Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , সময়- ৮:০১ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বিতর্ক কেন ? বিএনপি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | প্রজন্মকণ্ঠ পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আবেদন খালেদা জিয়ার | প্রজন্মকণ্ঠ খালেদা জিয়া কারাগারের বাইরে থাকার সময়ও জনগণ তার ডাকে সাড়া দেয়নি : ওবায়দুল কাদের বিএনপি-জামায়াত ক্লিনহার্ট অপারেশন চালিয়ে আ'লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীকে নির্যাতনের শিকার করেছিল : প্রধানমন্ত্রী  ধর্মমন্ত্রী ও ভূমিমন্ত্রীর  কড়া সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রিজভীর নেতৃত্বে মিছিল করেছে বিএনপি আ'লীগের প্রতিনিধিদলের উত্তরবঙ্গ সফর শুরু । প্রজন্মকণ্ঠ   বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলন : সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার অঙ্গীকার | প্রজন্মকণ্ঠ  সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে মাঠে নামছে স্বাগতিক বাংলাদেশ, আগামীকাল | প্রজন্মকণ্ঠ

বিএনপি নির্বাচনে যাবে না ! ভুল মনোনয়নে আওয়ামী লীগ ১৫১ আসন পাবে না । প্রজন্মকণ্ঠ


মো: মাহমুদ হাসান

আপডেট সময়: ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ৮:৫৪ পিএম:
বিএনপি নির্বাচনে যাবে না ! ভুল মনোনয়নে আওয়ামী লীগ ১৫১ আসন পাবে না  । প্রজন্মকণ্ঠ

উপ-সম্পাদকীয়, মো: মাহমুদ হাসান : ক্ষেতের ফসল ভালো হলে ছেলে আরেকটু আর্থিকভাবে গুছিয়ে নিয়ে ঘর-দরোজা মেরামত করে, নতুন খাট-শোকেস-আলনা বানিয়ে পরে বিয়ে করতে চায়; কিন্তু, বাবা-মা নতুন বৌয়ের সেবা-যত্নের প্রত্যাশায় তাড়াহুড়ো করে ছেলেকে বিয়ে করায়; এর ফল কেমন হয়- গ্রামে একটু চোখ-কান খোলা রাখলেই আমরা দেখি, শুনি; শহরে-শিল্পাঞ্চলে যদিও এসব তেমন একটা টের পাওয়া যায় না। অস্থির পূঁজিবাদের দ্রুত ধাবমান অস্থিতিশীল জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি ইতিবাচক সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবর্তনে নজর দেয়ার বিষয়টি রাষ্ট্রের পক্ষ হতে উপেক্ষিত থাকায় সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ে ও পারিবারিক ভাঙ্গনের মহোৎসবের ফলে একবিংশ শতাব্দীতে বাংলাদেশে কতজন শ্বশুর-শ্বাশুড়ি পুত্রবধূর সেবা-যত্ন পাচ্ছেন, যার যার এলাকায় (শহরে, গ্রামে, শিল্পাঞ্চলে) একটু অবলোকন করুন। 

এবার পারিবারিক বিষয়ের মতোই গত তিন বছরে আওয়ামী পরিবারে বানের জলের মতো ভেসে আসা আবর্জনাগুলি কুড়িয়ে স্তুপ করার ফলাফল কি হতে পারে ভাবুন। একটু স্মরণ করুন, ১৯৯৬ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর দুই মাস যাবৎ যোগদান অনুষ্ঠান হয়েছিলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে বিশালাকার প্যান্ডেল সাজিয়ে, ঐসব যোগদানকারিরা ২০০১ এ ক্ষমতা ত্যাগের পর কেউ কি আওয়ামী লীগে ছিলেন? গত তিন বছরে যেসব খড়কুটা-আবর্জনা আওয়ামী লীগে ঢুকে আওয়ামী লীগকে চুষছে ও কলঙ্কিত করছে, এরা কেউ কি কোনভাবে আওয়ামী লীগের স্বার্থ রক্ষা করবে? আবর্জনার কথা না হয় আমলে নাই নিলো, নিজেদের দায়িত্বটুকুই বা কতটুকু পালন করেছে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী কলা-কৌশল নির্ধারণে অথবা নির্বাচনী ষড়যন্ত্রের স্বরূপ উন্মোচনে ? 

