Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮ , সময়- ১০:২২ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীদের কাঁদিয়ে ‘এবি’ উড়াল দিলেন আকাশে । প্রজন্মকণ্ঠ  কক্সবাজারের টেকনাফে দেশের সবচেয়ে বড় সৌরপ্রকল্প চালু । প্রজন্মকণ্ঠ  জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কিন্তু কেন ?  কক্সবাজারে আত্মসমর্পণ করলেন ৬ দস্যু বাহিনীর ৪৩ সদস্য । প্রজন্মকণ্ঠ শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী মায়ের কবরের পাশে চির নিদ্রায় আইয়ুব বাচ্চু  প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচনা করার কারণেই খাশগজিকে হত্যা করা হয়  জাতীয় পার্টির মহাসমাবেশে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৮ দফা কর্মসূচি ঘোষণা  দেশের শান্তি ও অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি রোধে সবার প্রতি আহ্বান : রাষ্ট্রপতি কারিগরি শিক্ষা ও বিজ্ঞান শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের সংবাদ ৭ দিন বর্জনের আহ্বান : সাংবাদিক নারী সমাজ 

ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন : মীমাংসার পরও দুইপক্ষের সংঘর্ষ, গুরুতর আহত ১৫


নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রজন্মকণ্ঠ

আপডেট সময়: ৪ মে ২০১৮ ৩:৩৯ এএম:
ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন : মীমাংসার পরও দুইপক্ষের সংঘর্ষ, গুরুতর আহত ১৫

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনা সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার পরও দুইপক্ষের লোকজনের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্ততপক্ষে ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের মজলিশপুর উত্তরপাড়া ও মজলিশপুর মাইজপাড়া গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

এ নিয়ে বর্তমানে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে যে কোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, মজলিশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় গত শনিবার সন্ধ্যায় ছাত্রীর মামা শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে যৌন নিপীড়নকারী সাব্বির ও তার সহযোগী লিংকনসহ অজ্ঞাত আরো ২/৩ জনের বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওই ঘটনার সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে ঘটনাটি মীমাংসার জন্য দুইপক্ষের লোকজনকে নিয়ে মজলিশপুর ঈদগা মাঠে সালিশ দরবারে বসে এলাকার মাতব্বরগণ। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান রেহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সালিশে যৌন নিপীড়নকারী সাব্বির তার দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রাথনা করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। 

সমঝোতার পর স্থানীয় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে উভয়পক্ষের লোকজন গিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহার করেন। অভিযোগ প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গেই ফের সাব্বির, লিংকন ও হানিফ তাদের লোকজন নিয়ে ওই স্কুলছাত্রীর মামাসহ তাদের লোকজনের ওপর হামলা করে। এতে উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হন। এর আগেও এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত শনিবার দুইপক্ষের মধ্যে চলা সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছিলেন।

ওই স্কুলছাত্রীর মামা শফিকুল ইসলাম জানান, এলাকার লোকজনের চাপে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বসেছিলাম। উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার খবর পেয়েই পূর্বপরিকল্পিতভাবে অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সাব্বির, লিংকন ও হানিফ তাদের লোকজন নিয়ে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা করে। এতে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়। এছাড়া সংঘর্ষে অংশ নেওয়ার জন্য উত্তরপাড়ার লোকজনকে তারা মাইকে আহ্বান জানায়।

এদিকে অভিযুক্ত সাব্বিরের বাবা কাইয়ুম খান জানান, ঘটনাটি সালিশ দরবারের মাধ্যমে আপোস হয়েছে। সালিশে আমাদের অনেক অপমান-অপদস্ত করা হয়েছে। আমার ছেলে সবার সামনে ক্ষমা চেয়েছে। পরের হামলা বা সংঘর্ষের ঘটনার সঙ্গে তারা জড়িত নয় বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে সালিশের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুর রহমান রেহান জানান, সালিশে খুব সুন্দরভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছিল। সালিশে সাব্বির দোষ স্বীকার করে ক্ষমাও প্রাথনা করে। কিন্তু উভয়পক্ষকে নিয়ে তদন্ত কেন্দ্রে মীমাংসাপত্র জমা দেওয়ার পরপরই ফের সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায় এবং উত্তরপাড়ার লোকজন সংঘর্ষের জন্য মাইকিং করে সবাইকে আহ্বান জানানোর বিষয়টি খুবই দুঃখ জনক।

এ ব্যাপারে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমারত হোসেন গাজী জানান, দুইপক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। স্কুলছাত্রীকে ইভটিজিং করা ছাড়াও দুইপক্ষের মধ্যে খাল খনন নিয়ে শত্রুতা রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরুল ইসলাম, যুবলীগের সভাপতি আবুল বাশারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে থানায় ডাকলে তারা বিষয়টি মীমাংসার দায়িত্ব নেন।

উল্লেখ্য, মজলিশপুর উত্তরপাড়া গ্রামের কাইয়ুম খানের ছেলে সাব্বির স্থানীয় মজলিশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে উত্যক্ত করাসহ কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। গত শুক্রবার রাতে ওই ছাত্রী তার অসুস্থ মামীকে নিয়ে মজলিশপুর বাজারে ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার পথে মজলিশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তরপাশে সরকারি পাকা রাস্তার ওপরে পৌছানোমাত্রই সাব্বির তার সহযোগী লিংকনকে নিয়ে ওই ছাত্রীর পথরোধ করে উত্যক্ত করে এবং কুপ্রস্তাব দেয়। এতে ওই ছাত্রী সম্মতি না দেওয়ায় তারা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top