Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , সময়- ৫:৪৫ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বিতর্ক কেন ? বিএনপি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | প্রজন্মকণ্ঠ পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আবেদন খালেদা জিয়ার | প্রজন্মকণ্ঠ খালেদা জিয়া কারাগারের বাইরে থাকার সময়ও জনগণ তার ডাকে সাড়া দেয়নি : ওবায়দুল কাদের বিএনপি-জামায়াত ক্লিনহার্ট অপারেশন চালিয়ে আ'লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীকে নির্যাতনের শিকার করেছিল : প্রধানমন্ত্রী  ধর্মমন্ত্রী ও ভূমিমন্ত্রীর  কড়া সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রিজভীর নেতৃত্বে মিছিল করেছে বিএনপি আ'লীগের প্রতিনিধিদলের উত্তরবঙ্গ সফর শুরু । প্রজন্মকণ্ঠ   বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলন : সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার অঙ্গীকার | প্রজন্মকণ্ঠ  সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে মাঠে নামছে স্বাগতিক বাংলাদেশ, আগামীকাল | প্রজন্মকণ্ঠ

অভিযানকে ঘিরে মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ


ডেস্ক রিপোর্ট

আপডেট সময়: ২৭ মে ২০১৮ ১২:০৮ এএম:
অভিযানকে ঘিরে মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ

পাঠক মতামত : চলছে মাদকের সাঁড়াশি অভিযান। অভিযানকে ঘিরে মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নেমেছে মাদকের সাঁড়াশি অভিযানে।

সুশীল সমাজ বলছে দেশে মাদক প্রবেশের রাস্তাগুলো সিল করে দিতে হবে। মানুষ হত্যা করে মাদক ব্যবসা বন্ধ করা যাবে না। রাজনৈতিক আশ্রয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক ব্যবসা করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে নীতিগতভাবে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবলম্বন করা হচ্ছে।

অভিযানে একটি মাদক ব্যবসায়ীও বাদ যাবে না। র‌্যাব বলছে নারায়ণগঞ্জ জেলার ৩০০ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা তৈরী করা হয়েছে। অনুসন্ধানের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীদের গডফাদারদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

জানা গেছে, প্রতিদিনই নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি থানায় ও উপজেলায় মাদকের সাঁড়াশি অভিযান চলছে। সমাজে মাদকের ভয়াল পরিবেশ থেকে যুব সমাজকে বাঁচাতে হলে এখনই মাদকের লাগাম টেনে ধরতে হবে। তা না হলে খুব শিগ্রই আমাদের সমাজে এর ছোবল প্রকট আকার ধারন করবে।

মাদক পুরোপুরি নির্মূল করা খুবই কষ্টসাধ্য। প্রভাবশালী একটি শ্রেনী মাদক ব্যবসায়ী গডফাদারদের মদদ দিয়ে চলেছে। মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত গডফাদারদের চিহ্নিত করতে হবে। সমাজে তাদের মুখোশ খুলে দিতে হবে। আইনের আওতায় এনে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা তৈরী কারখানা স্থাপিত হয়েছে। ঘরের ভেতরেই তৈরী হচ্ছে মরণ ঘাতক ইয়াবা। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় এমন একটি ইয়াবার কারখানা আবিস্কৃত হয়।

গ্রেফতার হয় কারখানা পরিচালনায় জড়িত এক নারী ও পুরুষ। ধারনা করা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জে অন্তত ২০ থেকে ৩০ টি ইয়াবা তৈরীর কারখানা রয়েছে। এগুলো বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হচ্ছে। কারখানাগুলো নিয়ন্ত্রণে জড়িত রয়েছে বেশ কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা। তবে মাদকের বিরুদ্ধে যে হুংকার দেয়া হচ্ছে ঠিক সেভাবে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে না।

মাদকের গডফাদাররা এখনও ধরা ছোয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। শুধু মাত্র কয়েকজন খুচরা মাদক সেবীকে আটক করে যে ধরনে আওয়াজ সৃষ্টি করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে তা অত্যন্ত নিরাশাজনক। মাদকের গডফাদারদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পারলে হবে প্রকৃত সফলতা।

এদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের রহিম মার্কেটের এক মাদকের গডফাদারের প্রকাশ্য বিচরন চলছে। নারায়ণগঞ্জে জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীদের সাথে তার সখ্যতা নিয়ে জনমনে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন।