শিরোনামটি দেখেই যারা ক্ষুব্ধ হয়ে গেছেন, তাঁদের প্রতি বিনয়ের সাথে অনুরোধ করবো, একটু স্মরণ করে দেখুন তো, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে সিআইএ-আইএসআই-এর নির্দেশনায় সামরিক-বেসামরিক প্রশাষনের প্রত্যক্ষ ষড়যন্ত্রে আওয়ামী লীগকে কিভাবে নির্বাচনে পরাজিত দেখানো হয়েছিল, আজ পর্যন্ত্য কেউ অনুসন্ধান করেছিলেন কি? অথবা, ১৯৭০এর মতো ২০০৮এ নৌকার পক্ষে যে ব্যালট বিপ্লব হয়েছিলো, সেই ব্যালট বিপ্লবটি কারা, কেন, কিভাবে ঘটিয়েছিলো, আদৌ কি অনুসন্ধানের প্রয়োজন অনুভব করেছেন কোনদিন? মোসাদ-সিআইএ-আইএসআইয়ের চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিসমূহের ভূমিধ্বসী পরাজয় কিভাবে, কারা ঘটিয়েছিলো, জানার আগ্রহ হয়নি কারোই। 

১৯৯৬এ বিজয়ের পর যোগদান-বাণিজ্যে কেউ কেউ লাভবান হয়ে আওয়ামী লীগকে কলঙ্কিত করলেও জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ কেন, কিভাবে, কাদের সহযোগিতায়, কাদের প্রচেষ্টায় ১৯৯৬ এর ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলো, তা অবশ্য জননেত্রী শেখ হাসিনা সহ আওয়ামী লীগের দু’চারজন উপলব্ধি করেছিলেন বলেই আমার ধারনা; ১৯৯৬-২০০১এ জননেত্রী শেখ হাসিনার কিছু আচরণ ও গৃহীত পদক্ষেপে তা উপলব্ধি করা গেছে।

২০১৮এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন বিএনপি অংশ নেবে না ?

মনোনয়ন প্রদান ও নির্বাচনী প্রচারণায় সশরীরে খালেদা ও তারেক এর উপস্থিতি ব্যতিরেকে  বিএনপির নির্বাচনে এক কদম ফেলারও সুযোগ নেই, এ কথাটি গ্রামের অশিক্ষিত কৃষক, শিল্পাঞ্চলের অর্ধশিক্ষিত শ্রমিক সহ দেশের প্রায় সকল সাধারন মানুষ বোঝে। কিন্তু, এটি উপলব্ধি করতে ব্যর্থ আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনের নষ্ট রাজনীতিক ও সমাজের সুশীলদের ভ্রষ্টরা-যা এদের গত দেড় বছরের বক্তব্য-বিবৃতি ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ হতে তা স্পষ্ট। জঙ্গিদের গুলশান হামলায় ১৭ জন বিদেশী উন্নয়ন সহযোগী বন্ধু, দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা সহ ২২জন খুনের পর ঐ নারকীয় হামলাটিকে খালেদার “ব্যর্থ অভ্যূত্থান” বলার পর মোসাদ-সিআইএ-আইএসআই পরিচালিত দল বিএনপির বর্তমানে (২০১৬-১৭তে) রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে কৌশল কি, এটা অনেকের উপলব্ধিতেই এখনো আসছে না-যা গোটা জাতির জন্য দূর্ভাগ্যজনক। প্রকাশ্য রাজনীতির কাফন-দাফন সম্পন্ন করে ফেলেছে বিএনপি জঙ্গি মদদদানে প্রত্যক্ষ ভূমিকা নিয়ে, এটি সাধারন মানুষের কাছে স্পষ্ট ও স্বীকৃত। জামায়াতে ইসলামী প্রকাশ্য তৎপরতায় নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার পর জঙ্গিদের বর্তমান প্রকাশ্য ফ্রন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনরত বিএনপির কঙ্কালটি যখন নির্বাচনে যেতেই চাচ্ছে না, তখন বিএনপিকে জোর করে নির্বাচনে টেনে আনার জন্য কেউ কেউ মরিয়া হয়ে উঠেছেন; গত দেড় বছর (মার্চ ২০১৭-আগষ্ট ২০১৮) কারো কারো বক্তব্যে বোঝা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে উনি কোন দলের নেতা বা কর্মী-যখন ওনার বক্তব্যের ৮০% জুড়ে আছে বিএনপিকে নির্বাচনে টেনে আনার প্রসঙ্গ । 

