Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , সময়- ৫:৫৫ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বিতর্ক কেন ? বিএনপি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | প্রজন্মকণ্ঠ পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আবেদন খালেদা জিয়ার | প্রজন্মকণ্ঠ খালেদা জিয়া কারাগারের বাইরে থাকার সময়ও জনগণ তার ডাকে সাড়া দেয়নি : ওবায়দুল কাদের বিএনপি-জামায়াত ক্লিনহার্ট অপারেশন চালিয়ে আ'লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীকে নির্যাতনের শিকার করেছিল : প্রধানমন্ত্রী  ধর্মমন্ত্রী ও ভূমিমন্ত্রীর  কড়া সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রিজভীর নেতৃত্বে মিছিল করেছে বিএনপি আ'লীগের প্রতিনিধিদলের উত্তরবঙ্গ সফর শুরু । প্রজন্মকণ্ঠ   বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলন : সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার অঙ্গীকার | প্রজন্মকণ্ঠ  সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে মাঠে নামছে স্বাগতিক বাংলাদেশ, আগামীকাল | প্রজন্মকণ্ঠ

বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী চিরনিদ্রায় শায়িত | প্রজন্মকণ্ঠ 


প্রজন্মকণ্ঠ অনলাইন রিপোর্ট

আপডেট সময়: ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১২:২৯ এএম:
বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী চিরনিদ্রায় শায়িত | প্রজন্মকণ্ঠ 

মুক্তিযুদ্ধে সব হারানো বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার দেহ দাহ না করে সমাহিত করা হয়েছে।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা পোপাদিয়া গ্রামে ছেলে দীপংকর টুনুর সমাধির পাশেই রমা চৌধুরীকে সমাহিত করা হয়। রমা চৌধুরীর ভাতৃষ্পুত্র সমীর চৌধুরী জানান, রমা চৌধুরীর শেষ ইচ্ছা পূরণ করে তার দেহ দাহ না করে সমাহিত করা হয়েছে। স্থানীয়  ব্রাহ্মণ সাজু চক্রবর্তী ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাকে সমাহিত করেন।

এই সময় রমা চৌধুরীর আত্মীয় স্বজন ছাড়াও বোয়ালখালী উপজেলার শত শত সাধারণ মানুষ সমবেত হন। বোয়ালখালীতে পোপাদিয়া গ্রামে রমা চৌধুরীর মরদেহ নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষও তার মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এর আগে দুপুরে চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রমা চৌধুরীর মরদেহে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। চট্টগ্রামের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রমা চৌধুরীর মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর রমা চৌধুরীর মরদেহ তার দীর্ঘদিনের আবাসস্থল নগরীর চেরাগি পাহাড়ের লুসাই ভবনে সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর পর বিকেলে তার লাশ অ্যাম্বুলেন্স যোগে বোয়ালখালী উপজেলার পোপাদিয়া গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়।

রমা চৌধুরী ১৯৪১ সালে এই পোপাদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। তিনিই ছিলেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রথম নারী স্নাতকোত্তর (এমএ)। ১৯৬২ সালে কক্সবাজার বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ ১৬ বছর তিনি বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি তিন পুত্রসন্তানের জননী ছিলেন। থাকতেন পৈতৃক ভিটা পোপাদিয়ায়। তার স্বামী ভারতে চলে যান। ১৩ মে সকালে পাকিস্তানি সেনারা এসে চড়াও হয় তার ঘরে। এ সময় দুগ্ধপোষ্য সন্তান ছিল তার কোলে। এরপরও তাকে নির্যাতন করা হয়। পাকিস্তানি সেনারা গানপাউডার দিয়ে আগুন জ্বেলে পুড়িয়ে দেয় তার ঘরবাড়ি। পুড়িয়ে দেয় তার সব সম্পদ। নিজের নিদারুণ এই কষ্টের কথা তিনি লিখেছেন ‘একাত্তরের জননী’ গ্রন্থে।

জয়লাভের পর ২০ ডিসেম্বর তার বড় ছেলে সাগর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এর ১ মাস ২৮ দিন পর মারা যায় আরেক ছেলে টগর। এরপর তিনি জুতা পরা বাদ দেন। পরে অনিয়মিতভাবে জুতা পরতেন তিনি। ১৯৯৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর আরেক ছেলে মারা গেলে পুত্রশোকে তিনি আর জুতা পায়ে দেননি। খালি পায়ে হেঁটে নিজের লেখা বই বিক্রি করে চলতেন এই নারী।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top