Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ , সময়- ৭:৫০ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
ডিএমপিতে পাঁচজন সহকারী পুলিশ কমিশনার বদলি ময়মনসিংহের ১১ টি আসনে ৫৭ জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ বিজয়ের মাসের নির্বাচনে জামায়াত, জাতির জন্য লজ্জাজনক  মানুষ যেনো ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশ সিইসি'র   আমরা নির্বাচনে যাব এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দেখবো : মির্জা ফখরুল টেকনোক্র্যাটদের ৪ দফতর বণ্টন করলেন শেখ হাসিনা আ'লীগের ভয় বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট নয়, ভয়ের কারণ জাতীয় পার্টি  মির্জা ফখরুলের গাড়ি বহরে অকষ্মাৎ হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা  প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগে উত্তাল দেশ | প্রজন্মকণ্ঠ   তরুণরাই আওয়ামী লীগের বিজয়ের প্রধান হাতিয়ার

নির্বাচন ভীতি ও নির্বাচন প্রীতির রাজনীতি


অজয় দাশগুপ্ত 

আপডেট সময়: ১৯ মে ২০১৮ ১:০৪ এএম:
নির্বাচন ভীতি ও নির্বাচন প্রীতির রাজনীতি

নির্বাচন ভীতি ও নির্বাচন প্রীতির রাজনীতিএখন নির্বাচন মানেই প্রশ্ন। আগে নির্বাচন ছিল যুগপৎ আনন্দ ও ভয়ের উৎস। সত্তরের নির্বাচনের কিছু স্মৃতি এখনো মনে আছে। সে কি উৎসাহ আর উদ্দীপনা। মায়েরা সবাই সকাল থেকে তৈরি। বাবারা-ভাইয়েরা রাতে ঘুমাতে পারেননি। বাংলাদেশের ভিত্তি তৈরি করার সেই নির্বাচনের পর আজ অবধি এমন কোনো নির্বাচন হয়নি যাকে এর সঙ্গে তুলনা করা চলে। বঙ্গবন্ধুর আমলে যে নির্বাচন কেবল সেটিই ছিল সর্বজনস্বীকৃত। এরপর সামরিক শাসনে হাঁ না ভোটে জিয়াউর রহমান এর বারোটা বাজানোর চেষ্টা করেন।

পরবর্তীতে এরশাদ আমলে পরিণত হয় প্রহসনে। বিএনপি আমলে জোর জবরদস্তির নির্বাচন এখন তার জৌলুস হারিয়ে নির্জীব আর একতরফা। বাস্তবে কেউ আর এর পরোয়া করেন না।

এতে দেশের লাভ লোকসান নিয়েও মানুষের আর মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না। বলে রাখি পুরো দুনিয়ায় এখন নির্বাচন বিষয়টা বদলে গেছে। উন্নত ও সভ্য নামে পরিচিত সমাজে এটি কেবল সরকার পরিবর্তনের হাতিয়ার। আমি যে দেশে বাস করি সেখানে রাজনীতির এমন দুর্দশা ভোট দিতে না গেলে জরিমানা দিতে হয়। আমার ধারণা ফাইন না থাকলে দশ ভাগ মানুষও ভোট কেন্দ্রে যেত না। কারণ মানুষের অনেক কাজ। আর এই কাজগুলো নির্বিঘে সম্পন্ন করার দায়িত্ব পালন করছে রাজনীতি। যার মানে, রাজনীতি মানুষকে তার নিরাপদ জীবন ও সুখ-দুঃখ ভোগের ব্যবস্থা করে দিয়েছে বলেই আধুনিক দেশের মানুষ তার নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। তাদের জানা আছে, যেই আসুক সরকারে তাকে কর দিতে হবে। নিজের বিল নিজে পরিশোধ করতে হবে আর উপার্জনও তার নিজের দায়। ফলে মিছিল মিটিং এগুলো অনেক আগে জাদুঘরে ঠাঁই করে নিয়েছে।

