Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ২:১৪ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
বিএনপির নির্বাচনে আসার পিছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে : মেনন  ডিসেম্বরের পরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অসম্ভব নির্বাচন বানচাল করার জন্য বিনা উস্কানিতে এই নাশকতা : ওবায়দুল কাদের কী ঘটেছে রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টনে ? দেশকে এগিয়ে নিতে বিশ্বাসঘাতকদের প্রয়োজন নেই : শেখ হাসিনা রাজধানীর নয়াপল্টনে পুলিশ-বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হেভিওয়েট প্রার্থীরা কে লড়বেন কার বিপক্ষে ভোটের মাঠে  নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে হয়রানি ও গায়েবি মামলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে : মির্জা ফখরুল সপ্তাহব্যাপী জাতীয় আয়কর মেলার দ্বিতীয় দিন শেষ হলো সপ্তাহব্যাপী জাতীয় আয়কর মেলার দ্বিতীয় দিন শেষ হলো

রোজা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য লাভের একটি অনন্য সোপান


ডেস্ক রিপোর্ট

আপডেট সময়: ৩১ মে ২০১৮ ১১:০৭ এএম:
রোজা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য লাভের একটি অনন্য সোপান

রোজা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য লাভের একটি অনন্য সোপান। এ রোজার মাধ্যমে মোমিনরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করে এবং প্রবৃত্তিকে দমন করে। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকে। এ দীর্ঘ সময় উপোস থাকার দরুন আল্লাহ তায়ালা রোজাদারের জন্য সূর্যাস্তের পর ইফতারকে সুন্নত করে দিয়েছেন, যাতে রোজাদার ক্লান্তিমুক্ত হয়ে সুস্থ শরীরে আবার আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করতে পারে। ইফতার অর্থ ফাটল, ভাঙন বা রোজা ভঙ্গ করা। শরিয়তের পরিভাষায় রোজা পালনকারী সারাদিন রোজা রেখে সূর্যাস্তের পর কোনো কিছু খেয়ে বা পান করে রোজা ভঙ্গ করাকে ইফতার বলে। ইফতারের গুরুত্ব ইসলামে অপরিসীম। তাই ইফতার নিজে করা, অন্যকে করানো বা ইফতারসামগ্রী কোনো মুসলমানকে দান করা অত্যন্ত ফজিলতের কাজ। 

ইফতার তাড়াতাড়ি করা সুন্নত : সূর্য অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইফতার করা সুন্নত। তবে সূর্য অস্ত গেল কি না, তা নিশ্চিত হতে হবে। কারণ অস্ত যাওয়ার আগে ইফতার করে ফেললে রোজা ভেঙে যাবে এবং রোজাদারের ওপর কাজা ওয়াজিব হবে। তাই ইফতারে তাড়াতাড়ি করার বিষয়টি সূর্যাস্তের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আর সূর্যাস্তের আগেই ইফতারি সামনে নিয়ে অপেক্ষা করা মুস্তাহাব। পেটে ক্ষুধা রেখে খাবার জিনিস সামনে নিয়ে আল্লাহর হুকুমের অপেক্ষা করাই হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, মানুষ কল্যাণের সঙ্গে থাকবে, যতকাল তারা তাড়াতাড়ি ইফতার করবে। (বোখারি : ১৯৯৪)। আরও বলেন, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আমার বান্দাদের মধ্যে আমার কাছে অধিকতর প্রিয় তারাই, যারা শীঘ্র শীঘ্র ইফতার করে। (তিরমিজি : ৭০৪)।

প্রথমে খেজুর বা পানি দ্বারা ইফতার করা : রোজাদারের জন্য ইফতারের সময় হলো আনন্দের সময়। সারা দিন রোজা রেখে সে ইফতার দ্বারা নিজের রোজা খোলে ও পরিপূর্ণ করে। 

ইফতার রোজা পালনকারীর প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত অনন্য নেয়ামত। ইসলাম প্রতিটি কাজের নিয়ম বলে দিয়েছে। সে হিসেবে ইফতার করারও একটি সুন্দর নিয়ম রয়েছে। আর তা হলো ইফতার খেজুর দ্বারা শুরু করা। আর যদি খেজুর না থাকে, তখন পানি দ্বারা সর্বপ্রথম ইফতার করা। এভাবে ইফতার করাকে হাদিসের ভাষায় বরকতময় ও পবিত্রকারী বলা হয়েছে। তাই ইফতার করার সময় রোজা পালনকারীকে এই সুন্নতের প্রতি লক্ষ রাখা উচিত। 
এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, যখন তোমাদের কেউ ইফতার করে, সে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে। কারণ এতে বরকত রয়েছে। যদি খেজুর না পায়, তবে যেন পানি দ্বারা ইফতার করে। কেননা তা হলো পবিত্রকারী। (তিরমিজি : ৬৯৯)। 

রোজাদারকে ইফতার করানোর ফজিলত : রোজা পালনকারী রোজা রাখার পাশাপাশি অনুরূপ আরেকটি রোজার সওয়াব অর্জন করতে পারে। কারণ কোনো রোজাদারকে ইফতার করানো হলে আল্লাহ ইফতার প্রদানকারীকে অনুরূপ আরেকটি রোজার সওয়াব দান করেন। এছাড়াও রমজান মাসে প্রত্যেক ভালো কাজের প্রতিদান বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। সেই হিসেবে রমজান মাসে দানের ফজিলতও বেশি। এ মর্মে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাল  তার জন্য তার অনুরূপ সওয়াব রয়েছে।’ (মেশকাত : ১৮৯৫)। 

ত্বরিত ইফতার মোমিনের পরিচয় : মুসলমানের প্রতিটি কাজের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ইফতারেরও একটি ভিন্ন বৈশিষ্ট্য আছে। কারণ মুসলিম ও অমুসলিম উভয়ের ইফতারে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। পার্থক্যটি হলো মুসলমানরা ত্বরিত ইফতার করে, অর্থাৎ সূর্যাস্তের পরপরই ইফতার করে নেয়। আর অমুসলিমরা ইফতার করতে বিলম্ব করে। সুতরাং ইফতার করার সময় মোমিনদের জন্য দেরি করা উচিত নয়। সময় হওয়ামাত্রই ইফতার করে নিতে হবে। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, ‘দ্বীন জয়ী থাকবে যতদিন লোকরা শিগগির ইফতার করবে। কারণ ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা ইফতার করে দেরিতে।’ (আবু দাউদ : ২৩৫৫)।

ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয় : বান্দার দোয়া কবুল হওয়ার কতকগুলো সুনির্দিষ্ট সময় রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো ইফতারের সময়। এ সময় বান্দার দোয়া আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে। 

তাই মুসলিম উম্মাহর জন্য উচিত, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কায়মনোবাক্যে আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করা। রাসুল (সা.) একটি হাদিসে বলেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া বৃথা যায় না ১. রোজাদারের ইফতারের সময়কার দোয়া, ২. ন্যায়পরায়ণ বাদশাহর দোয়া এবং ৩. মজলুমের দোয়া। (তিরমিজি : ২৫২৫)। 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top