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এখন আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত পলাকত আসামী, চেয়ারপার্সনও দূর্নীতির দায়ে সাজা ভোগ করছেন-যার ফলে এরা দুজনের বাংলাদেশের মাটিতে বসে সশরীরে নির্বাচনে মনোনয়ন প্রদান ও নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়ার কোনই সুযোগ থাকবে না; এমতাবস্থায় দলটিকে নিবার্চনী মাঠে নামানোর সামর্থ্য বিকল্প কোন নেতার নেই-এটাই নির্মম বাস্তবতা। এরপরেও যারা স্বপ্ন দেখেন, বিএনপি  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতেও পারে, তাদের প্রতি বিনয়ের সাথে অনুরোধ করবো, এ বিষয়ে আমার ৫ই মে, ২০১৭ এ লিখিত এবং বাংলাদেশ প্রেস.কম.বিডি তে ৫ই মে, ২০১৭ তারিখে প্রকাশিত “বিএনপি শেষ পর্যন্ত্য নির্বাচনে যাবে না” শিরোনামে লেখাটি পড়তে পারেন; হয়তো আপনার ভাবনায় ভিন্ন কোন খোরাক জোগাতে পারে । 

বিএনপি অংশ না নিলেও আওয়ামী লীগ কেন ১৫১ আসন পাবেনা ?

সাধারনভাবে মনে হয়, বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে আওয়ামী লীগ তো তিনশ আসনেই বা তিনশ’র কাছাকাছি আসনে জেতার কথা, তাহলে, “বিএনপি অংশ না নিলেও আওয়ামী লীগ ১৫১ আসন পাবেনা” কথাটিতো হাস্যকর। কিন্তু, ১৯৯১ হতে গত ২৭ বছরের নির্বাচনী ফলাফলে ষড়যন্ত্রের হিসাব ও গত পৌনে চার বছরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে যে ন্যাক্কারজনক আত্মঘাতী কর্মকান্ডগুলি সংঘটিত হয়েছে, সেসব বিশ্লেষণ করলে হয়তো আমার মন্তব্যের যৌক্তিকতা খুঁজে পাওয়া যেতেও পারে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দুটি ধারার ৪৭ বছরের দুটি ভূল প্রবণতা হতে বেরিয়ে আসার কোনই লক্ষ্মণ না থাকায় বারবার ভূল রাজনৈতিক হিসাব নিয়েই এলোমেলো ভাবনা ও ন্যাক্কারজনক বাক্যবাণ বর্ষনের খেলাটি আমরা দেখছি। একপক্ষ ভাবেন, এই দেশটি স্বাধীন হওয়ার পেছনে “শেখ মুজিবের কোনই অবদান নাই”-এরা আবার শেখ মুজিবুর রহমানকে “জাতির পিতা” মানতে তো রাজী নয়ই, এমনকি “বঙ্গবন্ধু” সম্বোধনেও রাজী নয়। আরেক পক্ষ মনে করেন, এই দেশে শেখ মুজিব, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে যারা ভালোবাসবে না বা নৌকায় ভোট দেবে না-এরা সবাই রাজাকার। বাস্তবতা কি, কেন একটি নির্বাচনে বিপর্যয় ঘটলো, কেন ভোটাররা প্রত্যাশিত মার্কায় ভোট দিলো না, আবার ভোটাররা ভোট দিলেও কেন, কিভাবে ভোটের ফলাফল পাল্টে গেল, কারা ভোটের ফলাফল পাল্টালো, এ হিসাবগুলি কখনোই করা হয়নি, ১৯৯১ এর পর হতে। ২০১৮ এর নির্বাচনে কি কি ষড়যন্ত্রগুলি আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারি জামায়াতীরা ঘটাতে পারে, আসুন একটু খুঁজে দেখি; আমার আশঙ্কাগুলোর সাথে আপনি একমত নাও হতে পারেন। তবে এসবের সূত্র ধরে আপনিও ভাবুন, হয়তো আপনার ভাবনা বা হিসেব করা আশঙ্কা সত্য হবে। আবার কোন প্রার্থী বা কোন রাজনৈতিক দলের কোন নেতা-কর্মীর এ লেখাটি যদি নজরে পড়ে তাহলে হয়তো তাঁরা নিজেদের আর একটু সতর্ক পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করতেও পারেন। 