আমাদের বাস্তবতায় দুটো সত্য বিরাজমান। একটি হলো- মানুষ এখন ভালো আছে। বিশেষত তারুণ্যের কাছে রাজনীতি মূলত পচা একটা বিষয়। তাদের চোখের সামনে খুলে যাওয়া বিশ্ব মিডিয়া হাতে হাতে সামাজিক মিডিয়ার বাটন তাদের এতটা ব্যস্ত রাখে যে সময়ই নেই এসব নিয়ে ভাবার। দেশ থেকে বেড়াতে আসা তরুণ তরুণী বা এই বয়সের কাউকে পেলে আমি প্রশ্ন করে দেখেছি তারা এখনকার রাজনীতিবিদ কিংবা মন্ত্রী মিনিস্টারদের চেনেই না। তারা শুধু চেনে শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া বড়জোর এরশাদকে। এই যেখানে হাল সেখানে রাজনীতি ও মিডিয়া এমন ভাব করে যে যেন তাদের ছাড়া দেশ চলে না। দুটোই ফাঁপা।

তারপরও আমাদের দেশ ও সমাজে রাজনীতির বিকল্প নাই। তার অনেক কারণ। দেশ এগোলেও সমাজ এগোয়নি। এর স্তরে স্তরে মৌলবাদ। জঙ্গি বা উগ্র রাজনীতি সক্রিয়। আছে দেশ ও ইতিহাস নিয়ে নানা কূট তর্ক। যতদিন মূল বিষয়গুলো ঠিক না হচ্ছে ততদিন রাজনীতি কেবল রাজনীতি হতে পারবে না। কারণ এর সঙ্গে এখনো বাংলাদেশ এবং তার অস্তিত্ব জড়িয়ে। আমাদের মতো মানুষদের কষ্ট ও বেদনার কারণ সেটাই। যাদের আমরা উপায়হীনভাবে সমর্থন করি সেই আওয়ামী লীগে বিএনপির চাইতে চোর ডাকাতের সংখ্যা বেশি। এদের আমলে দুর্নীতি ও জোর জবরদস্তি এতটা বাড়ে মানুষ ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটায়। জনগণের ইচ্ছে ও ভালোবাসাকে পায়ে দলার ব্যাপারে এদের আগ্রহ এত বেশি যা আর কোনো দলে নেই। অথচ আমরা চোখ বুজে তাদের মুক্তিযুদ্ধের দল বলে সমর্থন দিয়ে থাকি। নির্বাচন নিয়ে আজকে বাংলাদেশে যত কুয়াশা যত ঝামেলা তার পেছনে এই কারণগুলো। দল যদি শেখ হাসিনার মতো নিজেকে বড় করে তুলতে পারত এবং তাদের ভালো কাজ ও অর্জনগুলো মানুষের কাছে নিয়ে যেতে পারত তাহলে নির্বাচন ভীতি দূর হতো। এটা বাচ্চাও জানে বোঝে আওয়ামী লীগ যতই বলুক আর যত করুক তাদের জনপ্রিয়তা নিয়ে সংশয় আছে।

যে জায়গাটা সমর্থন করতে পারি না সেটা হলো- এই অপ্রিয়তার নেপথ্য কারণ। মূলত মুক্তিযুদ্ধ সাম্প্রদায়িকতা আর দেশকে পাকি কায়দায় চালানোর বিষয়গুলো যেহেতু আওয়ামী লীগ হটানোর নেগেটিভ কারণ সে জন্যে আমরা তাদের সমর্থন করতে পারি না। আর এই সুযোগে আওয়ামী লীগও তাদের জোর চালিয়ে যায়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে- দেশ কি এভাবেই চলবে? না কোনো সাধারণ সহজ নির্বাচনে মানুষ ফিরে যাবে স্বাভাবিক নিয়মে? কিন্তু যেটা দেখছি তাতে ভরসা কোথায়? আজ নির্বাচনের তফসিল হলে কাল বন্ধ। বন্ধ না হলে দলাদলি। না হলে জয় পরাজয় নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন আর হতাশা। তাহলে কি মানুষ ধরে নেবে না যে আওয়ামী লীগ আসলে ভয় পাচ্ছে?

