Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮ , সময়- ৯:২২ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
অটলবিহারী বাজপেয়ীর অবস্থা সঙ্কটজনক আলোর গতিতে বাংলার আকাশ ছাড়িয়ে বহির্বিশ্বে বঙ্গবন্ধুর নাম গভীর শোক আর শ্রদ্ধায় জাতি স্মরণ করলো বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশ সরকার গণগ্রেপ্তার চালাচ্ছে - এইচআরডব্লিউ : বিশ্লেষক প্রতিক্রিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ছিল দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক চক্র : সেলিম জাতীয় নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে : কামরুল নির্বাচনে বিশ্বাস করি, ভোটের লড়াই করে ক্ষমতায় যেতে চাই : মোহাম্মদ নাসিম কাবুলে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় ৪৮ জন নিহত এখন পর্যন্ত ৪০ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু  বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সারওয়ারকে শেষ বিদায় জানালেন বানারীপাড়াবাসী

বিদ্যুৎ নিরপত্তার নতুন দিগন্তে পা দিল বাংলাদেশ


নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রজন্মকণ্ঠ

আপডেট সময়: ১১ আগস্ট ২০১৮ ১২:৫২ এএম:
বিদ্যুৎ নিরপত্তার নতুন দিগন্তে পা দিল বাংলাদেশ

বিদ্যুৎ নিরপত্তার নতুন দিগন্তে পা দিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ দিন আগে থেকে নেপাল ও ভুটান থেকে কম দামে বিদ্যুৎ আমদানির চেষ্টা চলছিল। শুক্রবার নেপালের সঙ্গে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি চুক্তির মাধ্যমে সেই পথে প্রথম ধাপে পা রাখল। 

এই চুক্তি বাস্তবায়ন করতে ভারতে সহযোগিতা লাগবে। ভারতের ওপর দিয়ে বিদ্যুৎ আমদানি করতে হবে বাংলাদেশকে। সার্ক ফ্রেম ওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট অনুসারে, আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ বিনিময়ের ক্ষেত্রে এক দেশ অন্য দেশের ওপর দিয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন করলে ওই দেশকে শুধু হুইলিং চার্জ পরিশোধ করতে হবে। গত বছর প্রণীত ভারতের এ সংক্রান্ত নীতিমালায় বলা হয়েছে, দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সঞ্চালন করতে হলে অবশ্যই প্রকল্পে ভারতীয় সরকারি বা বেসরকারি কোম্পানির অংশীদারিত্ব থাকতে হবে। ভারত ও বাংলাদেশের মন্ত্রী ও সচিব পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় একাধিক বৈঠকে এ সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টির নিষ্পত্তি হলেই বিদ্যুৎ নিরাপত্তায় নিশ্চিত হবে বাংলাদেশ। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট নেপালের কাঠমান্ডুতে বিমসটেক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট দেশের নেতারা উপস্থিত থাকবেন। নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে ভারতীয় নীতিমালায় যে বাধা আছে তা নিয়ে হাসিনা ও মোদীর সঙ্গে কথা হবে। এর আগে মন্ত্রী ও সচিব পর্যায়ে এই সমস্যার সমাধানে আলোচনা হলেও সমাধান আসেনি। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় সেই সমস্যা সমাধানের আশা দেখছেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা।

সরকারের লক্ষ্যমাত্র অনুযায়ী ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট ও ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায় সরকার। বর্তমানে ১০ হাজার বিদ্যুৎ উৎপাদনের দাবি করেছে  সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। চাহিদা ১২ হাজার মেগাওয়াট। সে অনুযায়ী ঘাটতি দুই হাজার মেগাওয়াট।  বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই দুই হাজার মেগাওয়ারট আমদানি করতে হবে। এই  ঘাটতি মেটাতে আমদানি করবে সরকার। সে অনুযায়ী বর্তমানে শুধু ভারতের কাছ থেকে হাজার মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ আমদানি করছে। নতুন সমঝোতা অনুযায়ী দ্বিতীয় দেশ হিসেবে যুক্ত হচ্ছে নেপাল। যেখান থেকে বাকি বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে। 

