Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১৯ , সময়- ৪:০১ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
দ্বিতীয় স্যাটেলাইট ও দ্বিতীয় যমুনা সেতুর পরিকল্পনা করছি ৩৭ এজেন্সিকে শাস্তি, মামলার নির্দেশ আইসিসি নতুন সিইও হিসেবে নির্বাচিত মানু সোহনি সরকারের সঙ্গে অব্যাহতভাবে কাজ করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে যাবে না বিএনপি ব্লগার হত্যার তদন্তে অগ্রগতি নেই অনিবার্য কারণবশত ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন স্থগিত ‘বিজয় উৎসব’ উপলক্ষে ডিএমপি’র ট্রাফিক নির্দেশনা বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী হঠাৎ করেই আলোচনায় চিত্রনায়িকা মৌসুমী

বেশির ভাগ বাবা-মায়েরই অভিযোগ বাচ্চা খেতে চায় না, জেনে নিন প্রতিকার | প্রজন্মকণ্ঠ 


প্রজন্মকণ্ঠ অনলাইন রিপোর্ট

আপডেট সময়: ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১:২৫ এএম:
বেশির ভাগ বাবা-মায়েরই অভিযোগ বাচ্চা খেতে চায় না, জেনে নিন প্রতিকার | প্রজন্মকণ্ঠ 

বেশির ভাগ বাবা-মায়েরই অভিযোগ বাচ্চা খেতে চায় না। অনেক ক্ষেত্রেই এই বিষয়টি নিয়ে মা-বাবা উৎকণ্ঠায় থাকেন। সাধারণত কিছু কিছু রোগের কারণে শিশুদের রুচি কমে যেতে পারে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যাপারটা অত জটিল কিছু নয়। হয়তো শিশু তার রুচি ও পরিমাণ অনুযায়ী ঠিকই খাচ্ছে, কিন্তু বাবা-মা তাতে তৃপ্ত হচ্ছেন না। মনে রাখতে হবে, বয়স অনুযায়ী মানসিক ও শারীরিক বিকাশ অন্য বাচ্চাদের মত হলে শিশুর খাওয়া নিয়ে বাবা-মায়ের দুঃশ্চিন্তা করার কিছু নেই।

শিশুর প্রতি বাবা-মায়ের মনযোগ কমে গেলেও সে খাওয়া কমিয়ে দিতে পারে। ইদানিং কর্মজীবী মায়ের সংখ্যা অনেক। ব্যস্ততার কারণে তারা হয়তো শিশুকে ঠিকমত সময় দিতে পারেন না। মায়েদের ব্যস্ততা শিশুর মনে দাগ কাটে। সে হয়তো শুধু খাবারের সময়টাতেই মাকে কাছে পায়। তাই অবচেতনেই তার মনে ঢুকে যায় যে, খাবার খেতে বেশি সময় নিলে বা খাবার নিয়ে যন্ত্রণা করলে মায়ের সঙ্গ আরও বেশি পাওয়া যাবে। সে ভাবে, ঠিকমত না খেলে বা খাবার নিয়ে যন্ত্রণা করলে তাকে হয়তো বাবা-মা সময় বেশি দিবে। এই কারণেও অনেক সময় শিশুরা খাবারের সময় নানান বায়না ধরে, ঠিকমত খেতে চায় না।

তবে সবার ক্ষেত্রে এটি সত্যি নয়। কিছু বাচ্চা আছে যারা সত্যি সত্যি খায় না। এদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিটাও ঠিকমতো হয় না। এদের ক্ষেত্রে দেখতে হবে বাচ্চাটি কি অপুষ্টির শিকার হচ্ছে কিনা বা তার রক্তশূন্যতা আছে কিনা? অনেক সময় বাচ্চার ঘন ঘন ইনফেকশন বা সংক্রমণ হলে খাওয়ার রুচি কমে যায়। এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে।

এর পাশাপাশি শিশুর পেটে কৃমি আছে কিনা তাও দেখতে হবে। কিছু বাচ্চার থ্যালাসেমিয়া থাকতে পারে, অ্যাজমা বা হাঁপানির সমস্যা থাকতে পারে। এগুলোও অরুচির কারণ। আমাদের দেশে মূত্রনালীর সংক্রমণের কারণেও শিশুদের খাবারে অরুচি হতে পারে। তাই সমস্যা গুরুতর মনে হলে রোগনির্ণয়ের জন্য ডাক্তারের পরামর্শমত কিছু পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা উচিত। এছাড়া আরো কিছু বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেমন:

