Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ২:১০ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন নির্বাচনি জোটের শরিক জাতীয় পাটি পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) আজ  প্রধানমন্ত্রীর হাতে ৩৮টি আসনের তালিকা তুলে দিয়েছেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী হেলমেট পরে হামলার নির্দেশ দিয়েছিল বিএনপি নেতারা সেই তৃতীয় শক্তির নেতারা আজ কে কোথায় ?  বিদ্যুৎ খাতে দক্ষিণ কোরীয় বিনিয়োগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী বিদেশি টিভি চ্যানেলে দেশিপণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধের নির্দেশ অধিকাংশ ইসলামী দলগুলি ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের সঙ্গে | প্রজন্মকণ্ঠ গত পাঁচ বছরে যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছে আ'লীগ সরকার | প্রজন্মকণ্ঠ #মি টু ঝড় এখন বাংলাদেশে 

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক শেখ হাসিনার আগামীর পথ চলা হোক মসৃণ


মো: মাহমুদ হাসান

আপডেট সময়: ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১:২৩ এএম:
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক শেখ হাসিনার আগামীর পথ চলা হোক মসৃণ

উপ-সম্পাদকীয়, মাহমুদ হাসান : শেখ হাসিনা আজ ২০১৮ সালে বিশ্বনেত্রী ও বিশ্বের রাষ্ট্রনায়কদের জন্য মডেল এটা সর্বজন স্বীকৃত। সর্বশেষ ৬৫ বছর ধরে চলে আসা রোহিঙ্গা জাতি গোষ্ঠী যখন বিশ্ব হতে বিপন্ন করে দিচ্ছিলো মায়ানমারের বর্বর জান্তারা তখন তাদের আশ্রয় দিয়ে সারা বিশ্ব হতে “বিশ্ব মানবতার জননী” খেতাবে ভুষিত ও নন্দিত। ১৯৮১ সালের ১৭ই মে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম সন্তান শেখ হাসিনা স্বজনহারা দেশে আসেন “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ” এর সভানেত্রী হিসেবে। একাধারে তিন যুগ সভানেত্রী হিসেবে দলটিকে সুসংগঠিত করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করে অভিষিক্ত হন জননেত্রী হিসেবে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের তিনবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, তিনবার বিরোধী দলীয় নেত্রীর দায়িত্ব পালনে যোগ্য রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে স্বীকৃত ও আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি বিশ্বের যে কোন ফোরামে স্বীয় মেধা, প্রজ্ঞা, তাৎক্ষণিক সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশসমূহের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানদের সাথে এক সময় বন্ধুসুলভ, গত ৫বছর অভিভাবকসুলভ আচরণের মাধ্যমে আজ বিশ্বনেত্রী ও বিশ্বের রাষ্ট্রনায়কদের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। 

শেখ হাসিনার এই পথ চলা কুসুমাস্তীর্ণ ছিলো না; বরং ছিলো কন্টকাকীর্ণ 

জাতির পিতাকে হত্যা ও বাংলাদেশকে বশংবদ রাষ্ট্রে পরিণত করার পেছনে কলকাঠি নেড়েছিলো সিআইএ ও আইএসআই; আর বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনাকে ধ্বংস করে দিয়ে বাংলাদেশে একটি অথর্ব ও পুতুল সরকার গঠনের মাধ্যমে পূণরায় শোষণের ক্ষেত্র তৈরি করার জন্য সিআইএ ও আইএসআইয়ের সঙ্গে এখন ষড়যন্ত্রে জড়িত মোসাদও। গত ৩৭ বছরে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে ২৩ বার, এর মধ্যে ২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলা ছিলো সবচেয়ে ভয়াবহ। জাতির পিতার পাশে মোশতাকের মতোই বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনার পাশেও রয়েছে হিংস্র শ্বাপদ, অথচ এটি গুরুত্ব না দেয়াতে বাড়ছে ঝুঁকি, জনপ্রিয়তার বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে ষড়যন্ত্রও। ১৯৭৫ সালেও যেমন জাতির পিতার সবচেয়ে বিশ্বস্ত হওয়ার অভিনয় করে সফল হয়েছিলো খুনী খোন্দকার মোশতাক, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, কে এম ওবায়দুর রহমান, তাহেরউদ্দিন ঠাকুর, মাহবুবুল আলম চাষীরা, ২০১৭-১৮তেও খোন্দকার মোশতাকের আত্মীয় ও প্রতিবেশিরা (আইএসআইএর এজেন্ট, ইয়াবা কারখানা মালিকরা) বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনার পাশে বিশ্বস্ততার অভিনয়ে সফল। দেশ যখন উন্নয়নের মহাসড়কে, তখন ষড়যন্ত্রগুলি কেন?


শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের কারনসমূহ 

(১) বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা বিজয় পরবর্তীতে সমুদ্রসীমা ও স্থলভাগে খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণে নিজস্ব সামর্থ্য ও সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টায় বাপেক্সকে শক্তিশালী করা; 
(২) জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশের সৈনিকদের পেশাদারিত্বসুলভ আচরণের ফলে সুনাম ও সংখ্যায় সর্বোচ্চ স্থান দখল করায় বিশ্বের পরাশক্তিসমূহের আঁতে ঘা লাগা; 
(৩) সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তেজীভাব বজায় রাখতে সক্ষম হওয়া, যা বিশ্বের অপরাপর দেশসমূহের রাষ্ট্রনায়কদের মধ্যেই নয়, সাধারন মানুষের মধ্যেও আলোচনায় এসেছে, যার সর্বশেষ নজির বাংলাদেশের চিরশত্রু রাষ্ট্র পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবিদের মধ্য থেকে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে “বাংলাদেশের উন্নয়নের মডেল অনুসরণ” এর জন্য প্রকাশ্যে আহবাণ জানানো; 
(৪) আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে জননেত্রী শেখ হাসিনার সন্মানজনক অবস্থানে উন্নীত হওয়া এবং মোড়ল দেশগুলির নেতৃত্বকে পাশ কাটিয়ে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলির নেতারা শেখ হাসিনার পরামর্শের প্রতি আগ্রহী হওয়ায় মোড়ল দেশগুলির নেতাদের ঈর্ষাপরায়ণতা; 
(৫) বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলায় কিছু বিষয়ে বাংলাদেশকে রোল মডেল হিসেবে গণ্য করার ফলে সৃষ্ট মোড়ল দেশগুলির বিশেষজ্ঞ পর্যায় হতেও ঈর্ষা সৃষ্টি। 


বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক শেখ হাসিনার পথ চলা হোক মসৃণ

সমস্যার উৎসের সন্ধান করা গেলে সমাধানও বের করা সম্ভব। আসুন, খুঁজে দেখি অতীতের ভ্রান্তি হতে আগামী দিনের মসৃণ পথ চলার উপায়সমূহ : ১৯৭০এর মতোই ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যালট বিপ্লব হয়েছিলো বাংলাদেশে, তার পিছনে কারন ছিলো, ২০০১-০৬এ মোসাদ, আইএসআই ও সিআইএ মদদপুষ্ট জামাত-বিএনপি জোট সরকারের নির্যাতনের ফলে জনগনের মনের ক্ষোভ ও বেদনা এবং ২০০৬-০৮এ তত্ত্বাবধায়কের নামে বিদেশী ষড়যন্ত্রকারিদের (মোসাদ, আইএসআই ও সিআইএ) মদদপুষ্ট প্রচ্ছন্ন সামরিক শাষণকালে জননেত্রী শেখ হাসিনা সহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের উপর অমানুষিক নির্যাতনের নানামুখী অভিনব প্রতিবাদে জনগণকে সম্পৃক্ত করে জনগনের সহানুভূতি অর্জন। আজ ২০১৮তে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিকল্প কোন রাজনৈতিক শক্তি কার্যত: নেই; যদিও গত কয়দিন যুক্তফ্রন্ট নামের এক অদ্ভুত জোটের উত্থানের চেষ্টা হচ্ছে গুলশান জঙ্গি হামলার নেপথ্য নায়িকা ও নায়কদের চেষ্টায়-যা শুরুতেই জনগণের ব্যাপক নিন্দার মধ্যে পড়ে আতুরঘরেই ধুকে ধুকে মরছে, যেটির বেঁচে, উঠে দাড়াবার সম্ভাবনা শুণ্যের কোঠায়। 

