Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ৯:১১ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
এ পর্যন্ত ১১টি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ  আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ রোহিঙ্গারা, প্রত্যাবাসন স্থগিত  ক্ষমা চাইতে ফখরুলকে ছাত্রলীগের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলো ছাত্রলীগ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের যড়যন্ত্র সফল হবে না : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩০ ডিসেম্বরই নির্বাচন, পেছানোর সুযোগ নেই : নির্বাচন কমিশন সচিব প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী রবিবার বোনের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ভালোবাসা বিএনপিকে রাজনৈতিক দল বলা যায় না, তারা একটি সন্ত্রাসী সংগঠন : সজীব ওয়াজেদ  নির্বাচনী সহিংসতা ঠেকাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে পুলিশ | প্রজন্মকণ্ঠ বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে আদেশ আগামী রোববার

মজুরির নতুন কাঠামো বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের অভিযোগ


প্রজন্মকণ্ঠ অনলাইন রিপোর্ট

আপডেট সময়: ১৫ অক্টোবর ২০১৮ ৮:৩৫ এএম:
মজুরির নতুন কাঠামো বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের অভিযোগ

রাজধানীর কচুক্ষেত এলাকার পোশাক কারখানা ডায়না ফ্যাশন। মাঝারি আকারের এ কারখানার ১০ জন শ্রমিককে দিয়ে গত সপ্তাহে অব্যাহতিপত্রে স্বাক্ষর করিয়েছে মালিকপক্ষ। শ্রমিক ছাঁটাই করেছে কাফরুলের আরেক কারখানা ভিনটেজও।

শুধু ডায়না বা ভিনটেজ নয়, দেশের অনেক পোশাক কারখানায়ই নানা অজুহাতে শ্রমিকের সংখ্যা কমিয়ে আনছেন মালিকরা। মূলত মজুরি ঘোষণার পর অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্নতা থেকেই কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছেন তারা।

শ্রমিক প্রতিনিধিদের অভিযোগ, কারখানা মালিকরা দীর্ঘদিন ধরে কাজে যুক্ত আছেন, এমন অভিজ্ঞ শ্রমিকদের তালিকা তৈরি করছেন। এর মধ্য থেকে তুলনামূলক অনুৎপাদনশীল হিসেবে শনাক্ত কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা হবে। এছাড়া চাপ সৃষ্টি হয়েছে হেলপারদের ওপর। তাদেরও কাজের লক্ষ্য বেঁধে দেয়াসহ চাকরি ছেড়ে যেতে বাধ্য করার মতো পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ ধারাবাহিকতায় কিছু কারখানা হেলপারের সংখ্যা কমিয়ে আনতে শুরু করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, হেলপার ছাঁটাইয়ের হিড়িক পড়েছে পোশাক শিল্পের কারখানাগুলোয়। এসব কারখানার বেশির ভাগই ছোট ও মাঝারি। নতুন মজুরি কাঠামো অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাঁড়াবে, এমন অজুহাতে শ্রমিক ছাঁটাই করছেন মালিকরা। এখন পর্যন্ত শতাধিক শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে।

শ্রমিক প্রতিনিধিদের অভিযোগের সূত্র ধরে বেশকিছু কারখানার নাম জানা গেছে, যেখানে গত কয়েক দিনে শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে। টঙ্গীতে অবস্থিত এমন তিনটি কারখানার একটি হচ্ছে সিজন ড্রেসেস। এ কারখানায় পাঁচ কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজন অভিজ্ঞ ও তুলনামূলক বয়স্ক। এছাড়া শাওন ফ্যাশনে ছাঁটাই হয়েছেন সাতজন, যাদের সবাই বয়স্ক। পার্ক ভিউ ড্রেসেস কর্তৃপক্ষও শ্রমিক ছাঁটাই করেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে গাজীপুরে পাঁচটি কারখানায় কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কারখানাগুলো হচ্ছে বটম গ্যালারি, কাটিং এজ ইন্ডাস্ট্রি, এসকিউ ক্রিস্টাল, শ্যামলী গার্মেন্টস ও টিএম ফ্যাশন। শ্রমিক প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এসব কারখানার শ্রমিকদের আরো ভালোভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়ে বলা হয়েছে, অন্যথায় নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের আগে ছাঁটাই করা হবে।

