Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ , সময়- ২:৫৪ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
‘বিএনপির ৯০ ভাগ প্রার্থী দুর্নীতিবাজ এবং সন্ত্রাসী’ : ওমর ফারুক চৌধুরী ভোটের মাঠে লড়বেন ১,৮৪১ জন প্রার্থী, স্বতন্ত্র ৯৬ শেখ হাসিনার হ্যাট্রিক নাকি ক্ষমতায় আসছে বিরোধীরা ? বিশ্লেষণে আন্তর্জাতিক মহল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৎ নেতা হিসাবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত  ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট উন্নয়নের স্বার্থে হোক, শন্তির পক্ষে হোক’ জামিনে মুক্ত ভিকারুননিসার শিক্ষক হাসনা হেনা ময়মনসিংহ মুক্ত দিবস আজ খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা নিয়ে রিটের আদেশ আগামীকাল  মনোনয়নপত্র ফিরে পাচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলম নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন শেখ হাসিনা, ১২ ডিসেম্বর

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আ'লীগের দেয়া গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে

সংবর্ধনার দরকার নেই, জনগণ সুখে থাকলেই আমি খুশি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


প্রজন্মকণ্ঠ রিপোর্ট

আপডেট সময়: ২১ জুলাই ২০১৮ ১১:৩৩ পিএম:
সংবর্ধনার দরকার নেই, জনগণ সুখে থাকলেই আমি খুশি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নৌকা ঠেকাতে একটি মহল তৎপর রয়েছে মন্তব্য করে তাদের কড়া সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, নৌকা কেন ঠেকাতে হবে? নৌকার অপরাধ কী? এসময় তিনি অনেকটা ঠাট্টার ছলে বলেন, সামনে শ্রাবণ মাস। বর্ষার সময়, বন্যার সময়। নৌকাতো লাগবে। যেসব রাজনীতিকরা নৌকা ঠেকাতে নেমেছেন, তাদের বন্যার সময় রিলিফ বিতরণ করতে ও চলাচল করতেও তো নৌকাই লাগবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি জনগণের সেবক, তাই জনগণ সুখে থাকলেই আমি খুশি। আমার কোনো সংবর্ধনার দরকার নেই। তাই আমি এই সংবর্ধনা বাংলার মানুষকে উৎসর্গ করছি।

শনিবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের দেয়া গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নৌকায় ভোট দিয়েছে বলে জনগণ ভাষার অধিকার পেয়েছে। দেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। দেশের উন্নয়ন হয়েছে। স্বল্পন্নোত থেকে উন্নয়নশীল দেশে নাম লিখিয়েছে। পারমণবিক ও স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করেছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রশ্ন রেখে বলেন, নৌকা ঠেকিয়ে কি রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমতায় আনবেন? যারা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তাদের মুখে একথা মানায় না।

তিনি বলেন, আমরাই নির্বাচনে স্বচ্ছ ব্যালোট বাক্স এনেছি। স্থানীয় ও জাতীয়সহ এ পর্যন্ত যতোগুলো নির্বাচন হয়েছে সবগুলোতে জনগণ ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেছে। গণতন্ত্র যদি না থাকে তবে জনগণ ভোট দিয়েছে কিভাবে?

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিজের জন্য মাত্র পাঁচ ঘণ্টা সময় ব্যয় করি। কোনো উৎসবে আমি যাই না। প্রতিটি মুহূর্ত কাজ করি দেশের মানুষের জন্য।

তিনি বলেন, মৃত্যুভয় আমি করি না। মৃত্যুর আগে মরতেও রাজি নই। যতোক্ষণ জীবন আছে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাবো। যে মানুষের জন্য আমার বাবা সারাজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। বেহেশত থেকে আমার বাবা তা দেখবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের ভাগ্য নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলবে, তা বরদাশত করব না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। এগিয়ে যাওয়ার ধারা আমরা যাতে অব্যাহত রাখতে পারি।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি বলেন, কবিগুরুর ভাষায় বলতে চাই এ মণিহার আমায় নাহি সাজে। আমার সংবর্ধনার প্রয়োজন নেই। আমি শুধু চাই বাংলার মানুষ কী পেল। এই অর্জন সেসব নেতাকর্মীর, যারা দলের জন্য রক্ত দিয়েছেন, আত্মত্যাগ স্বীকার করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জনগণের সেবক। তাদের সেবা করেই নিজের সার্থকতা খুঁজে পাই। জাতির পিতা মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকারের জন্য কাজ করেছেন। আমি তার কন্যা হিসেবে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। তার স্বপ্নের উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র, ভোট ও ভাতের অধিকারের জন্য লড়াই করে যারা জীবন দিয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা ৯ মাসের মধ্যে জাতিকে যে সংবিধান দিয়েছিলেন সেই সংবিধানকে লঙ্ঘন করে মার্শাল ল জারি করে ক্ষমতাকে নেওয়া হয় সেই ক্যান্টনম্যান্টে। তারা ক্ষমতাকে উপভোগ করেছে। প্রতারণা করেছে জাতির সাথে। এসব অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী উচ্ছিষ্টভোগীরা এলিট শ্রেণি হয়েছে। বিত্তশালী হয়েছে। এ দেশে বারবার ক্যু হয়েছে। স্বাধীনতার পর ১৯টা ক্যু হয়েছে এই দেশে। আর স্বাধীন বাঙালির জনগণের ক্ষমতাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ক্যান্টনম্যান্টে।

এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে দেয়া মানপত্র পাঠ করা হয়। পরে মানপত্রের বাঁধাই করা একটি স্মারক তার হাতে তুলে দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। সংবর্ধনামঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ভারতের কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট ডিগ্রি অর্জন, মহাকাশে সফলভাবে বঙ্গবন্ধু ১ স্যাটেলাইট পাঠানো, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড অর্জন এবং বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করায় প্রধানমন্ত্রীকে এই গণসংবর্ধনা দেয় তার দল আওয়ামী লীগ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঘিরে সকাল থেকে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অভিমুখে জনস্রোত নামে। দুপুরের মধ্যেও গোটা এলাকা লোকে লোকারণ্যে পরিণত হয়। 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top