আপাতঃ দৃষ্টিতে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাধারনভাবে মনে হতেই পারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরংকুশ জয়লাভ করবে। কিন্তু, বাংলাদেশের কিছু মানুষ (ফ্লোটিং ভোট) ভোটের রাজনীতিতে কোন দলের আদর্শ ও নীতির প্রতি আস্থাশীল হতে পারে না। এর অর্ন্তনিহিত কারন হলো, নেতা-কর্মীরা দলের আদর্শ ও নীতি সম্পর্কে জানেনা, জানতে চায়না, জানানো হয়না, এমনকি যারা জানেন, তাদেরও অধিকাংশই দলের আদর্শ ও নীতি লালন করেন না। 

জাতির পিতার প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারি দল ও অন্যান্য বড় দলের তুলনায় দেশের জন্য মঙ্গলজনক বিবেচনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের বিশাল অংশ স্বীয় চেষ্টায় যার যার এলাকায় আওয়ামী লীগের নিজস্ব একটি ভোট ব্যাংক ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন-স্বীয় আত্মত্যাগ, মানবসেবা ও ব্যক্তিগত চারিত্রিক দৃঢ়তায় মানুষের মন জয় করে। কিন্তু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এই নিজস্ব ভোট-ব্যাংকটি স্বাধীনতাত্তোরকাল হতেই সমৃদ্ধ হওয়ার বদলে ক্রমে ক্ষয়িষ্ণু হয়ে চলেছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশে “এন্টি আওয়ামী লীগ ভোট ব্যাংক” শূণ্য হতে সমৃদ্ধ হচ্ছে স্বাধীনতার ঊষালগ্ন হতেই, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কিছু ভূল সিদ্ধান্ত ও কিছু নেতাকর্মীর আত্মঘাতী কাজের ফলে। এই ভোট ব্যাংকটি আওয়ামী লীগের বিপরীতে যে প্রার্থীকে একটু শক্তিশালী মনে হয়, তার পিছনে ঝাঁপিয়ে পড়ে, এর মেকানিজমটা স্থানীয় পর্যায়ে করে থাকে প্রশাষনের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা স্বাধীনতা-বিরোধী অপশক্তিসমূহের ক্যাডাররা এবং জাতীয় পর্যায়ে বিদেশী মদদে অধিকাংশ গণমাধ্যম ও তথাকথিত সু-শীলেরা।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬-২০০১এ শাষণকালে দ্রুত গতিতে দেশের উন্নয়ন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি, ভারতের সাথে ‘গংগা পানি চুক্তি’ সহ বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও আইনের শাষণ কায়েমের লক্ষ্যে কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিন্তু, সন্ত্রাস, শেয়ারবাজার কেলেংকারির ফলে শিক্ষিত তরুণ-যুব সমাজের একাংশের জ়ীবনে দুর্দশা নেমে আসা ও দূর্নীতির রাহুগ্রাস মানুষের মনে কালো ছায়ার রেখাপাত করে। যার ফলে, ২০০১এর সালসা নির্বাচনে দেশের অধিকাংশ ভোটার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ভোট দিলেও, সেই ভোট রক্ষার জন্য সাধারন ভোটারদের আগ্রহ ও উদ্যোগ ছিলো না, আর আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা সেই ভোট রক্ষায় দমন-পীড়নের মুখে কোন উদ্যোগ নিতে পারে নাই। নির্বাচনের ফলাফল রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর ‘পোলিং এজেন্ট’ ছিলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ১৮বছরের নীচের কিশোরেরা। যাদের দুপুর ১২টার পর কেন্দ্র হতে ধমকিয়ে বা ফুসলিয়ে বের করে দিয়ে পরে ঢুকতে দেয়া হয়নি, ভোটের ফলাফল পালটে জামাত-বিএনপিকে জয়ী দেখানো হয়। 

