Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮ , সময়- ৯:২০ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
অটলবিহারী বাজপেয়ীর অবস্থা সঙ্কটজনক আলোর গতিতে বাংলার আকাশ ছাড়িয়ে বহির্বিশ্বে বঙ্গবন্ধুর নাম গভীর শোক আর শ্রদ্ধায় জাতি স্মরণ করলো বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশ সরকার গণগ্রেপ্তার চালাচ্ছে - এইচআরডব্লিউ : বিশ্লেষক প্রতিক্রিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ছিল দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক চক্র : সেলিম জাতীয় নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে : কামরুল নির্বাচনে বিশ্বাস করি, ভোটের লড়াই করে ক্ষমতায় যেতে চাই : মোহাম্মদ নাসিম কাবুলে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় ৪৮ জন নিহত এখন পর্যন্ত ৪০ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু  বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সারওয়ারকে শেষ বিদায় জানালেন বানারীপাড়াবাসী

তালিকাচ্যুতির পাইপ লাইনে আরও ২৫ কোম্পানি


প্রজন্মকণ্ঠ রিপোর্ট

আপডেট সময়: ২৩ জুলাই ২০১৮ ১১:২০ পিএম:
তালিকাচ্যুতির পাইপ লাইনে আরও ২৫ কোম্পানি

পুঁজিবাজারকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে জঞ্জালমুক্ত কার্যক্রম হাতে নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সেচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। বছরের পর বছর যেসব কোম্পানির বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ আছে বা লভ্যাংশ দিচ্ছে না, সেগুলোকে জঞ্জাল হিসেবেই দেখছেন তারা। 

এতদিন মুখে বললেও এখন তা বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। তালিকাভুক্তি অথচ উৎপাদন বন্ধ, রুগ্ণ ও দুর্বল মৌলভিত্তির বেশকিছু কোম্পানির তালিকা করে অ্যাকশন শুরু করেছেন কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে রহিমা ফুড ও মডার্ন ডাইং কোম্পানিকে তালিকাচ্যুতি করা হয়েছে। উৎপাদন বন্ধ অন্য কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

প্রাথমিকভাবে এটি দৃষ্টান্ত হিসেবে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, তালিকাচ্যুতির ধারাবাহিকতায় পাইপ লাইনে রয়েছে জেড ক্যাটাগরির কোম্পানিসহ আরও অর্ধশতাধিক কোম্পানি। তবে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে গুরুত্ব পাচ্ছে প্রায় ২৫টি কোম্পানি। তবে এ বিষয়ে এখনই মুখ খুলতে রাজি নয় ডিএসই কর্তৃপক্ষ। 

এদিকে দেরিতে হলেও কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, একইসঙ্গে বছরের পর বছর বন্ধ থাকা বা লভ্যাংশ না দেওয়া সব কোম্পানির বিষয়েও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া যুক্তিযুক্ত হবে। তাদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ পুঁজিবাজারের জন্য ভালো। এতে ছোট ছোট কোম্পানি ও উৎপাদনে না থাকা কোম্পানি ঘিরে যেসব কারসাজির ঘটনা ঘটে, তা বন্ধ হবে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম আজকালের খবরকে বলেন, ডিএসইর এটি একটি সঠিক সিদ্ধান্ত। যা আরও আগে করা উচিত ছিল। একটি কোম্পানি ২০১০ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে অথচ এটা করা হয়েছে ২০১৮ সালে। কোম্পানি দুটির তালিকাচ্যুত হওয়া উচিত ছিল আরও অনেক আগে বলে তিনি মন্তব্য করেন। 

এ প্রসঙ্গে ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান বলেন, এটি একটি ভালো সিদ্ধান্ত, যা পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক। কারণ এসব কোম্পানিতে কারসাজির ঘটনা ঘটে বেশি। ডিএসইর এ সিদ্ধান্তের ফলে কারসাজিকারীদের দৌরাত্ম্য কমবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। 

আইন অনুযায়ী ডিএসই চাইলে অভিযুক্ত এসব কোম্পানিকে পুঁজিবাজার থেকে তালিকাচ্যুত করতে পারে। তবে তালিকাচ্যুতির এ খবরে বিনিয়োগকারীদের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। একাধিক বিনিয়োগকারী জানান, রহিমা ফুড ও মডার্ন ডাইং কোম্পানি দুটিকে তালিকাচ্যুত করা হয়েছে কোনো শুনানির সুযোগ না দিয়েই। এছাড়া সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থটুকুও দেখা হয়নি। বিকেলে সিদ্ধান্ত, তারপরের দিন থেকেই তালিকাচ্যুত। 

