Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮ , সময়- ৯:২২ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
অটলবিহারী বাজপেয়ীর অবস্থা সঙ্কটজনক আলোর গতিতে বাংলার আকাশ ছাড়িয়ে বহির্বিশ্বে বঙ্গবন্ধুর নাম গভীর শোক আর শ্রদ্ধায় জাতি স্মরণ করলো বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশ সরকার গণগ্রেপ্তার চালাচ্ছে - এইচআরডব্লিউ : বিশ্লেষক প্রতিক্রিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ছিল দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক চক্র : সেলিম জাতীয় নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে : কামরুল নির্বাচনে বিশ্বাস করি, ভোটের লড়াই করে ক্ষমতায় যেতে চাই : মোহাম্মদ নাসিম কাবুলে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় ৪৮ জন নিহত এখন পর্যন্ত ৪০ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু  বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সারওয়ারকে শেষ বিদায় জানালেন বানারীপাড়াবাসী

কেবলি প্রেস ব্রিফিং নির্ভর হয়ে পড়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতি 


নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রজন্মকণ্ঠ

আপডেট সময়: ৮ আগস্ট ২০১৮ ১০:৫৬ পিএম:
কেবলি প্রেস ব্রিফিং নির্ভর হয়ে পড়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতি 

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টনে আগের মতো নেতাকর্মীদের সমাগম নেই। তার চেয়ে গুলশানে অবস্থিত দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়কে ঘিরেই দলীয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনা হয়ে থাকে। এজন্য নয়াপল্টনে প্রেস ব্রিফিং ছাড়া অন্য সময় নেতাকর্মীদের খুব একটা আনাগোনা দেখা যায় না।

বুধবার ১০টায় নয়াপল্টনে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ১১টায় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলের দফতর বিষয়ক সহসম্পাদক মুনির হোসেন প্রেস ব্রিফিংয়ের ড্রাফট তৈরি করছেন। কিছুক্ষণ পরেই বিএনপি চেয়ারপারসনে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন কার্যালয়ে আসেন। তাদের সঙ্গে কৃষক দলের নেতা যুগ্ম সম্পাদক শাহজাহান মিয়া সম্রাটসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মী তিন তলার ব্রিফিং রুমে উপস্থিত হন। ব্রিফিং শেষ হওয়ার পরেই তারা সবাই যার যার মতো করে চলে যান। তখন পার্টি অফিসে অবস্থান করেন রিজভী, দফতর বিষয়ক সহসম্পাদক বেলাল আহমেদ ও মুনির হোসেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম চেয়ারপারসনের গুলশান অফিস কেন্দ্রিক। সেখান থেকেই দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। এমনকি দলীয় প্রধান কারাগারে যাওয়ার পরও গুলশানকেন্দ্রিক কার্যক্রম আরও জোরালো হয়েছে। বিশেষ করে দলের মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা প্রায় প্রতিদিনই অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। এছাড়াও ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক, দলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, কূটনৈতিকদের সঙ্গে বৈঠকসহ বেশিরভাগ কর্মকাণ্ডই গুলশানকেন্দ্রিক। বিপরীতে নয়াপল্টনে কেবল রিজভীর নিয়মিত ব্রিফিং, দলীয় বিৃবতি, চিঠিপত্র গ্রহণ ও বিলির মধ্যে কার্যক্রম সীমিত। এতে করে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের চেয়ে মূল ফোকাস থাকে গুলশানকেন্দ্রিক। যদিও মাঝে মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিনিয়র নেতাদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘দলীয় কার্যক্রম তো কেন্দ্রীয় কার্যালয়মুখী হওয়া উচিত। কিন্তু সেটি তো হচ্ছে না। তবে গুলশানে যোগাযোগ ব্যবস্থাটা সুবিধাজনক বলে সেখানে করলেও দোষের কিছু নেই। আর সিনিয়র নেতারা নিয়মিত পার্টি অফিসে গেলে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। সেজন্য সিনিয়রদের মাঝে মধ্যেই নয়াপল্টনে যাওয়া দরকার বলেও আমি মনে করি।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী বলেন, ‘নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। সেখানেও দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। আবার গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হতে তো কোনো অসুবিধা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মতো আরও অনেকেই নিয়মিত নয়াপল্টনে যান। সিনিয়র নেতারা আসলে জুনিয়র নেতারা আসবেন সেটিই স্বাভাবিক।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা ২৮/১ নয়াপল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয় অবস্থিত। আশির দশকেই ধানমন্ডি থেকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এখানে দলীয় কার্যালয় স্থাপন করেন। এরপর একে একে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের জন্য কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। বর্তমানে ছয় তলা ভবনটির বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশপথের পাশেই রয়েছে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাস্কয। নীচতলার ডানে রয়েছে বিএনপির বিভিন্ন প্রকাশনা সামগ্রী প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র। 

