Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮ , সময়- ৮:৩৯ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
মুসল্লিরা জায়নামাজ ও ছাতা ছাড়া অন্য কিছু নিতে পারবেন না : ডিএমপি কমিশনার দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে জামাতের সময়সূচী  ব্রাজিলের সাপোর্টার প্রধানমন্ত্রী, একই দলের সমর্থক জয় মুসলিম উম্মাহর ঐক্যে ফাটল সৃষ্টি করতেই ইসরাইলের সৃষ্টি নূর চৌধুরী'কে দেশে ফেরাতে কানাডার আদালতে মামলা করেছে সরকার নির্বাচনী কৌশলগত কারনেই জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ছে বিএনপি বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচে ৫-০ ব্যবধানে জয় পেল স্বাগতিক রাশিয়া বাগেরহাট ৩ আসনের উপ-নির্বাচনে নির্বাচিত এমপি'র শপথগ্রহণ ঘরমুখো মানুষ, চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন ট্রেনের যাত্রীরা

মাঠপর্যায়ের জরিপে : বিজয় নিয়ে শঙ্কিত আওয়ামী লীগ, ফুরফুরে বিএনপি 


নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রজন্মকণ্ঠ

আপডেট সময়: ২৬ মে ২০১৮ ১২:০৪ পিএম:
মাঠপর্যায়ের জরিপে : বিজয় নিয়ে শঙ্কিত আওয়ামী লীগ, ফুরফুরে বিএনপি 

গাজীপুর সিটিতে মাঠপর্যায়ের জরিপে আওয়ামী লীগ বিজয় নিয়ে শঙ্কিত। তবে ভোট জরিপে এগিয়ে থেকে ফুরফুরে বিএনপি। দলে নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীকে কাউন্সিলর দেয়ার সমঝোতায় মাঠে দেখতে চায় বিএনপি। 

গাজীপুর সিটিতে বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে জামায়াতও মাঠে থাকার কঠিন প্রস্তুতি নেবে। তবে শরিকদল জামায়াতও শক্ত অবস্থানে থেকে বিনিময়ে গাজীপুরে নয়টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে বিএনপির সমর্থন চান। বিএনপি জামায়াতের নির্বাচন সমন্বয়ের একটি সূত্রে জানা যায়, এরই মধ্যে খুলনা স্টাইলে নির্বাচন হলে প্রতিরোধে ৫৭টি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করেছে ২০ দলীয় জোট। 

কমিটির সিংহভাগে দায়িত্বে আছেন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। সমঝোতার ভিত্তিতে এর আগে বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন দেয় জামায়াত। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে বিএনপির মেয়র প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান জামায়াত নেতা ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সানাউল্লাহ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জামায়াতে ইসলামী লাভের হিসাব করেই গাজীপুর সিটিতে শুরুতে মেয়র দিয়ে প্রত্যাহারের মাধ্যমে তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ায়। মুখোমুখি অবস্থানে থেকে প্রাপ্য অংশও হারাতে চান না। তবে বিএনপিও হাঁটছেন কৌশলে। গাজীপুরে জামাতের যে মাঠ আছে তা কৌশলে ব্যবহার করতে চায় দলটি। বিগত সময়ে হরতাল অবরোধে মাঠপর্যায়ে জামায়াত-শিবির যে শক্তি প্রদর্শন করেছে তার কার্যত ক্ষমতা এবার সিটিতে কেন্দ্র দখলের চেষ্টা চললে প্রতিরোধের মাধ্যমে দেখতে চায় বিএনপি। এ নিয়ে জামাতের সাথে একাধিকবার বৈঠক করে বিএনপি। বৈঠকে প্রত্যকেই তাদের চাহিদা তুলে ধরেন। 

এ নিয়ে মাঠে প্রচার প্রচারণাও চলছে সমানতালে। জামায়াত মেয়র পদে বিএনপির পক্ষে ভোট চাইলেও মাঠে কাউন্সিলরদের প্রচারণাও করা হচ্ছে নিজেদের পক্ষে। সম্প্রতি নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পর কিছুদিন প্রচারণা থেকে বিমুখ থাকলেও ফের কোমর বেধে মাঠে নামছে বিএনপি। জোটের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা নিয়ে গতকাল জামাতের সাথে গোপন বৈঠক করে দলটি। 

বৈঠকে উপস্থিত থাকা এক নেতা জানান, ঐ বৈঠকের মূল নেতৃত্ব দিয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন ও মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি খাইরুল হাসান। এছাড়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, মেয়র প্রার্থী হাসান সরকার, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী সায়েদুল আলম বাবুলসহ জোটের প্রায় ডজন খানেক নেতা। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, শুধু এই সিটি নির্বাচন নয় আগামী সকল নির্বাচনে কার কি ভূমিকা থাকবে তা নিয়েও আলোচনা হয়। 

