Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ৯:০৮ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
এ পর্যন্ত ১১টি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ  আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ রোহিঙ্গারা, প্রত্যাবাসন স্থগিত  ক্ষমা চাইতে ফখরুলকে ছাত্রলীগের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলো ছাত্রলীগ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের যড়যন্ত্র সফল হবে না : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩০ ডিসেম্বরই নির্বাচন, পেছানোর সুযোগ নেই : নির্বাচন কমিশন সচিব প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী রবিবার বোনের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ভালোবাসা বিএনপিকে রাজনৈতিক দল বলা যায় না, তারা একটি সন্ত্রাসী সংগঠন : সজীব ওয়াজেদ  নির্বাচনী সহিংসতা ঠেকাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে পুলিশ | প্রজন্মকণ্ঠ বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে আদেশ আগামী রোববার

সুষ্ঠু নির্বাচনই এখন বড় চ্যালেঞ্জ | প্রজন্মকণ্ঠ 


এম হাফিজউদ্দিন খান

আপডেট সময়: ২০ অক্টোবর ২০১৮ ১:২১ এএম:
সুষ্ঠু নির্বাচনই এখন বড় চ্যালেঞ্জ | প্রজন্মকণ্ঠ 

উপ-সম্পাদকীয় : ধরনের আভাস ও সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি। জাতীয় ঐক্য গঠনের প্রক্রিয়া তো শুরু হয়েছে, তাদের আনুষ্ঠানিক কাজকর্ম কী হচ্ছে, তা দেখার জন্য সময় লাগবে। সে জন্য আমাদের কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। শুরুটা হয়েছে, যদিও শুরুতেই একটা গোলযোগ হলো; তবু ঐক্যপ্রক্রিয়াটা যে শুরু হয়েছে—এটাকে আমি ইতিবাচকভাবেই দেখি। এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখি। তাঁরা বাবা ও ছেলে একসঙ্গে কাজ করছেন। যদিও এখানে দেখা যাচ্ছে, বি চৌধুরী বেরিয়ে গেছেন। তাঁর চেয়ে তাঁর ছেলে মাহী বি চৌধুরীর উৎসাহটা মনে হচ্ছে বেশি। কাজের কথা এই যে ঐক্যপ্রক্রিয়াটা কাজ করছে, এটার দরকার ছিল। আমাদের যেটা দরকার ছিল—আওয়ামী লীগকে মোকাবেলা করার জন্য, তাদের যে কর্মকাণ্ড, তাদের মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে লড়াই করতে গেলে যে ঐক্যপ্রক্রিয়া বা একটা গোছানো দল বা জোট দরকার, তার একটা চেষ্টা দরকার ছিল। সেটার যে কাঠোমো ও প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এটা একটা ভালো দিক। কিন্তু বিগত সময়ে কী হয়েছে, দলীয় কোন্দল বা নিজেদের পছন্দ-অপছন্দ—এই সময়ে সেসব মনে রাখলে এবং তা নিয়ে যদি তর্কবিতর্ক চলতে থাকে, তাহলে ঐক্যপ্রক্রিয়াটা সুগঠিত করা সম্ভব হবে না। পেছনের বিষয়গুলো আপাতত ভুলে গিয়ে একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে। কিন্তু শুরুতেই বি চৌধুরী কেন বের হয়ে গেলেন, তিনি কী শর্ত দিলেন বা কোন মতামতে থিতু হলেন, জামায়াতকে সঙ্গে রাখবেন কি না, তাঁদের শর্তগুলো সরকার মেনে নেবে কি না—সেসব দেখে ও বুঝে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত। প্রাথমিক পর্যায়ে এই দলছুট অবস্থা ভালো হলো না। ফলে তাঁরা ঐকমত্যে পৌঁছতে পারলেন না। বিষয়গুলো সহজভাবে দেখলে ভালো হতো। বি চৌধুরীর দল তো খুব বড় দল নয়। কিংবা মাহমুদুর রহমান মান্না বা ড. কামাল হোসেন—কারো দলই এককভাবে তো কিছু করতে পারবে না। আওয়ামী লীগের কাজ ও দেশ শাসনে যে অনিয়ম ও একটা অগণতান্ত্রিক ব্যাপার চলে আসছে, সেসব বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে এখন ঐক্যটা গুরুত্বপূর্ণ।