দ্বিতীয় তলায় দলের চেয়ারপারসন, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের অফিস। কিন্তু দুটি কক্ষই তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এই ফ্লোরেই জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কার্যালয়। ৩য় তলায় রয়েছে কনফারেন্স রুম, মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব ও দাফতরিক কাযক্রমের অফিস। এই ফ্লোরের ভেতরে ছোট একটি রুমে অবস্থান করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল করিব রিজভী আহমেদ। 

তৃতীয় ফ্লোর অর্থাৎ ৪র্থ তলায় অন্ধকার ও তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা গেছে বেশ কয়েকটি দলের কার্যালয়। তবে সব কটিই তালাবদ্ধ অবস্থায় ভিন্ন ভিন্ন রুমে রয়েছে ছাত্রদল, যুবদল কেন্দ্রীয় কার্যালয়, যুবদল (ঢাকা মহানগর উত্তর কার্যালয়), যুবদল (ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কার্যালয়), জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রধান কার্যালয়। ৪র্থ ফ্লোর অর্থাৎ ৫ম তলায় তালাবদ্ধ রয়েছে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)। ৫ম ফ্লোর ৬ষ্ঠ তলায় রয়েছে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার। তবে তৃতীয় তলার বিভিন্ন কক্ষ ছাড়া অন্য সব রুমেই তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক শাহজাহান মিয়া সম্রাট বলেন, ‘দলের নেতাকর্মী যারা পার্টি অফিসে আসেন, তারা মূলত সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। অনেকের নামে মামলা-মোকাদ্দমা থাকায় কার্যালয়ে আসেন না।’

ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী বলেন, ‘আমার নামে বেশ কয়েকটি মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় কিছুদিন আগে থেকে পার্টি অফিসে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। একইভাবে ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য নেতারাও খুব একটা আসেন না। আর যারা যান তারা রিজভী ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করে চলে আসেন।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের অফিস স্টাফ রয়েছে ১২ জন। এছাড়াও আলাদাভাবে সহযোগী ও অঙ্গ-সংগঠনের অফিসেও আলাদা স্টাফ রয়েছে। এদের মধ্যে মুহাম্মদ রেজাউল করিম নিজেকে কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। তিনিই মূলত কম্পিউটার চালানোসহ অফিসিয়াল ড্রাফট তৈরি করেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠা থেকেই এই দলের অফিসে আছেন মো. রুস্তুম আলী। বয়সের ভারে ন্যুব্জ তিনি এখন অনেকটাই বসে থেকে সময় কাটান। 

অফিস স্টাফ মো. আবু ছায়েদ আজাদবলেন, ‘আমরা নয়াপল্টনের ১২ জন স্টাফ কাজ করি। কয়েকজন এখানে রাতেও অবস্থান করি। সবার বেতন-ভাতাসহ সব কিছু দেখভাল করেন মহাসচিব স্যার। এছাড়াও দুইজন কাজের বুয়া হাজেরা বেগম এবং তাসলিমা বেগম পার্ট টাইম কাজ করেন। তারা নিজেদের বাসা থেকে কাজে আসেন।’ 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top