Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮ , সময়- ২:৫৬ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী ঢাকায় সংবর্ধনার দরকার নেই, জনগণ সুখে থাকলেই আমি খুশি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবর্ধনার দরকার নেই, জনগণ সুখে থাকলেই আমি খুশি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধের মামলায় ৩৪তম রায়ের অপেক্ষা প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অভিমুখে জনস্রোত নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব আরও প্রকট : ভেস্তে যেতে বসেছে যুক্তফ্রন্টের উদ্যোগ শেখের বেটি মোক নয়া ঘর দেল বাহে, মোক দেখার কাইয়ো ছিল না ‘স্বপ্ন’ প্রকল্পটির সুফল পাচ্ছে সাতক্ষীরা ও কুড়িগ্রাম জেলার ৮,৯২৮ দরিদ্র নারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণসংবর্ধনা দিতে প্রস্তুত আওয়ামী লীগ ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে দিল্লির গোলামি করতে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি : গয়েশ্বর

শিগগিরই শুরু হবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, তালিকায় যত রাঘববোয়াল 


প্রজন্মকণ্ঠ বিশেষ প্রতিবেদক

আপডেট সময়: ৩ জুন ২০১৮ ১:৩৭ পিএম:
শিগগিরই শুরু হবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, তালিকায় যত রাঘববোয়াল 

মাদক ও ভেজালবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি শিগগিরই শুরু হবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান। ঈদুল ফিতরের পর চূড়ান্তভাবে এ অভিযান শুরু হবে বলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র নিশ্চিত করেছে। সমাজের ক্ষত সারাতে মাদক, ভেজালের পাশাপাশি দলমতনির্বিশেষে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানও সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ।

ইতোমধ্যে বেশ ক’জন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য, ব্যাংক পরিচালক, পুলিশের কর্তাব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের ডেকেছে দুদক। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে আগেই জনগণের সমর্থন ও জনতুষ্টির জন্য দুর্নীতিবিরোধী অভিযান আরও জোরালো হচ্ছে বলে জানা গেছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চমকে উঠার মতো অনেক রাঘববোয়াল এবার দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে ফেঁসে যেতে পারেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদও বলেছেন, দুর্নীতি দমনে যা যা করা দরকার, সবই করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুদকের হাতে থাকা তালিকায় এমপি, বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা, ধনাঢ্য ব্যবসায়ী থেকে সরকারি কর্মকর্তা পর্যন্ত রয়েছেন। বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করেছে দুদক। এছাড়া প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দুদকের নিজস্ব গোয়েন্দা শাখাও তথ্য সংগ্রহ করেছে। শিগগিরই এসব রাঘববোয়ালদের সম্পদের হিসাব চেয়ে চিঠি পাঠাবে দুদক। ইতোমধ্যে বগুড়ার এক এমপির সম্পদের হিসাব চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক।

প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানায়, সমাজের ক্ষতগুলোর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান চালাতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট দফতরকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা তিনি দিয়েছেন। মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান যেমন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে হচ্ছে, তেমনি দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। জানা গেছে, দলমতনির্বিশেষে চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান চান প্রধানমন্ত্রী। এর আলোকে দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত করেছে। এবার শুরু হবে চূড়ান্ত অভিযান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মাদকের পাশাপাশি দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে জোরদারে  প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা রয়েছে। তিনি তার ঘনিষ্ঠদের অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় বলেছেন, মাদকের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হবে। এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশনকে স্বাধীনভাবে দলমত বাছবিচার না করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

সম্প্রতি পুলিশের এসপি মিজানের দুর্নীতি নিয়ে দুদক অনুসন্ধান করেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদের বিষয়ে পুলিশের ডিআইজি মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুদক। দুদক জিজ্ঞাসাবাদ করছে বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়ালকে।

কুড়িগ্রাম-৪ আসনের (রৌমারী-রাজীবপুর ও চিলমারীর কিছু অংশ) জাতীয় পার্টির (জেপি) এমপি রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বগুড়া-৫ (ধুনট-শেরপুর) আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাবিবর রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত শতকোটি টাকার সম্পদের খোঁজে তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শুধু এমপি হাবিবরই নন, সঙ্গে তার স্ত্রী খাদিজা হাবিব, ছেলে আসিব ইকবাল সনি ও মেয়ে ফারজানা দিবার নামে জমি এবং ফ্ল্যাট ক্রয়সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ছায়ালিপি চেয়ে বগুড়া জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে চিঠি দিয়েছে। গত ১৯ এপ্রিল পাঠানো এ চিঠিটি জেলা সদর ছাড়াও ১২ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পাঠানো হয়েছে। এর আগে খুলনার সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান, শেরপুরের এমপি হুইপ আতিককে ডেকেছিল দুদক। বেসিক ব্যাংকের সাবেক কর্তা আবদুল হাই বাচ্চুকে ডেকেছে কয়েকবার।

শুধু রাজনীতিবিদ নন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও নজরদারিতে রেখেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জানা গেছে, দুদকের হটলাইনে সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কার্মচারীদের বিরুদ্ধেই বেশি দুর্নীতির অভিযোগ আসে। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, এলজিইডি, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, সোনালী, জনতাসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

দুদক সূত্র জানায়, বিভিন্ন অভিযোগ অভিযোগ অনুসন্ধানের পর ২০১৭ সালে দুদকের দায়ের করা অর্ধশতাধিক মামলায় মোট ২৮৮ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে। তার আগের বছর ২০১৬ সালে ৩৯৯ জনকে আসামি করা হয়। এছাড়া চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ৮৩ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এজহারভুক্ত আসামি হয়েছেন।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (উপপরিচালক) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, বিভিন্ন সময়ে পাওয়া লিখিত অভিযোগ ও হটলাইনে প্রাপ্ত অভিযোগ পর্যালোচনা করে দেখেছে কমিশন। এছাড়া এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তালিকা করে সে অনুযায়ী অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুদক সেবা প্রতিষ্ঠানে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে।

এদিকে সারাদেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও গতিশীল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানের পাশাপাশি মাদকের গডফাদারদের কালোটাকার খোঁজে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নামে-বেনামে রাখা তাদের অবৈধ সম্পদ খুঁজতে শুরু করেছে সংস্থাটি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পাওয়া সাড়ে তিনশ গডফাদারের তালিকা ধরে কাজ শুরু করেছে দুদক।

জানা গেছে, দুদক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর থেকে ১৪১ এবং একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা থেকে ১১০ জন মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা সংগ্রহ করেছে। দুদকের কাছেও সরাসরি এসেছে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীর নাম। সব মিলে সংস্থাটির কাছে সাড়ে তিনশ মাদক নিয়ন্ত্রণকারী ব্যবসায়ীর নাম রয়েছে। দেশজুড়ে থাকা এসব মাদক ব্যবসায়ী এই অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দুদক সূত্র জানায়, তালিকা ধরে সংস্থাটি কাজ শুরু করেছে আরও আগে থেকেই। তবে চলমান অভিযানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দুদক তাদের কাজে আরও গতি আনবে শিগগিরই।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top