Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ , সময়- ৯:৫৮ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
বাংলাদেশে ইংরেজি বর্ষবরণে হামলার ছক বানচাল : পরিকল্পনা ফাঁস  নির্বাচনের মাঠে জামাত, ৪৭ জনের প্রার্থীপদে আপত্তি আমেরিকার  টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আ.লীগের নির্বাচনী প্রচার : এইচটি ইমাম নৌকার পক্ষে ভোট দেওয়ার ওয়াদা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে নামবে সেনাবাহিনী  ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় গণসংযোগে মির্জা ফখরুল  বিতর্কিত সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ ও তাঁর রাজনীতি  প্রমাণিত হলো বিএনপি সন্ত্রাসী দল : কাদের  বিবাহবার্ষিকীতে দোয়া চাইলেন ক্রিকেট সুপারস্টার সাকিব টুঙ্গিপাড়া থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন সভানেত্রী শেখ হাসিনা 

গুজবের কবলে বাংলাদেশ, শিক্ষিতমহলও শিকার


জসিম উদ্দিন আকন্দ রনি, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা

আপডেট সময়: ৯ আগস্ট ২০১৮ ১:৪৮ এএম:
গুজবের কবলে বাংলাদেশ, শিক্ষিতমহলও শিকার

সম্প্রতি যে ‘নিরাপদ সড়ক’ আন্দোলন দুনিয়ার নজর কেড়েছে৷ ক্ষমতাসীন দল আ'লীগের দাবি, এই আন্দোলনে ছিল গুজবের ঢেউ৷ কী সেই পরিস্থিতি ? কেমন করে মৃতদেহ সাজিয়ে, ভারতে হওয়া ধর্ষণের ঘটনাকে বাংলাদেশের বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল ? লিখলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা জসিম উদ্দিন আকন্দ রনি  
 
কয়েক দিন আগে বাংলাদেশে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ নামে আন্দোলন করে আসছিলো বাংলাদেশের স্কুল কলেজগামী ছাত্রছাত্রীরা। মূলত ঢাকার একটি কলেজের দুইজন পড়ুয়াকে একটি বাস চাপা দিলে পথেই তাদের মৃত্যু হয়। এই দুই পড়ুয়ার মৃত্যুতে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমে আসে ওই স্কুলের সকল শিক্ষার্থীরা। তারপর একে একে ঢাকার সকল শিক্ষার্থীরা পথে নেমে আসে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে প্রতিবাদ জানাতে থাকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে। কোনও কোনও জায়গায় তারা নিজেরাই ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করা শুরু করে। সবাই প্রশংসামুখর ছিলো প্রথম কয়েক দিন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের দাবিকে যৌক্তিক আখ্যা দিয়ে সকল দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দেন। তিনি মন্ত্রীদের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের জন্য যা যা করনীয় তা দ্রুত পূরণ করতে। সেভাবে কাজও চলছিলো, দুই মৃত পড়ুয়ার পরিবারকে ২০ লক্ষ টাকার সঞ্চয় পত্র আলাদা ভাবে মোট ৪০ লক্ষ টাকা প্রদান করেন। কলেজের জন্য ৫ টি বাস উপহার দেন এবং স্কুল ও কলেজের সামনের রাস্তায় গতি রোধক ও জেব্রা ক্রসিং বসিয়ে দেন। এতে দেখা গেলো স্কুল কলেজের সকল পড়ুয়াদের দাবি সরকার আন্তরিক ভাবে মেনে নিল।