তারা জানান, এ আইনের আওতায় সালমান এফ রহমানের দুটি কোম্পানিসহ কমপক্ষে ১৫টি কোম্পানি রয়েছে যেগুলোকে ডিএসই চাইলেই ডি-লিস্টিং করতে পারে। তবে ডি-লিস্টিং করার আগে অন্তত শুনানির সুযোগ দেওয়া উচিত। কোম্পানির পরিচালকদের দায়ভার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়াটা নৈতিকতায় পড়ে না। কারণ কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে শাস্তি দেওয়া হলেও ভুক্তভোগী হচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। যেসব কোম্পানিকে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ওটিসিতে পাঠানো হয়েছে সেগুলোর পরিচালক, ইস্যু ম্যানেজার রয়েছেন আরাম-আয়েশে। কোম্পানির পরিচালকরা অন্য ব্যবসায় মনোযোগী, ইস্যু ম্যানেজার অন্য কোম্পানি নিয়ে ব্যস্ত। অথচ অবহেলায় ওটিসিতে পড়ে থাকা কোম্পানির শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের কোনো দায় নেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন ডিএসই কর্তৃপক্ষ। নাম প্রকাশ না-করার শর্তে ডিএসইর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, তিন বছরের অধিক সময় ধরে উৎপাদন বন্ধ এবং তালিকাচ্যুত হওয়া কোম্পানিগুলোর বিপুল পরিমাণ শেয়ার নিয়ে ‘ডিএসইর কোনোকিছু করণীয় নেই। যা করার কোম্পানি করবে। কারণ, এসব কোম্পানি সম্পর্কে আগে থেকে সতর্ক করা হয়েছিল। 

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তালিকাভুক্ত অন্তত ১৬ কোম্পানির উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ আছে। আংশিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে আছে কয়েকটির। আর গত পাঁচ বছরে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেয়নি এমন কোম্পানি অন্তত সাতটি। আবার উৎপাদন বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালু থাকলেও অন্তত পাঁচ বছর লভ্যাংশ দেয় না এমন কোম্পানি আছে আরও সাতটি। গত চার বছরের মতো এ বছরও লভ্যাংশ না দিলে এমন কোম্পানি সংখ্যা ১১ ছাড়াবে।

তালিকাভুক্তি প্রবিধান (লিস্টিং রেগুলেশনস) অনুযায়ী, কোনো কোম্পানির উৎপাদন বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম অন্তত তিন বছর বন্ধ থাকলে কিংবা টানা পাঁচ বছর শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ না দিলে, সেগুলোকে তালিকাচ্যুত করতে পারে স্টক এক্সচেঞ্জ।

যেসব কোম্পানির উৎপাদন বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ আছে বলে জানা গেছে, সেগুলো হলো- বিচ্ হ্যাচারি, বিডি ওয়েল্ডিং, সিএনএ টেক্সটাইল, দুলামিয়া কটন, এমারেল্ড অয়েল, গোল্ডেন সন, জুট স্পিনার্স, কেএন্ডকিউ, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, নর্দার্ন জুট ম্যানুফ্যাকচারিং, সমতা লেদার, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, সোনারগাঁও টেক্সটাইল ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। এছাড়া আংশিক ব্যবসায়িক বা উৎপাদন কার্যক্রমে আছে বিডি অটোকার, বিডি সার্ভিসেস, ঢাকা ডাইং, ইমাম বাটন ও মেট্রো স্পিনিংয়ের। আর গত পাঁচ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ না দেওয়া কোম্পানিগুলো হলোÑ বেক্সিমকো সিনথেটিক্স, দুলামিয়া কটন, ইমাম বাটন, ইনফরমেশন সার্ভিসেস, জুট স্পিনার্স, কেএন্ডকিউ, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সমতা লেদার, সাভার রিফ্যাক্টরিজ, শ্যামপুর সুগার মিলস, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, শাইনপুকুর সিরামিকস ও ঝিলবাংলা সুগার মিলস। 

এসব কোম্পানি সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএসই কর্তৃপক্ষ জানায়, আপাতত দুটি কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ধারবাহিকভাবে অন্য কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সঙ্গে ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন  বলেন, বিনিয়োগের বদলে যারা জুয়া খেলতে চান শঙ্কাটা তাদের, প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের নয়। তিনি বলেন, ব্যবসায় নেই বা লভ্যাংশ দিচ্ছে না এমন কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে রাখার অর্থ হচ্ছে নতুন বিনিয়োগকারীকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা। এর অবসান হওয়া প্রয়োজন। দেরিতে হলেও ডিএসই এ প্রতারণা থেকে বের হতে কাজ শুরু করেছে। মিনহাজ মান্নান আরও বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহায়তা অব্যাহত থাকলে শেয়ারবাজারকে জঞ্জালমুক্ত করতে সময় লাগবে না।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের জন্য সুখবর হলো- যে কেউ চাইলেই আর স্বল্প পরিশোধিত মূলধনী কোম্পানি বা লো-পেইড আপের কোম্পানি নিয়ে গেইম করতে পারবে না। সবাই এসব কোম্পানির শেয়ার কিনতেও পারবেন না। 

বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে, দীর্ঘদিন পর স্বল্প মূলধনী কোম্পানি নিয়ে আলাদা আইন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ৬৪২তম কমিশন সভায় এ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। এ আইন প্রণয়নের পাশাপাশি কোম্পানির শেয়ার অর্জন, অধিগ্রহণ এবং কর্তৃত্বের বিষয়টি নিয়েও নতুন করে আইন করবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সুত্র-আজকালের খবর 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top