঠীর প্রাপ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য পল্লী এলাকায় কর্মরত চিকিত্সককে কর্মস্থলে হাজির রাখার দায়িত্ব প্রশাসনের। সুস্থ স্বাস্থ্য নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুকেই পরবর্তী সময় প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার সঙ্গে জড়িত করলে শিক্ষার সুফল পাওয়া যাবে। পুষ্টিজনিত সমস্যা নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশু শিক্ষার সব সুফল ধরে রাখতে পারবে না। শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং সুফল আমরা সবাই বুঝি এবং জানি। বর্তমানে বাংলাদেশে চাকরি একটি সোনার হরিণ। সরকারের হিসাবে বাংলাদেশে বর্তমানে ২৭ লাখ শিক্ষিত বেকার। কর্মসংস্থানের প্রথম যোগ্যতা একটি সার্টিফিকেট। সেই সুন্দর একটি সনদের আশায় অনেকেই পরীক্ষার সময় নকল বা প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অনৈতিক কাজে জড়িয়ে যায়। বর্তমানে অবস্থা এমন পর্যায়ে যে, মনে হয় এমন অপরাধীদের কাছে সরকারও অসহায়। সমস্যা যখন সামাজিক হয় তখন সমস্যার মূলে আঘাত করতে না পারলে সমাধানের চেষ্টা বিফলে যেতে বাধ্য।

উন্নয়নের অন্যতম প্রধান বাধা দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র। আয় কম হলে সঞ্চয় কম হবে, সঞ্চয় কম হলে বিনিয়োগ কম হবে, আর বিনিয়োগ কম হলে আয় কমে যাবে। দারিদ্র্যের এই চক্রে আক্রান্ত বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর দায়িত্ব প্রধানত সরকারের। একই সঙ্গে দেশে সম্পদ বণ্টনেও বৈষম্য রয়েছে। সম্পদ বণ্টনে বিশেষ করে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য সেক্টরে সমতা আনয়নের দায়িত্বও সরকারের, যা দারিদ্র্য বিমোচনের অন্যতম প্রধান শর্ত। কর্মসংস্থানের জন্য বিনিয়োগের অর্থ সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে সরকার একটু অসুবিধার সম্মুখীন হবে উন্নয়নশীল দেশের সারিতে প্রবেশ করার ফলে। অবশ্য সরকারের হাতে সময় আছে। অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় পাওয়া যাবে। সাবধান না হলে বা না থাকলে সময় শেষ হতে বেশি দেরি লাগে না। সাহায্য চাওয়াকে কেউ ভালো চোখে দেখে না।

উন্নয়নের অবস্থান নির্ণয়ের মানদণ্ডের প্রধান হচ্ছে মাথাপিছু আয়, অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা এবং মানবসম্পদ সূচক। এক কথায় মানবসম্পদের অবস্থানের উপর নির্ভর করে সবকিছু। বাংলাদেশের দরিদ্র সম্প্রদায়ের শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য নির্ভর করে সরকারি ব্যয়ে সৃষ্ট পরিসম্পদের ব্যবহারের উপর। হয়ত এই সেক্টরের অব্যবস্থার জন্যই গরিবের আরো গরিব হওয়ার কথা অনেকেই বলছেন। বাংলাদেশে বর্তমানে অবস্থানরত ১৬ কোটি মানুষের চাহিদা মিটাতে কৃষি, তৈরি পোশাক রপ্তানি এবং বিদেশে কর্মরত শ্রমিকের পাঠানো অর্থে আমদানি ব্যয় পরিশোধিত হচ্ছে। ১৭ কোটির এক কোটি বিদেশে কর্মরত। পরিকল্পনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সম্পদের সুষম বণ্টন, সম্পদের অপচয় রোধ এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাতের সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছাতে হবে। তাহলেই নিশ্চিত হবে মানসম্মত শিক্ষা, পাওয়া যাবে মানবসম্পদ, বাড়বে উত্পাদন, দারিদ্র্য বিমোচন হবে টেকসই, সার্থক হবে স্বাধীনতার স্বপ্ন।

লেখক: চেয়ারম্যান, এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট এ্যাসোসিয়েশন-ইডিএ


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top