এখন আসি গুজবের কবলে কিভাবে জড়িয়ে পড়লো বাংলাদেশ সেই বিষয়ে। যখন আন্দোলন শেষ করে সকল শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরে যাবে তখন শুরু হলো আরেক নগ্ন খেলা। যে খেলার পেছনে ক্রীড়নক হিসেবে কাজ শুরু করে একটি মহল। ছোট ছোট বাচ্চাদের কাঁধে ভর করে এই আন্দোলনে যোগ দেয় প্রায় দেউলিয়া হয়ে যাওয়া রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জঙ্গি সংগঠন জামাত শিবির। জামাত শিবির ছাত্রদের স্লোগান ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’-কে কলঙ্কিত করে এই স্লোগানের আড়ালে তাদের মুল ইস্যু হয়ে যায় ‘উই ওয়ান্ট গভর্মেন্ট ফল’। তারা একের পর এক মিথ্যা লাশের খবর ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দিতে থাকে। কয়েকটি মেয়েকে তারা ব্যবহার করে এই প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে। সেই মেয়েগুলো কান্নাকাটি করে এমন ভঙ্গি তে ভিডিওগুলোতে কথা বলেছে যেনো তারা নিজের চোখে দেখে আসছে লাশ আর ধর্ষিতদের। ভারতের কয়েকটি লাশ ও ধর্ষিতদের ছবি এডিট করে সেগুলো বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ছবি বলে গুজব ছড়ায়। অধিকাংশ মানুষ এই গুজব বিশ্বাস করা শুরু করে। তখনি এই আন্দোলন সহিংস রূপ ধারণ করে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের সহপাঠীর মৃত্যুর গুজব যাচাই বাছাই না করেই আবেগে হামলা করতে চলে যায় ধানমন্ডি ঝিগাতলায় অবস্থিত আওয়ামী লীগ এর দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয়ে। ইটপাটকেল, লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করে বসে দলীয় নেতা কর্মী এবং দলীয় কার্যালয়ে। এদিকে পুলিশ দলীয় কার্যালয়ে থাকলেও তারা ছিলো নির্বিকার। কারণ নির্দেশনা ছিলো শিক্ষার্থীদের আঘাত করা যাবেনা। তাই তারাও চুপ করে ছিলো। এদিকে আওয়ামী লীগ এর দলীয় কার্যালয়ে প্রতিদিনই এক,দুশো নেতা কর্মী বসে রাজনৈতিক গল্প করেন। সেদিনও তারাই ছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের হামলা সেই নেতা কর্মীরা প্রতিরোধ করেন সর্বোচ্চ সহনশীল মনোভাব রেখে।

কিন্তু গুজবের কবল বলে কথা, সেই শিক্ষার্থীরা শরীরে সাদা কাপড়ের ব্যান্ডেজ করে মিথ্যা আহত হওয়ার ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। এমন বেশ কয়েকটি ভিডিও আমার কাছে আছে যা দেখলেই যে কেউ অবাক না হয়ে পারবেন না। কিছু শিক্ষার্থীর ব্যাগে চাপাতি, পাথর, ইটের টুকরা পাওয়া গেছে। এই কয়দিন ঢাকায় সাদা শার্ট বিক্রি বেড়ে গিয়েছিলো অবিশ্বাস্য ভাবে। অনেক সাদা শার্ট পরিহিত ছাত্র নাম ধারীকে স্কুল বা কলেজের নাম বলতে বললে স্কুলের নাম বলতে পারেনা। সেই ভিডিও আমার কাছে আছে। রক্ত মেখে রাস্তায় শুয়ে থাকা একটু পর উঠে জল খাওয়ার ভিডিও আমি দেখেছি। ভুয়া আইডি কার্ড ছাপিয়ে গলায় ঝুলিয়ে এই আন্দোলনে অনেকে আগ্রাসী ও উগ্রবাদী আচরণ করতেও আমরা দেখেছি। টানা কয়েকদিন এমন নৈরাজ্য চলতে দেখে পথচারী এবং রিকশাচালকরাও বিরক্তিপ্রকাশ করেছে। তাদের কথা হলো, যেখানে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সকল দাবি মেনে নিয়েছে সেখানে রাস্তা বন্ধ করে জন দুর্ভোগ সৃষ্টি করা চরম বাড়াবাড়ি। একপর্যায়ে সেই রিকশা চালক বললো প্রতিদিনের তুলনায় এই কদিন তার আয়ও খুবই কম ও যৎসামান্য। সহজেই অনুমেয় যে দিনমজুর মানুষগুলো কতটা বিরক্ত। মিথ্যা-গুজব দেশের গণ্ডি ছড়িয়ে দেশের বাইরে পর্যন্ত চলে গেছে, আর তারাও সেই গুজব বিশ্বাস করে বসে আছে।

আশ্চর্যজনক বিষয় হলো শিক্ষিত মানুষ যারা আছে তারাও কমবেশি এই গুজবে কান দিয়েছে। কিন্তু কেউ লাশের সন্ধান দিতে পারেনি,কেউ ধর্ষিত হওয়ার প্রমাণ দিতে পারেনি, কেউ চোখ তুলে নেয়ার প্রমাণ পায়নি। কারো পরিবার আসেনি অভিযোগ নিয়ে যে তার সন্তান নিখোঁজ হয়েছে। থানায় কেউ ডায়েরি করেনি আহত বা নিহত হওয়ার ব্যাপারে। তাহলে শুধু শুধু কেন এই গুজব ছড়িয়ে মানুষের মনে ক্ষোভ তৈরি করার অপচেষ্টা? মনে রাখতে হবে এই দেশ মহান মুক্তিযুদ্ধ করে সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে জন্ম নিয়েছে। এই দেশের মানুষকে বোকা বানানো এতো সহজ না। বাংলাদেশ এখন আর আগের বাংলাদেশ নেই, এই বাংলাদেশ শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, এই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে সকল ষড়যন্ত্র হটিয়ে স্বর্নপথে।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top