প্রকাশ্যে বিএনপি-জামায়াতের কোনো প্রচারণা করবে না তবে জামায়াত তাদের সক্রিয় প্রচারণা চালাবে সে ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে সমর্থন জানাবে বিএনপি। ভোটকেন্দ্র দখলের কোনো দৃশ্যপট স্পষ্ট হলে প্রতিরোধের জন্য বিএনপির সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভূমিকা পালন করতে হবে জামায়াতকে। ঐ বৈঠকের আরও একটি সূত্র জানায়, এ নির্বাচনে জোটের হয়ে জামায়াত যদি তাদের ভূমিকা দেখাতে পারে তাহলে বরাবরই সিলেটের এহসান মাহবুব জোবায়েরকে নিয়ে যে দাবি করে আসছে তা অবশ্যই বিবেচনায় থাকবে। তবে জামাতের কঠিন বার্তা হলো ক্ষমতাসীন দলের যত অপশক্তি প্রদর্শনই থাকুন না কেন ভোটের দিন শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার শক্তি সঞ্চয় রাখতে হবে। 

এখন থেকেই শরিক দলের যে ৫৭টি কমিটি গঠন করা হয়েছে তাদের ভালোভাবে তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে। তিনি বৈঠকের কথা স্বীকার করে বলেন, গতকালও আমাদের সাথে বিএনপির ঘোরায়া একটি প্রোগ্রাম হয়েছে। জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। আমাদের চাওয়াগুলো আমরা স্পষ্ট করেছি। দলের পক্ষ থেকে জামায়াতের কতজন কাউন্সিলর রয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টা হাইড রাখতে চাচ্ছি’ তবে খুশির খবর হচ্ছে গতকালের বৈঠকে আমাদের আরও দুটি কাউন্সিলর পদ বাড়লো। আমাদের সাথে বিএনপির ভালো যোগাযোগ চলছে। এখন শুধু আতঙ্ক গ্রেপ্তার। 

এ পর্যন্ত আমাদের দুই দফায় ৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।গাজীপুরে খুলনা স্টাইলে নির্বাচন হলে সে ক্ষেত্রে বিএনপির ভূমিকা কী থাকবে এ নিয়ে  বিস্তারিত কথা বলেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার।

তিনি বলেন, সরকারকে মনে রাখতে হবে খুলনা সিটি আর গাজীপুর সিটি এক নয়। গাজীপুর হলো শিল্প এলাকা। অর্থনৈতিক জোন। এখানে হাজার হাজার শ্রমিকের মূল্যায়নের বিষয়। এখানে ‘পান থেকে চুন খসলেই’ জনগণের কাছে তার হিসাব দিতে হয়। কোনো অপশক্তি যদি ভোট দখলের চেষ্টা করে তাহলে জনতার প্রতিরোধ হবে। 

গাজীপুরে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে সরকারকে অনুরোধও করেন হাসান সরকার। সরকার সমর্থিত প্রার্থীর ওপর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত ক্ষমতাসীন সরকার নির্বাচনের আচরণের বিধিলঙ্ঘন করছে। আমরা লিখিত অভিযোগে চিঠির মাধ্যমে ইসিকে জানিয়েছি। কিন্তু ইসির কার্যত ভূমিকা আমরা দেখছি না। জোটের সাথে সমন্বয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসান সরকার বলেন, অতীতের চেয়ে গাজীপুরে জোটের সমন্বয় অনেক ভালো যাচ্ছে। তাদের সাথে আমাদের দফায় দফায় বৈঠক চলছে ভালোই সাড়া পাচ্ছি। শরীক দলগুলো বিএনপির পক্ষে তাদের নিজস্ব এঙ্গেলে কাজ করে যাচ্ছেন।

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে শুরু থেকেই কেন্দ্র থেকে সমন্বয়ে আছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পর এখন মাঠ পর্যায়ে বিএনপির অবস্থান কেমন আর কেন্দ্র দখলে চেষ্টা হলে সে ক্ষেত্রে দলের ভূমিকা কী থাকবে এ নিয়ে কথা হয় । 

তিনি বলেন, গাজীপুরে যে খুলনার চেয়ে আরও ভয়াবহ কেন্দ্র দখল হবে তা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সরকারের এমপি-মন্ত্রীদের আচরণে এখন দিনের মতো স্পষ্ট। তবে আমাদের যেহেতু প্রশাসন নেই, সরকারের মতো পেটুয়া বাহিনী নেই, ইসি নেই সেহেতু জনগণকে পাশে নিয়েই প্রতিরোধ করা হবে। তবে আমরা এবার দৃঢ়তায় আছি নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত আমরা টিকে থাকবো। বিজয়ের ঘোষণা শুনেই মাঠ ছাড়বো।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top