Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮ , সময়- ৪:০৯ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
আগামী নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা আসছে, জাতীয় পার্টির মহাসমাবেশ আজ আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বি, জনগণ হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | প্রজন্মকণ্ঠ মানুষের ভিড়ের ওপর দিয়ে চলে গেল ট্রেন, ৫০ জন নিহত | প্রজন্মকণ্ঠ তরুণী ও কম বয়সী রোহিঙ্গা মেয়েরা পাচারের শিকার হচ্ছে : জাতিসংঘ যারা বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন তারা বিকল্পধারার কেউ নন : মাহী বি চৌধুরী  আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের স্বাধীনতা এখনও পুরোপুরি অর্জন করতে পারিনি : রাষ্ট্রপ্রতি সর্বত্র মানুষের মঙ্গলের সুযোগ করে দিতে শেখ হাসিনার সরকার কাজ করছে : অর্থমন্ত্রী  সংস্কৃতি অঙ্গনে কালো ছায়া নেমে এলো | প্রজন্মকণ্ঠ চার দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী আজ | প্রজন্মকণ্ঠ পবিত্র ওমরাহ পালন করেছেন প্রধানমন্ত্রী, দেশবাসীর জন্য দোয়া প্রার্থনা | প্রজন্মকণ্ঠ

বুবু, নিরাপদ থাকুন ! যুদ্ধাপরাধীর সম্পদ ও চাকুরি বাতিল করুন : আমরা চাইনা কিছুই 


মানিক বৈরাগী

আপডেট সময়: ৫ অক্টোবর ২০১৮ ৭:৪৩ পিএম:
বুবু, নিরাপদ থাকুন ! যুদ্ধাপরাধীর সম্পদ ও চাকুরি বাতিল করুন : আমরা চাইনা কিছুই 

উপ-সম্পাদকীয়, মানিক বৈরাগী : মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও তাদের সন্তান-সন্ততির জন্য রাষ্ট্রিয় ক্যাডার, প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণীর কোন প্রকার চাকুরির দরকার নাই। কোন সুযোগ-সুবিধারও দরকার নাই। ওরা তো মেধাহীন।

বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবনবাজি রেখে একটি বাংলাদেশ এনে দিয়েছে। পরিবারে সকল স্বপ্ন, পিতা মাতার স্বপ্ন, নতুন বউ এর স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষা দলিত করে নিজে শহীদ হয়ে একটি বাংলাদেশ এনেদিয়েছে। এই তো তাদের কৃতিত্ব! আর কি চাই ?

যে সকল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ভালো রেজাল্টের আশা ত্যাগ করে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল, তাদের বিনিময়েই তো একটি বাংলাদেশ। তাদের আর কি চাই ?

স্বাধীনতার পর পাকিস্তান ফেরত মেধাবী আমলারাই তো মন্ত্রণালয়কে সচিবালয় বানালো। তারা জাতির পিতার সামনে শ্রদ্ধায় মাথাটুকু পর্যন্ত নুইয়ে দিত, আবার অফিস টাইম শেষে মাহবুবুল আলম চাষির ক্যাড়ারদের সাথে খোশ আমদেদে মিলিত হতো, কতটুকু আগালো খুন পরিকল্পনা? এরাই তো মেধাবী। এরাইতো আদরনীয় ছিলো।

কুখ্যাত পাকিস্তানন্থী রাজাকার দবির উদ্দিন প্রধানের ছেলে শফিউল আলম প্রধানকে ঘর থেকে ডেকে এনে কি পুনর্বাসিত করা হয়নি ছাত্র রাজনীতিতে ? পরের রেজাল্ট দেশবাসী ভালো জানে।

পাকিস্তান ফেরত সামরিক চৌকশ সেনা কর্মকর্তাদের কি ভালো ভালো পদে পদায়ন করা হয়নি? এরপর তারাই ৭৫ ঘটালো !

জাতির পিতার বদান্যতায় যেসব মুক্তিযোদ্ধা সরকারী চাকুরি পেয়েছিল, ৭৫এর পরবর্তী মোশতাক, জিয়া, এরশাদ, খালেদা, খালেদা-নিজামি তাদের কি রকম ব্যবস্থা করেছিল ? সেইসব কাহিনী কেউ কি লিখেছে? লিখেনি। কেন লিখবে এ নিয়ে তো আখের গোছানো সম্ভব নয় ! বরং বিপদের আশংকা ভীষন !

আওয়ামীলীগ সরকারতো চিরকাল বাংলাদেশ শাসন করবে না। যখন আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকবে না একটি প্রজ্ঞাপনে এদের বাধ্যতামুলক শাস্তি ও চাকুরি হরণ করা হবে। তো মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কোন প্রকার সরকারি চাকুরি দরকার নাই ! এই ব্যবস্থাটি এখনো বিশ্বে কোথাও উদাহরন হিসাবে পাওয়া যাবে না।

বরং, বিশ্বে ভুরি ভুরি উদাহারন দেখানো যাবে যে, সেইসব দেশে স্বাধীনতা, সংগ্রাম, বিপ্লবে তাদের পরিবার পরিজন,উত্তারিধারের লতিকা পর্যন্ত প্রথম শ্রেণীর নাগরিক ও প্রথম শ্রেণীর রাষ্ট্রিয় সুবিধা পেয়ে থাকে এটাই বাস্তব !