নেপালের সঙ্গে সমঝোতা : বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে নেপালের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে সইয়ের মাধ্যমে ভারতের পর দ্বিতীয় কোনো দেশের কাছ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে যাচ্ছে সরকার। শুক্রবার কাঠমান্ডুতে নেপালের জ্বালানি, পানি ও সেচ মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠানে ওই সমঝোতা স্মারকে সই করেন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ও নেপালের জ্বালানিমন্ত্রী বর্ষা মান পুন অনন্ত। চুক্তির জন্য নেপাল সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে নসরুল হামিদ বাংলাদেশ ও নেপালের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, দুই দেশেরই উন্নয়নে সহযোগিতা আরও বাড়ানো দরকার। বিদ্যুৎ, যোগাযোগসহ সব ক্ষেত্রেই এই সহযোগিতার প্রয়োজন। অনেক অপেক্ষার পর চুক্তিটি হলো।

নসরুল হামিদ বলেন, নেপালে ৪০ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে বাংলাদেশের সরকারি বা বেসরকারি কোম্পানিগুলো ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করে সে বিদ্যুৎ দেশে নিতে পারবে। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা অল্প পয়সায় বিদ্যুৎ পাব। আগামী ১০ বছরের মধ্যে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। 

নেপালের জ্বালানিমন্ত্রী অনুষ্ঠানে জানান, নেপাল এখন ভারত থেকে ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করলেও আগামী ১০ বছরে ১৫ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার বাস্তবায়নও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়াতে এই সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং একটি স্টিয়ারিং কমিটি কাজ করবে।

জলবিদ্যুৎ তুলনামূলকভাবে সস্তা ও পরিবেশবান্ধব হলেও বাংলাদেশে এর উৎপাদন সম্ভব না হওয়ায় নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে এ বিষয়ে সহযোগিতা বাড়াতে কাজ চালিয়ে আসছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। নেপাল থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করতে গত বছর ভারতের একটি কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ সরকারের বিনিয়োগও থাকবে।

ভারতের জিএমআর এনার্জি নেপালে ‘আপার কারনালি’ প্রকল্পের আওতায় ৯০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনার জন্য গত বছর জিএমআরইয়ের সঙ্গে ওই সমঝোতা স্মারকে সই করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। ভারত হয়ে আন্তঃদেশীয় গ্রিড লাইনের মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভারত থেকে বহরমপুর হয়ে ৫০০ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে। এ ছাড়া আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। 

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, বিদ্যুৎ খাতের সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশ মিলে একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করবে। প্রতি বছরের এই ওয়ার্কিং গ্রুপ বৈঠক করবে। এছাড়া এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় জলবিদ্যুৎ খাতের বিনিয়োগ, বায়ু বিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎ খাতের অন্যান্য বিষয় নিয়ে দুই দেশ কাজ করবে।

২০১৪ সালে বাংলাদেশ নেপালের সঙ্গে পাওয়ার ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) সই করে। তারপর থেকেই দুই দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনা শেষে এই সমঝোতা স্মারক সই হয়। ভারত, বাংলাদেশ ও নেপালের ত্রিদেশীয় গ্রিডলাইনের মাধ্যমে নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়। 

অন্যদিকে ভুটান ও ভারতের সঙ্গে মিলে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ত্রিদেশীয় বিনিয়োগ উদ্যোগেও অংশীদার হচ্ছে বাংলাদেশ। এ উদ্যোগে তিন পক্ষের সমান অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ভুটানে এক হাজার ২২৫ মেগাওয়াটের একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের মাস্টার প্ল্যান অনুসারে ভবিষ্যতে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ২৫ শতাংশ প্রতিবেশী দেশ থেকে আমদানি করার কথা। যদিও এখন বিদ্যুৎ আসছে শুধু ভারত থেকে। নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আসা শুরু করার পর তৃতীয় দেশ হিসেবে যোগ হবে ভুটান।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top