২০১৩এ আবারো ২০০৬-০৮এর মতো অসাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে জামাত-বিএনপির ভোট বর্জনের ফলে যে নির্বাচন হলো, তা নিয়ে সাধারন মানুষের মনে কোন উল্লাসও নাই, কোন ক্ষোভ বা বেদনাও নাই। কারন, ২০০৯-১৩এ কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সাধারন মানুষ সরকার ও সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দ্বারা নির্যাতিত হয় নাই। জামাত-বিএনপি জোট জঙ্গিদের পাশে নিয়ে এ নির্বাচন প্রতিহতের জন্য যে ধবংসাত্মক পথ বেছে নিয়েছিলো, তাতে মানুষের মনে হিংস্র দানব হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আজ ক্ষয়িষ্ণু। পক্ষান্তরে, ২০০৯ হতে ২০১৬ পর্যন্ত্য প্রশাষন ও উন্নয়নের সকল পর্যায়ে ডিজ়িটালাইজেশন, দেশের জাতীয় অর্থনীতির অব্যাহত সমৃদ্ধি এবং নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু সহ বৃহদাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শত হুমকী ও প্রতিকুলতার মাঝেও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও রায় কার্যকরে দৃঢ়তা, ভারতের সাথে ছিটমহল বিনিময় কার্যকর হওয়া, বিপন্ন মানবতায় আর্ত-পীড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যোগ্য রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শেখ হাসিনার প্রতি মানুষের আস্থা, বিশ্বাস বেড়ে চলেছে। কিন্তু, ২০১৪ হতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে, বিপথগামী তরুণ-তরুণী এমনকি বয়ষ্ক ব্যক্তিদের দ্বারাও সংঘটিত সাইবার ক্রাইম, বিদেশে অবৈধভাবে শ্রমিক প্রেরণের নামে সলিল সমাধি, বিদেশের পতিতালয় ও আইএস জঙ্গি ঘাটিগুলিতে নারী পাচার, সরকার ও প্রশাষনকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে ঢাকা ও নারায়নগঞ্জে ইয়াবা কারখানা তৈরি, নারায়নগঞ্জে সেভেন মার্ডার সহ কিছু এমপি ও জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ের কিছু নেতার দলীয়করণের নামে ব্যক্তি আধিপত্য চাপানোর অপচেষ্টা, আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের অন্যতম উৎস সংখ্যালঘুদের জমি, ব্যবসা, বাড়িঘর দখলের জঘন্য মানসিকতা নিয়ে জামাত-বিএনপি জোটের কর্মী ও জঙ্গিদের সাথে নিয়ে কিছু ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িয়ে যাওয়া, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে খাই খাই মানসিকতা (সর্বশেষ নজির গরিবের ১০টাকা কেজি চাল নিয়ে কেলেংকারি), ছোট ও মাঝারি অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সংস্কার কাজে দূর্নীতি (অবকাঠামো নির্মানে রডের বদলে বাশের ফালি ও কঞ্চি), ২০১৬এর ইউপি নির্বাচনে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইউনিয়নে জঙ্গি মদদদাতা, জামাত-বিএনপি নেতা-কর্মী ও রাজাকার-পুত্রদের মনোনয়ন দেয়ার ফলে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা গাণিতিক হারে বাড়লেও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের প্রতি মানুষের আস্থা জ্যামিতিক হারে কমছে। কেননা, মানুষ এসব ঘটনাগুলোর সাথে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত এবং এসবের কুশীলবদের ভালো করেই চিনে। 

