Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮ , সময়- ৮:২১ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
মুসল্লিরা জায়নামাজ ও ছাতা ছাড়া অন্য কিছু নিতে পারবেন না : ডিএমপি কমিশনার দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে জামাতের সময়সূচী  ব্রাজিলের সাপোর্টার প্রধানমন্ত্রী, একই দলের সমর্থক জয় মুসলিম উম্মাহর ঐক্যে ফাটল সৃষ্টি করতেই ইসরাইলের সৃষ্টি নূর চৌধুরী'কে দেশে ফেরাতে কানাডার আদালতে মামলা করেছে সরকার নির্বাচনী কৌশলগত কারনেই জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ছে বিএনপি বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচে ৫-০ ব্যবধানে জয় পেল স্বাগতিক রাশিয়া বাগেরহাট ৩ আসনের উপ-নির্বাচনে নির্বাচিত এমপি'র শপথগ্রহণ ঘরমুখো মানুষ, চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন ট্রেনের যাত্রীরা

এবার এমপি বদির বেয়াই ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত 


নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রজন্মকণ্ঠ

আপডেট সময়: ২৫ মে ২০১৮ ৬:১৮ পিএম:
এবার এমপি বদির বেয়াই ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত 

সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে পুলিশ কক্সবাজারে সন্দেহভাজন দুই ইয়াবা ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে একজন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির বেয়াই আক্তার কামাল। টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন আক্তার কামাল। তার বিরুদ্ধে থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে দুইটিতে মানবপাচার এবং তিনটিতে মাদক পাচারের অভিযোগ রয়েছে। 

শুক্রবার (২৫মে) সকালে রামু উপজেলায় কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি এলাকা থেকে ৪৮ বছর বয়সী আক্তার কামালের লাশ উদ্ধার করা হয়।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আফরুজুল হক টুটুল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে এক হাজার ইয়াবা, একটি দেশি তৈরি বন্দুক ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। “মাদক মামলা মাথায় নিয়ে আক্তার দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। সকালে স্থানীয়রা তার গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে তা উদ্ধার করে।” ইয়াবা চোরাকারবারিদের দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলিতে আক্তার নিহত হয়েছেন বলে তারা ধারণা করছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজারের বড় মহেশখালী ইউনিয়নের পাহাড়তলী এলাকা থেকে মোস্তাক আহমদ নামে আরেকজনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার ক্ষেত্রেও একই কথা বলেছেন মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারমান নূর হোসেন বলেন, আক্তার কামাল উখিয়া- টেকনাফের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির বড় বোন শামসুন্নাহারের দেবর। তবে এ ঘটনায় এমপি বদির প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে টেকনাফ আসন থেকে জয়ী বদির বিরুদ্ধে নানা সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ এসেছে মাদক সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়ে। ২০১৪ সালের শেষ দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা টেকনাফের শীর্ষ ৭৯ মানব পাচারকারীর তালিকায় বদির নাম আছে ১ নম্বরে ছিল বলেও ২০১৫ সালের মাঝামাঝি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন আসে। তার আগের গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে এ তালিকা করা হয়।

একই বছরের ডিসেম্বরে পুলিশ সদরদপ্তরের নির্দেশে আরেকটি তদন্ত হয়। তাতে বদির আট আত্মীয়কে মানব পাচারকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বদি অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করে এসেছেন।তিনি বলে আসছেন, রাজনৈতিক শত্রুরা তাকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছেন। আর গণমাধ্যম যাচাই বাছাই না করেই প্রতিবেদন প্রকাশ করছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চলতি মাসের শুরুতে সারা দেশে যে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেছে তাতে প্রতি রাতেই বহু মানুষ কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ বলেছে, ওই মৃত্যু ঘটেছে মাদক কারবারিদের নিজেদের গণ্ডগোলে। এ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি বিভিন্ন মহল থেকে ঘুরেফিরে আসছে এমপি বদির নাম। অভিযোগ থাকার পরও দলীয় বিবেচনায় তাকে ছাড় দেওয়ার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছ বিএনপি। আর জাতীয় পার্টির নেতা এইচ এম এরশাদ সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, “মাদক সম্রাট তো সংসদেই আছে। তাদেরকে বিচারের মাধ্যমে ফাঁসির দড়িতে ঝুলান।”

বিভিন্ন মহল থেকে বদির বিরুদ্ধে মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ আসার পরও কেন সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে না- সেই প্রশ্নে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, “প্রমাণ করতে হবে, প্রমাণ ছাড়া তো কাউকে ধরা যায় না, একজন এমপিকে চট করে ধরা যায় না। প্রমাণ হলে সে যদি অপরাধী হয় অবশ্যই তার শাস্তি হবে।”

গত ২২মে সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির সংশ্লিষ্টতার তথ্যের আরও প্রমাণ প্রয়োজন। ‘সংসদ সদস্য বদির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমাদের কাছে আছে। আমরা সেই অভিযোগগুলো সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিচ্ছি। বদিসহ অন্য মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে আপনাদের কাছেও কোনও তথ্য থাকলে আমাদের দিন। বদির বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, প্রমাণ নাই।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বদির বিরুদ্ধে আমরা আরও তথ্য সংগ্রহের কাজ করছি। যথাযথ তথ্য পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ ‘দেখুন যে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত সে যাই হোক না কোনো তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে।’ ‘এক্ষেত্রে আমাদের মোবাইল কোর্টও চলছে সেখানে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তিও হচ্ছে। আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। সে এমপি হউক আর যাই হোক।’


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top