১. শিশুদের সাথে খাওয়ানো নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে আচরণগত পরিবর্তন আনুন। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে ঘুম থেকে উঠেই খিচুড়ি বা অন্য খাবার না দিয়ে আগে বুকের দুধ দিন। বুকের দুধ খাওয়ানোর দুই-তিন ঘণ্টা পর অন্য খাবার দিন। খাবার নিয়ে জোর করবেন না। শিশুকে নিজের হাতে খেতে অভ্যস্ত করে তুলুন। খাবার প্রস্তুত, বাজার বা পরিবেশনে সম্ভব হলে তাকে সঙ্গে রাখুন। তার পছন্দমতো মাছ, মাংস বা সবজি কিনুন। এতে খাবারের প্রতি শিশুর আগ্রহ বাড়বে।

২. শিশুকে যখন-তখন চিপস, জুস, চকলেট বা এই ধরণের খাবার দেওয়া যাবে না, এতে খিদে নষ্ট হয়।

৩. আহারের মধ্যবর্তী সময়গুলোতে শিশুকে অন্যান্য খাবার বেশি দেবেন না। যেমন: ভাত খাওয়ার দুই ঘণ্টা আগে দুধ বা নাশতা দেবেন না। শিশুর স্কুল যদি ১২টায় ছুটি হয়, তবে ফিরে এসে তেমন কোনো নাশতা না দেওয়াই উচিত। এক্ষেত্রে খিদে থাকা অবস্থাতেই দুপুরের খাবার দিয়ে দেওয়া যায়।

৪. শিশুকে এক খাবার প্রতিদিন দেবেন না। উদাহরণস্বরূপ রোজ ডিম সেদ্ধ না দিয়ে ডিমের তৈরি নানা জিনিস যেমন, পুডিং, জর্দা ইত্যাদি দিতে পারেন। দুধের ক্ষেত্রেও তাই। পুডিং, সেমাই বা পায়েসে প্রচুর দুধ থাকে, সেটাই খেতে দিন। ফল খেতে না চাইলে কাস্টার্ড করে দিন।

৫. অনেক সময় খাবার পরিবেশনে ভিন্নতা আনলেও কাজ হয়। রঙিন পাত্রে খাবার পরিবেশন করুন। খাবার টেবিলকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলুন।

৬. শিশু যদি খুব অন্যমনস্ক থাকে, তাহলে খিদে নষ্ট হয়ে যায়। ধরুন, আপনার শিশুর বন্ধুরা সবাই বাইরে খেলাধুলা করছে আপনি জোর করে বাড়ির মধ্যে রেখে তাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন, তাহলে কিন্তু আপনার শিশুটি একেবারেই খেতে চাইবে না। বরং টিভি দেখা কমিয়ে শিশুর জন্য পর্যাপ্ত খেলার ব্যবস্থা করুন, এতে খিদে বাড়বে।

৭. সচরাচর এটাই দেখা গেছে, শিশু যদি একা খায় তাহলে সে খুব বেশি খেতে চায় না। কিন্তু যদি সপরিবারে বসে একসঙ্গে খায়, তাহলে আপনার শিশুটিও খেতে উত্সাহ পাবে। তাই দিনে লাঞ্চ বা ডিনার সবাই একসাথে করুন।

৮. এসব কিছুর পাশাপাশি বাচ্চা ঠিকমতো বেড়ে উঠছে কি না সেদিকেও নজর রাখতে হবে। যদি দেখা যায় যে, বাচ্চা সমবয়সীদের মতোই বাড়ছে এবং তার ওজনও ঠিক আছে তাহলে বুঝতে হবে তার শরীরে পুষ্টির কোনো ঘাটতি নেই। অর্থাৎ আপনার শিশুর খাওয়া-দাওয়া স্বাভাবিক আছে।

অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, বাচ্চার ওজন বয়সের তুলনায় বেশি অথচ বাবা-মায়ের অভিযোগ শিশুটি একদম খায়ই না। এই ধরনের পরিস্থিতিতে বাবা-মাকে বুঝাতে হবে যে, শিশু যদি ঠিকঠাক না খেত তাহলে তার ওজন বেশি হতো না। এরপরও যদি জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয় তবে তা শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আর যদি দেখা যায় বাচ্চা ঠিকঠাক বাড়ছে না এবং বয়সের তুলনায় ওজন অনেক কম বা অতিরিক্ত বেশি তাহলে দ্রুত কোনো শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top