প্রতিপক্ষ বা বিরোধীপক্ষ ব্যাপকভাবে প্রচার না করলে বড় ধরনের দূর্নীতির বিষয়ে সাধারন মানুষ জানেনা। কিন্তু, মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন সম্পর্কিত ঘটনার সাথে জড়িত ও মানুষকে সরাসরি লাভবান বা ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন বিষয়ে মানুষ ভূক্তভোগী হয়, যন্ত্রণাবিদ্ধ হয়, যা ভোটের সময়ে ক্ষোভ উগলে দেয়।
 
২০১৭ ও ২০১৮ সাল দু’টি বছর যথেষ্ট সময় ছিলো সাধারন মানুষের মন জয় করার। সরকার ও আওয়ামী লীগ একটু সতর্ক হয়ে, ছোটখাট বিষয়ে লোভ লালসার উর্ধে উঠে কিছু পদক্ষেপ নিলে আবারো ২০০৮এর মতো নৌকার পক্ষে ব্যালট বিপ্লব সাধারন মানুষই করতো। 

যেসব বিষয় সাধারন মানুষ সরাসরি জানে এবং মানুষকে সরাসরি প্রভাবিত, লাভবান ও ক্ষতি করে এমন বিষয়গুলি আওয়ামী লীগ বিবেচনায় নিতে পারতো, কথাগুলি বহুবার নানা মাধ্যমে সরকারের নীতি-নির্ধারক পর্যায়ে পৌছানোর চেষ্টা করা হয়েছে, আমলে নেয়া হয়নি। এখন মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবে, ভোটও আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীকে দেবে, কিন্তু, আজ ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ মেরুদন্ডহীন, ভোট রক্ষা করতে পারবে কিনা সন্দেহ ! যে কথাগুলি আমলে নিলে আজ আওয়ামী লীগকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে সাধারন মানুষ আওয়ামী লীগের ভোট রক্ষায় ঝাপিয়ে পড়তো সেগুলি হলো- 