আমার আশঙ্কা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ষড়যন্ত্রগুলি হবে নিম্মরুপ    

কন্সপিরেসি, আব্দুল আউয়াল মিন্টু স্টাইল, জামায়াতী ষড়যন্ত্রে অন্তত : ২০-২৫টি আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হবে, আব্দুল আউয়াল মিন্টু স্টাইলে-যা বেদনাদায়ক হলেও সত্য হিসেবে ঘটবে। মনোয়নপত্রে প্রস্তাবকারি বা সমর্থনকারি ভোটারই নন অথবা অন্য নির্বাচনী এলাকার ভোটার, প্রস্তাবকারি বা সমর্থনকারির নাম ভূল বা স্বাক্ষর মিলে না-এ ধরনের ষড়যন্ত্রে; যার শিকার হয়েছিলেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু সাহেব, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হয়ে। এ আশঙ্কা আমার এ কারনেই যে, আওয়ামী লীগের কিছু কিছু সংসদ সদস্য, যারা ২০১৮ এর নির্বাচনেও মনোনয়ন পাবেন, তাদের পাশে এখন প্রকৃত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা আর কেউই নেই, এমনকি বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব সাফল্যে তাঁরা এতো বেশি আত্মতুষ্টি ও আত্মতৃপ্তিতে ভূগছেন যে, প্রকৃত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের তাঁরা আগামী নির্বাচনের পূর্বে আদৌ খুঁজে বের করবেন, এমন কোন লক্ষ্মণও দেখা যাচ্ছে না। 

বর্তমান জাতীয় সংসদ সদস্য ও সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাধারন সম্পাদক সহ সিনিয়র নেতারা বারবার তৃণমূলের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ গড়ে তুলতে আহবাণ জানালেও বাংলাদেশের কোন আসন বা এলাকাতেই এর লক্ষ্মণ শুরু হয়নি, যদিও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণা শুরুর আছে আর মাত্র তিন মাস, কথাটা অপ্রিয় হলেও সত্য।

ব্যাঙ্ক ডিফল্টার হিসেবে নৌকা প্রতীকের কিছু প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হবে : কোন রাজনৈতিক নেতা/কর্মীর জীবনে ও তাঁর অনুসারি কর্মী-সমর্থকদের জীবনে একটি আনন্দঘন মূহুর্ত হয়, জনপ্রতিনিধি হিসেবে কোন পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণের মনোনয়নপত্র পূরণ ও জমাদানের মূহুর্তটি। কিন্তু, বিজয়ের আনন্দে গদগদ হওয়া বিগত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভী ও নারায়নগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা সে আনন্দক্ষণটি উপভোগ করতে পারেননি। উনি কাদের নিয়ে মনোনয়ন পত্র জমাদানের প্রস্তুতি-পর্ব ও জমাদান-পর্বটি সারলেন, সেটি রহস্যজনক ও বেদনাদায়ক। ঠিক এমনি ঘটনা ঘটবে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত: শতাধিক আসনে; দল হতে নৌকা প্রতীক প্রাপ্ত প্রার্থীকে জামায়াতীরা এমনভাবে ঘিরে থাকবে আর প্রার্থীর প্রতি স্তুতিবাক্য ছুঁড়তে থাকবে যে, ঐ এলাকায় কারা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী, খোঁজার মতো কোন মানসিক অবস্থাই প্রার্থীর থাকবে না। আর এসব প্রার্থীদের শুধু রাজনৈতিক বিষয়াদিই নয়, ব্যক্তিগত বিষয়াদিও এখন জামায়াতী অনুপ্রবেশকারিদের নিয়ন্ত্রণে; দেখা যাবে প্রার্থীর ব্যাঙ্কিং লেনদেনের হিসাবাদি কোথায়, কি অবস্থায় আছে, ওনার নিজের জানা নেই, শেষ মূহুর্তে দূর হতে ওনাকে কেউ মনে করিয়ে দিলেও উনি নির্ভর করবেন কোন জামায়াতী অনুপ্রবেশকারির উপর যে বা যারা বর্তমানে (২০১৫-১৮ সালে) তার আর্থিক সকল বিষয়াদি দেখভালের দায়িত্বে আছে। “নেতা ব্যবস্থা করে ফেলতেছি” বলে এমন অনুপ্রবেশকারি ওনাদের ব্যাঙ্ক হিসাবের যাবতীয় কাগজপত্র সহ লাপাত্তা হয়ে যাবেন। তৎক্ষণে মনোনয়ন পত্র জমাদানের সময় শেষ! আবার দু’চারটি ক্ষেত্রে জামায়াতী “নয়া-জিগরি-দোস্ত” এর এনে দেয়া ভূয়া ব্যাঙ্ক-প্রত্যয়ণ পত্র জমা দিয়ে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় হতে কোন প্রার্থী গ্রেফতার হলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না। ব্যাঙ্ক-ঋণ জটিলতায় এভাবে ২০ হতে ২৫টি আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দিতে না পারা ও মনোনয়ন-পত্র বাতিলের ঘটনা ঘটতে পারে। 

