Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ৫:৪২ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
ভাসানীর আদর্শকে ধারণ করে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান  তরুণ ভোটারদের প্রাধান্য দিয়ে প্রণয়ন করা হচ্ছে আ'লীগের ইশতেহার  মওলানা ভাসানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ  বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত করা হয়নি  দাবানলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৪, নিখোঁজ সহস্রাধিক রাজনৈতিক দলগুলোর রেকর্ড পরিমান মনোনয়নপত্র বিক্রি ঐক্যফ্রন্ট সংখ্যাগরিষ্ট আসন পেলে কে হবেন প্রধানমন্ত্রী ?  আ’লীগ নেতা রেজনু ও ছাত্রদল নেতা জিলানির ফোনালাপ ফাঁস প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ইসিকে সহযোগিতার নির্দেশনা | প্রজন্মকণ্ঠ আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে চারজন নিহত | প্রজন্মকণ্ঠ

স্তন ও জরায়ু মুখের ক্যানসার : আমাদের করণীয় | প্রজন্মকণ্ঠ


প্রজন্মকণ্ঠ অনলাইন রিপোর্ট

আপডেট সময়: ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১২:৩৮ এএম:
স্তন ও জরায়ু মুখের ক্যানসার : আমাদের করণীয় | প্রজন্মকণ্ঠ

বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর অন্তত ১০ লাখ নারী স্তন এবং জরায়ু মুখের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়৷ আর প্রতি বছর এই দু'টি রোগে আক্রান্ত নারীদের দুই তৃতীয়াংশের মৃত্যু হয়৷ বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে এই মৃত্যু হার আরও বেশি৷

চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির প্রেক্ষাপটে আমরা জানি যে, স্তন এবং জরায়ু মুখের ক্যানসারে আক্রান্ত নারীদের ম্যামোগ্রাফি এবং রেডিওথেরাপির মতো কিছু ডায়গনিস্টিক এবং চিকিত্সা সেবা দেয়া সম্ভব৷ বিশেষ করে প্রাথমিক অবস্থার ক্যানসার মোকাবিলা করার জন্য এসব সেবা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে৷ কিন্তু এই চিকিৎসাপদ্ধতি অনেক ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে প্রতি বছর লাখো নারীর মৃত্যু হয়৷

গবেষকরা বলছেন, এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এগিয়ে না এলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের নারীদের এই প্রাণঘাতী রোগ থেকে বাঁচানো মুশকিল হবে৷ গবেষকরা তাই আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার আহ্বান জানাচ্ছেন, যাতে করে ২০৩০ সালের মধ্যে স্তন এবং জরায়ু মুখের ক্যানসার প্রতিরোধে এবং মৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে উন্নতি সাধন করা যায়৷

জরায়ু মুখ ক্যানসার প্রতিরোধে করণীয়

জরায়ু মুখে ক্যানসার বিশ্বব্যাপী নারী মৃত্যুর অন্যতম কারণ৷ বাংলাদেশেও প্রতি বছর প্রায় ১৮ হাজার নারী নতুন করে জরায়ু মুখ ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং প্রতি বছর প্রায় ১২ হাজার নারী এই ক্যানসারে মৃত্যু বরণ করেন৷

প্যাপ টেস্ট নামের একটি পরীক্ষার মাধ্যমে জরায়ু মুখের কোষের পরিবর্তন নির্ণয় করা হয়৷ ‘ব্রাশ' অথবা ‘স্পেকুলাম' নামক সরঞ্জাম জরায়ু মুখে প্রবেশ করিয়ে জরায়ু থেকে কোষ সংগ্রহ করা হয় এবং তা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়৷ জরায়ু কোষে যে কোনো ধরনের পরিবর্তন ধরা পড়লেই বিশেষজ্ঞ  চিকিৎসক দ্রুত সুনিদির্ষ্ট চিকিৎসা শুরু করতে পারেন, যাতে ভবিষ্যতে রোগীটির ক্যানসারে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা না থাকে৷

যৌন সংস্পর্শ জরায়ু মুখের ক্যানসার ছড়ানোর প্রধান কারণ৷ যৌন সক্রিয় প্রতিটি নারীই তাই এই ঝুঁকির আওতাভুক্ত৷ যৌন সক্রিয় সকল নারীর দৈহিক মিলন শুরুর তিন বছর পর থেকে বছরে একবার প্যাপ টেস্ট করা প্রয়োজন৷ যদি পরপর তিনটি পরীক্ষার ফলাফলে কোনো সমস্যা চিহ্নিত না হয়, সেক্ষেত্রে প্রতি তিন বছরে একবার প্যাপ টেস্ট করা যেতে পারে৷ মেনোপজ অথবা জরায়ুর আংশিক অপসারণের পরেও প্যাপ টেস্ট অব্যাহত রাখা প্রয়োজন৷ তবে সত্তরোর্ধ নারীদের জন্য যদি বিগত দশ বছরে পর পর তিনটি পরীক্ষার ফলাফলে কোনো সমস্যা না থাকে, তাহলে তাঁদের আর প্যাপ টেস্ট করার প্রয়োজন নেই৷ গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যাপ টেস্ট করা যেতে পারে৷