এখন তো দেশে স্বৈরাচারী শাসন চলছে। সরকার নানাভাবে সংবিধান ও অন্যান্য ব্যাপারে সব কিছু নিজেদের মতো করে আয়ত্তে নিয়ে নিয়েছে। নিজেদের সুবিধামতো সব গড়ে নিয়েছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে একটা জোরালো দাবি ও প্রচেষ্টা দরকার। সেই কাজটা জাতীয় ঐক্য করতে শুরু করেছে বা সুসংগঠিত হয়েছে, যদিও তারা উল্লেখ করার মতো কিছুই এখন পর্যন্ত দেখাতে পারেনি। আমার মনে হয়, জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার স্বার্থে তাদের একসঙ্গে যুক্ত থেকে কাজ করা উচিত ছিল। কিন্তু কোনো একটি বা দুটি বিষয়ে মতের মিল না হওয়ায় বেরিয়ে গেলেন। এটা ভালো সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে আমি মনে করি না। পুরনো দ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যটা দরকার ছিল।

আর এই ঐক্যপ্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য খুব একটা ভালো বা শোভন মনে হচ্ছে না। নতুন জোট তো এখনো কিছু করতে শুরু করেনি, শুধু ঐক্য হয়েছে—সামনে কী ঘটবে বা তারা কতটুকু কী করতে পারে, সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এখনই তাদের সম্পর্কে অশোভন মন্তব্য করা সমীচীন নয়।

আর একটি বিষয় হচ্ছে, ২১ আগস্ট নিয়ে আদালতের রায় নিয়ে জনগণের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন যেমন দরকার, এর পূর্বাপর পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারাটাও জরুরি। আগস্টের বিচারের রায়ের বিষয়টি হয়তো রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। আবার কোনো ধরনের প্রভাব না-ও ফেলতে পারে। মানুষ নানা কথা বলছে। এটাকে অনেকে সাজানো বা ফরমায়েশি রায় বলেও মন্তব্য করেছে। কিন্তু এটা সত্য যে আওয়ামী লীগ এটা থেকে সুবিধা নেবে বা একটা রাজনৈতিক খেলা খেলবে; তারা এটাকে রাজনৈতিক মূলধন হিসেবে ব্যবহার করবে। আবার বিএনপিও বিষয়টি পুরোপুরি মেনে নেবে না বা এড়াতেও পারবে না। এটা একটা বাস্তবতা। অনেক আগে থেকেই মানুষ জেনে গিয়েছে যে লুৎফুজ্জামান বাবর ও তারেক রহমানের বড় ধরনের শাস্তি হবে। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায় সেটাই সত্য প্রমাণ করল। যেভাবে তদন্তপ্রক্রিয়া চলেছে, সেটা নিয়ে অনেক গোলযোগ আছে। শেষ পর্যন্ত এর বিচারকাজ শেষ হলো। রায় হলো। কিন্তু মাঝে অনেক রকম ফাঁক ও সময় আছে। আবার এ মাসের শেষে খালেদা জিয়ার বিচারের রায় হবে। সময় ও জল কোন দিকে গড়ায় তা দেখার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আপাতত তেমন কিছু বলা যাচ্ছে না।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) তো নতুনভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে বলে মনে হয় না। নিরপেক্ষ থেকে বা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইসি জোরালো ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে হয় না।

