Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ৮:১৭ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
নারায়ণগঞ্জে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা  আ'লীগের মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন বদির স্ত্রী শাহীনা ও রানার বাবা     ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাব্বানী আইসিইউতে চিকিৎসাধীন জাতীয় পার্টির ভূমিকাকে ‘অকার্যকর' বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ ইসি সচিব ও ডিএমপি কমিশনারের শাস্তি দাবি করেছে বিএনপি চলচ্চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী আইসিসি টেস্ট র‍্যাংকিংয়ে সেরা অবস্থানে মুশফিক-মিরাজরা জাপার ক্ষমতার সময় যে উন্নয়ন হয়েছে, তা আর কেউ করতে পারেনি : মুহম্মদ এরশাদ নীতিমালার বাইরে কোনো কর্মকাণ্ড করলে নিবন্ধন বাতিল  টাঙ্গাইলের রানা ও কক্সবাজারের বদিকে মনোনয়ন দিচ্ছে না আওয়ামী লীগ

বঙ্গবন্ধু হত্যা ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা 


ডেস্ক রিপোর্ট

আপডেট সময়: ১৫ আগস্ট ২০১৮ ১২:৪৩ এএম:
বঙ্গবন্ধু হত্যা ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা 

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। ইতিহাসের একটি কলঙ্কিত দিন। জাতির জন্য কালরাত। ওই কালরাতে সপরিবারে হত্যা করা হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। হত্যার চেষ্টা হয় বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসকে। কলঙ্কিত সেই কালরাতের বর্ণনা দিয়েছেন স্বাধীন বাংলার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী (রেসিডেন্ট পিএ) আ ফ ম মুহিতুল ইসলাম। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের ৬৭৭ নম্বর বাড়িতে ১৪ আগস্ট রাত ৮টা থেকে ১৫ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার বাদী হিসেবে সেই কালরাতের ঘটনাক্রম তুলে ধরেছেন আ ফ ম মুহিতুল ইসলাম। রাত ১টায় তিনি তার নির্ধারিত বিছানায় শুতে যান। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড মামলার এজাহারে ইতিহাসের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিয়েছেন এইভাবে- কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম তা খেয়াল নেই। হঠাৎ টেলিফোন মিস্ত্রি আমাকে উঠিয়ে (জাগিয়ে তুলে) বলেন, প্রেসিডেন্ট সাহেব আপনাকে ডাকছেন। তখন সময় ভোর সাড়ে ৪টা কী ৫টা। চারদিকে আকাশ ফর্সা হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধু ফোনে আমাকে বললেন, ‘সেরনিয়াতের বাসায় দুষ্কৃতকারীরা আক্রমণ করেছে।’ আমি জলদি পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করলাম। অনেক চেষ্টার পরও পুলিশ কন্ট্রোল রুমে লাইন পাচ্ছিলাম না। তারপর গণভবন এক্সচেঞ্জে লাইন লাগানোর চেষ্টা করলাম।

এরপর বঙ্গবন্ধু ওপর থেকে নিচে নেমে এসে আমার কাছে জানতে চান, পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে কেন কেউ ফোন ধরছে না। এ সময় আমি ফোন ধরে হ্যালো হ্যালো বলে চিৎকার করছিলাম। তখন বঙ্গবন্ধু আমার হাত থেকে রিসিভার নিয়ে বললেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট বলছি।’ এ সময় দক্ষিণ দিকের জানালা দিয়ে একঝাঁক গুলি এসে ওই কক্ষের দেয়ালে লাগল। তখন অন্য ফোনে চিফ সিকিউরিটি মহিউদ্দিন কথা বলার চেষ্টা করছিলেন। গুলির তাণ্ডবে কাচের আঘাতে আমার ডান হাত দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। এ সময় জানালা দিয়ে অনর্গল গুলি আসা শুরু হলে বঙ্গবন্ধু শুয়ে পড়েন। আমিও শুয়ে পড়ি।