পোলিং এজেন্ট হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা কেন্দ্রে না থাকা : অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক হলেও সত্য যে, ভোট কেন্দ্রে একজন পোলিং এজেন্ট কি ধরনের  দায়িত্ব পালন করেন; কি, কি যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকলে কোন ভোটারকে পোলিং এজেন্ট হিসেবে মনোনীত করা উচিৎ, ভোট শেষে তাঁর কাছ থেকে কি ধরনের কাগজপত্র প্রার্থীর বুঝে নেয়া উচিৎ, অনেক সম্ভাব্য জাতীয় সংসদ প্রার্থীর তা জানা নেই, আর যারা এসব বোঝেন, ইতমধ্যে ঝেটিয়ে তাদের দল হতে বিতাড়ণ করা সম্পন্ন হয়ে গেছে-যা শুরু হয়েছে ১৯৯২ সাল হতে। এসব প্রার্থীদের কেউ কেউ ‘পোলিং এজেন্ট মানে কিছু টাকা নেয়ার ধান্ধা’ এমনটাই বোঝেন। এসব প্রার্থীর জানাই নেই যে, অনেক স্থানে পোলিং এজেন্টদের সাহসী ও কৌশলী ভূমিকার কারনে ১৯৮৩ ও ১৯৮৭ এর ইউপি নির্বাচনে গোটা জেলা প্রশাষনকে এবং জনদল/জাতীয় পার্টিকে চ্যালেঞ্জ করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের জিতিয়ে আনা হয়েছে। আবার ২০০১ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের অধিকাংশ কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের পোলিং এজেন্ট ছিলো না এবং কিছু কেন্দ্রে ভোটার নয় এমন নাবালক কিশোর-কিশোরীদের পোলিং এজেন্ট হিসেবে বসিয়ে রাখা হয় ও দূপুরে তাদের বাসায় চলে যেতে বলে বিকালে “বামে এক বসানো রেজাল্ট শীট তৈরী করা হয়”। ২০০১এ প্রকৃতপক্ষে ভোটাররা আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের ভোট দিলেও কেন্দ্র হতেই রিটার্নিং অফিসারের কাছে শুধু ভোটের ফলাফল দেয়া হয়েছে, মোট ব্যালটপেপার ব্যবহার ও ফেরৎ প্রদানের হিসাবটি দেয়া হয়নি, পোলিং এজেন্টরা এটা চাওয়ার কথা থাকলেও এটা কেউ চায়নি। 

মজার বিষয় হলো, বাংলাদেশে সামরিক শাষণামলেও সামান্য ইউপি চেয়ারম্যান বা ইউপি সদস্য প্রার্থী ভোট পূণ:গণনার আবেদন, রিটার্নিং অফিসার প্রদত্ত ভোটের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে নিজের বিজয়ের সঠিক ফলাফল বের করে আনতে পেরেছেন, এদের অনেকেই আবার লেখাপড়াও জানেন না, কিন্তু, নির্বাচনী আইনগুলি শুনতে শুনতে এবং সঠিক সমর্থক পাশে নিয়ে চলাতে এরা যার যার এলাকায় ইতিহাস হয়ে আছেন। 

