Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ৫:২২ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
ভাসানীর আদর্শকে ধারণ করে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান  তরুণ ভোটারদের প্রাধান্য দিয়ে প্রণয়ন করা হচ্ছে আ'লীগের ইশতেহার  মওলানা ভাসানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ  বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত করা হয়নি  দাবানলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৪, নিখোঁজ সহস্রাধিক রাজনৈতিক দলগুলোর রেকর্ড পরিমান মনোনয়নপত্র বিক্রি ঐক্যফ্রন্ট সংখ্যাগরিষ্ট আসন পেলে কে হবেন প্রধানমন্ত্রী ?  আ’লীগ নেতা রেজনু ও ছাত্রদল নেতা জিলানির ফোনালাপ ফাঁস প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ইসিকে সহযোগিতার নির্দেশনা | প্রজন্মকণ্ঠ আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে চারজন নিহত | প্রজন্মকণ্ঠ

৩৩০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির ফাঁদে ইসলামী ব্যাংক  


নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রজন্মকণ্ঠ

আপডেট সময়: ৮ এপ্রিল ২০১৮ ৮:২০ পিএম:
৩৩০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির ফাঁদে ইসলামী ব্যাংক  

নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ইউনিল্যান্স টেক্সটাইল নামের প্রতিষ্ঠানকে ৩৩০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক। অব্যাহতভাবে ঋণ দিয়ে গেলেও তা ফেরত দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। বারবার খেলাপি হলেও তা পুনঃতফসিল করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও তা গোপন করে নতুন করে সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, ইউনিল্যান্স গ্রুপের কাছে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমানে পাওনা ৩৩০ কোটি টাকা। ৩০০ কোটি টাকা ফান্ডেড এবং বাকি ৩০ কোটি টাকা নন-ফান্ডেড। ফান্ডেড দায়ের বেশিরভাগই নন-ফান্ডেড হিসেবে অর্থায়ন করে ইসলামী ব্যাংক। পরিশোধ না করায় পরবর্তী সময়ে নন-ফান্ডেড দায় ফোর্সড লোন হিসেবে ফান্ডেড দায়ে পরিণত হয়েছে।

গত বছরের শুরুতে ইসলামী ব্যাংকের গুলশান শাখা পরিদর্শনে এ ঋণ জালিয়াতির বিষয়টি উদ্ঘাটন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পোশাক খাতের এ প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ ঋণই সৃষ্টি হওয়া বা ডিমান্ড লোন। শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলা হতো গুলশান শাখায়। ব্যাক-টু-ব্যাক এলসিও করা হতো।

রপ্তানি বিলের বিপরীতে লোন এগেইনস্ট ট্রাস্ট রিসিপ্ট (এলটিআর) বিপরীতে ঋণ দেওয়া হয়। ৩ থেকে ৬ মাসের স্বল্পমেয়াদি এসব ঋণের টাকা ফেরত দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। এক সময় ব্যাংক বাধ্য হয়ে ফোর্সড লোন হিসেবে মেয়াদি ঋণ সৃষ্টি করে। ওই মেয়াদি ঋণের টাকা পরিশোধ করা হয়নি। ওই ঋণ আবার পুনঃতফসিল করে নতুন করে ঋণ দিতে থাকে ইসলামী ব্যাংক।

একক গ্রহীতা সুবিধা দিতে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ার পর গত অক্টোবরে ইসলামী ব্যাংকে নির্দেশনা পাঠায় বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি পরিদর্শন বিভাগ। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ইউনিল্যান্স গ্রুপকে দেওয়া সব ঋণ ফেরত (রি-কল) আনতে হবে। ফেরত আনা সম্ভব না হলে মন্দমানে (বিএল) খেলাপি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরিদর্শন বিভাগের ওই নির্দেশনা গোপন করে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগে (বিআরপিডি) ঋণটি পুনঃতফসিলের জন্য আবেদন পাঠায় ইসলামী ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন একজন ডেপুটি গভর্নরের সুপারিশে ওই ঋণ ৫ বছরের জন্য পুনঃতফসিল করে দেওয়া হয়। কিন্তু সাধারণত এসব ঋণের ক্ষেত্রে ৩ বছর মেয়াদে পুনঃতফসিলের অনুমোদন প্রদান করে থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ঋণের ক্ষেত্রে কোনো গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয় না। কিন্তু ওই গ্রুপটির জন্য ১ বছর গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়েছে। এমনকি ওই ঋণ ফেরতের জন্য কোনো কিস্তিও নির্ধারণ করে দেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।
পরবর্তী সময়ে পুনঃতফসিলের সুবিধার অনুমোদনপত্র ওই পরিদর্শন বিভাগে পাঠায় ইসলামী ব্যাংক। এতে বিষয়টি নিয়ে বিআরপিডির সঙ্গে আলোচনায় বসে বিভাগটি। অনিয়ম, পরিদর্শন, নির্দেশনার বিষয়টি গোপন করে বলে জানতে পারে বিআরপিডি।