একটি প্রসঙ্গে আমি বারবার কথা বলেছি। সরকার সুধীসমাজের মানুষের সঙ্গে কোনো আলাপ-আলোচনা না করে, কারো কোনো ধরনের মতামত গ্রহণ না করে এবং কোনো বড় সাপোর্ট না নিয়েই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রক্রিয়াটি তুলে দিয়েছে। নিজেদের মতো করে সরকার সংবিধান নতুনভাবে গড়ে নিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে পুরনো বিধানের সংশোধনও করে নিয়েছে। এটা তো কোনো ভালো কাজ হয়নি। ফলে এমন একটি সরকারকে একদলীয় শাসনের সরকার না বলে তো উপায় নেই। তবে একটা কাজ করতে পারলে ভালো হতো, সেটা হচ্ছে একটা শান্তিপূর্ণ সংলাপের আয়োজন করতে পারলে। কিন্তু সরকার সেটা চায় বলে মনে হয় না। তারা নানা ধরনের আশঙ্কার কথা বলে এসব এড়িয়ে যায়। এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না। যেকোনো উপায়েই হোক না কেন, সংলাপ হওয়া উচিত। তা না হলে একদলীয় চিন্তা ও শাসনে যদি সব কিছু চলতে থাকে, এসব তো গণতন্ত্রের মধ্যে পড়ে না। এটা মনে রাখতে হবে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া সম্ভব বলে আমি মনে করি না। নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার জন্য এ বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সব কিছুর আগে যে কথাটি সামনে আসছে, তা হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন এবং নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যে নানা ধরনের আভাস বা মন্তব্য শোনা যাচ্ছে। কিন্তু আমি মনে করি, এ দেশে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে গেলে প্রথমে দরকার আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন। সরকার ও বিরোধী দল যে যার অবস্থানে যদি অনড় হয়ে থাকে, তাহলে তো সংঘাত অনিবার্য। সে কারণে বলছি, আমাদের মানসিকতার একটা পরিবর্তন দরকার। নির্বাচনের আচরণবিধি, সব দলের সমান অংশগ্রহণের সুন্দর পরিবেশ ও অধিকার নিশ্চিত করা, নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা—এগুলো তৈরি করতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো অবস্থা দেখতে পাচ্ছি না। সরকার কোনো ধরনের ছাড় দিতে চায় না। বিরোধী দলও কিছু করতে পারছে না। এভাবেই সময় গড়াচ্ছে। এভাবে তো বেশিদিন চলতে পারে না। সব মিলিয়ে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে আশ্বস্ত হওয়ার মতো কোনো কিছু আমি এখনো দেখতে পাচ্ছি না। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হবে। একটা নির্দলীয় সরকার গঠন করতে হবে। সব দলের সমান সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে। দুঃখজনক হলেও সত্য, তেমন কোনো লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি না।

বর্তমানে সবচেয়ে জরুরিভাবে যে জিনিসটা দরকার, আমাদের সর্বস্তরের দায়িত্বশীল মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন। সংবিধানের দোহাই দিয়ে যদি সব কিছু কঠোরভাবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে হবে না। সরকারের পক্ষে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে কটূ মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তাহলে তারা কি চায় না যে দেশে কোনো ঐক্যপ্রক্রিয়া গঠিত হোক? সরকারের বাইরে আর কোনো সুসংঘবদ্ধ জোট হতে পারবে না? এটাই যদি হয়, তাহলে দেশে গণতন্ত্রের চর্চাটা থাকল কী করে। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া যাঁরা করছেন, তাঁরা কী করবেন বা কতটুকু করতে পারবেন, এখনই সে ব্যাপারে কিছু বলা সম্ভব নয়। এ জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তবে আমার যে অভিজ্ঞতা ও মতামত তা হচ্ছে এই, এ দেশে কোনো দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া সম্ভব নয়। সে জন্য দরকার একটি নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকার। এ মুহূর্তে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে আমি মনে করি।

লেখক : তত্ত্ব্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা

অনুলিখন : মাসউদ আহমাদ


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top