কিন্তু ২০০১ এর নির্বাচনী ফলাফল বিপর্যয়ের পর আওয়ামী লীগের পরাজিত ঘোষণা করা এমপি প্রার্থীরা তাগিদ অনুভব করেননি এ আইনী লড়াইটি করার। জামায়াতী অনুপ্রবেশকারিরা এসব প্রার্থীদেরকে কোন তালিকা না দেখিয়েই নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর স্বাক্ষরে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ করবে জামায়াত-শিবির কর্মীদেরকে। তারা কেন্দ্রে কি কি খেলাগুলি খেলবে, এসব সময় হলে দেখা যাবে, যদি সত্যি সত্যি কেউ দেখতে আগ্রহী হন। কিন্তু, ২০১৮এর নির্বাচনে বাংলাদেশের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে প্রকৃত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীগণ পোলিং এজেন্ট থাকছেন না, এটা আওয়ামী লীগের মতো বড় ও পুরনো দলের জন্য লজ্জাজনক হলেও নির্জলা সত্য, এতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের সহায়তায়ই ২০-২৫টি আসন পাবে স্থানীয়ভাবে জামাতের পছন্দের অ্যান্টি-আওয়ামী লীগ স্বতন্ত্র বা কোন ছোট দলের প্রার্থী, যার সাম্প্রতিক নজির কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ফলাফল। ঝেটিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের আওয়ামী লীগ হতে বিদায় করে জামাত-বিএনপি-জাপা-জঙ্গি-রাজাকার পুত্র/কন্যা আওয়ামী লীগে ঢুকানো ও উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিগুলিতে নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত করানোর ফল কত বিষময় হবে, তা আওয়ামী লীগ টের পাবে, আগামী ২০১৮ সালের ২৭শে ডিসেম্বর তারিখে অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। 

বিএনপি-জামাতবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগও জিতবে না, তাহলে জিতবে কারা ?  

নির্বাচনও বসে থাকবে না, আসনও শূণ্য থাকবে না, জামাত-বিএনপি নির্বাচনে আসবে না, আওয়ামী লীগও জিতবে না, তাহলে আসনগুলি কারা পাবে, স্বভাবতই এ প্রশ্ন আসে। একটু অতীতের দিকে ফিরে তাকাই-ভ্রষ্ট সুশীলদের অভিযোগ, ২০১৪তে অনুষ্ঠিত নির্বাচনটি নাকি একতরফা ভোটারবিহীন নির্বাচন। আমার প্রশ্ন, তাহলে, পঁচা আনারস সহ ষোলটি আসন স্বতস্ত্র প্রার্থীরা কিভাবে পেয়েছিলো? পঁচা আনারসের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করলাম এ কারনে যে, উনি আবার গত কয়েকদিন যাবৎ গণ-মাধ্যমে টক-ঝাল-মিষ্টি আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছেন। এর উপর “ক্যান্সেলড মাই লাষ্ট অ্যানাউন্সমেন্ট এরশাদ সাহেব” তো আছেনই, অ্যান্টি-আওয়ামী লীগ ভোটে এরশাদ ও পঁচা-আনারসীদের আসন সংখ্যা ২০১৮তে বাড়বে। এরশাদ ও পঁচা-আনারসী ছাড়াও যেসব ঘটনা ও দুর্ঘটনাগুলি ঘটবে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, সেগুলির কিছু নমুনা উল্লেখ করা হলো:

নৌকা প্রতীক ছাড়াও ১৪-দলীয় জোটের শরিক দলগুলির দলীয় প্রতীকের প্রার্থী: কিছু আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে জয়লাভ করবে বর্তমান ক্ষমতাসীন জোট ১৪-দলীয় জোটভূক্ত দলসমূহের নিজস্ব দলীয় প্রতীক নিয়ে অংশ নেয়া প্রার্থীরা। এসব প্রার্থীর অধিকাংশই অতীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জামানত হারান, আগামী নির্বাচনেও তা হবে। কিন্তু, কিছু প্রার্থী অবিশ্বাস্যভাবে জনগনের ভোট নিয়েই জয়লাভ করবে। যা অতীতের সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি হয়ে যাবে-হয়তোবা সংখ্যাটি ৫০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। কোথায় এমন হবে, এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখে পাঠকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটানোর দরকার নেই-এক কথায় বলা যায়, “জনবিচ্ছিন্ন যারা নৌকা পাবে, তাদের গায়ে পড়ে জনগণ ভোট দিয়ে আসতে যাবে না, যদি একজন সৎ মানুষ পায়, যে সংসদে দাঁড়িয়ে কিছু কথা গুছিয়ে বলতে পারে, এমন প্রার্থীকে জনগণ নিজ উদ্যোগেই ভোটটি দেবে” । 