(১) গরিবের জন্য ১০টাকা কেজি চাল, ভিজিডি, ভিজিএফ সহ সকল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগী বাছাইয়ে দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতিমুক্ত, স্বচ্ছতা ও সততা নিশ্চিত করা;
(২) প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা, বয়ষ্ক ভাতা সহ সামজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীতে প্রদেয় টাকার পরিমান ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো; 
(৩) সরাসরি সরকারি তত্ত্বাবধানে ৪০হাজার টাকায় বিদেশে শ্রমিক প্রেরণের ঘোষণাটির বাস্তব রুপ নিশ্চিত করা;
(৪) সকল ধরনের আদম ব্যবসায়ী ও দালাল চক্রকে এই লাইন হতে সরে গিয়ে অন্য পেশা/কাজে জড়িত হওয়ার কঠোর নির্দেশনা দেয়া, এরপরেও কেউ আদম পাচারে জড়িত হওয়ার চেষ্টা করলে জিরো টলারেন্স নীতির ভিত্তিতে নির্মূল করা; 
(৫) বিদেশে অদক্ষ শ্রমিক গমন পুরোপুরি বন্ধ করা, আধা দক্ষ ও দক্ষ পুরুষ শ্রমিক তৈরির জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা, বর্তমান সরকারি ও বেসরকারি কেন্দ্রসমূহে পেশাগত প্রশিক্ষণ ও ভাষাগত প্রশিক্ষণ যাতে যথোপযুক্ত হয় তা নিশ্চিত করা; 
(৬) বিদেশে পেশাজীবি নারী ছাড়া সকল ধরনের নারী শ্রমিক গমন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা;
(৭) সকল ধরনের শ্রমিক, পেশাজীবি বিদেশে গিয়ে বাংলাদেশের দুতাবাসে রিপোর্ট করবে এবং বাংলাদেশের দূতাবাস হতে তাদের কাজের ও থাকাখাওয়ার ব্যবস্থাদি উল্লেখ সহ উপযুক্ত নিয়োগপত্রের কপি জমা দিয়ে নিয়ে যাবে এমন বিধান চালু করা ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা; 
(৮) কারিগরিভাবে অতি দক্ষ পেশাজীবি ও বিজ্ঞানীদের বিদেশে গমন নিষিদ্ধ করা ও দেশেই তাদের দক্ষতা কাজে লাগানো ও গবেষণার জন্য উপযুক্ত সুবিধা ও পরিবেশ নিশ্চিত করা;
(৯) ছোট ও মাঝারি সকল ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ দূর্নীতিমুক্ত করা;
(১০) স্বাধীনতা উত্তরকাল হতে এ যাবত সঙ্ঘটিত সকল ধরনের সাম্প্রাদয়িক হামলা, বাড়ি-জমি-ব্যবসা অবৈধ দখলের প্রতিকার ও বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন বিচার শুরু; 
(১১) ২০০১এর সালসা নির্বাচনের প্রচারণাকালে ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সঙ্ঘটিত মানবতা বিরোধী অপরাধ সমূহের বিচার বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করে এখনই শুরু করা; 
(১২) মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান বিচারসমূহ নিস্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা, পরিধি, কর্মী ও বাজেট বাড়ানো;
(১৩) দেশের আদালতসমূহে চলমান মামলাগুলোর দ্রুত বিচার সম্পন্নের উদ্যোগ গ্রহণ করা; 
(১৪) কারাগারগুলোতে নতুন অপরাধী সৃষ্টির বদলে অপরাধী সংশোধনের পরিবেশ সৃষ্টি;
(১৫) ছোটখাট অপরাধ ও জীবনে একটি মাত্র অপরাধ আদালত আমলে নিয়ে বিচার করে শাস্তি দিয়েছে, এমন অপরাধীদের প্যারোল ও প্রবেশন কর্মসূচীর মাধ্যমে সমাজসেবা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সংশোধনের প্রচেষ্টা কার্যকর করা-যা আইনে উল্লেখ রয়েছে;
(১৬) ঢাকা শহরে যেমন অযথা পুলিশি হয়রানি কমে গিয়েছে তা সারা দেশেই নিশ্চিত করা, যাতে “পুলিশ জনগনের বন্ধু” স্লোগানটি মানূষ স্বতস্ফুর্তভাবে উচ্চারন করে;
(১৭) সাইবার ক্রাইম দমন আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা, এ জন্য পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনী সমূহে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ করা;
(১৮) কৃষিপণ্য উৎপাদন, বিপননে সহজে ব্যবহারযোগ্য ‘কৃষিনেটওয়ার্ক ওয়েব পেজ’ তৈরি; 
(১৯) কৃষিতে ভর্তুকি বাড়ানো ও তা প্রকৃত কৃষকরাই যেনো পান, তা নিশ্চিত করা; 
(২০) মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রজনন মৌসুমে জেলেদের ভর্তুকী প্রদানের মাধ্যমে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি কার্যক্রমে প্রকৃত জেলেরাই যেনো সেই সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করা; 