কিছুক্ষণ পর সাময়িকভাবে গুলিবর্ষণ বন্ধ হলে বঙ্গবন্ধু উঠে দাঁড়ালেন। আমিও উঠে দাঁড়ালাম। ওপর থেকে কাজের ছেলে সেলিম ওরফে আবদুল বঙ্গবন্ধুর পাঞ্জাবি ও চশমা নিয়ে এল। পাঞ্জাবি ও চশমা পরে বঙ্গবন্ধু বারান্দায় এসে দাঁড়ালেন। তিনি (বঙ্গবন্ধু) বললেন, ‘আর্মি সেন্ট্রি, পুলিশ সেন্ট্রি এত গুলি চলছে তোমরা কী করো?’ এ সময় শেখ কামাল বললেন, ‘আর্মি ও পুলিশ ভাই আপনারা আমার সঙ্গে আসুন।’ কালো পোশাক পরা একদল লোক এসে শেখ কামালের সামনে দাঁড়াল। আমি (মুহিতুল) ও ডিএসপি নূরুল ইসলাম খান শেখ কামালের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। নূরুল ইসলাম পেছন দিক থেকে টান দিয়ে আমাকে তার অফিস কক্ষে নিয়ে গেল। আমি ওখান থেকে উঁকি দিয়ে বাইরে দেখতে চেষ্টা করলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে আমি গুলির শব্দ শুনলাম। এ সময় শেখ কামাল গুলি খেয়ে আমার পায়ের কাছে এসে পড়লেন। কামাল ভাই চিৎকার করে বললেন, ‘আমি শেখ মুজিবের ছেলে শেখ কামাল, ভাই ওদেরকে থামতে বলেন।’

জিয়া-মোশতাক চক্রের কুখ্যাত ইনডেমিনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের পর ১৯৯৬ সালের ২ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মামলা করেন আ ফ ম মুহিতুল ইসলাম। জাতির ললাট থেকে পিতৃহন্তারকের কালিমামোচনের ওই মামলার এজাহারে তিনি বলেন, আক্রমণকারীদের মধ্যে কালো পোশাকধারী ও খাকি পোশাকধারী ছিল। এ সময় আবার আমরা গুলির শব্দ শোনার পর দেখি ডিএসপি নূরুল ইসলাম খানের পায়ে গুলি লেগেছে। তখন আমি বুঝতে পারলাম, আক্রমণকারীরা আর্মির লোক। হত্যাকাণ্ডের জন্যই তারা এসেছে। নূরুল ইসলাম যখন আমাদের রুম থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তখন মেজর বজলুল হুদা এসে আমার চুল টেনে ধরল। বজলুল হুদা আমাদের নিচে নিয়ে গিয়ে লাইনে দাঁড় করাল। কিছুক্ষণ পর নিচে থেকে আমরা বঙ্গবন্ধুর উচ্চকণ্ঠ শুনলাম। বিকট শব্দে গুলি চলার শব্দ শুনতে পেলাম আমরা। শুনতে পেলাম মেয়েদের আর্তচিৎকার, আহাজারি।

এরই মধ্যে শেখ রাসেল ও কাজের মেয়ে রমাকে নিচে নিয়ে আসা হয়। রাসেল আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে, ‘ভাইয়া, আমাকে মারবে না তো?’ আমি বললাম, ‘না তোমাকে কিছু বলবে না।’ আমার ধারণা ছিল অতটুকু বাচ্চাকে তারা কিছু বলবে না। কিছুক্ষণ পর রাসেলকে তার মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রুমের মধ্যে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এরপর মেজর বজলুল হুদা বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের গেটে দাঁড়িয়ে থাকা মেজর ফারুককে বলে, ‘অল আর ফিনিশড।’

আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে ১৫ আগস্টের পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের নির্মম ঘটনা তুলে ধরে মুহিতুল ইসলাম বলেন, ‘রক্ত, মগজ ও হাড়ের গুঁড়ো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল বাড়িটির প্রতিটি তলার দেয়াল, জানালার কাচ, মেঝে ও ছাদে। বাড়িটি তখন রক্তগঙ্গা। গুলির আঘাতে দেয়ালগুলোও ঝাঁঝরা হয়ে যায়। চারপাশে রক্তের সাগরের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল ঘরের জিনিসপত্র। প্রথম তলার সিঁড়ির মাঝখানে নিথর পড়ে ছিলেন ঘাতকের বুলেটে ঝাঁঝরা হওয়া চেক লুঙ্গি ও সাদা পাঞ্জাবি পরা বঙ্গবন্ধু। তলপেট ও বুক ছিল বুলেটে ঝাঁঝরা। নিথর দেহের পাশেই তাঁর ভাঙা চশমা ও অতিপ্রিয় তামাকের পাইপটি। অভ্যর্থনা কক্ষে শেখ কামাল, টেলিফোন অপারেটর, মূল বেডরুমের সামনে বেগম মুজিব, বেডরুমে সুলতানা কামাল, শেখ জামাল, রোজি জামাল, নিচতলার সিঁড়ি-সংলগ্ন বাথরুমে শেখ নাসের এবং মূল বেডরুমে দুই ভাবির ঠিক মাঝখানে বুলেটে ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল ছোট্ট শিশু শেখ রাসেলের লাশ।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top