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং নেতাদের কথা শুনলে মনে হয় তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার মতো কেউ নেই। অথচ নির্বাচন এলেই দেখছি নানা ধরনের গুজব। নানা ধরনের বিভ্রান্তি আর ঝুট ঝামেলায় সরকারের ইমেজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে তার হিসাব রাখছেন না নেতারা। চারদিকে এত আওয়ামী লীগ, এত দল, এত শাখা, এত প্রশাখা তবু ভোটভীতি। বিদেশেও শান্তিতে থাকতে পারছি না আমরা। চার পাঁচটা আওয়ামী লীগ। কোনো নেতা এলে কে তাকে এয়ারপোর্ট থেকে নিয়ে যাবে, কে দুপুরে ভোজ খাওয়াবে আর কে নৈশভোজ এই প্রতিযোগিতায় বাঙালিরা মুখ লুকিয়ে হেসে হেসে এখন ক্লান্ত। তাদের চোখে মুখের বিরক্তি জানার চেষ্টা দূরে থাক অন্ধরা তাকিয়ে দেখেও বুঝতে পারে না। এগুলো কেবল গদি আর সরকারে থাকার কুফল। আজ মাঠে ফিরে গেলে কাল কি হবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও বোঝেন বলে মনে হয় না। সব দায় দায়িত্ব তারা বঙ্গবন্ধুকন্যার কাঁধে চাপিয়ে আয়েশে রাজত্ব করে চলেছেন।

নির্বাচন প্রীতির আওয়ামী লীগে আজ যে নির্বাচন ভীতি তাকে অস্বীকার করা যাবে না। নেই নেই করেও জাতীয়তাবাদীরা আছে। তাদের কোথাও না থাকা এতটাই শক্তিশালী যে লীগের নেতারা স্বপ্নেও তাদের দেখে আর সে কথাই বলতে থাকে। তাই নির্বাচন এলেই প্রশ্ন জাগে- আসলে কারা জনপ্রিয়? শেখ হাসিনা বা সৈয়দ আশরাফের মতো নেতাদের বাদ দিলে এটা যে কোনদিকে ঝুঁকবে বলা মুশকিল। নির্বাচনভীতি কাটাতে হলে মাঠের রাজনীতি মাঠে ফেরা আর মানুষের মনস্পন্দন বোঝা জরুরি। বিচার ফাঁসি ঘটনা দুর্ঘটনার নাটকে ভরা রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ তা ভুলে বসে আছে। আর ধীরে ধীরে তারাই ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে বা উঠবে যাদের আমরা মুক্তিযুদ্ধের দোহাই, ইতিহাসের দোহাই দিয়ে দূরে সরিয়ে রাখছি। বঙ্গবন্ধুর দেশ জয় বাংলার দেশ আর শেখ হাসিনার উন্নয়নের সমাজে নির্বাচনের ঝুঁকি নিতে না পারলে রাজনীতি এগোবে কীভাবে?

বাংলাদেশের স্বার্থে জনগণের জন্য এই জায়গাটা অচিরেই পরিষ্কার করতে হবে। দেশে ডান বাম সব শক্তিকে আমরা দেখছি নিষ্ক্রিয়। আর তলে তলে সবাইকে আক্রমণ করেছে মৌলবাদের নীরব ঘাতক। খসে পড়ছে নৈতিকতা। নেই মানুষের শ্রদ্ধা ভালোবাসা। চারদিকে কেবল খাই খাই ভাব। এই খাই খাই থেকে মুক্তি আর দেশ ও সমাজে আলোময় করার জন্য শুদ্ধ নির্বাচনমুখী রাজনীতি আওয়ামী লীগ বা মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকেই লাভবান করবে। কারণ বারবার প্রমাণিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ঠুনকো নয়। তার আপন শক্তিই যথেষ্ট সমাজ ও দেশ বাঁচাতে। তাই এখনই সময়।

লেখক : সিডনী প্রবাসী


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top