Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮ , সময়- ৪:১২ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় শিশুসহ ৩২ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত আগামী নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা আসছে, জাতীয় পার্টির মহাসমাবেশ আজ আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বি, জনগণ হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | প্রজন্মকণ্ঠ মানুষের ভিড়ের ওপর দিয়ে চলে গেল ট্রেন, ৫০ জন নিহত | প্রজন্মকণ্ঠ তরুণী ও কম বয়সী রোহিঙ্গা মেয়েরা পাচারের শিকার হচ্ছে : জাতিসংঘ যারা বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন তারা বিকল্পধারার কেউ নন : মাহী বি চৌধুরী  আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের স্বাধীনতা এখনও পুরোপুরি অর্জন করতে পারিনি : রাষ্ট্রপ্রতি সর্বত্র মানুষের মঙ্গলের সুযোগ করে দিতে শেখ হাসিনার সরকার কাজ করছে : অর্থমন্ত্রী  সংস্কৃতি অঙ্গনে কালো ছায়া নেমে এলো | প্রজন্মকণ্ঠ চার দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী আজ | প্রজন্মকণ্ঠ

এক লাখ রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেয়ার জন্য নোয়াখালীর ভাসানচর প্রস্তুত 


প্রজন্মকণ্ঠ অনলাইন রিপোর্ট

আপডেট সময়: ১২ অক্টোবর ২০১৮ ১২:১৩ এএম:
এক লাখ রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেয়ার জন্য নোয়াখালীর ভাসানচর প্রস্তুত 

নোয়াখালীর ভাসান চরে পঁচিশ হাজার রোহিঙ্গাকে স্থানান্তর করার মত ব্যবস্থা হয়ে গেছে। সব মিলে সেখানে এক লাখ রোহিঙ্গা অস্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবেন। ঘূর্ণিঝড় তিতলি মোকাবেলার প্রস্তুতি তুলে ধরতে বৃহস্পতিবার (১১অক্টোবর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এ তথ্য দেন।

এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য ভাসান চরে অবকাঠামো নির্মাণসহ যে আশ্রয়ণ প্রকল্প সরকার বাস্তবায়ন করছে, গত ৪ অক্টোবর তার উদ্বোধন করার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। কিন্তু সময় স্বল্পতায় তিনি এখনও ভাসান চরে যাননি।

এ নিয়ে এক প্রশ্নে মায়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেদিন সময় দেবেন সেদিন ভাসান চরের উদ্বোধন করা হবে, আমরা প্রস্তুত, সেখানে ২৫ হাজার রোহিঙ্গাকে নেওয়ার মত সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গত কয়েক দশক ধরে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির ও তার বাইরে অবস্থান নেওয়া চার লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে নিয়ে সামাজিক নানা সমস্যা সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে তাদের নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার কাছে মেঘনার মোহনার বিরান দ্বীপ ভাসান চরে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে সরকার। এর মধ্যে অগাস্টের শেষে মিয়ানমারের রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হলে আবারও রোহিঙ্গার ঢল নামে। এ দফায় সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়ায় ভাসান চরকে দ্রুত বসবাসের উপযোগী করার উদ্যোগ নেয় সরকার।

এই প্রেক্ষাপটে গতবছরের শেষ দিকে একনেকে ২৩১২ কোটি টাকার প্রকল্প পাস হয়। এর আওতায় মোটামুটি ১০ হাজার একর আয়তনের ওই চরে এক লাখের বেশি মানুষের বসবাসের জন্য ১২০টি গুচ্ছ গ্রামে ১৪৪০টি ব্যারাক হাউজ ও ১২০টি আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়। হাতিয়া থানাধীন চর ঈশ্বর ইউনিয়নের ভাসান চরে এই আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নের এ প্রকল্পের কাজ ২০১৯ সালের নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারিত আছে।

সেখানে অল্প সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করে দেওয়ায় নৌবাহিনীকে ধন্যবাদ জানান ত্রাণমন্ত্রী। ভাসন চরে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ‘অস্থায়ীভাবে’ রাখা হবে জানিয়ে মায়া বলেন, “তারা মিয়ানমারের নাগরিক। ওই দেশের নাগরিক হিসেবে সম্মানের সাথে দেশে ফিরে যাবে, এটাই আমরা চাই।”

তিনি বলেন, “যখন রোহিঙ্গারা আসে তখন ছিল হাড্ডিসার, কাপড় ছিল না, চেহরা ছিল না, বস্ত্র নাই, কিচ্ছু নাই। ওদের দেখলে … এখন যদি যান দেখেন কি অবস্থা, হৃষ্টপুষ্ট আছে।”

ভাসান চরের পুরো প্রকল্পের ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে জানিয়ে এ প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য থাকার ঘর করা হয়েছে, সাইক্লোন শেল্টার করা হয়েছে, মালামাল রাখার গোডাউন রয়েছে, বাঁধ নির্মাণ এবং সমুদ্র থেকে মালামাল নামাতে জেটি করা হয়েছে।

জনমানবহীন চরটি আগে মূলত গরু-মহিষের চারণভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হত। ২০১৩ সালে এ চরকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল এলাকা ঘোষণা করা হয়। ইঞ্জিনচালিত নৌযান ছাড়া সেখানে যাতায়াতের সুযোগ নেই। হাতিয়া থেকে যেতেও তিন থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা সময় লাগে।

নির্যাতনের মুখে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে এক লাখ রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেয়া হবে নোয়াখালীর ভাসানচরে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্ববধানে দ্বীপটি এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে জেটি, সাইক্লোন শেল্টার, ঘরসহ প্রয়োজনীয় স্থাপনা।

কক্সবাজারের উখিয়ায় এখন নতুন পুরনো মিলে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস। বাড়তি জনসংখ্যার এই চাপ সেখানকার জনজীবনে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। জনস্বাস্থ্য, বাজার দর এবং স্থানীয় শ্রমবাজারসহ সর্বক্ষেত্রে পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। তাছাড়া বাঙালী অধিবাসীর চেয়ে রোহিঙ্গা বেশি হয়ে যাওয়ায় এক ধরনের ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টিও হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা শুরুতে মানবিক আবেগে রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করে নিলেও ক্রমেই তারা বিষিয়ে উঠছে। তারা পরিণত হয়েছে নিজভূমে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীতে। সার্বিক বিবেচনায় সরকার সেখান থেকে কিছু রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। সে লক্ষ্যে নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা হয় ভাসানচর দ্বীপকে।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top