আর বাংলাদেশে সকল যুদ্ধাপরাধীদের স্থাবর অস্থাবর সম্পদের হিসাব করলে এক একটি জেলা কেনা যাবে।

শুধু একজন মীর কাসেম আলীর স্থাবর অস্থাবর সম্পদ দিয়ে কয়েক জেলা কিনে নেয়া যাবে।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় এদের সম্পদ পাহারাদার রাখা হচ্ছে।

ধরুন, আজকের ইসলামী ব্যাংকটি কোন কোম্পানীর অধীনে পরিচালিত হচ্ছে ? উনি কে? কিভাবে উত্থান ? কার কার সাথে তার ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও আত্মীয়তা ? এমন অতীক থেকেও ভুরি ভুরি উদাহরন দেয়া যাবে।

সুতরাং, এই বিপন্নতার হাত থেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে, মুক্তিযুদ্ধের সরকার রেহাই দিয়েছে তার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ !

মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা খেটে খেয়ে নৈতিকভাবে জীবন পার করবে। কারন ওরা বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান !

মাননীয় সরকার প্রধান, আপনি জানেন এবং বুঝেন ! বিগত জোট সরকারের সময় কৃষি ও পরে শিল্প মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী একদিনের নোটিশে কৃষি বিভাগে কয় হাজার কৃষি কর্মকর্তা, ব্লক সুপারভাইজার সহ কয় হাজার শিবির কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, তা আপনি জানেন। ওরা সবাই শিবির কর্মী ও যুদ্ধাপরাধীর সন্তান। এরা এখন আপনার থেকেও কঠিন আওয়ামীলীগ। এরা এখন পদোন্নতি পেয়ে বহাল তবিয়তে আছে। তাদের সময়ে চাকুরি হারানো মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানেরা কিন্তু এখনো চাকুরি ফিরে পায়নি, পায়নি চাকুরি পরবর্তী বেতন, প্রফিডেন্ট ফান্ডের টাকাও।

আপনার আমলারা কঠিন ন্যায়বান ও দাম্ভিক, তাদের নাগাল পাওয়া খুব কঠিন। আর আপনার মন্ত্রী, এমপি, নেতারা মহাব্যস্ত। তাদের সাক্ষাৎ পেতে যে কষ্ট, তার চাইতে পুলসিরাত পার হওয়া আরো সহজ !

আপনি ভালো জানেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় এর সচিব এর দুর্ব্যবহারে হোটেলে আত্মহত্যা করেছে। প্রবীর সিকদারের কথা নাইবা বললাম ! একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা তার চাকুরি হারানোর পর পাওনা টাকার জন্য সচিবালয়ে অনশন করেছে ! হ্যা, সে আওয়ামী লীগ করে না, বাম ধারার মুক্তিযোদ্ধা, কিন্তু এটিও সত্য যে, সচিবালয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও দেশপ্রেমিক সচিবদের আন্দোলনে সে প্রথম সারির নেতা ছিল। যার তথ্য প্রমাণ পত্রিকা ঘাটলে পাওয়া যাবে।

একজন কবি জোট সরকারের সময় আপনার আন্দোলন সংগ্রামের সময় নির্যাতনের ছবি সম্বলিত প্রতিবাদী  ছড়াগ্রন্থ প্রকাশ করায় মিথ্যা অপবাদে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে তাকে চাকুরি হতে বরখাস্ত করা হয়। আপনার সরকার তার চাকুরির টাকা ফেরৎ দিতে পারেনি এখনো। সেও সনদবিহীন মুক্তিযোদ্ধা, তার ভাই স্বাধীন বাংলা ফুটবল টিমের সদস্য, জাতীয় ক্রীড়া পদক পাওয়া খেলোয়াড়।

তো মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের কোটা বাতিল করে একটি খুব ভালো কাজ করেছেন !

একটি অনুরোধ, “মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য তৃতীয় শ্রেণীর চাকুরির কোটা রেখে আরো একটি প্রমাণ হলো তারা এই দেশের তৃতীয় শ্রণীর নাগরিক ! এরা অপরাধী।“ সুতরাং, এটিও বাতিল করুন। সম্মান দিতে না পারলে অসম্মান না করার অনুরোধ বিনীত অনুরোধ করছি !

বীর মুক্তিযোদ্ধা জহরলাল পাল চৌধুরীর একটি কথা স্মরণে এলো:
 
"আমরা যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি, 
যাদের জন্য আমার মা বোনের ইজ্জত হারিয়েছি,
তারা যখন আমাকে নির্দেশ করে, 
তারা যখন আপনার পার্টির নেতা,
তখোন আমার মরে যেতে ইচ্ছা করে।"

আর কিছুই চাই না, আপনি “যুদ্ধাপরাধী ও পাকিস্তানপন্থীদের  চাকুরি, ব্যবসা, স্থাবর সম্পত্তি বাতিল করুন। বাতিল করে রাষ্ট্রিয় কোষাগার এ জমা করুন।“

হ্যা, জানি, আমাদের এই আবেদনও টিকবে না, কারন যুদ্ধাপরাধীরা খুব ধুর্ত, এরা ধুর্ততার সাথে আওয়ামীলীগ এর অনেক বড় বড় ক্ষমতাধর নেতার আত্মীয় হয়- বেয়াই, জামাই, ব্যবসায়িক অংশীদার, ভাই, চাচা, শ্বশুর আরো কত কি ! এটিও কঠিন কাজ।

যাক কোন দাবি নাই, আপনি নিরাপদ থাকুন, এটিই খোদার কাছে প্রার্থনা !
আপনি নিরাপদ থাকলে, সমস্যাসংকুল বাংলাদেশটা নিরাপদ থাকবে। এটিই চাওয়া ও দাবি।
আমীন !

 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top