Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮ , সময়- ২:৪৫ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী ঢাকায় সংবর্ধনার দরকার নেই, জনগণ সুখে থাকলেই আমি খুশি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবর্ধনার দরকার নেই, জনগণ সুখে থাকলেই আমি খুশি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধের মামলায় ৩৪তম রায়ের অপেক্ষা প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা : সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অভিমুখে জনস্রোত নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব আরও প্রকট : ভেস্তে যেতে বসেছে যুক্তফ্রন্টের উদ্যোগ শেখের বেটি মোক নয়া ঘর দেল বাহে, মোক দেখার কাইয়ো ছিল না ‘স্বপ্ন’ প্রকল্পটির সুফল পাচ্ছে সাতক্ষীরা ও কুড়িগ্রাম জেলার ৮,৯২৮ দরিদ্র নারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণসংবর্ধনা দিতে প্রস্তুত আওয়ামী লীগ ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে দিল্লির গোলামি করতে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি : গয়েশ্বর

হলি আর্টিজান হামলা মামলায় ১০ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র


ডেস্ক রিপোর্ট

আপডেট সময়: ৩০ জুন ২০১৮ ১০:৩৫ এএম:
হলি আর্টিজান হামলা মামলায় ১০ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা মামলায় সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

প্রায় দুই বছর ধরে চলা তদন্তের হালচাল জানাতে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশ কমিশনার। এ সময় তিনি এই তথ্য জানান।

২০১৬ সালের ১ জুলাই দেশ কাঁপানো এই হামলায় ১৭ বিদেশি, দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ হত্যা করা হয় ২২ জনকে। আর পরে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে জীবিত উদ্ধার করা হয় ১৩ জনকে, হত্যা করা হয় পাঁচ হামলাকারী। তারা সবাই জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই রেস্টুরেন্ট থেকে উদ্ধারের পর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথের শিক্ষক হাসনাত করিমকে পরে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তিনি এখনও কারাগারে আছেন।

এই হামলার পর ওই বছরের ৭ জুলাই জঙ্গি হামলার চেষ্টা হয় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায়। আর এরপর জঙ্গিবিরোধী পাল্টা অভিযানে নামে পুলিশ।

হলি আর্টিজানে হামলায় নাম আসা জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির নেতা তামিম চৌধুরী, অন্যতম শীর্ষ নেতা সারোয়ার জাহান, সন্দেহভাজন প্রশিক্ষণ দাতা মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম, অন্যতম হোতা নুরুল ইসলাম মারজানসহ বেশ কয়েকজন র‌্যাব ও পুলিশের হামলায় নিহত হয়েছে।

হামলাকারীদের অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহসহ জড়িত থাকার অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, বড় মিজানসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অভিজ্ঞ কর্মীরা নিরিবচ্ছিভাবে মামলাটি তদন্ত করেছে এবং তদন্ত এখন একদম শেষ পর্যায়ে। আমরা প্রত্যাশা করছি এক সপ্তাহ অথবা ১০ দিনের মধ্যে এই মামলার অভিযোগপত্র বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করতে পারব।’

দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত চলার কারণ জানিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘দায়সাড়াভাবে যদি অভিযোগপত্র দেই, তখন আসামিপক্ষের উকিল বিভিন্নভাবে প্রশ্ন উত্থাপন করবে, তার জবাব ও প্রমাণ আমাকে দিতে হবে। মুখের কথা কেউ বিশ্বাস করবে না। তার বস্তুগত প্রমাণ অভিজ্ঞদের দিয়ে বলতে হবে। এই কারণেই আমরা মামলার তদন্তের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে করেছি যা শেষ পর্যায়ে আছে।’

এই ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে দুই জন ছাড়া সবাই গ্রেপ্তার আছে বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। তবে কত জনকে আসামি করা হচ্ছে-সেটি জানানো হয়নি।

‘ন্যায় বিচারের স্বার্থে এই মুহূর্তে কারো নাম কিংবা চার্জশিটে জড়িতদের সংখ্যা বলা হচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করছি কোনো অপরাধী যেন এই মামলায় ছাড় না পায়। কোনো নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানি না হয় সেই বিষয়টি আমাদের খেয়ালে আছে। এই মামলাটি একটি দৃষ্টান্ত বাংলাদেশে থেকে যাবে।’

পুলিশ কমিশনার জানান, এই হামলাটি হঠাৎ করে হয়নি। দীর্ঘদিনের পরিকল্পায় ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তার এর পেছনে অনেকেই সম্পৃক্ত ছিল।

‘এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যারা জড়িত ছিল ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে তাদের প্রত্যেকে তথ্য বেড়িয়ে এসেছে। অস্ত্র সংগ্রহে অর্থের প্রয়োজন হয়েছিল এই অর্থ কারা দিয়েছে,  কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে ট্রান্সফার হয়েছে।’

‘এরপর একটি বাসা দরকার ছিল। সেল্টার দরকার ছিল, বাসা ভাড়াটা কে নিয়েছে এবং কে দিয়েছে সব আয়োজনকে করেছে এই সব পরিকল্পনার মাস্টারমাইন্ড কারা সেসব তথ্য বেড়িয়ে এসেছে। কারণ এটা স্বাভাবিক ঘটনা না। আমি বলব এটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।’

সরকার পতনও ছিল হামলার উদ্দেশ্য

ডিএমপি কমিশনার জানান, এই হামলার পেছনে যেসব উদ্দেশ্য ছিল তার একটি ছিল সরকার পতন। বলেন, ‘আমি বলেছি এখানে অনেকগুলো গ্রুপ কাজ করেছে। এটা বাংলাদেশকে অকার্যকর করা, বিদেশিদের মধ্যে ভয়ের সৃষ্টি করা, দেশের জনগণের মধ্যে উন্নয়ন ব্যহৃত করা, আমাদের বিদেশি ক্রেতা বা বিনিয়োগ কারীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করা এবং সরকার পতন করে দেয়া একটা গভীর ষড়যন্ত্র ছিল।’

এই ষড়যন্ত্রের পেছনে রাজনৈতিক কোনো ব্যাপার আছেও কি-না এমন প্রশ্নে ডিএমপি প্রধান বলেন, ‘রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা এখনই বলতে চাই না। আমি একজন প্রজাতন্ত্রের কমচারী। যখন বিচারিক আদালতে উঠতে মামলাটি তখন সবাই সব জানতে পারবে।’

‘তবে এটা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। এই ঘটনায় জেএমবির বিভিন্ন জনের নাম আছে। যারা এই কাজে জড়িত তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না।’

বিদেশ থেকে কোন সহযোগিতা বা অর্থ এসেছে কি না এমন প্রশ্নেরও জবাব মেলেনি। বলা হয়, ‘সাতদিন অপেক্ষা করুন অভিযোগপত্র দিলে সব জানতে পারবেন।’


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top