Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ , সময়- ৪:২২ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
জঙ্গি আস্তানা : নরসিংদীর শেখেরচর ও মাধবদীতে দুটি বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ  ওয়েজবোর্ডের আওতায় আসছে অনলাইন নিউজপোর্টাল রামকৃষ্ণ মিশনে দুর্গা আরাধনা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তারেক জিয়াকে বিএনপি প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেবার জন্য অনুরোধ করেছে আন্তর্জাতিক মহল নিজস্ব প্রস্তাবনা উপস্থাপন করতে না দেয়ায় অপমানিত বোধ করেছি : মাহবুব তালুকদার  ময়মনসিংহ পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা, সর্বস্তরে আনন্দের বন্যা গ্রেনেড হামলার মামলার রায়ে আমরা সন্তুষ্ট কিন্তু কিছু আপত্তি আছে : শাহরিয়ার আলম ড. কামাল বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ : খালেদা জিয়া জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে সেনাকর্মকর্তার থানায় সাধারণ ডায়েরি, তদন্তে ডিবি কেন কমিশন সভা বর্জন করেছেন কমিশনার মাহবুব তালুকদার

‘অ্যাই, তুমি কি গোপালী নাকি ?

‘ক্ষমতায় গেলে তোমার চাকরি খাব’ নার্সদেরকে হুমকি : মেডিকেল বেগম জিয়া 


প্রজন্মকণ্ঠ অনলাইন রিপোর্ট

আপডেট সময়: ৯ অক্টোবর ২০১৮ ৯:৩৪ পিএম:
‘ক্ষমতায় গেলে তোমার চাকরি খাব’ নার্সদেরকে হুমকি : মেডিকেল বেগম জিয়া 

দীর্ঘ আট মাস কারাবাসের পর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গত শনিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়। মাত্র দুই রাত বিএসএমএমএইউতে কাটিয়েছেন খালেদা জিয়া। কিন্তু দুদিন জেলখানার বাইরে থেকেই চাঙ্গা হয়ে গেছেন তিনি, ফিরে এসেছেন নিজের পুরনো মূর্তিতে। 

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বাড়ি গোপালগঞ্জে হওয়ায় ওই এলাকার মানুষের ওপর তীব্র ক্ষোভ খালেদা জিয়ার। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালেও তাঁর চিকিৎসা কার্যে নিয়োজিত কারও বাড়ি ওই এলাকায় নাকি তা জানতে চেয়ে খালেদা জিয়া জেরবার করে দিচ্ছেন সবার জীবন। সবাইকে নাকি তিনি জিজ্ঞেস করছেন ‘তুমি কি গোপালী?’ অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, স্বল্পতম সময়ের মধ্যে কারাবাসের দুঃসহ স্মৃতি পেছনে ফেলেছেন তিনি। বর্তমানে খালেদা জিয়ার হুংকারে হুংকারে প্রকম্পিত হাসপাতালের কম্পাউন্ড।

সাধারণত, হাসপাতালে নার্স-ডাক্তারদের ৮ ঘণ্টা ডিউটি থাকে। খালেদা জিয়া যেহেতু ভিআইপি রোগী এবং দুই বারের প্রধানমন্ত্রী তাই তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তাঁকে ফুলটাইম নার্স দেওয়া হয়েছে। এই ফুলটাইম নার্সরা চক্রাকারে দায়িত্ব পালন করেন, দিনে তিন বার তাঁদের ডিউটি বদলায়। সে হিসেবেই শনিবারের ডিউটিতে ছিলেন পারুল নামের এক নার্স। সেদিন পারুলকে দেখেই বেগম জিয়ার অনুসন্ধিৎসু মন মাথা চাঁড়া দিয়ে ওঠে। তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমার বাড়ি কোথায়?’ পারুল প্রথমে উত্তর দেননি। অনুসন্ধিৎসু বেগম জিয়া এবার ক্ষুব্ধ হলেন। জিজ্ঞেস করলেন, ‘অ্যাই, তুমি কি গোপালী নাকি?’ এবার পারুল উত্তর দিল। বলল, ‘জি না ম্যাডাম। আমার বাড়ি মাদারীপুর।’ খালেদা জিয়া আঁতকে উঠলেন। গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর বা ফরিদপুর এলাকার মানুষদের তিনি বিশ্বাস করেন না। ওই নার্সের কাছ থেকে সেবা নিতে তিনি অস্বীকৃতি জানালেন। শেষ পর্যন্ত ওই নার্সের সঙ্গে আর দেখা করেননি খালেদা।

খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠরা জানেন, গোপালগঞ্জ ও এর আশেপাশের এলাকার মানুষের ব্যাপারে খালেদা জিয়ার আজীবনের ভয় রয়েছে। ওই সব এলাকার মধ্যে কারও বাড়ি জানলেই তিনি ক্ষুব্ধ হন। ধমকাধমকি করে বলেন, তুমি তো আমাকে মেরে ফেলবে। কারাবাসের ঝক্কিতে মাঝখানে বিষয়টি কমে গিয়েছিল। কিন্তু মুক্ত আলো-বাতাস গায়ে মেখে খালেদা জিয়া আবার তাঁর পুরনো ফর্মে ফিরে এসেছেন।

এছাড়া খাওয়া দাওয়া নিয়েও খালেদা জিয়ার বায়নাক্কায় অস্থির বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ। কারাগার থেকে খালেদার জন্য যে খাবার এসেছে সে বিষয়ে তিনি তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। কারাবিধি অনুসারে কারাবন্দিদের জন্য থোক টাকা বরাদ্দ থাকে। সেই টাকা থেকে একজন কারাবন্দী যে কোনো জিনিস কিনতে পারেন। খালেদা জিয়া এখন বায়না ধরেছেন, ওই টাকা দিয়ে তাঁর জন্য হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ থেকে স্যান্ডউইচ, স্যুপসহ অন্যান্য খাবার এনে দিতে হবে। বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ এমন আবদার পূরণে অসমর্থ। তাই এ বিষয়ে তাঁরা কারা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।

খালেদা জিয়ার কাছে খাওয়া-দাওয়ার তালিকা চেয়েও বিফল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কারণ এখন পর্যন্ত কোনো তালিকা দেননি খালেদা জিয়া। তবে প্রয়োজনীয় কাজগুলো না করলেও সারাক্ষণই তিনি তর্জন-গর্জন করছেন, হম্বিতম্বি দেখাচ্ছেন তাঁর চিকিৎসা সেবায় দায়িত্বরতদের ওপর। কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামি হওয়া স্বত্ত্বেও ইতিমধ্যে হাসপাতালের কয়েকজনের চাকরিও খেয়ে ফেলেছেন তিনি। মানে বেশ কয়েকজনকে তিনি হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘ক্ষমতায় গেলে তোমার চাকরি খাব।’

খালেদা জিয়ার মূল চিকিৎসা তো এখনো শুরুই হয়নি। এরই মধ্যে তাঁর তর্জন-গর্জনে তটস্থ হয়ে পড়েছে হাসপাতালের সবাই।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top