(২১) সুন্দরবন রক্ষায় বনজ়ীবিদের বেকার মৌসুমে ভর্তুকী দান ও বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা, এসব বিষয়ে আইন অমান্যকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা;
(২২) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত বেতনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের ও কল-কারখানাসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেয়া;
(২৩) শিক্ষা ও চিকিৎসা সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক মানবিক অধিকার, কিন্তু এ ক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব ও অবহেলার সুযোগে আজ সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তিসমূহের নীলনকশায় মৌলবাদী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে এবং দেশীয় মুনাফাখোরদের লালসায় শিক্ষা ও চিকিৎসা একদিকে যেমন পণ্যে পরিণত হয়েছে, অপরদিকে জংগি উৎপাদনের কারখানা ও মৌলবাদীদের কর্মসংস্থানের আখড়ায় পরিণত হয়েছে, দেশের চাহিদা অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ভিত্তিতে সরকারি শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং তাতে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ করে সেসব কার্যকরের উদ্যোগ শুরু করা; 
(২৪) অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, কিন্তু, প্রচারণার অভাবে জনগণ সেসব সুবিধা সম্পর্কে জানেও না, যেমন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে “কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল” সম্পর্কে জনগনের ধারণা এটা শুধুই সেনাবাহিনীর জন্য, এর পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহ হতে ৩/৪ ঘন্টা সময় নিয়ে ঢাকা মেডিক্যালে যায়, অথচ এখানে রোগী আসে না, ঢাকার আশেপাশে শিল্প এলাকায় বেশ কিছু সরকারি হাসপাতাল গড়ে উঠেছে, অথচ এসব এলাকার শ্রমিকেরা জানেও না যে, তাদের পাশেই সরকারি হাসপাতাল রয়েছে, এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ সম্পর্কে প্রচার করে জনগনকে সেসব প্রতিষ্ঠান হতে সেবা প্রদানে উৎসাহিত করা, 
(২৫) নতুন করে যেনো কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসা-ব্যবসাকেন্দ্র বেসরকারি পর্যায়ে গড়ে উঠতে না পারে তা কঠোরভাবে নজরদারি করা এবং চলমান এইসব প্রাইভেট শিক্ষা ও চিকিৎসা কেন্দ্রকে কঠোর নজরদারিতে আনা;
(২৬) গণমাধ্যমসমূহে এসব বেসরকারি শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবসা কেন্দ্রসমূহের প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা;
(২৭) দ্রুত ও অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও নগরায়নের কুফল হিসবে যৌথ পরিবার ভেঙ্গে একক পরিবার সৃষ্টি হচ্ছে, সামাজিক বন্ধন শিথিল হচ্ছে ও সামাজিক দায়িত্ববোধ কমে যাচ্ছে, অপরদিকে পুঁজিবাদের স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ীই বেকারত্ব, পেশাগত দুর্ঘটনা, অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন পরিচালনার জন্য সড়ক, রেল ও নৌ দুর্ঘটনা বাড়ছে, মানুষ কর্মহীন হচ্ছে এবং প্রতিবন্ধীর সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু, আমাদের সংবিধানে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানকে মৌলিক চাহিদা স্বীকার করে নেয়া হলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেই, হতদরিদ্র ও দরিদ্রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি রয়েছে, ধনী ও অতি ধনীদের জন্যও গোপনে ব্যাংক ঋণ মওকুফ, ঋণ পূণঃতফশিলীকরণ সুবিধা  থাকলেও নিম্ম-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জন্য কোন নিরাপত্তা বা কল্যাণমূলক কর্মসূচী নেই, নিম্ম-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের জন্য আপদকালীন সময়ে সাময়িক কল্যাণমূলক কর্মসূচীর কথা ভাবা প্রয়োজন, যা উন্নত দেশসমূহে রয়েছে;