জানা গেছে, মাদকের আসক্তি ধীরে ধীরে আসতে শুরু করে। বন্ধু বান্ধবের সহচর্য থেকেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে একটি মানুষ। মাদকের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে তারা জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন ধরনের জঘন্যতম অপরাধে। মাদকসেবীদের আসক্তির সুযোগে মাদক ব্যবসায়ী ও সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সদস্যরা খুন, অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধে তাদেরকে ব্যবহার করে থাকে। মাদকের নেশার জালে একবার কেউ জড়িয়ে পড়লে কেউ সহজে বেরিয়ে আসতে পারেনা। ফলে মাদকসেবীর ধীরে ধীরে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে থাকে। মাদকের ভয়াল থাবা শহর ছাড়িয়ে বর্তমানের উপজেলা গ্রামে গঞ্জেও ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকগন বলছে, মাদক নিয়ন্ত্রন করতে হলে যে কোন মূল্যে মাদকের অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে। দেশে মাদকের উৎপাদন বন্ধ করতে হবে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। মাদকের মূল কুশীলবদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে। মাদকের ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে খুবই শক্ত কয়েকটি সিন্ডিকেট। যাতে জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও জড়িত রয়েছে। এ সিন্ডিকেটগুলিকে নির্মূল করে আইনের আওতায় এনে জনগনের সামনে এদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, যেভাবে মাদকের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে তা আমি মানতে পারছি না। অভিযানে মাদক সেবীদের ধরা হচ্ছে কিন্তু মাদকের গডফাদাররা প্রকাশ্যে নাকে তেল দিচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত না করে এদের যারা মদদ দেয় তাদের নাকে দড়ি লাগাতে হবে।

প্রতিদিন দেশে কয়েক লাখ মাদকের চালান ঢুকছে। মাদকের চালান বন্ধ করতে হবে। আমাদের কাজ হলো দেশে মাদক ঢুকতে না দেয়া। জনগন যখন জেগে উঠবে তখন সরকার বাধ্য হবে মাদক প্রবেশ বন্ধ করতে। তাই আমাদের দেশের জনগনকে জেগে উঠতে হবে। তাদের জাগিয়ে তুলতে হবে। মানুষ হত্যা করে মাদক বন্ধ হবে না। মাদক কিভাবে আসে তা আগে জানতে হবে। রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের আশ্রয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা মাদকের ব্যবসা চালিয়ে থাকে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) শরফুদ্দিন বলেন, আমরা এ বছরের শুরু থেকেই নীতিগতভাবে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবলম্বন করছি। এরই ভিত্তিতে আমরা বন্দুক শাহীন, কিলার মোক্তারসহ বহু মাদক ব্যবসায়ীর লাগাম টেনে ধরেছি। আমরা নিজেদের তালিকার বাইরেও প্রতিটি মহল্লা ও বাড়ি থেকে প্রতিটি মাদক ব্যবসায়ীদের নির্মূল করবো। তাদের খুজে খুজে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করবো।

র‌্যাব-১১ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর আশিক বিল্লাহ বলেন, আমরা বেশ দক্ষতার সাথে কয়েকটি টিমের মাধম্যে অনুসন্ধান চালিয়ে একটি তালিকা তৈরী করেছি। নারায়ণগঞ্জে আমাদের তালিকা অনুযায়ী ৩০০ মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। র‌্যাবের অভিযানে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাছাড়া মাদকের পিছনে যারা পৃষ্ঠপোষক রয়েছে তাদের খুঁজে বের করার জন্য প্রতিদিন অভিযান চলছে। আমরা মাদক ব্যবসায়ীদের গোড়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছি। মাদকের গডফাদারদের খুঁজে বের করতে কাজ করছি। মাদক ব্যবসায়ের সাথে জড়িত রাঘববোয়াল, প্রভাবশালীদের ধরতে র‌্যাব কাজ করছে। র‌্যাব কোন মাদকসেবীকে খুঁজছে না। সাধারন খুচরা ব্যবসায়ীদের ধরে এদের মাধ্যমে মাদকের জড়ে পৌঁছে যাওয়ার জন্য নিরলস কয়েকটি টিম কাজ করছে।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top