মজুরির নতুন কাঠামো বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের যে অভিযোগ উঠেছে, তা শতভাগ সত্য বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাপারেলস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের (বিএডব্লিউএফ) সভাপতি মো. তৌহিদুর রহমান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের নেতিবাচক প্রভাবটি মূলত তুলনামূলক বয়স্ক ও হেলপারদের ওপরই পড়বে।

মালিকদের এমন পরিকল্পনার বিষয়টি এরই মধ্যে শ্রমিকরা আমাদের জানিয়েছেন। বিচ্ছিন্নভাবে ছাঁটাই কার্যক্রম শুরুও হয়েছে। শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও আইনি সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যেই এখন খাতসংশ্লিষ্ট সবার সতর্ক থাকা প্রয়োজন। শিক্ষানবিশ শ্রমিকদের দিয়েই নতুন মজুরি কাঠামোর চাপ সামলানোর পরিকল্পনা মালিকরা নিয়েছেন বলে ধারণা করছি।

এ বিষয়ে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএতে যোগাযোগ করা হলে সংগঠন দুটি থেকে জানানো হয়েছে, কোনো কারখানা শ্রমিক কমিয়ে আনতে চাইলে আইন অনুসরণ করেই তা পারে তারা। এখন পর্যন্ত শ্রমিকদের পক্ষ থেকে এ-সংক্রান্ত মৌখিক বা লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অনেক মালিকপক্ষ জানিয়েছে, তারা মজুরি বৃদ্ধির প্রভাব কেমন হবে তা মূল্যায়ন করছে। অতিরিক্ত চাপ হয়ে গেলে ডিসেম্বর নাগাদ কারখানা বন্ধ করে দেবে তারা।

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান গতকাল বলেন, ব্যবসায় টিকে থাকতে কেউ কেউ শ্রমিক কমিয়ে আনবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে গণহারে ছাঁটাই হচ্ছে না। অনেক মালিক আগে থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কারণ বেতন বাড়ছে, কিন্তু ক্রেতা তো মূল্য বাড়াচ্ছে না। বৈশ্বিক বাজারেই মূল্য পরিস্থিতি খুব খারাপ। সম্ভব হলে মালিকপক্ষ লোকবল কমাবে, সেটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে বেআইনিভাবে কেউ কিছু করতে পারবে না। শ্রমিক ছাঁটাইয়ের হিড়িক পড়েনি, বরং প্রস্তুতি হিসেবে হয়তো কিছু মালিক শ্রমিক কমিয়ে আনতে শুরু করেছেন।

শ্রমসংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখভাল করে, এমন সরকারি সংস্থার মধ্যে রয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন শিল্প পুলিশ। দুটি সংস্থাই জানিয়েছে, নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে চাপের মধ্যে আছে গার্মেন্ট কারখানার মালিকপক্ষ। তবে কোনো ধরনের অস্থিরতার অভিযোগ এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান হয়নি। শিল্প পুলিশের আওতাধীন এলাকাগুলোয় ছোট এক-দুটি কারখানা বন্ধের ঘটনা ঘটেছে, যা মূলত ক্রয়াদেশের অভাব ও শ্রমিকের নতুন মজুরি কাঠামো সংক্রান্ত।

ডিআইএফইর মহাপরিদর্শক সামছুজ্জামান ভুইয়া বলেন, আজকেও (গতকাল) শিল্প অধ্যুষিত চার অঞ্চলের প্রধানদের নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও শ্রমিক ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে কোনো বিরূপ পরিস্থিতির ঘটনা জানানো হয়নি। কোনো অস্থিরতা ঘটলে অবশ্যই জানতে পারতাম।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top