(২৮) যার যার যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর শেষ করার পর বেকার হিসাবে তালিকাভূক্ত করা, আত্ম-কর্মসংস্থানের জন্য উৎসাহিত করা এবং যোগ্যতা ও শিক্ষা অনুযায়ী চাকুরি বা আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ না হওয়া পর্যন্ত্য বেকার ভাতা দেয়া এবং চাকুরি/আত্ম-কর্মসংস্থানের চেষ্টার পাশাপাশি দিনে অন্ততঃ ৩/৪ঘন্টা সরকারি তত্ত্বাবধানে সামাজিক কর্মকান্ডে বা সরকারি কোন উন্নয়ন কর্মকান্ডে জড়িত রাখা, এতে বেকার তরুণ-তরুণীরা একদিকে যেমন অপরাধপ্রবণ হবেনা, অন্যদিকে শ্রমের মর্যাদার প্রতিও আকৃষ্ট হবে;
(২৯) পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাহাড়ে বিরাজমান অসন্তোষ ও সঙ্ঘাত পরিস্থিতির অবসান ঘটানোর কার্যকর উদ্যোগ নেয়া (শরীরে কোন অঙ্গে পচন (ইনফেকশন) লালন করলে একসময় তা গ্যাংগ্রিনে রূপান্তরিত হবে, যা কাম্য নয়); 
(৩০) সমতলের আদিবাসীদের/ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীসমূহের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি রক্ষা ও ভূমি অধিকার নিশ্চিতকরণে পর্যাপ্ত সুরক্ষা দেওয়ার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ও কার্যকর করা;
(৩১) আন্তর্জাতিক পরাশক্তিসমূহের এজেন্টদের উপযুক্ত তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে বিচার করা (সে সক্ষমতা এখন বাংলাদেশের আইন-শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীসমূহের রয়েছে);
(৩২) দূর্নীতি দমন কমিশনকে আরো স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা দিয়ে রাঘববোয়াল দূর্নীতিবাজদের, তারা যে দলের, যে মতেরই হোক না কেনো, বিচারের সম্মূখীন করে সমাজ হতে দূর্নীতির মূলোৎপাটন করার অঙ্গীকার ও কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন;
(৩৩) চাকুরীতে যেসব নারী সুযোগ পাবেন না বা পারিবারিক কারনে চাকুরি করবেন না, সেসব নারীদের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় উৎসাহিত করা, প্রশিক্ষণ প্রদান ও রাষ্ট্রের পক্ষ হতে সহজ শর্তে ঋণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ দিয়ে কর্মমুখী ও স্বাবলম্বী করা;
(৩৪) নানামূখী প্রাথমিক শিক্ষা বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে, শহরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে উঠে নাই, যার সুযোগ নিয়ে নানামূখী শিক্ষা ব্যবসাকেন্দ্রের নামে মৌলবাদ ও কুশিক্ষার আখড়াগুলো গড়ে উঠেছে, এগুলো পর্যায়ক্রমে নিয়ন্ত্রণে আনা ও জরুরী ভিত্তিতে বিভিন্ন সরকারি অফিস ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের আবাসিক এলাকায় যেখানেই পতিত জমি আছে, দ্রুত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলা;
(৩৫) মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য এবং আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আলোকে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত্য সিলেবাস প্রণয়নের মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গন হতে দেশপ্রেমিক ও কর্মঠ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগী ভুমিকা নেওয়া;
(৩৬) মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধান পরিপন্থী যে কোন ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহীতামূলক ও উষ্কানিমূলক বক্তব্য প্রদানকারি ও প্রচারকারিকে দ্রুত বিচারের মুখোমুখী করতে হবে, এদের ক্ষমা করে দেয়া বা এদের বিষয়ে ধীরে চলো নীতিতে তদন্ত করার ফলাফল অতীতেও শুভ হয়নি, আগামী দিনেও শুভ হবে না, কেননা এরা জেনে-বুঝে দীর্ঘমেয়াদী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এসব বলে থাকে;
(৩৭) ঢাকা ও নারায়নগঞ্জের ৩ ইয়াবা কারখানা মালিকটিকে দল ও সরকার হতে বহিষ্কার করে বিচারের আওতায় আনা ।

যে কাজগুলি সঠিকভাবে করা হয়নি, সেই কাজগুলির কিছু কিছু আগামী তিন মাসেও শুরু করা যেতে পারে; উল্লেখিত ৩৭টি বিষয় বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ প্রধান হিসেব দায়িত্ব পালনের পর একটি জনবান্ধব নির্বাচনী ইশতেহারেও এসবের কিছু হয়তোবা আসতে পারে। সকল ষড়যন্ত্রের কৌশলী ও কঠোর মোকাবেলার মাধ্যমে বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনার পথ চলা হোক মসৃণ, এ প্রত্যাশা ও শুভ কামনা! তার সুযোগ্য নেতৃত্বেই বাংলাদেশ গড়ে উঠুক সোনার বাংলা হিসেবে !! 

লেখকঃ মোঃ মাহমুদ হাসান (১৯৮২-৯০ এর সামরিক-স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথের সৈনিক, ভূতপূর্ব কলেজ অধ্যক্ষ ও বর্তমানে সমাজ গবেষণা কর্মী), ঢাকা। তারিখ: ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮। সময়: রাত ০৮.৩০। 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top