এজন্য গত ২৯ মার্চ চিঠি দিয়ে ওই পুনঃতফসিল সুবিধা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শন বিভাগ থেকে নিষ্পত্তি হওয়ার পর পুনঃতফসিলের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে। এখন থেকে কোনো পুনঃতফসিলের আবেদন পাঠালে তার সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য কোনো বিভাগের আপত্তি বা চলমান কোনো ইস্যু থাকলে বা কোনো নির্দেশনা থাকলে তা বিস্তারিত আবেদনের সঙ্গে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারমান আরাস্তু খান বলেন, এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের দুটি বিভাগের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আমাদের সব কাগজপত্র দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এমডি বিস্তারিত বলতে পারবেন। এ বিষয়ে এমডি মো. মাহবুব-উল-আলমকে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। বিষয়বস্তু উল্লেখ করে এসএমএস পাঠালেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ইউনিল্যান্স গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান ইউনিল্যান্স টেক্সটাইল। গাজীপুরের শ্রীপুরে টেক্সটাইলের কারখানা রয়েছে। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি চালু হয়। ওই গ্রুপের এমডি পদে রয়েছেন শাহ এস আলম। পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ থেকে শাহ এস আলমের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তাকে ফোন দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি। বিষয়বস্তু উল্লেখ করে এসএমএস পাঠানো হলেও কোনো উত্তর আসেনি। এসএমএস পাঠানোর পর ফের কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংক পরিদর্শন করে মূলত দুটি ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম পেয়েছে। এর মধ্যে একটি ঋণের ১৪০ কোটি টাকা এবং আরেকটি ঋণের পরিমাণ ৬২ কোটি টাকা। ২০১৬ সাল পর্যন্ত ১৪০ কোটি টাকা ডিমান্ড লোন (স্বল্পমেয়াদি) পুনঃতফসিল সুবিধা দেওয়া হয় ওই গ্রুপটিকে। কিন্তু এক্ষেত্রে পুনঃতফসিলের যেসব শর্ত তা কিছুই পরিপালন করা হয়নি। কোনো ডিমান্ড লোন পুনঃতফসিল করা হলে তা মেয়াদি হয়ে যায়। মেয়াদি ঋণের কিস্তি থাকে। কিন্তু এলটিআর, বাইসালাম বা অন্য সব ধরনের স্বল্পমেয়াদি ঋণ পুনঃতফসিল করার পরও তা স্বল্পমেয়াদি হিসেবেই রাখা হয়েছে। ফলে সময় পার হলেও টাকা আদায় হয়নি। কারণ টাকা আদায়ের জন্য কোনো কিস্তি করে দেয়নি ব্যাংকটি। সুত্রঃ আমাদের সময়

সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে ৬২ কোটি টাকা ঋণ পুনঃতফসিল করে নিয়েছে। এক্ষেত্রে আগের মতোই ঢালাওভাবে সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে বলা হয়েছে, ব্যাংকের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে দীর্ঘদিন ধরে ওই গ্রুপটিকে নিয়মের বাইরে বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করে আসছে ইসলামী ব্যাংক।

সূত্র জানায়, প্রথমে গ্রুপটির পক্ষে এলসির দায় পরিশোধ করেছে ইসলামী ব্যাংক। এলসি দায় পরিশোধ করেই গ্রুপটি লিমিট পরিপূর্ণ করেছে। এরপরও ওই গ্রুপের রপ্তানি বিল কিনেছে। নিয়মানুযায়ী এলসি দায় পরিশোধের পর লিমিট অবশিষ্ট থাকলে সেই অবশিষ্ট অংশের ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বিল কিনতে পারে। ওই গ্রুপের এলসির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা নন-ফান্ডেড থেকে ফান্ডেড লোন হিসেবে মেয়াদি ঋণে পরিণত করা হয়েছে। যখন ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড ঋণের লিমিট শেষ হয়ে গেছে তখনই লিমিট বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যাংকটি। এরপর খেলাপি হয়ে গেলে সেটি বারবার পুনঃতফসিল করে নিয়মিত করে নেওয়া হয়েছে। এভাবে মাত্র ১৮ কোটি টাকা থেকে গ্রুপটিকে ৩৩০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক। 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top