শুধু বিবেচনা করবে, এ লোকটা সংসদে দাড়িয়ে, “মাননীয় ব্রীজ, আমি একটা স্পীকার চাই” বা “মাননীয় স্পীকার, আমার রাস্তা ওশার করন লাগবো” এমন কথা বলে এলাকার দুর্নাম করবে কিনা? ১৯৮২-৯০ সামরিক-স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের অনেকেরই এখন একটা সামাজিক ভিত্তি আছে, একটা নির্বাচনে স্বাভাবিক প্রচারণা চালানোরও আর্থিক সামর্থ্য আছে, যারা ২০১৮তে ঠিকই প্রার্থী হবেন। একটি উদাহরন উল্লেখ করা যায়, জাতীয় সংসদ আসন-১ এর বর্তমান সংসদ সদস্য মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের সন্তান নাজমুল হক প্রধান ১৯৯১ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছাত্র-তরুণদের প্রচেষ্টায় প্রবীণদের মাঝেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন। অন্যমত দুজন প্রতিদ্বন্ধীর একজন তাঁর বিষয়ে নীরব থাকলেও আরেকজন (ব্যারিষ্টার জমিরউদ্দিন সরকার) প্রায় সব জনসভাতেই বলেছিলেন, “নাজমুলের বয়স কম, ছাত্র-রাজনীতি শেষ করলো, রাজনীতিতে পরিপক্ক হোক, ভবিষ্যতে সে এ এলাকার এমপি হবে”। ১৯৯১এর নির্বাচনে নাজমুল হক প্রধান যে ভোট পেয়েছিলেন, তা খুবই নগন্য । 

কিন্তু, লাগাতার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে কথা বলে যাওয়া ও এলাকায় কিছু কিছু যোগাযোগ রক্ষা করে চলার মাধ্যমে তিনি ২০১৪তে মহাজোটের প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন জনগনের ভোটে, কোন কেন্দ্র দখলের মাধ্যমে বা ব্যালটে ভূয়া সীল মেরে নয়; এমন উদাহরণ অতীতে খুব কম আছে, কিন্তু, ২০১৮তে তা হবে ব্যাপক ।

জামায়াতী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতবে কুমিল্লা সিটি স্টাইলে : দলের নিবন্ধন বাতিলের চলমান মামলা, দাড়িপাল্লা প্রতীক কোন রাজনৈতিক দল কর্তৃক ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়া, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ ও জঙ্গি মদদদানের মামলাগুলি মাথায় নিয়ে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এর নেতারা আগামী নির্বাচনে দলীয়ভাবে কোন নির্বাচন করছে না, এটি নিশ্চিত। কিন্তু, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী কি বসে থাকবে? যেসব আওয়ামী লীগ নেতা ও বর্তমান এমপি জামায়াতে-ইসলামীর নেতা-কর্মীদের নিয়ে বৈধ-অবৈধ ব্যবসা বাণিজ্য সহ ‘জিগরি-দোস্তী’ গড়ে তুলেছেন, তারা আগামী নির্বাচনে টের পাবেন “সূঁই হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বেরোয় কিভাবে জামাত-শিবিরের ক্যাডাররা”। আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বলেই এরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হবে, প্রচারণা চালাবে নামে মাত্র, নির্বাচনের পুরো সময় এদের গোপন সমর্থকেরা থাকবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে, নির্বাচনী প্রচাণার দুই বা তিনদিন আগে এরা ভোল পাল্টাবে। যখন নাকের পানি, চোখের পানি এক হবে নৌকা প্রতীক পাওয়া প্রার্থীর ।  

লেখক: মো: মাহমুদ হাসান (ভূতপূর্ব কলেজ অধ্যক্ষ ও সমাজ গবেষক) তারিখ: ১৪ই মে, ২০১৭, সময়: রাত ০৮.২০


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top