জরায়ু মুখের ক্যানসার কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়৷ হিউম্যান প্যাপিলোমা নামক একটি ঘাতক ভাইরাস এই রোগের প্রধান কারণ৷ সাধারণত অধিকাংশ নারীই জীবদ্দশায় একাধিকবার এইচপিভি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়৷ একজন নারীর সহজাত প্রতিরোধ ক্ষমতা বা কনডমের ব্যবহার কখনোই এই ইনফেকশনের বিরুদ্ধে স্থায়ী প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করতে পারে না৷ সম্প্রতি জরায়ু মুখ ক্যানসার প্রতিরোধে অতি কার্যকর টিকা আবিষ্কৃত হয়েছে৷ পর পর তিন ডোজ টিকা, নিয়মিত প্যাপ টেস্টের মাধ্যমে স্ক্রিনিং, চিকিৎসকের পরামর্শ এবং সাবধানতা জরায়ু মুখের ক্যানসার প্রায় সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করতে পারে৷

স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে করণীয়

নারীদের অন্যতম আর একটি ক্যানসার হলো স্তন ক্যানসার৷ সারা বিশ্বের নারীদের প্রতি ৮ জনের মধ্যে একজন স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত৷ বাংলাদেশেও প্রতি বছর প্রায় ২২ হাজার নারী নতুনভাবে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে এবং প্রায় ১৭ হাজার নারী স্তন ক্যানসারে মৃত্যুবরণ করছে৷ যে কোনো বয়সের নারীই স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারেন৷ তবে মাঝ বয়সি নারীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি৷ বয়স বাড়ার সাথে সাথে ঝুঁকিও বাড়ে৷ সাধারণত পঞ্চাশোর্ধ্ব নারীদের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে৷

পারিবারিক ইতিহাস না থাকলেও স্তন ক্যানসার হতে পারে৷ এছাড়া বিআরসি এ -১ এবং বিআরসি এ -২ জিন দু'টির বিবর্তন বা মিউটেশনের কারণেও স্তন ক্যানসার হতে পারে৷ স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সর্বপ্রথম যে জিনিসটির প্রয়োজন, তা হলো নারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা৷ নিয়মিত ব্রেস্ট স্ক্রিনিং করতে হবে৷ ২০ বছর বয়স থেকে প্রত্যেক মহিলার উচিত স্তনের সুস্থতা সম্পর্কে সচেতন হওয়া৷ এজন্য প্রতি মাসে মাসিক শেষ হওয়ার ৫ম থেকে ৭ম দিনের যে কোনো দিন তাঁকে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বা গোসলের সময় স্তন ও বগলের নিচের অংশ পরীক্ষা করতে হবে এবং যে কোনো সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে৷ ৪০ বছর বয়স থেকে প্রত্যেক নারীর বছরে একবার ম্যামোগ্রাম নামের বিশেষ পরীক্ষাটি করাতে হবে৷ সম্ভব না হলে স্তনের আল্ট্রাসনোগ্রাম করা যেতে পারে৷ এছাড়া, এই বয়সকালে বছরে একবার অন্তত চিকিৎসক দিয়ে স্তন পরীক্ষা করাতে হবে৷ নিয়ন্ত্রিত ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত স্তন পরীক্ষা এবং নির্দেশনা অনুযায়ী ম্যামোগ্রাম করলে স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ এবং প্রাথমিক অবস্থার রোগ নির্ণয় করা সম্ভব৷

বিশ্বব্যাপী সার্বজনীন স্বাস্থ্য কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা এবং এক্ষেত্রে স্থায়ী উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের জন্য নারীদের স্তন ক্যানসার এবং জরায়ু মুখের ক্যানসার চিকিৎসায় আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে৷ বিশেষত নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশে নারীদের জরায়ু মুখ ও স্তন ক্যানসার চিকিৎসায় সার্বিক সহায়তা করা প্রয়োজন৷

নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশে এই দু'টি ক্যানসারের ভয়াবহতার মাত্রা এবং প্রকৃতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের অভাব রয়েছে৷ জরায়ু মুখ ও স্তন ক্যানসারের প্রকৃত চিত্র পাওয়ার জন্য এক্ষেত্রে যথেষ্ট উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন৷ লক্ষ লক্ষ নারী প্রতি বছর বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছেন৷ তাঁদেরকে সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেয়া প্রয়োজন, যাতে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী নারীরা এই দু'টি ঘাতক ব্যাধির ভয়াবহতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে৷


শাহনাজ চৌধুরী, সহযোগী অধ্যাপক, রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top