Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ , সময়- ১১:১৬ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় গণসংযোগে মির্জা ফখরুল  বিতর্কিত সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ ও তাঁর রাজনীতি  প্রমাণিত হলো বিএনপি সন্ত্রাসী দল : কাদের  বিবাহবার্ষিকীতে দোয়া চাইলেন ক্রিকেট সুপারস্টার সাকিব টুঙ্গিপাড়া থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন সভানেত্রী শেখ হাসিনা  খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা নিয়ে রিটের আদেশ আগামীকাল  মনোনয়নপত্র ফিরে পাচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলম নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন শেখ হাসিনা, ১২ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য ২০১৫ থেকে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ২০৩০

ঢাকা-৬ আসন : রাজনৈতিক অঙ্কের স্বস্তিতে জাতীয় পার্টি, মরিয়া আ.লীগ-বিএনপি  


প্রজন্মকণ্ঠ অনলাইন রিপোর্ট

আপডেট সময়: ৮ অক্টোবর ২০১৮ ৬:২৬ পিএম:
ঢাকা-৬ আসন : রাজনৈতিক অঙ্কের স্বস্তিতে জাতীয় পার্টি, মরিয়া আ.লীগ-বিএনপি  

উত্তাপ ছড়াচ্ছে ঢাকা-৬ আসনজুড়ে। রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা সরগরম আসনটির হালের রাজনীতি। ঢাকার সবগুলো আসনের মতোই ঢাকা-৬ আসনের গুরুত্বও অনেক বেশি। তাই জাতীয় নির্বাচনে এ আসনের গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা করতে চায় প্রধান রাজনৈতিক দল আ.লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি। গত নির্বাচনে ছাড় দিলেও এবার জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছাড়তে নারাজ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।  

আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চান দলটির কর্মীরা। তবে আ.লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার উপর আস্থা রাখবেন। নেত্রী যাকে দলীয় মনোনয়ন দেবেন সবাই মিলে সেই নৌকার পক্ষে কাজ করার কথাও বলছেন। কিন্তু আসনটি নিজেদের আয়ত্তে রাখতে মরিয়া জাতীয় পার্টি। জোট হোক কিংবা না হোক আসনটি নিজেদের দখলে রাখতে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালাচ্ছেন জাতীয় পার্টির নেতারা। রাজনৈতিক হিসাব-নিকাষের অঙ্কে ফলাফল জাতীয় পার্টির পক্ষেই আসবে বলে মনে করছে দলটির নেতারা। 

যে কারণে অনেকটা স্বস্তির মধ্যে রয়েছে বর্তমান সাংসদ কাজী ফিরোজ রশীদ ও তার অনুসারীরা। কারণ নিজ দলের হেভিওয়েট প্রার্থী না থাকায় তার দলীয় মনোনয়ন অনেকটাই চূড়ান্ত। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকায় মনোনয়ন দৌড়ে এখনই চলছে শ্রেষ্ঠত্ব হাজিরের লড়াই। বিএনপি দশম জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও এবার সকল অপশক্তি মোকাবিলা করে আসনটির পুনরুদ্ধার করে রাজনৈতিক গতিপথ বৃদ্ধি করাসহ জনপ্রিয়তা ফিরে পেতে চায়। বিএনপি লক্ষ্য এখন এই আসনটিতে জয়লাভ করা। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এ আসন তাদের দখলে থাকবে বলে দাবি করছে বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী। 

ঢাকা-৬ আসনটি বংশালের একাংশ, সূত্রাপুর, কোতয়ালি, ওয়ারি আর গেন্ডারিয়া থানা নিয়ে গঠিত। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ পর্যন্ত দুবার করে এ আসন দখলে রাখে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি। আর গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে মহাজোট থেকে এককভাবে জয় পায় জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশিদ। উন্নয়নের কারণেই আগামী নির্বাচনে নৌকার পক্ষে রায় দেবে জনগণ। তাই দলীয় মনোনয় পাওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে ক্ষমতাশীন দলের নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগ উন্নয়নে বিশ্বাসী তাই সাধারণ জনগণ নৌকায় ভোট দেবে বলে আশা প্রকাশ করছে তারা। আর বিএনপির স্থানীয় নেতারা জয়ের বিষয় আশা প্রকাশ করে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে ধানের শীষের জয় অনিবার্য। বর্তমান সরকার উন্নয়নের নামে যে লুটপাট করছে। বাংলাদেশের সম্পদ লুণ্ঠন করা হচ্ছে। যদি সিল মারা নির্বাচন হয় তার জন্যে বাংলাদেশের মানুষ প্রস্তুত নয়। আমরাও প্রস্তুত নই। মানুষের ভোট দেয়ার নিশ্চয়তা থাকলে অবশ্যই বিএনপি জিতবে এ আসনে। স্থানীয় আ.লীগ নেতারা জানান. ঢাকা-৬ সংসদ আসনটি এবার গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। 

গত নির্বাচনে এ আসনে দলীয় প্রার্থী না দেওয়ার কারণে সাংগঠনিক সকল কার্যক্রম পরিচালনা সম্যসা দেখা দিয়েছে। এই সকল সমস্যা দূর করা এবং নেতাকর্মীকে চাঙ্গা করার জন্য একাদশ জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেবেন দলের সভা নেত্রী। তারা আরও বলেন, এ আসনে বিগত দিনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মাঝেই জয়ের লড়াই হয়েছে। তাই আওয়ামী লীগ যদি কোনো প্রার্থী না দেয় তালে বিএনপি এককভাবে বাজিমাত করতে পারে। এ আসটি ধরে রাখতে হলে নৌকা প্রতিক দিয়ে নির্বাচন করতে হবে। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় নির্বাচনে এ আসনে প্রথমবারের মতো জাতীয় পার্টি থেকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ নির্বাচিত হন কাজী ফিরোজ রশিদ। 

এই মেয়াদে সকারের উন্নয়নের জন্য ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন তিনি। তাই আগামী জাতীয় নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টি থেকে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে এ আসন থেকে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তাই প্রতিনিয়ত নির্বাচনি এলাকাজুড়ে সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তার হাত ধরে ঢাকা-৬ আসনজুড়ে ব্যাপক উন্নয়ন ও শক্তিশালী হয়েছে দাবি করছেন তিনি। তাই আসন্ন নির্বাচনের দলীয় মনোনয়ন এবং জনগণের রায় তার পক্ষেই থাকবে বলে মনে করছেন এ সংসদ সদস্য। এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরি আশিকুর রহমান লাভলু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন। তবে তারা তিনজনই দলীয়প্রধান শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নেবেন তাই মেনে নেওয়ার কথা বলছেন। 

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বলেন, ঢাকা-৬ আসনের নেতাকর্মী ও জনগণের সঙ্গে আমার সব সময় যোগাযোগ রয়েছে। নেত্রী সুযোগ দিলে আমি নির্বাচনে লড়তে প্রস্তুত আছি। নৌকার যোগ্য প্রার্থী হিসেবে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চান ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরি আশিকুর রহমান লাভলু। ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ডে থাকেন অগ্রভাগে। যে কারণে নেতাকর্মীদের আস্থার অর্জনে সক্ষমতা দেখিয়েছেন তিনি। 

দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। চৌধুরি আশিকুর রহমান লাভলু বলেন, ২০১৪ সালে নির্বাচনের পর থেকেই আমি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছি। নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলকে সংগঠিত করেছি। তৃণমূল নেতাকর্মীরা সমর্থন ও সাধারণ মানুষের সাথে দেখা করার জন্য সকাল থেকে রাত প্রর্যন্ত ছুটে বেড়াচ্ছে ভোটারের বাড়ি বাড়ি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন এ আসনে নৌকা মনোনয়নপ্রত্যাশা করছেন। 

ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত নৌকার পক্ষে কাজ করছেন তিনি। আর এ কারণে আওয়ামী লীগের একটি বিরাট অংশ তাকে এমপি হিসেবে পেতে চায়। আগামীতে তিনি দলীয় মনোনয়ন নিয়ে এ আসন থেকে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। প্রতিনিয়ত নির্বাচনি এলাকাজুড়ে সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যদি আমায় নৌকার টিকিট দেয় তাহলে আমি জয়েয় বিষয় শতভাগ আশাবাদী। তবে নেত্রী যাকে দিবেন- তার জন্যই কাজ করবো। বিএনপি থেকে এ আসনটিতে দলীয় মনোনয়ন নিতে পারে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, তার ছেলে ইশরাক হোসেন এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার ও যুবদল দক্ষিণের সাবেক সভাপতি হামিদুর রহমান হামিদ।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top